উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনি একটি কথিত আবেগময় ভাষণ ভাইরাল করেছেন বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। ছবি। সংগৃহিত

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

কোভিড ১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি জাতির উদ্দেশে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণের তারিখগুলো হলো, গত বছরের ৪ জুন, ২০ মে, ১৪ এপ্রিল, ২৫ মার্চ ও ১৮ মার্চ। এর বাইরে গত বছরের ২৭ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এছাড়া, করোনাভাইরাস ইস্যুতে বিভিন্ন গাইডলাইন তুলে ধরে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন সাত বার।

কোভিড ১৯ মোকাবিলায় নাগরিকদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়ে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনি একটি আবেগময় ভাষণ দিয়েছেন, এমন একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এ গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়া এই পোস্টে দাবি করা হয়, মুসেভনি জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে কোভিড ১৯ এর সংক্রমণকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বাংলায় অনূদিত এই ‘ভাষণে’ মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘সৃষ্টিকর্তার অনেক কাজ আছে— পুরো দুনিয়াটা দেখভাল করার দায়িত্ব তাঁর। তিনি শুধুমাত্র উগান্ডার বোকা মানুষদের দেখাশুনার জন্যে এখানে বসে নেই।

‘যুদ্ধাবস্থায় কেউ কাউকে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে বলে না। আপনি ঘরে থাকলে সেটা আপনার নিজের চয়েস। সত্যি কথা বলতে কী, আপনার যদি একটা বেজমেন্টও থাকে নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্যে তাহলে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা যতদিন না শেষ হয় ততদিন আপনি সেখানেই লুকিয়ে থাকবেন।’

এই পোস্টে মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘যুদ্ধের সময় স্বাধীনতা খর্ব হয়। আপনি ইচ্ছে করেই স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেন শুধুমাত্র নিজের বেঁচে থাকার জন্যে। এ সময় আপনি ক্ষুধার জন্যে কারো কাছে নালিশ করেন না। এ সময় আপনি কায়মনোবাক্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্যে, বেঁচে থাকলে খেতে পারবেন।

‘যুদ্ধের সময় আপনি আপনার ব্যবসা খোলা রাখার জন্যে তর্ক করেন না। আপনি আপনার দোকান বন্ধ করে দেন (তবে সেই সময়টুকু যদি আপনি পান), এবং জীবন বাঁচানোর জন্যে দৌড়ে পালান। আপনি সারাক্ষণ প্রার্থনা করেন যেন যুদ্ধটা তাড়াতাড়ি শেষ হয় এবং আপনি আপনার ব্যবসাটা আবার চালু করতে পারেন, যদি না আপনার দোকানের সমস্ত মালপত্র লুট হয়ে যায় বা মর্টারের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।’

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারী অনেকে এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন

করোনার সময় সব কিছু বন্ধ রাখার বিষয়ে মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘যুদ্ধের সময় একটি দিন বেঁচে থাকতে পারলে আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এ সময় আপনার সন্তানরা স্কুলে যেতে পারলো না বলে আপনি দু:খ করেন না। আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেন যাতে সরকার আপনার সন্তানদেরকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্যে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না করে এবং তাদের স্কুলমাঠেই (যেটি এখন সেনা ক্যাম্প) তাদেরকে প্রশিক্ষণের জন্যে নিয়ে না যায়।

‘পৃথিবীতে এখন একটি যুদ্ধ চলছে — এমন একটি যুদ্ধ যেখানে বন্দুক ও গুলির ব্যবহার নেই, যে যুদ্ধের কোনো সীমানা নেই, যে যুদ্ধ কোনো সীমানা নিয়েও বাধে নাই, কোনো পবিত্র ভূমি নিয়েও না। এই যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিও নেই; এ যুদ্ধ থামানোর জন্যে কোনো জাতিসংঘও নেই।

‘এই যুদ্ধের সৈন্যদের কোনোপ্রকার দয়ামায়া নেই। শিশু, মহিলা বা প্রার্থনার স্থান, কোনোকিছুর প্রতিই এই সৈন্যদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। কোনো শাসকগোষ্ঠীকে পরিবর্তন করার ইচ্ছা এদের নেই। মাটির নিচের মূল্যবান খনিজসম্পদ লুন্ঠনের কোনো খায়েশ এদের নেই। ধর্ম, গোষ্ঠী বা আদর্শগত প্রভুত্ব বিস্তারের কোনো লিপ্সাও এদের নেই। ’

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে ফেসবুক পোস্টে মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘শুধু একটাই খায়েশ এদের, আর তা হলো মৃত্যু ঘটানো, মৃতদের আত্মা নিয়ে তাদের ঘরে তোলা, যেমন করে কৃষক ফসল ঘরে তোলেন। এরা ততক্ষণ পর্যন্তু তাদের এ মহোৎসবে মেতে থাকবে যতক্ষণ না পুরো পৃথিবীটা একটা মৃত্যুকূপে পরিণত হবে। এদের উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষমতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকার কোনো কারণ নেই। কোনোরকম যুদ্ধাস্ত্র ছাড়াই পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে এরা ঘাঁটি গেড়েছে। এদের গতিবিধি বা আক্রমণ কোনো রীতিনীতি বা প্রটোকল দ্বারা আবদ্ধ নয়। এ যুদ্ধের সৈনিকরাই হচ্ছে করোনা ভাইরাস যাকে আমরা সংক্ষেপে কোভিড ১৯ বলি।

‘তবে আশার কথা হচ্ছে, এই সৈন্যদেরও একটা দুর্বলতা আছে এবং এদেরকে হারানো সম্ভব। এর জন্যে যা দরকার তা হলো — আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিয়মনুবর্তিতা এবং ধৈর্য। কোভিড ১৯ সামাজিক এবং শারিরীক দূরত্বে টিকে থাকতে পারে না। এটা সংস্পর্শ/সংঘর্ষকে পছন্দ করে। এটি আমাদের সামাজিক বা শারিরীক দূরত্বের কাছে পরাজয় বরণ করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কাছেও হার মানে। আপনার হাত জীবাণুমুক্ত থাকলে এরা একেবারেই অসহায়।

‘আসুন আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি এবং কোভিড ১৯-কে পরাজিত করি। কষ্ট হলেও একটু ধৈর্যধারণ করি। বেশিদিন লাগবে না আমরা আবার স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারব, আমাদের মন যা চায় তা করতে পারব! এই জরুরি মুহূর্তে আমরা জরুরি সেবা প্রদানে রত থাকি এবং অন্যদেরকে ভালোবাসি!’

ফ্যাক্ট চেক

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনি জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে এসব বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে। তবে ওই ভাষণের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যসূত্র নেই। প্রতিটি পোস্টের শেষে ‘সংগৃহিত’ শব্দের উল্লেখ আছে।

বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূল পোস্টের লেখা কপি করে তাদের নিজস্ব টাইমলাইনে শেয়ার করছেন।

এই ‘ভাষণ’ এর সত্যতা যাচাইয়ে উগান্ডাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের গত কয়েক মাসের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের ১৮ মার্চ প্রথম দফায় দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি। পরে কয়েক দফা বাড়িয়ে ২ জুন পর্যন্ত ছিল এ অবস্থা। তবে এরপর আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে শিথিল করা হয় বিধিনিষেধ। এমনকি উগান্ডার অর্থনীতির অন্যতম উৎস পর্যটন খাতেও বিধিনিষেধ এখন অনেকটাই শিথিল

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এখন লকডাউনের কোনো নির্দেশনা নেই

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৭৫১ জন, মারা গেছেন ৩৩৫ জন। উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কোনো নির্দেশনাতেও নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়নি।

তাহলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির এই ভাষণটি কবেকার? অথবা আদৌ কি তিনি এ ধরনের কোনো ভাষণ দিয়েছেন?

এর অনুসন্ধানে প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নামেই একটি ওয়েবসাইটের খোঁজ পেয়েছে নিউজবাংলা। yowerikmuseveni.com নামের ওই ওয়েবসাইটে ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মুসেভেনি ও তার দল দ্য ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্টের (এনআরএম) দৈনন্দিন সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সংকলন রয়েছে।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নামে আছে একটি ওয়েবসাইট

এই ওয়েবসাইটে জাতির উদ্দেশে মুসেভেনির দেয়া ভাষণসহ সব ধরনের বক্তব্যও রয়েছে। এতে দেখা গেছে, উগান্ডায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোভিড ১৯ ইস্যুতে মোট ১৩টি বক্তব্য ও ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এরপর সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ভাষণ দেননি।

কোভিড ১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি জাতির উদ্দেশে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণের তারিখগুলো হলো, গত বছরের ৪ জুন, ২০ মে, ১৪ এপ্রিল, ২৫ মার্চ ও ১৮ মার্চ। এর বাইরে গত বছরের ২৭ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এছাড়া, করোনাভাইরাস ইস্যুতে বিভিন্ন গাইডলাইন তুলে ধরে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন সাত বার।

কোভিড ১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির মোট ১৩টি ভাষণ ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করেছে নিউজবাংলা। তবে এর কোনোটিতেই বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা যে কথিত ভাষণের অনুবাদ দিয়েছেন, সে ধরনের কোনো কথা নেই।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নামের এই ওয়েবসাইটে তার সব ভাষণ ও বক্তব্য সংকলিত আছে

ইদি আমিনকে উৎখাত করে উগান্ডার ক্ষমতায় আসা মুসেভেনি গত বছরের ৪ মে একটি বক্তব্য দেন, যার সঙ্গে ফেসবুকে ভাইরাল কথিত ভাষণের সামান্য কিছু মিল রয়েছে। মুসেভেনি সেই বক্তব্যে বলেন, ‘আমি বিষয়টি বুঝি কারণ আমি আমিনবিরোধী (ইদি আমিন) যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছি। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে লড়েছি। ১৯৮৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আর বিদ্রোহীদের উৎখাতের লড়াইয়েও অংশ নিয়েছি।’

মুসেভেনি বলেন, ‘২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বাড়ি না ফিরে বাজারেই আশ্রয় নেয়া বিক্রেতা নারীদের ছবিটি দেখেছি আমি। আমার মনে পড়ে গেছে আশির দশকের যুদ্ধের সময় ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বন-জঙ্গল আর মরু অঞ্চলে তাঁবু খাটিয়ে থাকা লুয়েরো ট্রায়াঙ্গলের ১০ লাখ অসহায় মানুষের কথা। ১৯৮৬ সালের যুদ্ধ জয়ের আগ পর্যন্ত নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি তারা। লুয়েরো ট্রায়াঙ্গলের যুদ্ধের সেই স্মৃতি, সেই আত্মত্যাগ আর স্বেচ্ছাসেবার উদ্দীপনাকে আবারও জাগিয়ে তোলার জন্য, সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থপরতার সংস্কৃতিকে লজ্জায় ফেলে দেয়ার জন্য স্বাগত জানাচ্ছি।’

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি গত বছরের ৪ মে এই বক্তব্যটি দিয়েছেন

প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নে বলতে চাই, এনআরএম (ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স মুভমেন্ট) সব সময় বুদ্ধি দিয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। আমরা কখনো আত্মঘাতী যুদ্ধ করি না। আত্মঘাতী যুদ্ধ এক ধরনের রাজনৈতিক হঠকারিতা। যে কোনো যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সে জয় যেন দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাও নিশ্চিত করতে হয়। আর সে জন্য লড়াই হতে হয় কৌশলী।

‘একই সূত্র করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মহামারি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আমাদের কৌশল হলো ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করা। আর সংক্রমণ এড়াতে হলে জনগণকে সচেতন হতে হবে সবচেয়ে আগে। শুধু এ লক্ষ্যেই ৩৫টি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এই সংক্রমণ এড়ানোর লক্ষ্য অর্জন যেন আত্মঘাতী পদক্ষেপ হয়ে না দাঁড়ায়, তাও খেয়াল রাখা দরকার। গণহারে সংক্রমণ আর আত্মঘাতী হওয়া এক সঙ্গে ঠেকানো কীভাবে সম্ভব?’

ওই বক্তব্যের বাকি অংশে লকডাউন মেনে চলার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি। আর লকডাউন শিথিলের পর গত বছরের ৪ জুন এ বিষয়ে সবশেষ তিনি যে ভাষণ দেন, সেখানে বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আহ্বান।

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

রোগ বিশেষজ্ঞ ড. স্টিফেন স্ক্রানটজ বলেন, ‘টিকা নিলে আপনার হাত চুম্বকায়িত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। খুব সহজ করে বললে এটি ভুয়া তথ্য।’

যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজারের টিকা নেয়ার পরই সেটিতে ম্যাগনেটিক চিপ রয়েছে দাবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন এক নারী। টিকা নেয়ার পর তার মতো একই দাবিতে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ ধরনের পোস্ট করতে থাকেন।

ইনস্টাগ্রামের পোস্টে ওই নারী দাবি করেন, টিকা নেয়ার পর ভেতরে ধাতব চিপ থাকায় তার শরীরে চুম্বক আটকে যাচ্ছে। এর সপক্ষে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওর শেষের দিকে ওই নারী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘সাবধান। আমাদের শরীরে চিপ ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে এএফপি ফ্যাক্টচেক বিভাগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, এমন ভিডিও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো মেডিসিনের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. স্টিফেন স্ক্রানটজ বলেন, ‘টিকা নিলে আপনার হাত চুম্বকায়িত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। খুব সহজ করে বললে এটি ভুয়া তথ্য।’

তিনি বলেন, ‘ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওতে যেভাবে দেখানো হচ্ছে, সেটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এর সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা হলো, হাতের দুই পাশে কোনো ধাতব আবরণ ব্যবহার করায় সেখানে চুম্বক আটকে গেছে।’

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের টিকা গবেষক ড. থমাস হোপ বলেন, ‘এটি অসম্ভব। টিকায় এমন কিছু নেই, যা কোনো চুম্বককে আকৃষ্ট করতে পারে। টিকা তৈরি করা হয় প্রোটিন, লিপিড, লবণ ও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে। এখানে চুম্বক আকৃষ্ট করার মতো কিছু নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, প্রচলিত করোনা টিকাগুলোর কোনোটিতেই (ফাইজার, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন অথবা অ্যাস্ট্রেজেনেকা) ধাতব উপাদান নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, টিকার ভেতরে নজরদারি করার মতো যন্ত্র নেই।

এএফপির ফ্যাক্টচেক অনুসারে, টিকায় যদি কোনো ধাতব উপাদান থাকেও তাহলে চুম্বকে আটকানোর জন্য সেটি যথেষ্ট নয়।

ড. থমাস হোপ বলেন, ‘চুম্বক টানার মতো যথেষ্ট ধাতব উপাদান বা লোহা ইনজেকশনের ভেতর দিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়

করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়

ভারতের টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের কোথাও ৫জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা এখনও শুরুই হয়নি। ৫জি ট্রায়াল বা নেটওয়ার্কের কারণে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে, এ দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য মোবাইল ফোনের ৫জি টাওয়ারে পরীক্ষা-নিরীক্ষাই দায়ী; সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক অডিও বার্তায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, সংক্রমণের জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করেছে সার্স-কোভ-২।

সোমবার ভারতের টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ ওই দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভুল তথ্যে প্ররোচিত না হতেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের কোথাও ৫জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা এখনও শুরুই হয়নি। ৫জি ট্রায়াল বা নেটওয়ার্কের কারণে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে, এ দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। মোবাইল টাওয়ারগুলো নন-আয়োনাইজিং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নির্গত করে যা মানবদেহসহ জীবিত কোষে কোনো ধরনের ক্ষতিসাধনে সক্ষম নয়। এ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি খুবই কম ক্ষমতার হয়ে থাকে।

ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্সের (ইএমএফ) নির্গমনের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভীতি দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ। এর মধ্যে দেশজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি, ইএমএফবিষয়ক পুস্তিকা ও তথ্যসংবলিত প্রচারপত্র বিতরণ, টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগের ওয়েবসাইটে ইএমএফ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

ভারতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৫৭৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ জনের।

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

সোহরাওয়ার্দীতে রেস্তোরাঁ নয়, হবে ছোট কফি শপ

সোহরাওয়ার্দীতে রেস্তোরাঁ নয়, হবে ছোট কফি শপ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। এ জন্য কাটা পড়ছে কিছু গাছ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গণপূর্তের প্রকৌশলী বলছেন, কোনো রেস্টুরেন্ট তৈরি হচ্ছে না। সাতটি ভাস্কর্য এলাকায় একটি করে ছোট কফি শপের মতো থাকবে, যেখানে পাওয়া যাবে শুকনা খাবার।

সরকারের যে মহাপরিকল্পনার কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেটে ফেলা হচ্ছে শতাধিক পুরানো গাছ, কী আছে সেই মহাপরিকল্পনায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনায় কোনো রেস্তোরাঁ নেই। আছে কফি শপ ধরনের হালকা স্থাপনা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে।

এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য, ইন্দিরা মঞ্চ, জলাশয় ও ফোয়ারা, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির পার্কিং ও শিশুপার্ক। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পুরো উদ্যানজুড়ে সাতটি ফুড কোর্ট ও টয়লেট নির্মাণ করা হবে। আর মনোরম পরিবেশের জন্য বানানো হবে নান্দনিক ওয়াকওয়ে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাঠামোগত কাজ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামিম আখতার নিউজবাংলাকে বলেন, তৃতীয় পর্যায়ের আওতার সাতটি ভাস্কর্য স্থাপনের জায়গাগুলোতে নকশার কাজ চলছে।

উদ্যানের নির্দিষ্ট সাতটি জায়গায় নান্দনিক ওয়াকওয়ে ও পানির ফোয়ারা থাকবে।

রেস্টুরেন্ট ও টয়লেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেস্টুরেন্ট যে অর্থে বলা হচ্ছে, আসলে তেমনটা না। সাতটি ভাস্কর্য এলাকায় একটি করে ছোট কফি শপের মতো ফুড কোর্ট থাকবে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু বড় এলাকা, এখানে তো দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট লাগবেই।

যেসব গাছ কাটা হচ্ছে, তার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আরও ১ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সেগুলো কোথায় এবং কখন রোপণ করা হবে জানতে চাইলে শামিম আখতার বলেন, ‘গাছগুলো উদ্যানের ফাঁকা জায়গায় লাগানো হবে। তবে নিয়ম হলো, প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে তারপর গাছ লাগানো হয়, সে অনুযায়ী প্রকল্প কাজ শেষ হলে আমরা গাছগুলো লাগাব।’

প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হবে বলে জানান শামিম আখতার।

রেস্তোরাঁ, টয়লেট পরিকল্পনায় ছিল না

২০১০ সালের হাইকোর্টের রায়ের পর সোহরাওয়ার্দী ‍উদ্যান ঘিরে নেয়া হয় মহাপরিকল্পনা। তখন আদালতের নির্দেশে দেশবরণ্য শিক্ষক, স্থপতি, পরিবেশবিদ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে কীভাবে সাজানো হবে, সেই কমিটি তার একটি পরিপল্পনা করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছিল। পরিকল্পনায় রেস্তোরাঁ ও টয়লেট নির্মাণের কোনো বিষয় ছিল না বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে কমিটির একাধিক সদস্য।

ওই কমিটিতে যারা ছিলেন, তাদের একজন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে কমিটির গৃহীত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। সেখানে কোনো রেস্তোরাঁ বা টয়লেট আমরা রাখিনি। পরিকল্পনাটি মন্ত্রণালয়ে জমা হবার পর সেটা কী হল তা আমার জানা নাই।’

সে সময় নিরীক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিজাইনে কোনো খাবার দোকান বা টয়লেট ছিল না। আদালত সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল যে, সাতটি জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হোক এবং অন্যান্য সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক। আমরা সেভাবেই নকশা করেছিলাম। সেখানে খাবার দোকান টয়লেট রাখার প্রশ্নই আসে না।’

পরিকল্পনায় বদল ঘটল কীভাবে জানতে চাইলে ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমরা নকশা ডিজাইন করে দিয়েছি। এরপর মন্ত্রণালয় কীভাবে কী করেছে, তা জানা নাই।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুর পর থেকে দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে। উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে তা মানুষের সামনে উপস্থাপনের বদলে প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় ফুড কোর্টসহ নানান স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। আঁকাবাকা ওয়াকওয়ে করা হচ্ছে গাছ কেটে। কিন্তু গাছগুলো রেখেই ওয়াকওয়ে করা যেত। এই কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও উদ্যান আইনের পরিপন্থি।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনার নকশার তদারকি করছেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া।

পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো একটা কারণে আগের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। এরপর আমি ও আমার টিমের দায়িত্ব পাই। আমরা বুঝতে পারছি না, এতো কিছু থাকতে হঠাৎ উদ্যানের ফুড কোর্ট ও টয়লেট নিয়ে সমালেচনা হচ্ছে কেন? আমাদের টার্গেট হলো, আমরা দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে নিয়ে আসব। সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা দিয়ে উদ্যানটি সাজানোর চেষ্টা করেছি।

‘এখানে ফুড কোর্ট যে অর্থে বলা হচ্ছে, বিষয়টা তেমন না। পুরো উদ্যানে সাতটি আলাদা স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সাতটি স্পটকে দৃষ্টিনন্দন করতে যতটা করা দরকার, ততটাই করা হয়েছে, কোনো বাড়াবাড়ি করা হয়নি। সাতটি স্পটে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে, সেখানে মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। এর পাশেই একটি করে শেড নির্মাণ করা হবে যেন বৃষ্টির সময় মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। আর ওই শেডের নিচেই টয়লেট ও ছোট কফি শপের মতো থাকবে, যেখানে শুকনা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।’

গাছ কাটা রোধে অভিনব উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। একেকটা গাছের নামকরণ করা হয়েছে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।

দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকলে তারা প্রয়োজনে কোথায় যাবে প্রশ্ন রেখে স্থপতি আসিফুর রহমান বলেন, ‘যারা রেস্তোরাঁ আর টয়লেট নিয়ে সমালোচনা করছেন, তারা না জেনে না বুঝেই করছেন। টয়লেট আর ফুড কোর্ট তো কোনো বাড়তি স্থাপনা না, বরং এটা উদ্যানের অনুষঙ্গ। এখানে কোনো অসঙ্গতি থাকলে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের অনুমোদন দিতেন না।’

গাছ কাটা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আসিফুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো স্থপতিই গাছ কাটতে চান না, আমার ক্ষেত্রেও তাই। আমরা একটি আধুনিক সবুজ উদ্যান বানাতে চাইছি। আমরা অনেক হিসেব-নিকেশ করে এক একটি গাছ কাটছি। যেটা একবারেই রাখা সম্ভব নয়, শুধু সেটাই কাটছি। আমাদের কাজ শেষ হলে দেশের বোটানি বিশেষজ্ঞরা উদ্যানে গাছ লাগানোর বিষয়ে কাজ করবেন। তাই উদ্যানকে ধ্বংস করা হচ্ছে এই দাবি একদমই অমূলক।’

এ বিষয়ে জানতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অমান্য হচ্ছে আদালতের নির্দেশনা

রেসকোর্স ময়দান বা বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থানসমূহকে চিহ্নিত করা এবং সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালের ২৫ জুন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বাদী হয়ে জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেছিলেন।

২০১০ সালের ৭ জুলাই রায় প্রকাশ করা হয়, যাতে রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক সাতটি স্থানকে চিহ্নিত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। স্থানগুলো হলো: ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাষণের স্থান, ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান, ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ দল থেকে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থান, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের স্থান, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরের স্থান, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ প্রদানের স্থান এবং ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণ প্রদানের স্থান।

হাইকোর্ট সেই রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে অংশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, সেটিকে ‘স্বাধীনতা চত্বর বা লিবার্টি স্কয়ার’ নামকরণ করার জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল।
সেইসাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে সকল প্রকার স্থাপনা অপসারণ এবং স্থাপনা অপসারণের পর চিহ্নিত স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত দৃষ্টিনন্দন ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ এবং সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছিল হাইকোর্ট।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলাদতের পরিষ্কার নির্দেশনা ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতটি চিহ্নিত জায়গায় স্মৃতি ভাস্কর্য ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এমনকি উদ্যানের জায়গা থেকে শিশুপার্ক ও শাহবাগ থানাকেও উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছিল। সে জায়গায় নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর রেস্টুরেন্ট টয়লেট বানাবে এটা তো আদালত অবমাননা করা হচ্ছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আইনি নোটিশ দেব।’

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

ভারতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা হয়নি

ভারতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা হয়নি

ভারতে করোনা পরীক্ষা করতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামবাসীর আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এএফপি অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, ভিডিওটির দাবি সত্য নয়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড করছে ভারত। হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা। হাসপাতালে ওষুধ, অক্সিজেন ও শয্যার তীব্র সংকট।

এমন বাস্তবতায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। এতে দাবি করা হয়, গ্রামবাসীর আক্রমণের শিকার করোনা পরীক্ষা করতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এএফপির ফ্যাক্টচেক ওই দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। এতে দেখা যায়, ভিডিওটির দাবি পুরোপুরি ভুল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের পূর্বাঞ্চলে এক বন্দির মৃত্যুর পর পুলিশভ্যানে হামলা চালিয়েছিল একদল গ্রামবাসী। ওই ঘটনার ভিডিও ৩০ এপ্রিল ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “গ্রামবাসীর প্রতি ভারত সরকার: ‘আপনাদের কোভিড-পিসিআর পরীক্ষার সময়...’ সরকারের প্রতি ভারতের গ্রামবাসী।”

ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ লাঠি হাতে একটি গাড়ির ওপর হামলে পড়েছে।

ফেসবুকের পাশাপাশি ভিডিওটি একই দাবি নিয়ে টুইটার, ইনস্টাগ্রামেও শেয়ার হয়।

জানুয়ারিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ভদরক জেলার হাতুরাই গ্রামে এক বন্দির মৃত্যুর পর স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ বাঁধে।

ওড়িশা টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বুধবার এক তরুণের কথিত আত্মহত্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভদরক জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি এক মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ তরুণটিকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।’

ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টকে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিডিওটি ওড়িশার ভদরক জেলা থেকে ধারণ করা হয়। জানুয়ারি মাসে তাহিদি থানার অধীনে ওই ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশের ওপর ওই সময় হামলা চালিয়েছিল।’

ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সময় ধারণ করা হয় বলেও আরেক জায়গায় দাবি করা হয়।

ভারতের ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট বুম লাইভ ওই দাবিকে ভুল বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

লেবু-গরম পানিতে করোনাভাইরাস মরে কি?

লেবু-গরম পানিতে করোনাভাইরাস মরে কি?

করোনাভাইরাস মারতে বেশ কিছু টোটকার কথা বলা হয়েছে যার অধিকাংশের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ছবি: এনডিটিভি

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এরপরই ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে একটি পোস্ট করেছে। সেই পোস্টে সংস্থাটি দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়ায় ভাইরাস মরে যায় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ভারত করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ অতিক্রম করছে। যখন দেশটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত দেখছে, তখন সে দেশে ভাইরাল হয়েছে অসংখ্য ভিডিও। বেশির ভাগ ভিডিওতে দেয়া হচ্ছে করোনাভাইরাস মারার টোটকা।

যেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তার বেশির ভাগই ভুল তথ্যে ভরা।

এমনই এক ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, নাকে দুই ফোঁটা লেবুর রস দিলে করোনাভাইরাস ‘সম্পূর্ণরূপে মারা’ যায়।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এরপরই ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে একটি পোস্ট করেছে। সেই পোস্টে সংস্থাটি দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়ায় ভাইরাস মরে যায় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

এ ছাড়াও টুইটারসহ অন্য মাধ্যমে শেয়ার হওয়া করোনাভাইরাস নিয়ে অসংখ্য মিথ সম্পর্কে আরও কয়েকটি পোস্ট করে।

কিছু নিউজ রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোভিড আক্রান্ত রোগীরা রক সল্ট ও কাঁচা পেঁয়াজ খেয়েও সুস্থ হচ্ছেন।

এ সম্পর্কেও একটি তথ্য দিয়ে পিআইবি দাবি করেছে, এমন দাবি মিথ্যা। এর পিছনেও কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে পিআইবি জানায়।

একইভাবে ইসরায়েলে করোনাভাইরাস থেকে অনেকেই একটি টোটকায় সেরে উঠেছেন জানিয়ে আরেকটি ভিডিও শেয়ার হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হচ্ছে, গরম পানি, চিকন করে কাটা লেবু ও সোডা বায়োকারবোনেট একসঙ্গে মিশিয়ে গরম চা করতে হবে এবং সেটি প্রতিদিন বিকেলে পান করতে হবে।

সেই ভিডিওতে বলা হয়েছে, এই পানীয় পান করার অল্প সময়ের মধ্যেই করোনাভাইরাস শরীর থেকে মারা যায়।

পিআইবি এই তথ্যের ফ্যাক্ট চেক করে জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মারার এই দাবিও মিথ্যা।

এ ছাড়া একটি ভিডিওতে বলা হয়, গরম পানির ভাপ নিলে করোনাভাইরাস মারা যায়। একইভাবে সেখানে দাবি করা হয়েছে, ধূমপান করলে ও নিরামিষভোজী হলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

পিআইবি এ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, এমন মিথ সম্পর্কেও কোনো যথার্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড

সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড

ফেসবুকের পোস্টটির স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ কখনো সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এটি বিদ্বেষপ্রসূত পোস্ট বলে মনে হচ্ছে।’

নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম রেডিও নিউজিল্যান্ডকে (আরএনজেড) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরকারের সমালোচনামূলক সব মন্তব্য সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল।

তবে ফেসবুক পোস্টে করা দাবি সত্য নয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার ও আরএনজেড।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ও তার দল লেবার পার্টির বিরোধিতামূলক ওই পোস্ট এখনও আরএনজেডের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে রয়েছে।

ফেসবুকের পোস্টটিতে জেসিন্ডার মুখ বিকৃতি করা ছবির ওপরে নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্নসহ ‘তৃতীয় রাইখ’ লেখা। এতে আরএনজেডের লোগোও রয়েছে।

ছবির নিচে লেখা, ‘সরকারের নীতির সমালোচনা করা যেকোনো মন্তব্য আরএনজেডকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে বলেছে লেবার পার্টির সরকার।’

ফেসবুকের ওই পোস্টের শিরোনামে লেখা, ‘আগে কখন আমরা এমনটা দেখেছি?’

এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ কখনো সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এটি বিদ্বেষপ্রসূত পোস্ট বলে মনে হচ্ছে।’

ফেসবুকের পোস্টের দাবিকে মিথ্যা বলেছে আরএনজেডও।

সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ থেকে সরকারের নীতির সমালোচনামূলক মন্তব্য সরাতে নিউজিল্যান্ড সরকার কোনো অনুরোধ জানায়নি।’

ফেসবুকে বিতর্কিত ওই পোস্টটি হওয়ার আগে ২৭ এপ্রিল নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য সংক্রান্ত নীতি হালনাগাদ করে আরএনজেড।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির নতুন নীতি অনুযায়ী, পোস্টে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর মন্তব্য করা হলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। কমেন্ট ডিলিট ও অ্যাকাউন্ট বন্ধের অধিকার আরএনজেডের রয়েছে।

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন

সম্পূরক পুষ্টিতে টিকার কার্যকারিতা বাড়ে না

সম্পূরক পুষ্টিতে টিকার কার্যকারিতা বাড়ে না

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি টিকা গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেহের সম্ভাব্য ক্ষতি কাটাতে কী করণীয়’। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ‘এমআরএনএ টিকা নিয়ে যথেষ্ট পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে এবং দেহকে বিষক্রিয়ামুক্ত রাখার বিষয়গুলো জানা দরকার।’ লেখকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনার টিকার কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক শীর্ষ পাঁচ সম্পূরক পুষ্টি হলো আয়োডিন, জিঙ্ক, কার্বন ৬০, কোয়ার্সেটিন ও পাইরোলোকুইনোলাইন কুইনোন (পিপিকিউ)।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নিলে এর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে সম্পূরক পুষ্টিগ্রহণ- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে এমন সব তথ্য ও নিবন্ধ।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক বলছে, এসব দাবি ভুয়া। চিকিৎসকরা মানেন না এ তত্ত্ব। করোনা প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতাই যথেষ্ট বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) কর্মকর্তারাও।

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি টিকা গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেহের সম্ভাব্য ক্ষতি কাটাতে কী করণীয়’।

নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ‘এমআরএনএ টিকা নিয়ে যথেষ্ট পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে এবং দেহকে বিষক্রিয়ামুক্ত রাখার বিষয়গুলো জানা দরকার।’

লেখকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনার টিকার কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক শীর্ষ পাঁচ সম্পূরক পুষ্টি হলো আয়োডিন, জিঙ্ক, কার্বন ৬০, কোয়ার্সেটিন ও পাইরোলোকুইনোলাইন কুইনোন (পিপিকিউ)।

এগুলো নিয়মিত এমআরএন সেবনে এমআরএনএ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমবে ও কার্যকারিতা বাড়বে বলে দাবি করা হয় নিবন্ধে। যদিও কী পরিমাণে বা কখন-কিভাবে খেতে হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে অনলাইনে কিভাবে এগুলো কেনা যাবে, সে লিংক দিয়ে দেয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিং টুল ক্রাউডট্যাঙ্গল জানিয়েছে, ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট ভ্যাকসিনস’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ নিবন্ধটি ফেসবুকে সরাসরি শেয়ার করা হয়েছে এক হাজার ৮০০ বারের বেশি। টুইটারে ১৫ হাজার বেশি অনুসারী দেখেছেন পোস্টটি।

নিবন্ধটির লেখকের বিষয়ে তিনি চিকিৎসক এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাড়া আর কোনো তথ্য নেই পোস্টে।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় নিবন্ধটি। এর শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘যারা টিকা নিয়ে আফসোস করছেন, তারা কিভাবে এর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ও সর্বনিম্ন ক্ষতি নিশ্চিত করবেন।’

‘প্রিপেয়ার ফর চেঞ্জ’ নামে আরও একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ হয়েছে এই একই নিবন্ধ।

এমআরএনএ টিকা

ম্যাসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা সংক্ষেপে এমআরএনএ টিকা মানুষের ডিএনএ বদলে দিতে পারে- এমন শঙ্কা জানানো হয়েছে এ নিবন্ধে। অথচ বহুদিন ধরে এসব আশঙ্কা যে ভিত্তিহীন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে তা জানিয়ে আসছেন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকা এই প্রযুক্তিতে তৈরি। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠান দুটি এ পর্যন্ত ১০০ কোটি ডোজের বেশি টিকা সরবরাহ করেছে।

সিডিসি বলছে, এমআরএনএ টিকা এমন এক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যা মানবদেহের কোষকে দেহের ভেতরে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত করে তোলে।

তাছাড়া এসব টিকা অপরীক্ষিত ও অনিরাপদ বলে যে দাবি করা হয়েছে এসব নিবন্ধে, সেটিও ভুয়া।

পর্যাপ্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মানবদেহে এ টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিডিসির ওয়েবসাইটে।

সম্পূরক পুষ্টি

টিকা গ্রহণের ফলে দেহে কোনোরকম ঝুঁকি তৈরি হলে আয়োডিন, জিঙ্ক, কার্বন ৬০, কোয়ার্সেটিন ও পাইরোলোকুইনোলাইন কুইনোন (পিপিকিউ) সেবনে সে ঝুঁকি কমবে বলে দাবি করা হয়েছে নিবন্ধে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। টিকা গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সাধারণ প্যারাসিটামল খাওয়াই যথেষ্ট বলে মনে করেন জন হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. আমেশ আদালজা।

টিকার কার্যকারিতা বাড়ানোতেও এসব উপাদানের একটিও সহায়ক নয় বলে জানান মায়ো ক্লিনিকের ভ্যাকসিন রিসার্চ গ্রুপের পরিচালক ড. গ্রেগরি পোল্যান্ড।

নিবন্ধটি ভুলে ভরা বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

শেয়ার করুন