× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Is Biman profitable even with a debt of 65 billion rupees?
hear-news
player
google_news print-icon

সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার দেনা নিয়েও বিমান লাভজনক?

সাড়ে-৬-হাজার-কোটি-টাকার-দেনা-নিয়েও-বিমান-লাভজনক?
বেবিচকের কাছে ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা বকেয়া ফেলে রেখেছে বিমান। জ্বালানি তেলের জন্য বিপিসির কাছে দেনা ২ হাজার ১০৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবু বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি দেনা ঘাড়ে থাকা সত্ত্বেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে লাভজনক বলে দাবি করলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী। বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে এবং জ্বালানি তেলের জন্য বিপিসির কাছে এ পরিমাণ দেনা পড়ে আছে বিমানের।

সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এ দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি, ২০১৯ সালে বিমানে সংস্কার আনার পর থেকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ সংস্থাটি লোকসান করেনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিদেশে মানুষের একটি পারসেপশন যে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বেতন পান। এ কারণে বিমানকে হয়তো সঠিকভাবে পরিচালনায় আমরা ব্যর্থ। শ্রদ্ধা রেখেই ক্লিয়ার করতে চাই। আমাদের মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বতন্ত্র। এই মন্ত্রণালয়ের সবগুলো অধিদপ্তরকেই নিজেদের আয়ে চলতে হয়। বিমান নিজে যদি উপার্জন করতে না পারে, তাহলে তারা বেতন পাবে না। এখানে সরকার থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় না।

‘এই কোভিডের মধ্যেও, সারা বিশ্বে যত বড় এয়ারলাইনস তত বড় ক্ষতি তাদের। পর্যটনেও একটি বড় বিপর্যয় হয়েছে। সেখানেও আমরা রাত-দিন কাজ করেছি। সেই সময়েও আমরা চেষ্টা করেছি, বিভিন্ন দূতাবাসে যোগাযোগ করে যাতে আমাদের বিমানগুলো কার্গো অপারেট করে হলেও এই দুঃসময়ে টিকে থাকতে পারে। সেই সময়েও আমাদের আয় অব্যাহত ছিল। বিমান সব সময়ই লাভের মধ্যে ছিল।’

বেবিচকের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন চার্জ ও ফি বাবদ বিমানের বকেয়ার পরিমাণ ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এর মধ্যে মূল বকেয়া ৯৫৩ কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৯ টাকা। বাকি পাওনার মধ্যে ভ্যাট ৩৪১ কোটি ৮৫ লাখ ১১ হাজার ৮৬৩ টাকা, আয়কর ৩১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭ টাকা এবং বকেয়ার ওপর সারচার্জ ৩ হাজার ৪৪৯ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে তাগাদা দেয়ার পরেও বিমান এ টাকা পরিশোধ করছে না বলে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক এ সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েলের হিসেবে বিমানের কাছে ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাওনা রয়েছে ২ হাজার ১০৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

বকেয়া আদায়ে সর্বশেষ গত বছরের ১৮ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বিমান ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। বকেয়া আদায়ের বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সংলাপে বলেন, ‘সরকার যে হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বিমানকে দিয়েছিল, সেটাও লাভসহ তাদের পরিশোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি সমালোচনা আসে যে তেলের মূল্য বাবদ দুই বা আড়াই হাজার কোটি টাকা বাকি রেখে বিমান লাভ দেখায়।

‘আমি এটা ক্লিয়ারলি বলছি, আমরা ২০১৯ সালে কিছু সংস্কার এনেছিলাম। এর ফলে স্বল্প সময়েই বিমান লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সে সময় এপ্রিল, মে, জুন– এই তিন মাসেই আমরা প্রায় ২৭৩ কোটি টাকা লাভ করেছিলাম। এবং ওই বছরের সব দায় দেনা, পুরানোটা না, ওই বছরের সব দেনা আমি আসার পরেই নির্দেশনা দিয়েছি সিভিল এভিয়েশনের এবং অন্যান্যদের যে পাওনা সব যেন আপটুডেট করা হয়। এগুলো আপটুডেট করে আমরা এখন লাভের মধ্যে আছি।’

বেবিচকের সূত্র জানায়, বিমানের পক্ষ থেকে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) নবায়নের জন্য বেবিচকের কাছে প্রস্তাব করা হলে তাদের পাওনা রাজস্ব পরিশোধের অনুরোধ করা হয়। এ অনুযায়ী বিমান গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর একটি পেমেন্ট প্ল্যান জমা দেয়। ওই প্ল্যান অনুযায়ী ২০২২ সালে ৩৪০ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৪৪০ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৯০ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে ৭৪০ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালে ২ হাজার ৩৩৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট বকেয়া ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় বিমান।

প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা করে নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালে প্রতি মাসে ২৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল বকেয়া ১২ কোটি ৫০ লাখ, ভ্যাট ট্যাক্স ৩ কোটি ৩৩ লাখ ও সারচার্জ ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া পুঞ্জীভূত দেনা পরিশোধের পেমেন্ট প্ল্যানের সঙ্গে প্রতি মাসের চলতি বিলের অর্থ নিয়মিত পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দেয় বিমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানের এওসি নবায়ন করা হয়।

নিরীক্ষায় বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই বিমান তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতি মাসে চলতি বিল বাবদ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা পাওনা হয়। সে অনুযায়ী ২০২২ সালে প্রতি মাসে বকেয়া অর্থ থেকে ২৮ কোটি ৩৩ লাখ এবং চলতি বিল ১৫ কোটি টাকা মিলিয়ে ৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধের কথা। কিন্তু জানুয়ারিতে বিমান পরিশোধ করেছে মাত্র ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা প্রতিশ্রুত অর্থের ৩৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ১২ কোটি ৭৫ লাখ ৪১ হাজার ১২৬ টাকা, মার্চে ২৯ কোটি ৮৩ লাখ ৪২ হাজার ১৬৭ টাকা, এপ্রিলে ১১ কোটি ৫ লাখ ১৪ হাজার ২২৩ টাকা এবং মে মাসে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা বেবিচককে দিয়েছে বিমান। কোনো মাসেই পেমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী টাকা দিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়াও গত বছরের ১৫ মার্চ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস কোম্পানির মোট রাজস্বের ৫ শতাংশ রয়্যালটি বাবদ বেবিচককে পরিশোধ করার কথা বিমানের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ খাতে কোনো টাকাই বিমান বেবিচককে দেয়নি।

আরও পড়ুন:
বিমানের টরন্টো ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু
ছয় মাস পর অনলাইনে বিমানের টিকিট বিক্রি শুরু
ভাড়ায় আনা দুই বোয়িং কিনছে বিমান
কাঠমান্ডু, মদিনা ও কুয়েতের ফ্লাইটে ফিরছে বিমান
বিমানে সৈয়দপুর থেকে সরাসরি কক্সবাজার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Why is the price of reconditioned cars increasing?

রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ছে কেন

রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ছে কেন চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা রিকন্ডিশন গাড়ির সারি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ডলারের দাম তো বেড়েছেই। তার ওপর সরকার নানাভাবে আমদানি নিরুৎসাহিত করায় গাড়ি আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। ওদিকে জাপানে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে নতুন গাড়ির উৎপাদন। সব মিলিয়ে গত তিন থেকে চার মাসে দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

২০১৭ সালের মডেলের একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি আগে বিক্রি হতো গড়ে ১৭ লাখ টাকায়। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্র্যান্ডের গাড়ির ক্ষেত্রেও একই হারে বেড়েছে দাম।

একদিকে বাংলাদেশে বেড়েছে ডলারের দাম, ডলারের চাহিদা কমাতে সরকার কঠিন করে দিয়েছে গাড়ি আমদানি। অন্যদিকে জাপানে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে নতুন গাড়ির উৎপাদন। সব মিলিয়ে গত তিন-চার মাসে দেশে গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম।

তবে গাড়ি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাড়ির দাম যে পরিমাণে বাড়ার কথা, সেই পরিমাণে বাড়েনি। আর দাম বাড়ার কারণে তাদের গাড়ি বিক্রিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গাড়ির দাম সেভাবে বাড়াতে পারিনি। কারণ একদিকে করোনাভাইরাস মহামারিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। সেটা শেষ না হতে হতেই শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। সব মিলিয়ে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এখন যদি আমরা মুনাফা করতে চাই, গাড়ি বিক্রি হবে না। আমরা ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শুধু কিছুটা দাম বাড়িয়েছি।’

বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘মূলত ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম বাড়ছে। এ ছাড়া গাড়ির সরবরাহে একটু সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন গাড়ি উৎপাদন কম হচ্ছে। কারণ নতুন গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত মাইক্রোচিপ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে জাপানের বাজারে লোকেরা নতুন গাড়ি না পেয়ে পুরোনো গাড়ি কিনছে। আমদানি করার মতো গাড়ি বাংলাদেশ কম পাচ্ছে।’

দেশে ডলারের দাম চলতি মাসে হয়েছে ১০৭ টাকা, যা গত এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ২৪ শতংশ বেশি।

চলতি মাসে জাপানের সবচেয়ে বড় গাড়ি উৎপাদন কোম্পানি টয়োটা বিশ্বব্যাপী গাড়ির উৎপাদন এক লাখ কমানের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হোন্ডা ৪০ শতাশং গাড়ি কম উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছে। ফলে ব্যবহৃত গাড়ির সরবরাহ একদিকে যেমন কমেছে, অন্যদিকে ডলারের দাম বেড়েছে। ফলে দেশে ব্যবহৃত গাড়ির দাম বেড়ে গেছে।

আবার সরকার বিলাসপণ্যের আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এলসি মার্জিন ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করেছে। আগে কোনো পণ্য আমদানি করতে হলে ব্যাংকে পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশ টাকা জমা দিতে হতো। এখন পুরো টাকাটাই জমা দিতে হচ্ছে। ফলে একটি বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে আমদানিকারকদের ওপর।

বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘একদিকে যেমন ডলারের দাম বেড়েছে, তেমনি শুল্ক বা করও বেড়েছে। সেটাও গাড়ির দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আগে ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। আগে ৮৫ টাকার ওপর ডিউটি দিতে হতো ১৩০ শতাংশ। এখন সেটাই ১১০ টাকার দিতে হচ্ছে।’

কবে থেকে দাম বাড়ল এ প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল হক বলেন, ‘এটা মূলত শুরু হয়েছে যখন ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলো। বিশেষ করে যখন তেলের দামটা বাড়িয়ে দেওয়া হলো, তখন গাড়ির দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেল।’

গত ৫ আগস্ট ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে সরকার প্রতি লিটার ১১৪ টাকা করে। পেট্রলের দাম ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার হয় ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার করা হয় ১৩৫ টাকা।

পরে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে এখন প্রতি লিটার ডিজেল-কেরোসিনের দাম ১০৯ টাকা, অকটেনের ১৩০ ও পেট্রলের ১২৫ টাকা।

আব্দুল হক জানান, আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশের মতো। জিয়া অটোজের মালিক জিয়াউল ইসলাম জানান, গাড়ি বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ।

তবে গড়ে সব ধরনের গাড়ির দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান এইচএনএস অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী ও বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গাড়ির চাহিদা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণে আমরা সেভাবে দাম বাড়াতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংকের গাড়ি কেনা এক বছর বন্ধ
গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার ও অযথা বিদেশ ভ্রমণ নয়: এনবিআর
২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকের দক্ষতা স্বচালিত গাড়িটির
ময়লার গাড়িতে ফের পথচারী নিহত
ব্যয় সংকোচনে সরকারের গাড়ি কেনা বন্ধ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Scramble to take over Internet business

ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিতে হাঙ্গামা

ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিতে হাঙ্গামা হামলায় আহত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের কর্মী।
আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে জামগড়া এলাকায় ডিউটি করার সময় মারামারির ঘটনাটি দেখি। লাঠিসোটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করছিল।’

ঢাকার সাভারে জোর করে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে এক ব্যবসায়ীর অফিস ভাঙচুর ও তিন কর্মচারীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত রনি ভূইয়ার পরিবার।

শনিবার ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার জান্নাত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থাপক শাহীন আলম। হামলায় আহতরা হলেন জান্নাত মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের কর্মচারী মো. রাব্বী, মূসা ও ছানি।

এদিকে একই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত রনির বাবা বকুল ভূইয়া।

মীর ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থাপক শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী রনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবসা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। কিছুদিন আগে সে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এসেই গতকাল তার লোকজন নিয়ে জামগড়া ব্রুকহিল মার্কেট ও আশরাফ প্লাজা এলাকার ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে দেয়। পরে আমরা আবার সংযোগ দিলে রাতেই লাঠি, রড, লোহার পাইপের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রনিসহ ১৫-১৬ জন লোক আমাদের অফিসে হামলা করে।’

এ সময় রাব্বী, মূসা ও ছানি নামে ওই অফিসের তিন কর্মচারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আশপাশের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও দোকানিদের মারধর করে চলে যায় তারা। আহত তিনজনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে রনি ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার বাবা বকুল ভূইয়া বলেন, ‘আমার ছেলে রনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসাতে এসব করা হচ্ছে। গতকাল ওরাই আমার মার্কেটে এসে দোকানপাট ভাঙচুর করছে, দুই-তিনজনরে মারধর করছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

রনির বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বকুল বলেন, ‘রাজনীতিক গেম চলতাছে ভাই। সেই ফাঁদে পইড়া আইজকা আমার ছেলের এই অবস্থা।’

তবে মার্কেটে কেন ভাঙচুর করা হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বকুল।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে জামগড়া এলাকায় ডিউটি করার সময় মারামারির ঘটনাটি দেখি। লাঠিসোটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করছিল। পরে আমি ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় জানতে পারি তিনজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জান্নাত ইন্টারনেট সার্ভিসের পক্ষে শাহিন আলম নামে একজন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত রনির বাবাও জান্নাত ইন্টারনেট সার্ভিসের মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রয়েছে। সে এলাকায় উশৃঙ্খল-প্রকৃতির। তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৪১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই ইন্টারনেট
অব্যবহৃত ইন্টারনেট ডেটা ফেরতে জটিল শর্ত
ইন্টারনেটে বাংলা কনটেন্টের ঘাটতি: মোস্তাফা জব্বার
ইন্টারনেট নিরাপদ হবে কীভাবে
২০২১ সালে প্রতি মিনিটে ইন্টারনেটে যা ঘটেছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Stocks sold in market fire

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। ফাইল ছবি
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই বছরের জুলাইয়ের চেয়ে গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪০১ কোটি ২০ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের চেয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্রে ১৪ দশমিক ২৯ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য সব খাতেও খরচ বেড়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পরও বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি বেশ কমেছে। এখন একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই দুই বছরের করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারও বেতন কমেছে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এই ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনিতেই বাজারে জিনিপত্রের দাম বেশি ছিল। এরপর যুদ্ধের কারণে তা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না।’

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। ব্যাংকে বা অন্য কোনোখানে টাকা রাখলে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ; এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়।

‘তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি, একটু বেশি মুনাফার আশায় কিনেই চলেছিল। তবে এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনার মতো সঞ্চয় নেই মানুষের কাছে। সে কারণে কমে গেছে এ খাতে বিনিয়োগ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কিন্তু তার ব্যত্যয় হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সেটা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে পারে। সে কারণে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করছে না বিবিএস।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তা হলে এখনো দিচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনো সেই হারে পাওয়া যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা
সঞ্চয়পত্রে নানা শর্তে আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহক
সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধেই ৪০ হাজার কোটি টাকা
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh economy stable under stress Fitch Ratings

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং
দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ওলোটপালট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। মন্দার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থর গতি আর দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান সংস্থা ফিচ রেটিং।

স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) এবং মুডি’স এর পর আরেকটি আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুখবর দিয়েছে। এই ঋণমান সংস্থাটি হচ্ছে ফিচ রেটিং।

সংস্থাটি বলেছে, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতোই ‘স্থিতিশীল’ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং বহাল রেখেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি

ফিচ রেটিং-এর বিবেচনায় ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে; কোনো ঝুঁকি নেই।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ওলোটপালট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। মন্দার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থর গতি আর দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান সংস্থা ফিচ রেটিং।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বলছে, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখনও পরিশোধ সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং বহাল রেখেছে ফিচ। এর অর্থ হল, ঋণ খেলাপির ঝুঁকি থাকলেও আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণে বাংলাদেশের ব্যবসা ও আর্থিক খাতের খাপ খাইয়ে নেওয়ার মত স্থিতিস্থাপকতা আছে এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যে সংকটের কারণে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব সামলাতে সরকার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও চাপের মধ্যে পড়েছে।

ফিচ রেটিং বলছে, ‘ইউক্রেইন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সুদ হার বৃদ্ধির ফলে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, বিনিময় হারে নমনীয়তা এবং বিদেশি-সরকারি ঋণের সহায়তার মাধ্যমে তা মোকাবেলা করতে পারে বাংলাদেশ।’

আট মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১৬ শতাংশ কমে ৩৮ দশমিক ৯ বিলিয়নে নেমেছে; তারপরও আমদানি কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারে বৃহত্তর নমনীয়তার কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ফিচ।

২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে মনে করছে ফিচ, যদিও তা চার মাসের বেশি আমদানি মূল্য পরিশোধের জন্য যথেষ্ট।

এ ছাড়া এ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে জিডিপির ৩ শতাংশে এবং পরের অর্থবছরে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ফিচের প্রতিবেদনে।

এ এজেন্সির পূর্বাভাস বলছে, আমদানিতে লাগাম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিয়ে দেওয়ার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসবে ৫ শতাংশে, তবে এ সকল কড়াকড়ি তুলে নিয়ে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা গেলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং

১৯১৩ সালে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ফিচ। ওইসময় প্রতিষ্ঠানটি শিল্প বিনিয়োগের জন্য অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নিয়ে ‘দ্য ফিচ স্টক অ্যান্ড বন্ড ম্যানুয়াল’এবং ‘দ্য ফিচ বন্ড বুক’নামের দুটো প্রকাশনা বের করতো।

এরপর ১৯২৪ সালে কোম্পানিটি রেটিং কার্যক্রম শুরু করে।

বর্তমানে বিশ্বের ত্রিশটি দেশে কার্যক্রম চালু রয়েছে ফিচের, যৌথভাবে যার মালিকানায় রয়েছে প্যারিসভিত্তিক ফিমালাক এস এ এবং নিউইয়র্ক ভিত্তিক হার্টস কর্পোরেশন।

এর আগে ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক ঋণমাণ সংস্থা মুডিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে; তবে সংকটের ঝুঁকি কম।

এর পর ২৫ আগস্ট আরেক আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের রেটিং প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা সংস্থাটি বাংলাদেশের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবি-’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘বি’বহাল রাখে।

এই ঋণমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরে বাহ্যিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আর এই চাপে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ঘাটতিতে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক গতিপথে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থা ফিরে পাবে।’

আরও পড়ুন:
ব্যায়াম করছে মুরগির ছানা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trade license is valid for five years to facilitate business

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন।

দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে যারা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য ভালো খবর আসছে।

ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন। স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এমসিসিআই) ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালায়ের কাছে লিখিত প্রস্তাব করে। একই সঙ্গে এর অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করছে সরকার।

যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর একটি হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তর জড়িত। আমি মনে করি, ব্যবসা সহজীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আশা করছি তারাও ইতিবাচক হবে।’

ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনুমতিপত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এর অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা করতে হলে ট্রেড লাইনেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এটি দেয়া হয়।

বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদনের কয়েকটি ধাপ আছে। আইনে আবেদন করার সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। ঘুষ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স মেলেন– এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আগে সনাতনি প্রথায় ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হতো। এখন অনলাইনে করা যায়। তবে অটোমেশন করার পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেশি ভারতসহ অনেক দেশ এক ধাপে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। বাংলাদেশে এখনও সাত থেকে আট ধাপ লাগে।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশেও এটি চালু করা যেতে পারে।’

ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট’ বা বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘সিটি করপোরশন এবং মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সেশন আইনে ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য দিতে কোনো বাধা নেই।’

বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক সবশেষ প্রতিবেদনে ব্যবসা সহজীকরণে বাংলাদেশের আট ধাপ এগোনোর কথা উল্লেখ করা হলেও সার্বিক বিবেচনায় অগ্রগতি বলা যায় না। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখনও পেছনের সারিতে রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শুধু আফগানিস্তান থেকে এগিয়ে।

তবে ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন এখন আর করছে না বিশ্বব্যাংক।

বিল্ড বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রেড লেইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করার যে প্রস্তাব তারা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেছে। এটি এখন কার্যকরের অপেক্ষায়।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সামস মাহমুদ জানান, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ একবারে পাঁচ বছর করলে ব্যবসা আরও সহজ হবে। এতে করে হয়রানি কমবে। স্পিড মানি ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স হয় না– এ কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের পক্ষে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জোগাড় করা সম্ভব হয় না। এ জন্য লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে হয়রানির স্বীকার হন। ফলে যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, তারা নিরুৎসাহিত হন।’

আরও পড়ুন:
আরও দুই মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত
যারা নিয়ম মানবে তারা মদের লাইসেন্স পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিধিমালা নেই, তাই লাইসেন্স বাতিলের ভয়ও নেই চালকের
চার মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে অপেক্ষার শেষ নেই

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Hundreds of cars including Elion Prado auctioned in Mongla

মোংলায় নিলামে এলিয়ন, প্রাডোসহ শতাধিক গাড়ি

মোংলায়  নিলামে এলিয়ন, প্রাডোসহ শতাধিক গাড়ি মোংলা বন্দরে নিলামে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মডেলের ১০২টি গাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
১১ অক্টোবর সকাল ১০টায় মোংলা কাস্টমসে দরপত্র খোলা হবে। এবারের নিলামে উঠছে হাইয়েস, টয়োটা, নোয়া, নিশান, এলিয়ন, প্রাডো, পিকআপসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০২টি গাড়ি ও ১০টি অন্য আমদানি পণ্য।

আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাড় না হওয়ায় বিভিন্ন মডেলের ১০২টি গাড়ি নিলামে তুলছে মোংলা কাস্টমস হাউস। ৪ অক্টোবর এই নিলাম হবে। সিল্ড টেন্ডার ও অনলাইন দুভাবে নিলামে অংশ নিতে পারবেন আগ্রীরা।

কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বাসার সিদ্দিকী বলেন, ‘ই-অকশন ও মোংলা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে নিলামে ওঠানো পণ্যের সংরক্ষিত মূল্যসহ ক্যাটালগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনলাইনে জমা দেয়ার জন্য দরপত্র কেনার প্রয়োজন নেই। ২ থেকে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যে কেউ ই-অকশনের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে নিলামে অংশ নিতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘সিল্ড টেন্ডারের ক্ষেত্রে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ২০০ টাকা অফেরতযোগ্য দরপত্র কেনা যাবে। ৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোংলা, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাখা বাক্সে দরপত্র জমা দিতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জামানতসহ দরপত্র জমা দিতে হবে।’

১১ অক্টোবর সকাল ১০টায় মোংলা কাস্টমসে দরপত্র খোলা হবে। এবারের নিলামে উঠছে হাইয়েস, টয়োটা, নোয়া, নিশান, এলিয়ন, প্রাডো, পিকআপসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০২টি গাড়ি ও ১০টি অন্য আমদানি পণ্য।

আবু বাসার সিদ্দিকী বলেন, ‘মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা এসব গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করানোর নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা করেননি। নিয়মানুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিলামে ওঠানো হচ্ছে এসব গাড়ি। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা প্রকাশের পর এসব বিক্রি হবে। পরে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামে ক্রয় করা গাড়ি বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

অনলাইনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কাস্টমসের অনলাইন নিলামের ওয়েবসাইটে মোংলা কাস্টম হাউস সেকশনে ক্লিক করলে নিলামের তালিকা মিলবে। সেখানে রেজিস্ট্রেশন করে গ্রাহকরা অনলাইনে নিলামে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।’

মোংলা বন্দরের উপসচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে ৩৪ হাজার ৭৮৩টি গাড়ি আমদানি করা হয়েছিল। তার মধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি হয় ২০ হাজার ৮০৮টি, যা দেশে মোট আমদানি করা গাড়ির ৬০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও মোংলা বন্দর দিয়ে প্রায় দেড় হাজারের মতো গাড়ি আমদানি হয়েছে।’

মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান বলেন, ‘মোংলা কাস্টমসের মোট রাজস্ব আয়ের ৫২ শতাংশ আসে আমদানি করা গাড়ির শুল্ক থেকে। দীর্ঘদিন আমদানীকৃত গাড়ি বন্দরে পড়ে থাকলে অন্য পণ্য রাখায় সমস্যা হয়। নিলাম প্রক্রিয়া চালু রাখলে গাড়ি বা অন্য পণ্য রাখতে ব্যবসায়ীদের সুবিধাও হয়, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে সরকারের রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকের দক্ষতা স্বচালিত গাড়িটির
ময়লার গাড়িতে ফের পথচারী নিহত
ব্যয় সংকোচনে সরকারের গাড়ি কেনা বন্ধ
সৌদিতে গাড়িচাপায় বাংলাদেশি যুবক নিহত
দামি গাড়ি আরও দামি হলো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The heat of Durga Puja is in Shankharibazar

দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে

দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্গাপূজার জন্য প্রায় ১০০ ধরনের উপকরণ প্রয়োজন হয়। আর পূজা-অর্চনার সব উপকরণই মেলে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে। এসব উপকরণ কিনতে অনেকে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন এখানে। সে সুবাদে পূজার কেনাকাটার সবচেয়ে বড় বাজার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজারে নেমেছে ক্রেতার ঢল।

কাশফুল আর স্বচ্ছ নীল আকাশে ধবল মেঘের ভেলা জানান দেয় দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

এই উৎসব উপলক্ষে কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার। কেনাকাটার এই ভিড় শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুর আগে থেকেই রঙ ছড়াচ্ছে শাঁখারীবাজারে।

পূজার জন্য প্রায় ১০০ ধরনের উপকরণ প্রয়োজন হয়। আর পূজা-অর্চনার সব উপকরণই মেলে এখানকার দোকানগুলোতে। এসব উপকরণ কিনতে অনেকে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন এখানে। সে সুবাদে পূজার কেনাকাটার সবচেয়ে বড় বাজার পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজারে নেমেছে মানুষের ঢল।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমার সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মুকুট, শাড়ি, অলংকার, লেস, সিঁদুর, ফুলের মালা, প্রতীকী অস্ত্র ও ঘট কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। প্রতিমার সাজ-পোশাক, জরি-চুমকিসহ মাঙ্গলিক সামগ্রী বিক্রির ধুম পড়েছে শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে

পূজা উপলক্ষে ঢাকার আশপাশের বিক্রেতারাও বিভিন্ন জিনিস পাইকারি দরে কিনে নিচ্ছেন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পুরো পরিবারসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে কেনাকাটা করছেন।

উৎসবের রঙে দেবী বরণে সিঁদুর, আলতা, টিপের কেনাকাটাও বেড়েছে এখানে। দোকান ঘুরে ঘুরে ক্রেতারা কিনছেন এসব। সঙ্গে কেউ কেউ কিনছেন বাচ্চাদের খেলনাও।

অনেকে এসেছেন মায়ের অঞ্জলি ও পূজার অর্ঘ্য দেওয়ার আগরবাতি, ঘট, প্রদীপ, থালাসহ অন্যান্য উপকরণ কিনতে।

বেচাকেনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ী খুশি এবারের পূজার বাজার নিয়ে।

শ্রী দেব নামে এক দোকানি জানালেন, রাঁধা কৃষ্ণ ও শিব প্রতিমা বেশি কিনছেন ভক্তরা। বাসাবাড়ির জন্য এগুলো নিচ্ছেন তারা।

দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে

দুর্গাপূজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১০০ ধরনের উপকরণই মেলে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিড় বেড়েছে শাঁখার দোকানগুলোতেও। সারা বছর শাঁখা পরলেও দুর্গাপূজার সময় নতুন শাঁখা চাই। কারিগর বিমল বলেন, চিকন শাঁখার দিকে চাহিদা বেশি এ বছর।

দেবী দুর্গার সাজ-পোশাক কিনতে আসা সুদেব রায় বলেন, ‘দুর্গা মায়ের সাজ-পোশাকের সবকিছুই শাঁখারীবাজারে পাওয়া যায়। অনেক দোকান। তাই বেশি ঘুরতে হয় না। তুলনামূলক দামও কম। তবে এ বছর দোকানিরা দাম একটু বেশি নিচ্ছেন।’

দাম বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করে বিক্রেতারা বলছেন, খরচ বেড়েছে, তাই খুচরা দামও সামান্য বেড়েছে।

কেনাকেটা করতে ময়মনসিংহ থেকে এসেছেন বিধান চক্রবর্তী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পূজার মুকুট, শাড়ি, গয়না, চূড়া এসব কিনে নিচ্ছি। বরাবরই পূজার সামগ্রী কেনাকাটা করতে এখানে আসি।’

দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে

নারায়ণগঞ্জ থেকে গোপীনাথ দও এসেছেন মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে। তিনি জানালেন, শাঁখারিবাজার থেকে কেনাকাটা তাদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আর এখানে একসঙ্গে সব উপকরণ পাওয়া যায় এবং দামও বেশ সাশ্রয়ী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিথিলা দেবনাথ ঝিলিক জানান, দুর্গাপূজার আরাধনায় প্রায় ১০০ উপকরণ লাগে। এগুলো ছাড়া পুরোহিতরা পূজাই করতে চান না। তাই পূজার আগে সব উপকরণ গুছিয়ে রাখা আয়োজকদের অন্যতম প্রধান কাজ।

দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুরু হয় মহাষষ্ঠীর কল্পারম্ভ দিয়ে। এরপর আসে বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। পরে শুরু হয় সপ্তমীর নবপত্রিকা স্নান ও মহাস্নান, অষ্টমী পূজা, সন্ধিপূজা, নবমী পূজা ও দশমী পূজা। প্রতিটি ধাপে কিছু নতুন নতুন উপকরণ সংযোজন হয়। তাই দুর্গাপূজার কেনাকাটার ফর্দ বিশাল হয়ে থাকে।’

এবারের দুর্গাপূজা ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু হবে। শেষ হবে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।

আরও পড়ুন:
পূজার নিরাপত্তায় বাড়িছাড়া ৫০ যুবক ঘিরে শঙ্কা পুলিশের
নানুয়ার দীঘিরপাড়ের মণ্ডপে এবার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা
বিদেশি কাস্টিং ইউনিটের সঙ্গে কথা হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন না পূজা
গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি

মন্তব্য

p
উপরে