স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

৩০ মার্চ নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে ২৩ মে।

৩০ মার্চ নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে ২৩ মে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় ৩১ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে রোজার ঈদের পর খুলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় থাকবে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয়, আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবকদের সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা। যেভাবে আমাদের দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল, আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম মার্চের ৩১ তারিখে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব।’

গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে আট দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার। শবেবরাতের ছুটির কারণে এক দিন পিছিয়ে ৩১ মার্চ খোলার সিদ্ধান্ত হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ বলেন, ‘১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

কবে কোন পরীক্ষা

১৪ নভেম্বর কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ ও পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর হাদিস শরিফ এবং ২১ নভেম্বর ইসলামের ইতিহাস, রসায়ন, তাজভিদ নসর ও নজম (মুজাব্বিদ গ্রুপ) এবং তাজভিদের (হিফজুল গ্রুপ) পরীক্ষা হবে।

পরীক্ষার রুটিনটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

১. করোনা মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

৩. পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র এবং ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে।

৪. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

শেয়ার করুন

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসির

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসির

বৃহস্পতিবার অনলাইন ও ব্লেন্ডেড লার্নিং বিষয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক ভার্চুয়াল কর্মশালায় বক্তারা।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘উন্নত দেশের মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’ ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে না পারলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় আমাদের গ্রাজুয়েটরা টিকে থাকতে পারবে না।

উন্নত দেশেগুলোর মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার অনলাইন ও ব্লেন্ডেড লার্নিং বিষয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশেগুলোর মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক এ বাস্তবতা অনুধাবন করতে না পারলে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরবর্তী সময়েও অনলাইন শিক্ষা ও ব্লেন্ডেড লার্নিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। এ ব্যবস্থাকে টেকসই করতে ইউজিসি ব্লেন্ডেড লার্নিং পলিসির খসড়া চূড়ান্ত করেছে যা প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে না পারলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় আমাদের গ্রাজুয়েটরা টিকে থাকতে পারবে না।

কর্মশালায় অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, অনলাইন শিক্ষা ও ব্লেন্ডেড লার্নিং কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত এ সংক্রান্ত একটি পলিসি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন করা না গেলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে না। তাই, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

২০ দিনের এই কর্মশালায় দেশের ২০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।

কর্মশালায় অনলাইন শিক্ষা, ব্লেন্ডেড লার্নিং এবং লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বিভিন্ন দিক নিয়ে সেশন পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ট্রেজারার ও স্কুল অব বিজনেসের ডীন অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল আজাদ, সেমকা’র লার্নিং প্রোগ্রাম ফেসিলিটেটর পুরানদার সেনগুপ্ত এবং ন্যাশনাল ট্রেইনার ড. শৌনাক রায়।

শেয়ার করুন

স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ

স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ দিন স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আমরা নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’

করোনার কারণে দীর্ঘ দিন আটকে থাকা নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুনভাবে গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা বোর্ড।

বুধবার রাতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে দুইটি আলাদা অফিস আদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসারকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ দিন স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আমরা নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’

আদেশে বলা হয়, নিম্মমাধ্যমিক, মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রবিধান মালা-২০০৯ এর প্রবিধি ৭ ও ৮ এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রবিধি ৪ ও ৫ মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে।

কমিটি গঠনে যা মানতে হবে

১. ম্যানেজিং কমিটি গঠনে প্রবিধানমালা-২০০১ এর প্রবিধি ১২ থেকে ২৮ পর্যন্ত উল্লেখিত দফাগুলো অনুসরণ করতে হবে।

২. নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি প্রবিধানমালা-২০০৯ এর প্রবিধি ১২ এর উপ প্রবিধি(১) অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের অন্তত ৮০ দিন আগে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান সব শ্রেণির সদস্য পদের জন্য আলাদা আলাদা খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে কমিটির সভায় উপস্থাপন করে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। কোন ভাবেই আগের ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না।

৩. নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি প্রবিধানমালা-২০০৯ এর প্রবিধি ৭(১) মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে। তবে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে ঐসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা কোনভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না।।

৪. নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি প্রবিধানমালা-২০০৯ এর প্রবিধি-১৪ অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণের অন্তত ৩০ দিন আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্দেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে একজন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

শেয়ার করুন

প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ

প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ

প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে মোনালিসা যে কক্ষে ক্লাস করেছিল, ২১ সেপ্টেম্বরই ওই কক্ষে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ আছে। বাকি সব শ্রেণির ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই চলছে। আর কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যায়নি।’

গোপালগঞ্জে আরও এক স্কুলে শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চলছে বাকি শ্রেণির পাঠদান।

করোনা শনাক্ত হওয়া মোনালিসা ইসলাম গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১০২ নম্বর বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি পৌরসভার শিশুবন এলাকায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার নিউজবাংলাকে পাঠদান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মোনালিসার মা মিতু খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন আমার মেয়ে সুস্থ ছিল। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। এরপর ১৪ তারিখ থেকে তার হালকা জ্বর, মাথাব্যথা। সে জন্য পরদিন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই।

‘এক সপ্তাহেও মেয়ের জ্বর না কমায় ২১ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষা করাই। ওই দিনই পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরপর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি।’

জেলা সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ জানান, দুই দিন তাকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। এখন সুস্থ আছে। তাকে করোনার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের আর কারো করোনা ধরা পড়েনি।

প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, ‘মোনালিসা সবশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর ক্লাস করেছে। তার করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় পরিবার থেকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি।

‘স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে সে যে কক্ষে ক্লাস করেছিল, ২১ সেপ্টেম্বরই ওই কক্ষে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ আছে। বাকি সব শ্রেণির ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই চলছে। আর কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যায়নি।’

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে ঢোকানো হচ্ছে বলে জানান এই শিক্ষক।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থী ও তার মা দুজনেরই করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা খবর নিয়ে জেনেছি ওই ছাত্রীর মামা-মামি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করছি, তাদের থেকেই তারা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’

শেয়ার করুন

উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীকে চাপ দেয়া যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীকে চাপ দেয়া যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা এমন একটি বিষয় যেকোনো জায়গায় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংটা রাখছি।’

শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে চাপ না দিয়ে কেন সে উপস্থিত হয়নি, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডা. জোহরা কাজীর উদ্যোগে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

দীপু মনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে চাপ দেয়া যাবে না। দেখতে হবে সে কেন উপস্থিত হলো না। কোনোভাবেই জোর করা যাবে না। কারণ কোনো শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ না করতে পারলেও তার জন্য অনলাইন ও টিভিতে এখনো ক্লাস চালু আছে।’

করোনার উপসর্গ নিয়ে মানিকগঞ্জের স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি অবশ্যই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখছে। আমরা মানিকগঞ্জের যে তথ্যটি পেয়েছিলাম, সেখানকার সব শিক্ষার্থীর করোনা টেস্ট করা হয়েছে এবং সবার ফল নেগেটিভ এসেছে।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর করোনা উপসর্গ নিয়ে মানিকগঞ্জের সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুবর্ণা ইসলাম রোদেলা (১৪) ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তিনা খানম করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের ওই শ্রেণি ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ওই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা এমন একটি বিষয় যেকোনো জায়গায় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংটা রাখছি।’

সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাড়িতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার পথে করোনা সংক্রমণ হতে পারে। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক আছি। কোথাও এমন কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করা হবে। তবে আশার কথা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি।’

দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমরা অভিভাবকদেরও বলেছি। কোনো শিক্ষার্থীর বিন্দু পরিমাণ উপসর্গও যদি থাকে বা তার বাড়িতে কারও উপসর্গ থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীকে স্কুলে পাঠানো যাবে না।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

শেয়ার করুন

নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই

নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত নতুন শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষক গড়ে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন এ কাঠামো বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষক একান্ত প্রয়োজন। কেননা শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের ডেলিভারি দিতে না পারেন, তাহলে এটা কাগজেই থেকে যাবে। তাই শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের আর্কষণ করতে হবে।

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনছে সরকার। নতুন শিক্ষা কাঠামোয় পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির দুটি পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। পাশাপাশি নবম ও দশম শ্রেণিতে মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা নামে বিভাগও তুলে দেয়া হবে। এর বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৩ সাল থেকে।

সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, নতুন এই শিক্ষা কাঠামো বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষক গড়ে তোলাই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ নতুন এ কাঠামোতে শিক্ষকরাই মূল ভূমিকা পালন করবেন।

কেমন হলো নতুন শিক্ষা কাঠামো- এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দা তাহমিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা এক কথায় অসাধারণ। এটাই শিক্ষাব্যবস্থার স্ট্যান্ডার্ড কাঠামো। এই রূপরেখার একটি ভালাে দিক হলো এই কাঠামোতে শিক্ষার্থী যা শিখবে, তা বাস্তবে ‍প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে।’

নতুন এ কাঠামো বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষক প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন এ কাঠামো বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষক একান্ত প্রয়োজন। কেননা শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের ডেলিভারি দিতে না পারে, তাহলে এটা কাগজেই থেকে যাবে। তাই শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের আর্কষণ করতে হবে এবং তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই বাড়াতে হবে। শিক্ষকরা যদি এখনকার মতো নামমাত্র বেতন পান, তাহলে এ কাঠামো বাস্তবায়ন কঠিন হবে।’

একই কথা বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাকাঠামো তৈরির উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। এ কাঠামোতে পরীক্ষা তুলে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যা ইতিবাচক।’

তিনি আরও বলেন, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব যাদের অর্থাৎ শিক্ষকদের এতে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘অবশ্যই নতুন কাঠামোতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে: কেন আমরা ২০১০ সালের শিক্ষানীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারলাম না, এটা আগে খুঁজে বের করতে হবে এবং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন শিক্ষা কাঠামো বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।’

শিক্ষকদের উন্নত জীবনযাপন নিশ্চিতের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা কাঠামো বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করবেন শিক্ষকরা। তাই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আগে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে, যাতে তারা উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন এবং পেশায় মনোযোগ দিতে পারেন। তা না হলে নতুন শিক্ষা কাঠামো বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

কী নতুনত্ব থাকছে নতুন শিক্ষাক্রমে

প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

নতুন শিক্ষাক্রমে কী কী নতুনত্ব আছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে যেন বৈষম্য না হয়, সে বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় ছিল। বর্তমান পদ্ধতিতে গ্রামের অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা বেশি সংখ্যায় মানবিক বিভাগে পড়ে। আর শহরের ধনী শিক্ষার্থীরা বেশি পড়ে বিজ্ঞানে। এতে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে সমাজে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন পদ্ধতি হবে ফ্যাসিলিটি (সুবিধা) নির্ভর। অর্থাৎ ক্লাসে সময় ব্যয়ের চেয়ে শিক্ষার্থীকে বাইরের কাজে বেশি সময় দিতে হবে। ফলে তার গুণাবলিও বাড়বে অনেক বেশি।

যেভাবে মূল্যায়ন করা হবে

নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের আর প্রচলিত নিয়মে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে না। মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন।

এ বিষয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পুরোটাই হবে শিখনকালীন মূল্যায়ন অর্থাৎ ধারাবাহিক মূল্যায়ন, যেটি হবে ১০০ শতাংশ। চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণিতে ভাগ আছে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান- এ বিষয়গুলোতে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ, আর সামষ্টিক মূল্যায়ন বা বর্ষ শেষে পরীক্ষা থেকে হবে ৪০ শতাংশ।

‘কিছু কিছু বিষয় যেমন শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা, ধর্মশিক্ষা ও শিল্পকলা এগুলোর ১০০ শতাংশই শিখনকালীন মূল্যায়ন হয়ে যাবে, অর্থাৎ হবে ধারাবাহিক মূল্যায়ন। আমরা এর মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়নের যে পাইলটিং করেছি, সেখানেও কিন্তু অসাধারণ ভালো সাড়া পেয়েছি। এখানে আমরা অভিভাবকদেরও সম্পৃক্ত করেছি। শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী সকলের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আমরা খুব ভালো ফল পেয়েছি।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিকবিজ্ঞানে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ। বাকি বিষয়গুলো আর সামষ্টিক মূল্যায়ন ৪০ শতাংশ। বাকি যে বিষয়গুলো- জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি, সেগুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন ১০০ শতাংশ।

‘নবম ও দশম শ্রেণিতে গিয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিকবিজ্ঞান- এই বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ। বাকি বিষয়গুলোতে ১০০ শতাংশ শিখনকালীন মূল্যায়ন। আর দশম শ্রেণি শেষে পাঠ্যসূচির ওপরে পাবলিক পরীক্ষা। আগে তো নবম-দশম মিলে একটা পাবলিক পরীক্ষা হতো, এখন দশম শ্রেণির শেষে পাবলিক পরীক্ষাটি হবে। অর্থাৎ এসএসসি পরীক্ষা যেটি হবে, সেটি শুধু ক্লাস টেনের কারিকুলামের ওপরে হবে।’

দীপু মনি জানান, একাদশ ও দ্বাদশে আবশ্যিক বিষয়গুলোতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ পাবলিক পরীক্ষায় গিয়ে ৭০ শতাংশ পরীক্ষা দিতে হবে। প্রায়োগিক বা ঐচ্ছিক বিষয়গুলোতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ১০০ শতাংশ। সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক ব্যাবহারিক ভিত্তিতেও শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।

শেয়ার করুন

বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই

বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই

দেশে শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীদেরকে ইশারা ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেই বললেই চলে । ছবি: সংগৃহীত

দেশে ইশারা ভাষা শেখার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় বাক্‌প্রতিবন্ধীদের ভাষা বোঝা সাধারণের জন্য কষ্টসাধ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পাঠ্যপুস্তকে ইশারা ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

দেশে শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীদের ইশারা ভাষা শেখানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। হাতে গোনা দু-একটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের অবস্থা নিভু নিভু। এ ক্ষেত্রে নেই কোনো সরকারি সহায়তাও।

এমন বাস্তবতায় আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ‘ইশারা ভাষা দিবস’। তবে বাংলাদেশে আলাদাভাবে প্রতিবছর ৭ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় ‘বাংলা ইশারা ভাষা দিবস’।

বেসরকারি সংস্থা সোসাইটি অফ দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্সের (এসডিএসএল) হিসাবে দেশে শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এর মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা পাচ্ছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার জন।

দেশে ইশারা ভাষা শেখার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় বাক্‌প্রতিবন্ধীদের ভাষা বোঝা সাধারণের জন্য কষ্টসাধ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পাঠ্যপুস্তকে ইশারা ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

সেই সঙ্গে ইশারা ভাষা শেখার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান তাদের।

শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে হাত ও বাহু নাড়ানোর মাধ্যমে যোগাযোগ করার পদ্ধতিকে ইশারা ভাষা বলা হয়। যখন কেউ মুখের ভাষায় যোগাযোগ করতে পারেন না, তখনই ইশারার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও প্রতিবন্ধিতা বিশেষজ্ঞ ম. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘দেশে গণমাধ্যমসহ সব প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ইশারা ভাষা এখনও চরমভাবে অবহেলিত। এ জন্য সাধারণ মানুষ শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীদের ভাষা বুঝতে পারে না।

‘দেশে ইশারা ভাষা শেখার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান নেই। তাই ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে তেমন জানেই না। উন্নত বিশ্বের মতো দেশেও পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তা না হলে শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীদের ভাষা সাধারণের জন্য কখনোই বোধগম্য হবে না।

একই সুরে কথা বললেন সোসাইটি অফ দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ হাসিবা হাসান জয়া।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার কাঠামো শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীবান্ধব না। পাঠ্যপুস্তকেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনাও নেই। ফলে সমাজে শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীরা অবহেলিত। তাদের সমাজের মূলধারায় আনতে এবং শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধীদের ভাষা সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের ইশারা ভাষা শেখাতে হবে।’

বিশালসংখ্যক শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী সরকারি সব সুযোগ-সুবিধার বাইরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ভাতা পায় ২ লাখ ৫০ হাজার শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী, কিন্তু আমরা নিজস্ব জরিপ করে দেখেছি, এ সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

হাসিবা হাসান জানান, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, নিউরোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডার, অটিস্টিকসহ অনেকে ইশারা ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। এই বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠী সরকারি সব সুযোগ-সুবিধার বাইরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনের সময় বাংলা ইশারা ভাষাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব টেলিভিশন চ্যানেলে ইশারা ভাষায় সংবাদ উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

২০০৯ সালের ২৬ মার্চ থেকে বেসরকারি টেলিভিশন দেশ টিভি এবং আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) তা চালু করে। এ পর্যন্ত অন্য কোনো টেলিভিশন তাদের সংবাদে ইশারা ভাষার ব্যবহার শুরু করেনি।

পরে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি সরকারের আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৭ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

শেয়ার করুন