× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Did the attempt to get out of the floor stop?
hear-news
player
google_news print-icon

ফ্লোর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা কি থেমে গেল

ফ্লোর-থেকে-বের-হওয়ার-চেষ্টা-কি-থেমে-গেল
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার হোঁচট খেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি
বুধ ও বৃহস্পতিবার ফ্লোর প্রাইসের বেশি বা কম দরে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা যেখানে ছিল ১৬৬ ও ১৫৪টি, সেটি আজ কমে হয়েছে ১৫৩টি। একই সঙ্গে ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যাও বেড়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ দুই কর্মদিবসে ফ্লোর প্রাইস থেকে শেয়ারগুলোর বেরিয়ে আসার যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববারে তা কিছুটা উবে গেল।

আবারও কিছু শেয়ার যোগ হয়েছে ফ্লোর প্রাইসের তালিকায়। দিনভর উত্থান-পতনের লড়াই শেষে সূচক সামান্য বাড়লেও লেনদেন কমেছে ২০০ কোটির বেশি।

বুধ ও বৃহস্পতিবার ফ্লোর প্রাইসের বেশি বা কম দরে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা যেখানে ছিল ১৬৬ ও ১৫৪টি, সেটি আজ কমে হয়েছে ১৫৩টি। একই সঙ্গে ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যাও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার দুই শতাধিক কোম্পানির লেনদেন হয় অপরিবর্তিত দরে, যার দুই-একটি বাদে সবই ফ্লোর প্রাইসে ছিল। সেদিন এমন লেনদেন হয়েছে ২০২টি শেয়ারের। আজ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩টিতে।

চেক নগদায়নের আগেও শেয়ার কেনা যাবে বলে বিএসইসি থেকে আদেশ জারি এবং আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ফ্লোর প্রাইস না থাকার বিষয়টি জানানোর ঘটনায় আতঙ্ক কমে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে ফিরবে বলে আশাবাদী হয়ে ওঠেন বিনিয়োগকারীরা।

গত তিন কর্মদিবসে ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন হওয়ায় সে আশা আরও জোরালো হয়ে ওঠে, তবে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে কিছুটা উল্টো পথে ছুটল পুঁজিবাজার।

দিনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়, তবে পরের ১০ মিনিটেই আবার আগের অবস্থানে চলে যায়। বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সূচকে ২১ পয়েন্ট যোগ হয়। এরপর আবার দরপতনে সূচক পড়লেও আগের দিনের চেয়ে নিচে নামেনি।

এরপর যে উত্থান দেখা দেয়, তাতে দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে ২২ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৩২ পয়েন্টে দাঁড়ায়, তবে সেটিও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ।

১টা ৪৪ মিনিটে সূচক পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে লেনদেন শেষ হয় ৫ পয়েন্ট বেড়ে। ডিএসইএক্স অবস্থান করে ৬ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে।

বৃহস্পতিবার ২২ কর্মদিবস পর প্রথমবারের মতো লেনদেন ছাড়ায় দেড় হাজার কোটি টাকার ঘর। লেনদেন হয় ১ হাজার ৫১২ কোটি ৪৪ লাখ ৯ হাজার টাকা, যা গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন লেনদেন ছিল ১ হাজার ৫৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

সেখান থেকে কমে রোববার হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৩১ লাখ ১২ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২৩৭ কোটি ১২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা কম।

আজ ৬২টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে দর বেড়ে। বিপরীতে কমেছে ৯১টির দর।

রোববারের লেনদেন পর্যালোচনা করেই বাজারকে মূল্যায়ন করার বিপক্ষে মত দেন ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আজকের বাজার দেখেই নেগেটিভ ভাব ঠিক হবে না। আগের সপ্তাহেও শেষে দিকে এসে বাজার গতি পেয়েছিল। বুধবার যেসব এ ক্যাটাগরির শেয়ার ক্রয় ছিল সেগুলো আজ ম্যাচিউরড ছিল, সেক্ষেত্রে ওইসব শেয়ারে কিছু প্রফিট ও সেল থাকতে পারে। আরও দুই দিন গেলে তারপর বোঝা যাবে, আসলে ফ্লোর থেকে বের হবে নাকি ফ্লোরের দিকে যাবে।’

সূচকে প্রভাব যাদের

৪ দশমিক ১৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বসুন্ধরা পেপারের দর ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭০ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো ফার্মা সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ১১ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস, ইস্টার্ন হাউজিং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পূবালী ব্যাংক, বিকন ফার্মা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট সূচক কমেছে স্কয়ার ফার্মার দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমেছে সি-পার্লের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ওরিয়ন ফার্মার দর ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া ইউনিক হোটেল, বেক্সিমকো লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, কোহিনূর কেমিক্যাল, মনোস্পুল, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস ও একমি ল্যাবের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট।

শীর্ষ ৫ খাত যেমন

বৃহস্পতিবার ৫টি খাতের লেনদেন শতকোটি ছাড়িয়েছিল, যার মধ্যে তিনটিতে লেনদেন হয়েছিল দুই শ কোটির ওপরে। রোববার শতকোটির ওপরে লেনদেন হয়েছে ৩টি খাতে, যার দুটিতে ২০০ কোটি ছাড়িয়েছে। আর একটির লেনদেন হয়েছে শতকোটির কাছাকাছি।

শতভাগ কোম্পানির দরবৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন হয়েছে একমাত্র জীবন বিমায়। এর বাইরে পাটের ২টি বা ৬৬.৬৭ শতাংশ ও সেবা খাতের ২টি বা ৫০ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে, ৪৬টি কোম্পানির। এ ছাড়াও এ তালিকায় ছিল প্রধান খাতের মধ্যে ব্যাংকের ২৮টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৮টি, মিউচুয়্যাল ফান্ডের ২৬টি, জ্বালানির ১২টি ও সাধারণ বিমার ১১টি কোম্পানি।

২১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা লেনদেন করে শীর্ষে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। আগের দিনে লেনদেন আরও বেশি ছিল, ২২৭ কোটি ৬৭ লাখ। ৬টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৫টির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, ১০টির দরপতনে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। হাতবদল হয়েছে ২০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা বৃহস্পতিবার ছিল ২৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তার আগের দিনে লেনদেন আরও বেশি ছিল, ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

৪টি করে মোট ১২টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে আগের দরবৃদ্ধি, দরপতন ও অপরিবর্তিত দরে।

১৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেন করে তৃতীয় স্থানে ছিল প্রযুক্তি খাত। আগের দিনে লেনদেন হয়েছিল ২০০ কোটি ২২ লাখ টাকা। ৫টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে। ৪টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

চতুর্থ সর্বোচ্চ ৯৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। ৪টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩টির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে। ১৫টির লেনদেন হয় দর কমে।

পাঁচে থাকা কাগজ ও মুদ্রণ খাতে হাতবদল হয়েছে ৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে। ৩টির লেনদেন হয়েছে দরপতনে।

জীবন বিমা, সাধারণ বিমা, জ্বালানি, সেবা ও আবাসন ও বস্ত্র খাতে লেনদেন হয়েছে ৭২ থেকে ৫৪ কোটির মধ্যে।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বেড়ে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায়, যা আগের দিনে লেনদেন হয়েছিল ১৬ টাকায়।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৮১ টাকা ৬০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৭৪ টাকা ২০ পয়সা।

জেনেক্স ইনফোসিসের দর ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬ টাকা ১০ পয়সায় শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ৮৭ টাকা ৪০ পয়সা।

এ ছাড়া দরবৃদ্ধির দশে ছিল- বসুন্ধরা পেপার, সিনোবাংলা, বিডি ওয়েল্ডিং, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ও পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে মনোস্পুলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২১ টাকায়, যা আগের দিনে লেনদেন হয়েছিল ৩৪৭ টাকা ৮০ পয়সায়।

হাক্কানিপাল্পের দর ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ৬৩ টাকা ১০ পয়সায় প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পূর্বের দর ছিল ৬৮ টাকা ২০ পয়সা।

৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ দর কমে আরএসআরএম স্টিলের শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

এ ছাড়াও পতনের তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, সি-পার্ল, কে অ্যান্ড কিউ, পেনিনসুলা চিটাগং, পেপার প্রসেসিং, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।

আরও পড়ুন:
বিএসইসি-আইএমএফ বৈঠকের এজেন্ডায় ‘ফ্লোর প্রাইস নেই’
পুঁজিবাজারে এবার ‘আইএমএফ ভীতি’
জালিয়াতির শাস্তি রেখে বাতিল হচ্ছে বিএসইসির চেক নির্দেশনা
আরও একগুচ্ছ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা
৯ মাসে মুনাফা ১৪ কোটি, ৩ মাসে লোকসান ৩৬ কোটি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The BSEC commissioner did not take responsibility for the wrong decision

ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার

ভুল সিদ্ধান্তের দায় নিলেন না বিএসইসি কমিশনার প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা
শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়ার সব আইনকানুন পরিপালন করতে হবে। অনেক বিষয় আছে, যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়। আরও দেখতে হয় কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোনো কোম্পানি আছে কি না, সে কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে পরিচালিত করছেন।’

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্তিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের দায় অডিটরদের বলে জানালেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনীতে বুধবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় অডিটরদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ এই জিনিসগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ আইপিও প্রসেসটাকে ডিজিটালাইজড করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আইপিও প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নে বিএসইসি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চেষ্টা করছে বলে জানান শেখ শামসুদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটালাইজেশন ফিনটেক টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। এ জন্য সরকারের ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যে ফান্ডটি পাওয়া যাবে৷ বিএসইসি সে ফান্ড নিয়ে পুরো আইপিও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করবে।’

কোম্পানির তথ্য ঘাটতি আইপিও প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে জানিয়ে বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় আইপিও অনুমোদনের জন্য কালক্ষেপণ হয়। এ জন্য বিএসইসি ও ডিএসই দায়ী থাকে না। কোম্পানির তথ্য ঘাটতির জন্য মূলত এটি হয়ে থাকে।’

আইপিও প্রক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য ইএসজি রিপোর্টিংয়ের মতো নতুন নতুন নির্দেশিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ডকুমেন্ট কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ডকুমেন্ট তৈরিতে কমিশনের কোনো হাত নেই। কমিশন অডিটরদের অডিট রিপোর্টকে পর্যাপ্ত ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়ার সব আইনকানুন পরিপালন করতে হবে। অনেক বিষয় আছে যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়। আরও দেখতে হয় কোম্পানির পরিচালকদের অন্য কোনো কোম্পানি আছে কিনা, সে কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে পরিচালিত করছেন।’

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ৪টি বিষয় খেয়াল রাখা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা কেমন ও তাদের মানসিকতা কী, আইপিওতে বিনিয়োগকারীর বিভিন্ন বিষয় জানা, কোম্পানিটি কোনো রেগুলেটরি ক্রাইসিস তৈরি করবে কিনা সেটি লক্ষ রাখা এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে খেয়াল রাখে কমিশন।’

প্রশিক্ষণার্থীদের তিনি বলেন, ‘কর্মশালার মাধ্যমে যে সব বিষয় শিখছেন, তা শুধুমাত্র শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ভালো কোম্পানিগুলোকে কমিশনের কাছে নিয়ে আসবেন। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেই পুঁজিবাজার ও দেশের কল্যাণ হবে।’​

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রসপেক্টাস মূল্যায়নে বিএসইসি এবং এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা, রেড-হেয়ারিং প্রসপেক্টাসের বিশেষত্ব, প্রসপেক্টাসের প্রয়োজনীয়তা ও বিষয়বস্তু, সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং আর্থিক বিবৃতি মূল্যায়ন, প্রসপেক্টাসের যাচাই-বাছাই পদ্ধতি, ভেটিং পদ্ধতি, আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং বিষয়বস্তু, সিকিউরিটিজ বিতরণ প্রক্রিয়া, লক ইন বিধান, ডিফল্ট এবং শাস্তিমূলক বিধানের পরিণতি এবং আইপিও অনুমোদন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম৷

আরও পড়ুন:
অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ
পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Again the director of DSE is Shakeel Shahjahan

আবার ডিএসইর পরিচালক হচ্ছেন শাকিল-শাহজাহান

আবার ডিএসইর পরিচালক হচ্ছেন শাকিল-শাহজাহান মো. শাকিল রিজভী (বাঁয়ে) ও মোহাম্মদ শাহজাহান। ছবি: সংগৃহীত
দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিএসই। এ পদে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ফরম সংগ্রহ না করায় তারা আবারও পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আবারও তিন বছরের জন্য পরিচালকের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মো. শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী তিন বছরের জন্য এ দায়িত্ব পাচ্ছেন। বর্তমানেও তারা দুজন পর্ষদে রয়েছেন।

দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিএসই। এ পদে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ফরম সংগ্রহ না করায় তারা আবারও পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা আমাদের শেয়ারহোল্ডার, তারা আমাদের ওপরে আস্থা রেখেছেন, এ জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী নতুন বছরে যেন পুঁজিবাজার আরও ভালো হয় সেটার জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাব। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আমরা কাজ করে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, তিন সদস্যের কমিশন গঠন করে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এ কমিশনে চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাইকোর্ট ডিভিশনের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আব্দুস সামাদকে। সদস্য করা হয়েছে মোরশেদ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান আজিজুর রহমান এবং স্টক অ্যান্ড বন্ডের পরিচালক মোহাম্মদ এ হাফিজকে।

ডিএসইর সংঘ স্মারকের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহানের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এ শেষ হওয়া পদে দুজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের জন্য ২২ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য ২৮ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিন ঠিক করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দুটি পদে শুধু শাকিল রিজভী ও মোহাম্মদ শাহজাহান মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

আরও পড়ুন:
৯ ব্রোকারেজ হাউসে ৬৫ অনিয়ম
পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশন
পদে ফিরতে চান তারিক, সুযোগ নেই: ডিএসই
ডিএসইর এমডিরা মেয়াদ পূরণ করতে পারেন না কেন
ডিএসই এমডির পদত্যাগ গ্রহণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Transactions in the capital market are increasing little by little

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন একটি ব্রোকারেজ হাউসে এক বিনিযোগকারী। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টি। আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

শেষ কর্মদিবসেও উত্থানের মধ্য দিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তিন কর্মদিবস সূচকে পয়েন্ট যোগ হলো। সেই সঙ্গে দিনের চেয়ে বেড়ে ছয় কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো লেনদেনও।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রভাব শুরু হওয়া পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে তিন সপ্তাহ ধরে ফের সংশোধন চলছে পুঁজিবাজারে।

১৫ কর্মদিবস আগে ৯ নভেম্বর সর্বশেষ হাজার কোটির বেশি লেনদেন হয়েছিল ডিএসইতে। এরপরে তিন কর্মদিবস ৭০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হলেও ক্রমেই তা তলানিতে ঠেকে।

৮ কর্মদিবসে পরে ২১ নভেম্বর সর্বপ্রথম লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। হাতবদল হয় ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

পরে আরও তিনবার ৩০০ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা লেনদেন হয়, যা গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

এমনকি ২৪ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ থাকার পরও এর চেয়ে কম লেনদেন হয়নি।

রোববার ৪১৬ কোটির বেশি লেনদেন হলেও সোমবারই আবার লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যাওয়ায় হতাশা ঘিরে ধরে। এরপর ধারাবাহিক তিন কর্মদিবস সূচক ও দুই কর্মদিবস লেনদেন বাড়ে।

ডিএসইতে হাতবদল হয় ৪৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৫ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

মঙ্গলবারের তুলনায় ১১৫ কোটি টাকা বেড়ে বুধবার হাতবদল হয়েছিল ৪৪৯ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টির।

আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

দিনভর উত্থান-পতনের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্যেও একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি ৭২টির, যা আগের দিন ছিল ৮৬। ২৩৪টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার দুই-একটি বাদে সবই ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে।

বিপুল বিক্রয়াদেশের বিপরীতে এসব শেয়ারের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ রকম ১২১টি শেয়ারের লেনদেন হয় ১ থেকে ১ হাজারের নিচে।

মাত্র ৬১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয় কোটি টাকার বেশি, হাতবদল হয় ৩৮৬ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি আড়াই শতাধিক কোম্পানির লেনদেন হয় শত কোটির নিচে। এ রকম ২৫৭টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের সংশোধনে মানুষের বড় রকমের লোকসান হয়েছে। যাদের মার্জিনে ঋণে বিনিয়োগ ছিল তাদের ফোর্স সেল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যখন বড় ধরনের পতন হয়, তখন বাজারে বায়ার তৈরি হয়ে যায়।’

এ উত্থানটা আরও বেশি হতে পারত বলে মনে করেন ব্রোকারদের এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাজার যেভাবে ওঠার দরকার ছিল, সেভাবে ওঠেনি। যে পরিমাণ লোকসান হয়েছে, তাতে আরও বেশি বায়ার তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না ফ্লোর প্রাইসের কারণে। ফলে অনেকেই সাইডলাইনে আছেন।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বসুন্ধরা পেপার। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, পূবালী ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ওরিয়ন ফার্মা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সোনালী পেপার।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে সি-পার্ল। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বিকন ফার্মার দর শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো ফার্মার কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়াও নাভানা ফার্মা, ই-জেনারেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, মুন্নু সিরামিকস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ক্যাবলস ও সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্সের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২৭ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৪৮৫ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে বেঙ্গল উইন্ডসরের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল হাক্কানি পাল্প। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৬৩ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৫৮ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল বসুন্ধরা পেপার, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ফুডস, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও ফাইন ফুডস।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ দর কমেছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর কমে সি-পার্লের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭৮ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১৮৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই দর কমেছে ই-জেনারেশনের। ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৬২ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল জুট স্পিনার্স, মুন্নু সিরামিকস, শমরিতা হসপিটাল, নাভানা ফার্মা, ইস্টার্ন ক্যাবলস, আমরা টেকনোলজিস ও আমরা নেটওয়ার্কস।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
NBL Securities will provide OMS facility to customers

গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ

গ্রাহকদের ওএমএস সুবিধা দেবে এনবিএল সিকিউরিটিজ রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে এনবিএল সিকিউরিটিজের প্রযুক্তি সহায়ক প্রতিষ্ঠান টেকইট্রোন বুধবার চুক্তি সইয়ের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা
ওএমএস সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে এনবিএল সিকিউরিটিজ ডিএসই, এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি ও লিডস করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি ‘জ্যাগ ট্রেডার’ দেবে।

গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের সেবা দিতে জ্যাগ ট্রেডার নামক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালু করতে যাচ্ছে এনবিএল সিকিউরিটিজ। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি ও লিডস করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে এনবিএল সিকিউরিটিজের প্রযুক্তি সহায়ক প্রতিষ্ঠান টেকইট্রোন বুধবার এ চুক্তি সইয়ের আয়োজন করে।

চুক্তি অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসকে অ্যাডভাইজরি এফজেড এলএলসি বিশ্বখ্যাত অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) ‘জ্যাগ ট্রেডার’ দেবে।

এর সাহায্যে এনবিএল সিকিউরিটিজ ডিএসই’র মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয় লেনদেন প্ল্যাটফর্ম সেবা দেবে। এই কার্যক্রমে লোকাল সাপোর্ট দেবে লিডস করপোরেশন লিমিটেড।

টেকইট্রোন ভেঞ্চার লিমিটেডের সহায়তায় এনবিএল সিকিউরিটিজ জ্যাগ ট্রেডার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সহায়তা ও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার, এনবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জোবায়েড আল-মামুন হাসান, শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) মান্না সোমি, ডিএসইর পণ্য ও বাজার উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সৈয়দ মাহমুদ জুবায়ের, লিডস করপোরেশনের চিফ মার্কেটিং অফিসার আনিসুর রহমান খান এবং টেকইট্রোন ভেঞ্চার লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল: সারাবিশ্বে বিডের যোগ্যতা অর্জন রেনাটার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Capital market is not a source of long term funding DSE Chairman

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান মঙ্গলবার ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার দেশের শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ার কথা থাকলেও সেই অবস্থানে যেতে পারছে না। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, দেশে মূল অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়। ফলে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়। পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলনের নিরাপদ ও টেকসই উৎস হয়ে ওঠার জন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং সুন্দর হওয়া জরুরি।’

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে মঙ্গলবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য দুদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি।

ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার দেশের শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ার কথা থাকলেও সেই অবস্থানে যেতে পারছে না। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, দেশে মূল অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়। ফলে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়।’

পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করাই লক্ষ্য জানিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির মূল উৎসে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করছি।’

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলনের নিরাপদ ও টেকসই উৎস হয়ে ওঠার জন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুন্দর হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে আইপিও নির্ধারিত হয়৷ কাজেই ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টগুলো যেন অধিকতর স্বচ্ছ হয়, সে বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল কাজ করছে৷ আগামী দিনগুলোতে চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মগুলো আরও আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। তখন স্টেটমেন্টগুলোর সঠিকতা নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তা দূরীভূত হবে।’

আইপিও প্রক্রিয়ার ভুল সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘বিগত নয়-দশ বছরে দেশে শতাধিক কোম্পানির আইপিও এসেছে। এর অনেকগুলো বর্তমানে ফেসভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে। এখানে যেসব ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে তা নির্ধারণপূর্বক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা উত্তরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা আইপিওর প্রসেস ও প্রসিডিউর সম্পর্কে হাতে-কলমে শিখবেন। ব্যক্তি জীবনে কাজে লাগাবেন। আপনাদের অ্যাটিটিউড পজিটিভ হলেই দেশ উপকৃত হবে। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘আইপিও-র প্রসেস, প্রসিডিউর এবং বিধি ও প্রবিধান সবই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত আছে। তারপরও এই প্রশিক্ষণের বিশেষত্ব হলো প্রশিক্ষক যারা রয়েছেন তাদের প্রয়োগিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা৷’

আইপিও প্রসেসিং সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক করপোরেট হাউজ রয়েছে, যাদের আইপিওর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আইপিও প্রসেসিং সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকায় ধীরগতিতে এগুচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ ও নলেজ লেভেল সমৃদ্ধ হবে।’

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পাবলিক অফারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, আইপিও ব্যবস্থাপনায় ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডাররাইটার ও রেজিস্টারের ভূমিকা, ইলেক্ট্রনিক সাবসক্রিপশন সিস্টেম, আইপিওর আবেদন প্রক্রিয়া ও শেয়ার বরাদ্দ, ডিরেক্ট লিস্টিং ও পাবলিক অফারের ডকুমেন্ট প্রসপেক্টাসের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Stock market A glimmer of hope in the dark

পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো

পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো একটি ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি
আগের দিনের মতোই বুধবার দরপতনের তুলনায় দ্বিগুণ দরবৃদ্ধি হয়েছে। ২৬টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৫১টির। মঙ্গলবার সংখ্যাটা ছিল ৬৩টি, তবে তা আজকের মতো সূচকে প্রভাব ফেলতে পারেনি।

দুই সপ্তাহ ধরে দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হওয়া দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে ক্ষীণ আলো দেখা গেছে বুধবার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকে আগের দিনের চেয়ে দ্বিগুণ পয়েন্ট যোগ হওয়ার সঙ্গে লেনদেন বেড়েছে শত কোটি টাকার বেশি, তবে ‘খাদের কিনার’ থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না।

আজ একটিও বেচাকেনা হয়নি এমন শেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে। এখনও পৌনে ২০০টির বেশি শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক শেয়ারের বিক্রয়াদেশের বিপরীতে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না এসব শেয়ারের।

ডিএসইতে বুধবার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয় ৪৪৯ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১১৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেশি।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়ার পর পুঁজিবাজারে কিছুটা উত্থান দেখা গিয়েছিল, কিন্তু এর পরে যে সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে গত তিন সপ্তাহ ধরে লেনদেন তলানিতে নেমেছে। এ সময়ে যে লেনদেন হচ্ছে, তা দুই মাস আগে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারের এক ঘণ্টার সমান।

এর মধ্যে মঙ্গলবার দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। আর গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর বা দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা লেনদেন হয় গত বৃহস্পতিবার।

এমনকি ২৪ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ থাকার পরও এর চেয়ে কম লেনদেন হয়নি। সেখান থেকে অল্প অল্প বেড়ে আজ লেনদেন দ্বিতীয়বারের মতো ৪০০ কোটির ঘর ছাড়াল।

আগের দিনের মতোই দরপতনের তুলনায় দ্বিগুণ দরবৃদ্ধি হয়েছে। ২৬টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৫১টির। মঙ্গলবার সংখ্যাটা ছিল ৬৩টি, তবে তা আজকের মতো সূচকে প্রভাব ফেলতে পারেনি।

২৩ পয়েন্ট যোগ হয়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে। গত ৯ কর্মদিবসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অবস্থান।

এর চেয়ে বেশি সূচক ছিল ১০ কর্মদিবস আগে ১৭ নভেম্বর। ওই দিন ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে।

লেনদেনের শুরুতে অবশ্য পতনের পাল্লাই বেশি ভারী ছিল। সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট কমে লেনদেন হচ্ছিল, তবে এরপর ধারাবাহিকভাবে দরবৃদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত ওই পরিমাণ সূচক বাড়ে।

সূচক, লেনদেন বৃদ্ধির মধ্যেও একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি ৮৬টির। আগের দিন এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৭৩টি।

২২৭টির লেনদেন হয় অপরিবর্তিত দরে, যার দুই-একটি বাদে সবই রয়েছে ফ্লোর প্রাইসে।

১১৬টির শেয়ারের বিপুল বিক্রয়াদেশের বিপরীতে ক্রেতা ছিল নগণ্য। কোম্পানিগুলোতে শেয়ার লেনদেন হয় ১ থেকে ১ হাজারের মধ্যে।

ভারসাম্য ছিল না লেনদেনেও। আড়াই শর মতো কোম্পানিতে লেনদেন শত কোটি অতিক্রম করতে পারেনি।

কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেন হয় ৫৪টি কোম্পানিতে। এ লেনদেনের পরিমাণ ৩৬০ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। বাকি ২৫০টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি ৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজ এর শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বাজারের চেয়ে আজকের বাজারের কোনো পার্থক্য নেই; একই অবস্থাতে আছে, তবে জাঙ্ক শেয়ারের কয়েকটা কিছু নড়াচড়া হয়েছে। যখন মার্কেট স্লো থাকে, এগুলোতে একটু মুভমেন্ট লক্ষ করা যায়।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বেক্সিমকো ফার্মার দর ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।

ইউনিক হোটেল সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ০৪ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, সি-পার্ল, মুন্নু সিরামিকস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আমরা নেটওয়ার্কস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও জেনেক্স ইনফোসিস।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২০ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানির দর কমেছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সোনালী পেপারের দর ১ দশমিক ০২ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৫২ পয়েন্ট।

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

এ ছাড়াও প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, বসুন্ধরা পেপার, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ফুডস, বিডি ওয়েল্ডিং ও পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ দর বেড়ে মুন্নু সিরামিকসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০৯ টাকা ৯০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ১০১ টাকা ৮০ পয়সা।

এরপরই ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে জুট স্পিনার্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪৯ টাকা ২০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৩১ টাকা ২০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল মুন্নু অ্যাগ্রো। ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৬৫০ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৬০৪ টাকা ৯০ পয়সা।

এ ছাড়া জেমিনি সি ফুড, সোনালী আঁশ ও আমরা নেটওয়ার্কসের দর বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। আর ইউনিক হোটেল ও আমরা টেকনোলজিসের ৫ শতাংশের বেশি এবং অ্যাডভেন্ট ফার্মা ও পেপার প্রসেসিংয়ের দর বেড়েছে ৪ শতাংশের ওপরে।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ দর কমেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৫২৪ টাকা ৪০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ দর কমে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৮ টাকা ১০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৭২ টাকা।

এরপরই দর কমেছে অ্যাপেক্স ফুডসের। ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ২৭১ টাকা ৪০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ২৮০ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল বিডি ওয়েল্ডিং, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী পেপার ও অ্যাম্বি ফার্মা।

আরও পড়ুন:
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল: সারাবিশ্বে বিডের যোগ্যতা অর্জন রেনাটার
‘যেভাবে চলতে পারে না’, সে বৃত্তেই পুঁজিবাজার
চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি, যুদ্ধ শেষের অপেক্ষা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Popular Life signed the trust deed

ট্রাস্ট ডিড সই করল পপুলার লাইফ

ট্রাস্ট ডিড সই করল পপুলার লাইফ চুক্তি সই অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, ফান্ডটির আকার হবে ৫০ কোটি টাকা। উদ্যোক্তা হিসেবে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী দেবে ২৫ কোটি টাকা, আর ২৫ কোটি টাকা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে তোলা হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাস্ট ডিড সই করেছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (পিএলআই এএমএল)।

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড ও আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের মধ্যে মঙ্গলবার ফাস্ট ইউনিট ফান্ডের এ ট্রাস্ট ডিড সই হয়।

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর (উদ্যোক্তা) পক্ষে সই করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বি এম ইউসুফ আলী এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের (ট্রাস্টি) পক্ষে সই করেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অসিত কুমার চক্রবর্তী।

বুধবার আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন তালুকদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবির, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন তালুকদার এবং পিএলআই এসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন।

কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, ফান্ডটির আকার হবে ৫০ কোটি টাকা। উদ্যোক্তা হিসেবে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী দেবে ২৫ কোটি টাকা, আর ২৫ কোটি টাকা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে তোলা হবে।

ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে পিএলআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। এটি হবে পিএলআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত প্রথম ফান্ড। ফান্ডের হেফাজতকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
বিএসইসির পুরস্কার পেল ১১ প্রতিষ্ঠান
‘কারসাজির’ প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি

মন্তব্য

p
উপরে