সিলেটে ভূমিকম্প আসলে কতবার?

সিলেটে ভূমিকম্প আসলে কতবার?

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নিউজবাংলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি সাতটার কথা জানালেও আমরা এখন পর্যন্ত চারটার ক্লিয়ার রেকর্ড পেয়েছি।’

ভূমিকম্পে শনিবার সকাল থেকে বারবার কেঁপে উঠেছে পর্যটননগরী সিলেট। তবে ঠিক কতবার ভূমিকম্প হয়েছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, তারা চারবারের কম্পনের মাত্রা পেয়েছে। বাকি মাত্রাগুলো রিখটার স্কেলে সেভাবে আসেনি।

শনিবার সিলেটে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয় সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে। সবশেষটি অনুভূত হয় বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে।

বলা হচ্ছে, এর মাঝে আরও পাঁচবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, সব মিলিয়ে চারবার তারা রিখটার স্কেলে মাত্রা পেয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নিউজবাংলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি সাতটার কথা জানালেও আমরা এখন পর্যন্ত চারটার ক্লিয়ার রেকর্ড পেয়েছি।’

তাহলে কয়টি ভূমিকম্পের তথ্য দেয়া উচিত, জানতে চাইলে ঢাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার মনে হয় চারটার কথা বলা ভালো হবে, কারণ আর যে দু-একটা হয়েছে, সেটার ক্লিয়ার রেকর্ড নেই। সেগুলো ম্যাগনিচিউডে ধরা যায় না। চারটার ক্লিয়ার পেয়েছি।’

বজলুর রশিদ বলেন, চারটার মধ্যে রিখটার স্কেলে সবচেয়ে বেশি মাত্রা ধরা পড়ে ৪.১। এ ছাড়া ৪, ৩ ও ২.৮ মাত্রার আরও তিনটি কম্পন ধরা পড়ে। সর্বশেষ ১টা ৫৮ মিনিটে ৪ মাত্রার কম্পনটি অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের আশপাশেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে দেশের সিলেট ও ময়মনসিংহ বেশি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। ঢাকাকে মাঝারি বলা হয়। সবচেয়ে কম হচ্ছে খুলনা। সিলেট সব সময় হাইরিস্ক জোন হিসেবে পরিচিত।’

একই দিনে বারবার এমন ভূমিকম্পের কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে তেমন কোনো কারণ তো বলা যায় না। পৃথিবীতে সব সময়ই কোনো না কোনো অঞ্চলে ভূমিকম্প হচ্ছে।

‘সাধারণত বড় ভূমিকম্পের আগে এমন ছোট ভূমিকম্প হয়ে থাকে। তবে এটা বলা যাবে না যে, এর কারণেই বড় কিছু হতে পারে। এটা খুব জটিল মেকানিজম।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভূমিকম্প পরিমাপ ওয়েবসাইট ইউএসজিএস (ইউনাইটেড স্টেট জিওলজিক্যাল সার্ভে) রিখটার স্কেলে ২.৫ মাত্রার ওপরে উঠলেই সেটি ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করে। তবে সেখানে বাংলাদেশের শনিবারের ভূমিকম্পের কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের বেশ কয়েকজন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে গেছে দাবি করা ব্যক্তির গায়ে সামান্য পাউডার লাগিয়ে দিতেই শরীর থেকে উধাও চুম্বকশক্তি। গায়ে লেগে থাকছে না হাতা, খুন্তি, চামচ, খুচরো পয়সা। ফলে টিকার সঙ্গে এর যে কোনো সম্পর্ক নেই সেটি প্রমাণিত ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে যাওয়া ভুয়া, ভিত্তিহীন খবর।

সম্প্রতি শিলিগুড়ির নেপাল চক্রবর্তী, তেহট্টের প্রবীর মণ্ডল, বসিরহাটের শংকর প্রামাণিক টিকা নেয়ার পর শরীরে ধাতব জিনিস আটকে যাচ্ছে, শরীর হয়ে উঠেছে চুম্বক ক্ষেত্র বলে দাবি করে যে খবর হয়ে ছিল সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।

বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, বর্ষার সময় হওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম বেশি হয়। এ কারণে এসব জিনিস আটকে যাচ্ছে শরীরে।

শরীর ও ধাতব বস্তুর মধ্যে থাকা পৃষ্ঠটান সেই কাজে খানিকটা সাহায্য করছে। এর সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নাই। ম্যাগনেটম্যানরা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ।

ম্যাগনেট ম্যানদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে, ভারত সরকারের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও জানিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের টিকা নিয়ে কোনো ব্যক্তির শরীরে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অসম্ভব ।

কেন্দ্রীয় সরকারের নোডাল এজেন্সি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, টিকা নিয়ে মানুষ চুম্বক হয়ে উঠেছে বলে যে দাবি নেট মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

বিজ্ঞান মঞ্চের আরেক সদস্য সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘অতিমারি পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ এ ধরনের খবর রটিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্টফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ডস তাদের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে ওই গুঞ্জনকে সত্য হিসেবে ধরে নেন।

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ‘খুবই খারাপ’, ‘বিরক্তিকর’, ‘পাগলের কর্মকাণ্ড’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যও করেন অনেকে।

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

গুগলে সার্চ দিয়ে রয়টার্স জানতে পারে, শিকাগোভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক ব্লগ হাজলারসে একবার এক নিবন্ধ প্রকাশ হয়। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘মানুষের মাংস ব্যবহারের জন্য উন্মোচিত হলো ম্যাকডোনাল্ডস!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট ও হাজলারসের নিবন্ধে বলা হয়, অকলাহোমা শহরের একটি কারখানার ফ্রিজারে মানুষের মাংস পাওয়া যায়।

নিবন্ধ লেখকের নামের নিচে লেখা, ‘যা দেখ, তার অর্ধেক বিশ্বাস করো এবং অনলাইনে যা পড়ো, তার কিছু্ই বিশ্বাস করো না।’

ওই নিবন্ধকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ।

এর আগে নিজেদের ওয়েবসাইটকে মিথ্যা ও ব্যঙ্গের মিশ্রণ বলেছিলেন হাজলারসের প্রতিষ্ঠাতা।

খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করা হয় কি না, তা একবার ম্যাকডোনাল্ডসের ওয়েবসাইটে একজন জানতে চান। জবাবে ক্রেতাদের নিশ্চিত করে ম্যাকডোনাল্ডস জানায়, তাদের পণ্যে শতভাগ বিশুদ্ধ গরু ও মুরগি ব্যবহার করা হয়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাকডোনাল্ডসকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার চলছে। অবশ্য ২০১৪ সালে ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট স্নোপস মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

ছবিটি বাংলাদেশে ভাইরাল হয়েছে ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামে। ছবি: ফেসবুক

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে নিউজবাংলা। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটে এত দিন মানুষের আনাগোনা ছিল ইলিশ খেতে যাওয়ার। খোলা হাওয়ায় বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি ঘাটের পাশে টিনের ছাউনির রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন পদের ইলিশের স্বাদ নেয়া নিত্য ঘটনা।

মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের ঘাট এলাকার পাশে গড়ে উঠেছে একটি রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’। দেশের সবচেয়ে বড় রেস্টুরেন্ট হিসেবে দাবি করে প্রজেক্ট হিলশা জানায়, তাদের মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের মানসম্মত ইলিশ খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অবশ্য প্রজেক্ট হিলশা নিয়ে নানাজন যেমন আলোচনা করছেন, তেমনি করছেন সমালোচনাও। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।

ইলিশ মাছের কাঠামোতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। খাবারের দাম বেশি এমন দাবি করে ক্রেতারা সমালোচনা করলে সেগুলোও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

এরই মধ্যে দেশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী শেয়ার করতে শুরু করেছেন আরেকটি মাছের আকৃতির ভবনের ছবি।

ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটির নাম ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’। এমনকি সেখানে খাবারের দামও প্রজেক্ট হিলশা রেস্টুরেন্টের চেয়ে কম।

অনেকে ছবিটি শেয়ার করলেও আসলে বাংলাদেশে কোথায় সে ভবন কিংবা ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ রেস্টুরেন্ট সেটি কেউই স্পষ্ট করে বলেননি।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে নিউজবাংলা। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানেরই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
১০ তলা ভবনটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদে অবস্থিত। ছবি: এনএফডিএ

মাছ আকৃতির ভবনটি আসলে ভারতের জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের (এনএফডিএ) হায়দরাবাদে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়।

সংস্থাটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেছে, দেশটির মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে ২০০৬ সালে।

দেশটিতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে পুরো ভারতজুড়ে কাজ করে সংস্থাটি।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ শহরে ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ্রী শারদ পাওয়ার মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডটির ঘোষণা দেন।

তখন থেকে বোর্ডটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে হায়দরাবাদ শহরের আমিরপিটের মৈত্রী বিহার কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে।

বিখ্যাত মার্কিন স্থাপত্যবিদ আলবার্ট কাহন ১৯২৮ সালে ডিজাইন করেছিলেন ফিশারিজ বিল্ডিং নামের ৩০ তলা একটি ভবন; যেটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
ভুল তথ্যে দেশে ভাইরাল হয়েছে ভারতের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের ছবি

যদিও স্থাপত্য নকশায় ফিশারিজ বিল্ডিংয়ের আদল নেই সে ভবনের। কিন্তু সেই ফিশারিজ বিল্ডিং নাম থেকেই ভারত সরকার তাদের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের ভবন তৈরির অনুপ্রেরণা পায় বলে জানা গেছে। এরপরই ফিশারিজ ভবন নির্মাণের শুরু।

মন্ত্রণালয় এরপর হায়দরাবাদ শহরের পিভিএনআর এক্সপ্রেসওয়ের ২৩৫ নম্বর পিলারের কাছে নির্মাণ করে একটি মাছের আকৃতির ভবন।

২০১২ সালের এপ্রিলে সেই মাছ আকৃতির ভবনে অফিস শুরু করে ভারতীয় মৎস্য উন্নয় বোর্ড।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

১০ তলা ভবনটি মাটির সঙ্গে সংযুক্ত শুধু কিছু পিলার দিয়ে, সামনে আছে সিঁড়ি। এ ছাড়া দুটি টানেলে নিচ থেকে ভবনে ওঠার জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা।

দৃষ্টিনন্দন হলেও ভবনটিতে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া কোনো দর্শনার্থীর প্রবেশ করতে পারেন না। এমনকি ভবনটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও দাঁড়াতে দেয়া হয় না কোনো গাড়ি।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

পোলট্রি মুরগি কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উৎস?

পোলট্রি মুরগি কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উৎস?

পোলট্রি মুরগি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের একটি টুইটে জানানো হয়, পশুপাখি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। এ-সংক্রান্ত যে বার্তাটি ছড়ানো হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন।

কোভিড-১৯ মহামারির মাঝে নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (কালো ছত্রাক) সংক্রমণ।

ভারতে বিরল এই সংক্রমণে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তের ঘটনা নতুন নয়। প্রকৃতিতে থাকা এ ফাঙ্গাস আগে থেকেই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে এগুলো কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। এটি তাদের জন্যই ভয়াবহ, যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে একটি বার্তা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে। ভারতে হোয়াটসঅ্যাপেও ছড়ানো হচ্ছে বার্তাটি।

এতে বলা হয়েছে, পোলট্রির মুরগি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই বার্তায়।

তবে এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের একটি টুইটে জানানো হয়, পশুপাখি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। এ-সংক্রান্ত যে বার্তাটি ছড়ানো হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন।

মিউকরমাইকোসিসের উৎস মিউকর নামক ছত্রাক থেকে, যা সাধারণভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হিসেবে পরিচিত।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ছত্রাক সাধারণত মানুষের নাকে বা মুখে পাওয়া যায়। এই ছত্রাক সংক্রমণের উপসর্গ মূলত দাঁতে ব্যথা, মুখ ফুলে যাওয়া, মুখ অবশ হয়ে যাওয়া, নাকে কালচে দাগ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, মাথা ধরা, নাক দিয়ে রক্ত বা কালচে কফ বের হওয়া।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

ভারতে হিন্দুদের গণহারে ধর্মত্যাগের খবর সত্য নয়

ভারতে হিন্দুদের গণহারে ধর্মত্যাগের খবর সত্য নয়

অনলাইনে ভাইরাল হিন্দু দেব-দেবীদের মূর্তি গুঁড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য থেকে কেটে নেয়া ছবি। ছবি: এএফপি

ফ্যাক্ট চেকে জানা গেছে, আপাতদৃষ্টিতে এটি সংবাদ প্রতিবেদন বলে মনে হলেও ভিডিওতে ব্যবহৃত দৃশ্য আসলে মহামারির অনেক আগে ধারণ করা। এর সঙ্গে ভারতের হিন্দুদের ধর্মত্যাগের কোনো সম্পর্ক নেই।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের মধ্যে ধর্মত্যাগের হিড়িক পড়েছে বলে সম্প্রতি একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের একটি সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানের বরাত দিয়ে ছড়ানো এ খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হিন্দুদের বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি ও অন্যান্য ধর্মীয় নিদর্শন ছুড়ে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, ভারতে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে হিন্দুরা তাদের ভগবানের ওপর ভরসা হারিয়েছেন। করোনার বিস্তার রোধে ব্যর্থ ভগবানের প্রয়োজন নেই বলে ক্ষুব্ধ তারা।

ফ্যাক্ট চেকে জানা গেছে, আপাতদৃষ্টিতে এটি সংবাদ প্রতিবেদন বলে মনে হলেও ভিডিওতে ব্যবহৃত দৃশ্য আসলে মহামারির অনেক আগে ধারণ করা। এর সঙ্গে ভারতের হিন্দুদের ধর্মত্যাগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এসব দৃশ্য প্রথম প্রচার হয় ইরানের টিভি চ্যানেল শিয়া ওয়েভসে। ভিডিওর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, মাটিতে পড়ে থাকা অর্ধশতাধিক হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি একটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ট্রাক থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলছেন একটি বিশাল মূর্তি। সেখানে ইরানের উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, ‘বিপুলসংখ্যক ভারতীয় জনতা নিজেদের ভগবানের মূর্তি রাস্তায় ছুড়ে ফেলছেন। তাদের দেশে করোনার আকাশছোঁয়া সংক্রমণ ও প্রাণহানির কারণে বিশ্বাস হারিয়েছেন তারা… অভিযোগ, এতদিন যাদের পূজা করে এসেছেন, সেই ভগবানরাই শিষ্যদের রক্ষা করেননি।’

বানোয়াট ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম প্রচার হয় ১১ মে।

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি চীনের উহানে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব জানানোরও তিন মাস আগের। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হিন্দি ভাষায় অনলাইনে প্রথম প্রকাশিত হয় ভিডিওটির একটি অংশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখানো হিন্দুদের অন্যতম দেবী দশমার মূর্তিটি আহমেদাবাদের নদীতে ছুড়ে ফেলার ঘটনা ২০১৯ সালের আগস্টের।

প্রচলিত ধর্মীয় রীতি মেনেই এসব মূর্তি নদীতে ফেলেন হিন্দুরা।

কিন্তু দূষণ কমাতে গত কয়েক বছরে এ রীতি কিছুটা বদলেছে। নদীতে মূর্তি ফেলার নিয়ম খানিকটা পাল্টে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কয়েক মাস আগে টুইটারে একটি পোস্টও করেন ভারতের এক কমিশনার বিজয় নেহরা। সেখানেই নদী দূষণ এড়াতে ঐতিহ্য বদলে ফেলার কথা বলেন তিনি।

পরে পৃথক একটি টুইটে তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছবি ও দৃশ্য ভিন্ন ঘটনার বলে ছড়ানো হচ্ছে।

নেহরার এই টুইটগুলোর সঙ্গে ঘটনার ভিডিও যুক্ত করে স্থানীয় এক সাংবাদিকও আলাদা ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করেন।

সেটি ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম গ্রহণ করে এবং সম্পূর্ণ আলাদা খবর শোনায়।

ভিডিওর আরেকটি অংশও (যেখানে ট্রাক থেকে মূর্তি নদীতে ছুড়ে ফেলা দেখানো হয়েছে) অনলাইনে আছে ২০১৫ সাল থেকে।

এই ভিডিওর পেছনের ঘটনা জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত যে, এর সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির কোনো সম্পর্ক নেই।

সব মিলিয়ে ভাইরাল ভিডিও ফুটেজটির সঙ্গে হিন্দুদের দেব-দেবীদের বর্জনের কোনো সম্পর্কই নেই।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

ব্লুটুথ চিপ নেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায়

ব্লুটুথ চিপ নেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায়

যুক্তরাজ্যের সরকার ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের তথ্যে টিকাটির উপাদানের তালিকা রয়েছে। সে তালিকায় মাইক্রোচিপসহ টিকাগ্রহীতার দেহে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি তৈরিতে সক্ষম কোনো উপাদানের নাম নেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর দেহে ব্লুটুথ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন এক ব্যক্তি।

অনলাইনে ভাইরাল ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ফার্মাসিউটক্যালসের গবেষণালব্ধ টিকাটি নিয়েছেন তিনি। এরপর থেকে যেখানেই যাচ্ছেন, সব ধরনের ডিভাইস তার দেহের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমি গাড়িতে উঠলে গাড়ি আমার সঙ্গে সংযুক্ত হতে চাইছে। বাড়িতে গেলে আমার কম্পিউটারও একই কাজ করছে। ফোন তো আছেই। সবকিছুই এমনভাবে সংযোগ চাইছে যেন আমার শরীরের সঙ্গে ব্লুটুথ লাগানো।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ব্যক্তির এ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু যে দাবি তিনি করেছেন, তা মোটেই সত্য নয়। টিকায় কোনো ব্লুটুথ চিপ নেই।

কী আছে ভিডিওতে

ভিডিওতে ওই ব্যক্তি তার ফোনে আসা একটি নোটিফিকেশন দেখিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, ‘AstraZeneca_ChAdOx1-S’ নামের একটি ডিভাইস তার ফোনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে পেয়ারিং রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে।

ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি ক্লিপে দেখা যায়, ইন্টারনেট যুক্ত একটি টেলিভিশনের সামনে দিয়ে ওই ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় সে টেলিভিশন থেকেও তার কাছে একই অনুরোধ এসেছে।

কেন এ দাবি সত্য নয়

প্রথমত, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় ব্লুটুথ চিপ থাকার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি ওই ভিডিওতে।

এমনকি ওই ব্যক্তির দেহের সঙ্গে কোনো ডিভাইস যে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে, তার প্রমাণও নেই। অর্থাৎ টিকাগ্রহীতা তার দেহে ব্লুটুথ সক্ষমতা তৈরির প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

দ্বিতীয়ত, ব্লুটুথ ডিভাইসের নাম পরিবর্তন করা যায়। অ্যাপল, স্যামসাংসহ প্রায় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোন ও স্মার্টফোনে এই অপশন আছে। তাই ওই ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা কোনো ডিভাইসের নাম ‘AstraZeneca_ChAdOx1-S’ দেখালে সেখান থেকে কিছুই প্রমাণ হয় না।

কারণ ব্লুটুথের সুবিধাযুক্ত ফোন, টিভি বা ক্যামেরাসহ যেকোনো ডিভাইসের নাম বদলে ‘AstraZeneca_ChAdOx1-S’ করে দিয়ে সহজেই ভুয়া ভিডিওটি করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, টিকার উপাদানে কোনো মাইক্রোচিপ নেই।

ইউএসএ টুডের ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অনুমোদন না পেলেও অনেক দেশেই পেয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের তথ্যে টিকাটির উপাদানের তালিকা রয়েছে। সে তালিকায় মাইক্রোচিপসহ টিকাগ্রহীতার দেহে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি তৈরিতে সক্ষম কোনো উপাদানের নাম নেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উদ্ভাবিত অন্যান্য টিকার (যেমন: মডার্না, ফাইজার-বায়োএনটেক ও জনসন অ্যান্ড জনসন) উপাদানের তালিকা দেখেছে ইউএসএ টুডে। কোনো টিকাতেই মাইক্রোচিপ বা ব্লুটুথ কানেকশন শনাক্তের মতো কোনো উপাদানের নাম নেই।

টিকার উপাদানের তালিকায় আছে এল-হিস্টিডাইন, এল-হিস্টিডাইন হাইড্রোক্লোরাইড মনোহাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট, পলিসোরবেট ৮০, ইথানল, সুক্রোজ, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ডিসোডিয়াম ইডিটেইট ডিহাইড্রেট, পানি ইত্যাদি।

অনলাইনে ভাইরাল ভিডিওটির উৎস খুঁজতে গিয়ে টিকটকে @al_janabi নামের এক ব্যবহারকারীর সন্ধান পায় রয়টার্স। ওই ব্যবহারকারীকে এ বিষয়ে বার্তা দেয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তিনি।

ব্লুটুথ এমন এক ধরনের তারবিহীন প্রযুক্তি যার মাধ্যমে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব।

টিকার সঙ্গে ব্লুটুথ সংযুক্তির বিষয়টি নিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

ভূমিকম্পকে ঘিরে শেভরনের মাইন বিস্ফোরণ গুজব

ভূমিকম্পকে ঘিরে শেভরনের মাইন বিস্ফোরণ গুজব

সিলেটে শনিবার এক ঘণ্টায় অন্তত পাঁচবার ভূমিকম্প হয়েছে সিলেটে। ফাইল ছবি

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখতে নিউজবাংলা যোগাযোগ করে তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেভরন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে।

শনিবার সকাল থেকে সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নগরের বাসিন্দারা। এর মধ্যে রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি গুজব, তাতে বলা হয়: সিলেটে ভূমিকম্প নয়, হয়েছে মাইন বিস্ফোরণ।

ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা হয়: ‘আমরা সবাই জানি আজকে সিলেটে পাঁচ অথবা সাতবার ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একবারও ভূমিকম্প হয়নি, যে কম্পনটুকু হয়েছে সেটা হলো সিলেটস্থ শেভরন কোম্পানি তাদের থ্রি-ক এরিয়ায় মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে কূপ খননের জন্য, এ বিস্ফোরণের সময় সারা সিলেট শহর কেঁপে উঠেছে, আবহাওয়া অফিস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া তা না জেনে এটাকে ভূমিকম্প হিসেবে প্রকাশ করতেছে।

‘কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া শেভরন উক্ত বিস্ফোরণ ঘটানোর কারণে আগামীকাল তাদের কর্তৃপক্ষকে জবাব দেয়ার জন্য ডাকা হয়েছে নগর ভবনে, জাতি আগামীকালই (রোববার) বিস্তারিত জানতে পারবে।’

এ দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখতে নিউজবাংলা যোগাযোগ করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি শেভরনসহ সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

শেভরন বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ভূমিকম্প এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের নিজেদের প্রটোকল রয়েছে, এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আমাদের সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডের সঙ্গে ও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে পরিচালিত তিনটি গ্যাসফিল্ডের কোথাও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারি দপ্তরগুলোর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে থাকেন। আমরা সবাইকে জানাতে চাই, এমন গুজব প্রচার করবেন না।’

শেভরন কোম্পানির সিলেট লাক্কাতুরা এলাকায় খোঁজ নিয়েও জানা যায়, ভূমিকম্প শুরুর আগে বা পরে সেখানকার কর্মকর্তারা কোনো রকমের মাইন বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মেয়র নিজে শেভরন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ ছাড়া শেভরন কর্মকর্তাদের নগর ভবনে ডাকার তথ্যও মিথ্যা।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেভরন কোম্পানিকে আমি নগর ভবনে আসতে বলিনি। আমি নিজে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমার সঙ্গে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও উপস্থিত ছিলেন।

‘শেভরন আমাদের নিশ্চিত করেছে, তারা এমন কোনো কাজ করেনি। বিষয়টি গুজব এবং যারাই গুজব ছড়িয়েছে, তাদের বলব, এমন গুজব যেন আর না ছড়ানো হয়। তা না হলে আমরা গুজব রটনাকারীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেব।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা গুজব। গতকাল রাত থেকে শেভরনের বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, সেটা ভিত্তিহীন। তারা (শেভরন) আমাদের নিশ্চিত করেছে, তারা এমন কোনো কার্যকলাপ করেনি বরং টানা কয়েক দফা ভূমিকম্পে তারা নিজেরাও শঙ্কিত।’

দেলোয়ার হোসেন নামে সিলেটের এক ব্যক্তি ফেসবুকে এ স্ট্যাটাস দেন। এরপর থেকেই বিষয়টি ভাইরাল হতে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

যোগাযোগ করার জন্য দেলোয়ার হোসেনের কোনো ফোন নম্বর পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া শনিবার রাতে এই প্রতিবেদক তাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ও মেসেজ পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টার ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো কাঁপল সিলেট
ঘণ্টায় ৪ বার কাঁপল সিলেট
৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

শেয়ার করুন