× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Who is this halted mizan in the capital market and what does he do?
hear-news
player
google_news print-icon

পুঁজিবাজারে কে এই হল্টেড মিজান, তিনি কী করেন

পুঁজিবাজারে-কে-এই-হল্টেড-মিজান-তিনি-কী-করেন
ফাইল ছবি
ইংরেজিতে লেখা ‘মিজানুর রহমান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হতো। প্রোফাইল পিকচারে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রঙে লেখা ‘হল্টেড’। এই ‘হল্ট’ আইটেম দেয়ার বিনিময়ে টাকাও নিতেন মিজান। কখনও ১০২০ টাকা, কখনও ২ হাজার ৫৫০ টাকা, কখনও ৫ হাজার ১০০ টাকা।

ওমুক কোম্পানির শেয়ার কিনুন, হল্টেড হবে- ফেসবুকে এই ধরনের প্রলোভনে পড়ে ঠকেছেন এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম নয়। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে উচ্চমূল্যে শেয়ার গছিয়ে দিয়ে একটি চক্র আয় করে বিপুল পরিমাণ।

এই বিষয়গুলো যখন এক রকম ওপেন সিক্রেটের মতো চলছে, তখন সামাজিক মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নজর দিয়ে কয়েকজনসহ ‘হল্টেড মিজান’ নামের একজনকে শনাক্ত করেছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

বুধবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তার বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর মিজানের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন আরও বড় হয়েছে। এখন তুমুল আলোচনা কে এই মিজান? কেন তিনি ‘হল্টেড মিজান’ হিসেবে পরিচিত।

তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেল বিচিত্র তথ্য। তবে মিজান তার আসল নাম কি না, সেটি বলতে পারেন না কেউ।

ফেসবুকসহ অন্য সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালাতেন মিজান। দর বৃদ্ধি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। প্রচার করা হতো, তিনি যেসব শেয়ার কেনার পরামর্শ দেন, সেগুলোর দাম সর্বোচ্চ সীমায় বেড়ে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করে বা হল্টেড হয়ে যায়।

ইংরেজিতে লেখা ‘মিজানুর রহমান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হতো। প্রোফাইল পিকচারে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রঙে লেখা ‘হল্টেড’।

এসব কারণেই তার নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘হল্টেড’ বিশেষণ।

এই ‘হল্ট’ আইটেম দেয়ার বিনিময়ে টাকাও নিতেন মিজান। কখনও ১০২০ টাকা, কখনও ২ হাজার ৫৫০ টাকা আবার কখনও ৫ হাজার ১০০ টাকা।

বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে বলা হতো, এই টাকার ১০ শতাংশ করোনাজনিত দুস্থদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

যারা ফাঁদে পড়তেন, তারা এটা বিবেচনা করতেন না যে, যে লোক কোনো শেয়ারের দাম দ্বিগুণ হবে, কোনোটির দর ৫০ শতাংশ বাড়বে, তিনি কেন এই কয়টি টাকার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে বেড়াবেন।

যা জানেন বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগকারী মাসুম জামান বলেন, ‘ফেসবুকে অনেক সময় দেখেছি, ওই আইডিতে বলা হচ্ছে যে, আগামী সপ্তাহের জন্য আইটেম রেডি আছে, যারা নিতে চান তারা ইনবক্সে যোগাযোগ করুন। আমি কখনও কিনিনি। অনেকের কাছে শুনেছি যে, এই ধরনের আইটেম বিক্রি হয়।’

ফিদুল বিশ্বাস নামের আরেকজন বলেন, ‘এই ধরনের প্রতারকচক্র খুবই ধূর্ত হয়। কোনো কারণে একটা শেয়ারের দাম বেড়ে গেলে সেটাকেই তারা নিজেদের আইটেম বলে প্রচার করে। তারা বিনিয়োগের অর্ধেক লাভের লোভ দেখায়। এসব ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হন। অনেকে কিছু পয়সা কামাই করে, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লোকসান গুনতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘মিজানুর রহমান নামের ওই ব্যক্তির আইটেম বিক্রির কথা জেনেছি। ব্রোকারেজ হাউসে এ রকম আলোচনা অনেক হয়। অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে যারা দীর্ঘদিন বাজারের সঙ্গে আছেন তারা সহজেই এসব ফাঁদে পা দেন না।’

সেই আইডি এখন বন্ধ

বিএসইসি বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর থেকে মিজানের নামের সেই আইডিটি ডি-অ্যাক্টিভেটেড করে দেয়া হয়। তবে সেই আইডির কিছু পোস্টের স্ক্রিনশট পাওয়া যাচ্ছে।

এতে দেখা যায় এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বলেছিলাম বাই প্রাইম ফাইন্যান্স; গতকালও হল্ট হয়েছে। এরকম হট ও টানা হল্ট আইটেম পেতে ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।’

আরেকটি পোস্টে লেখা রয়েছে, ‘রবিবারের হল্ট আইটেম!! মার্কেট ওকে। একটি টি+২ হট অ্যান্ড হল্ট আইটেম রেডি। এটি টানা হল্টেড হবে ইনশাআল্লাহ। আইটেম পেতে টাইমলাইন দেখুন/ইনবক্স করুন।’

অন্য আরেকটি পোস্টে লেখা, ‘৫০% লাভের পরবর্তী মানি ডবল আইটেম রেডি। আগের আইটেম ইউনিয়ন ক্যাপ ২১ দিনে ৮১% বেড়েছে; টার্গেট ৫০%+ অতিক্রম করেছে। বাই রেট ছিল ৭.৯০ টাকা, বৃহঃবার ১৪.৩০ টাকা উঠেছে। এরকম হট ও টানা হল্ট ৫০% লাভের/মানি ডবল আইটেম পেতে ইনবক্সে মেসেজ দিন।’

আইটেমের বদলে টাকা

আরেকটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘গ্রেট অফার: লেটেস্ট টানা হল্টেড হট আইটেম পেতে আইটেমের নিউজ কালেকশন, এনালাইসিস ও বিবিধ ফি বাবদ টি+২/সাপ্তাহিক প্রতি হট আইটেম এর জন্য মাত্র ১,০২০ টাকা; ৫০% লাভের প্রতি আইটেমের জন্য ২৫৫০ টাকা, মানি ডবল প্রতি আইটেমের জন্য ৫১০০ টাকা বিকাশ করুন। ১০% করোনাজনিত দুঃস্থদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।’

প্রলুব্ধ করার জন্য সেই পোস্টে আরও লেখা হয়, ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এক লাখ লাভ করতে ১ হাজার টাকা ব্যয় করার মানসিকতা না থাকলে শেয়ার ব্যবসা করা যাবে না।

এতে লেখা হয়, ‘হট আইটেমের নিউজ নগদ টাকা দিয়ে নিতে হবে।’

পুঁজিবাজারে কে এই হল্টেড মিজান, তিনি কী করেন
মিজানুর ও তার সহযোগীরা ফেসবুকে এভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করতেন

বিএসইসি কী বলছে

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি (মিজান) বিভিন্ন শেয়ারের দাম কোথায় যাবে, কোনটা বাড়বে, কোনটা হল্টেড হবে, এসব তথ্য প্রচার করতেন। আর এসব তথ্য প্রদান বা আইটেম বিক্রির মাধ্যমে টাকা নিতেন।’

তিনি আসলে কে- এমন প্রশ্নে রেজাউল বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। এ বিষয়ে কাজ করছে বুয়েট থেকে পাস করা একজন আইটি এক্সপার্ট এবং একজন সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট।

‘ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তিনটি বিও অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া গেছে। যার মধ্যে দুটি সচল। আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

বুধবার বিএসইসির জানায়, মিজানুর ছাড়াও একই চক্রের আশরাফুল ইসলাম, আয়মান নাহিয়ান কল্লোল ও শরীফুল ইসলাম নামে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের শাস্তির আওতায় আনতে গঠন করা হয়েছে ২ সদস্যের কমিটি।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন সহকারী পরিচালক কামাল হোসেন ও এইচ এম সালেহ সাদমান। তাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে মিজানুর রহমানসহ সামাজিক মাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুজব ছড়িয়ে মিজানুর ও তার সহযোগীরা কী পরিমাণ লাভবান হয়েছেন, সেটাও বের করা হবে।

বিএসইসি পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে গত কয়েক মাস ধরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে দেন দরবার করে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মতভেদ দূর হয়েছে। ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে হিসাব করতে বিনিয়োগকারীদের এক যুগের দাবি পূরণ হয়েছে।

এসব ঘটনায় গত বছরের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঝিমুনিতে যাওয়া পুঁজিবাজা প্রাণসঞ্চার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হারিয়ে ফেলা দেড় হাজার সূচকের মধ্যে এক মাসে ৫২৮ পয়েন্ট এরই মধ্যে ফিরে এসেছে। যে লেনদেন চার শ কোটির ঘরে নেমে এসেছেন, সেটি এখন নিয়মিত হচ্ছে দুই হাজার কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই।

এই অবস্থায় বিএসইসি এবার গুজব ঠেকাতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে।

গত ১৭ মে ফেসবুকে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মাহবুবুর রহমান নামের একজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। বিএসইসির সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তাকে ধরা হয়।

ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করতে ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ও গঠন করা হয়েছে।

বিএসইসির মার্কেট সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের (এমএসআইডি) কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে এই সেলের কার্যক্রম চলছে।

এ ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সহায়তাও নিচ্ছে বিএসইসি। তাদের অভিযোগে গুজব রটনাকারী ৩১টি ফেসবুক আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে কারসাজি, ‘হল্টেড মিজান’ শনাক্ত
পুঁজিবাজারে উত্থানের এক মাস, বছরের ক্ষতি পূরণ হবে কি?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
In the promotion play Dissatisfaction with DSE

‘পদোন্নতির খেলায়’ ডিএসইতে অসন্তোষ

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
একজন সিনিয়র ম্যানেজার বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সেই ৯৫ কর্মকর্তাকে আগের পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে ইমেইল করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন না, তারা এখন কোন পদে। এর কারণ, নতুন পদ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হলেও নতুন পদের যে সুযোগ সুবিধা, সেগুলো বহাল আছে।

স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে কিছু কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত সংশোধন হবে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এখন এসব কর্মকাণ্ডে তারা মানসিক চাপে আছেন। এতে কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে গত ২৩ আগস্ট ৯৫ জনকে পদোন্নতি দেন ডিএসইর সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া। কিন্তু নিজেদের মনমতো না হওয়ায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল পরিচালনা পর্ষদ। এ টানাপড়েনের সমাপ্তি ঘটে এমডির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

পদোন্নতি পাওয়া ডিএসইর একজন মহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে জানান, এমডি পদত্যাগ করার পর, তাদেরকে মেইল করে আগের পদবি ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এতে বিস্ময় প্রকাশ করে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা কীভাবে হতে পারে? যেখানে অফিশিয়ালি আমাদের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেখানে মেইল করে পদ বাতিল করে আগের পদেই কাজ করার কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক?

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ
ডিএসইতে পদোন্নতি নিয়ে বিরোধের জেরে এমডির পদ ছেড়েছেন তারিক আমিন ভূঁইয়া

পদোন্নতি বাতিল হওয়ায় মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান একজন সিনিয়র ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।

‘এখন আমার পদ কী, সেটাই নিশ্চিত নই। অফিশিয়ালি জানানো হয়েছে আমি সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছি। অথচ মেইল করে বলা হচ্ছে আমি ম্যানেজারই আছি। এখন আমি কোনটা লেখব? কোনটা ঠিক? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।’

জিএম পদবির আরেকজন বলেন, ‘ভুল করলে কর্তৃপক্ষ করেছে। সে জন্য এমপ্লয়িরা কেন শাস্তি পাবেন, অপমানিত হবেন, এটা কী আইন।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা জানান, আগের এমডির নির্দেশনা মেনে যারা কাজ করেছেন, তারা এখন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। জিএম হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া একজন বলেন, ‘এক মাসের বেশি হয়েছে আমি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু এইচআর থেকে বলা হয়েছে আমি নাকি সেই ডিজিএমই আছি। আবার আমাকে জিএম হিসেবে গাড়ি দেয়া হচ্ছে, মোবাইল অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে জিএম হিসেবেই। তাহলে আমার পদ কোনটা?’

পদোন্নতি পাওয়া একজন এজিএম বলেন, ‘আমাদের পদোন্নতি দেয়া হলেও, আমরা সে অনুযায়ী টাইটেল লিখতে পারছি না। আমাদের টাইটেল লিখতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিং করে এসব কর্মকর্তার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেশ কিছু পদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, যেখানে আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে তো কেউ চাইলেই তা লঙ্ঘন করতে পারে না। আইন যেখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘিত করে দেয়া হয়েছিল। সেটাই ঠিক করা হবে।’

কবে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা থেকে কিছু বাদ যাবে আর কিছু সংশোধন হবে।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ইমেইলে আগের পদেই বহাল থেকে কাজ করতে নির্দেশনা প্রসঙ্গে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরপরই, সবাইকে আবারও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেয়া হবে তাদের পদের ব্যাপারে। এতে তাদের কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না ।’

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখনও কিছু জানায়নি ডিএসই। আমরা রোববার খবর নেব। বিষয়টা এমন হতে পারে, ওদের অর্গানোগ্রামের বাইরে বোধ হয় কয়েকটা পদোন্নতি হয়ে গেছে, তাই হয়ত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে।’

‘যদি ডিএসই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন বা পদোন্নতি বাতিল করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যদি এর বাইরে করে তাহলে আমাদের জানাবে’- যোগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এর আগে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম তিনজন, ডিজিএম থেকে জিএম তিনজন, এজিএম থেকে ডিজিএম তিনজন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম ১৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ২৯ জন, এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ১০ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ ছয়জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ একজন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন, জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ছয়জন পদোন্নতি পান।

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Margin lending boosts profits in capital markets BICM

মার্জিন ঋণে পুঁজিবাজারে মুনাফা বাড়ে: বিআইসিএম

মার্জিন ঋণে পুঁজিবাজারে মুনাফা বাড়ে: বিআইসিএম
তামান্না ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগের আকার মার্জিন ঋণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই ঋণ নেয়ার পর ট্রেডিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়। মার্জিন ঋণের পরিমাণ রিটার্নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পোর্টফোলিওর আকার মার্জিন ঋণের পরিমাণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ নিলে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়ে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) এই গবেষণাটি করেছে।

ইনস্টিটিউটের মাল্টিপারপাস হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘বিআইসিএম রিসার্চ সেমিনার-১৬’এ মূল গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তামান্না ইসলাম এটি উপস্থাপন করেন। গবেষণা শিরোনাম হচ্ছে ‘বিনিয়োগ আচরণ এবং কর্মক্ষমতার ওপর মার্জিন ঋণের প্রভাব: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অন্তর্দৃষ্টি’।

গবেষণায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আচরণ এবং কর্মক্ষমতার ওপর মার্জিন ঋণের প্রভাব পরীক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তামান্না ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের আকার মার্জিন ঋণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই ঋণ নেয়ার পর ট্রেডিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়। মার্জিন ঋণের পরিমাণ রিটার্নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পোর্টফোলিওর আকার মার্জিন ঋণের পরিমাণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মাহমুদা আক্তার।

সেমিনারে আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন এবং রয়েল ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মুনির আহমেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া।

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের প্রভাবে নিয়ে একমাত্র বিআইসিএমই গবেষণা করেছে বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মাহমুদা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘বিআইসিএম পুঁজিবাজার সংক্রান্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কাজের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রেক্ষিতে মার্জিন ঋণের ওপর এ ধরনের গবেষণা বাংলাদেশে প্রথম। গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশের পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’

তবে গবেষণার বিষয় ও মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্ত ফলাফল সাংঘর্ষিক বলে মত দেন সেমিনারের আলোচক আল-আমিন। আরও বেশি সময় নিয়ে গবেষণা পরিচালনার পরামর্শ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, ‘গবেষণাটির লিটারেচার রিভিউ এবং ফাইন্ডিং সাংঘর্ষিক। এখানে প্র্যাকটিক্যাল আরও অনেক বিষয় আনলে ভালো হতো। আরও কিছু বিষয় যুক্ত করে গবেষণার সময়সীমা বাড়িয়ে ফলাফল পুনরায় পরীক্ষ করা যেতে পারে।’

এ ছাড়াও এই গবেষণায় মাল্টিনমিয়াল লজিস্টিক রিগ্রেশন মডেলের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মোহাম্মদ মুনির আহমেদ বলেন, ‘মার্জিন ঋণের প্রভাব নিয়ে মার্কেটে যারা আছেন তাদের চিন্তা করা উচিত। কেন দেব, কী কারণে দেব- সে বিষয়টাও ভাবা উচিত। এটা চিন্তা করলে সবার জন্য ভালো হবে।’

বিআইসিএমের অনুষদ সদস্য, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন
লভ্যাংশ ঘোষণা করে কিন্তু দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Corporate governance will increase the share price

শেয়ারের দর বাড়াবে ‘করপোরেট সুশাসন’

শেয়ারের দর বাড়াবে ‘করপোরেট সুশাসন’ করপোরেট সুশাসন নিয়ে চট্টগ্রাম ক্লাবে দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘এই সুশাসন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপযুক্ত রিটার্ন পেতে সহায়তা করে। ভালো করপোরেট গভর্ন্যান্স শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতেও সহায়তা করতে পারে। এটি আর্থিক ক্ষতি, অপচয়, ঝুঁকি এবং দুর্নীতি কমাতে পারে। এটি স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য একটি গেম প্ল্যান।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে একটি আলোচনায় বলা হয়েছে, এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে শেয়ারদর বাড়বে।

বক্তরা বলেন, এই সুশাসন কোম্পানির গুরুত্ব বাড়ায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। ফলে তার আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ক্লাবে দিনব্যাপী সম্মেলনের কি-নোট প্রেজেন্টেশনে এসব কথা বলা হয়।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি এবং চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসই যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সচিবদের উদ্দেশ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসইসির কমিশনার মিজানুর রহমান।

কি-নোট প্রেজেন্টার ও বিশেষ অতিথি থেকে প্রতিপাদ্য বিষয়ে বক্তব্য দেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান করপোরেট সুশাসন ক্রাইসিস, করপোরেট ম্যানেজমেন্ট ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘করপোরেট ক্রাইসিস হ্রাসকরণে বিএসইসি ১৫ বছর ধরে কাজ করছে। কোম্পানির বোর্ড, বোর্ড কমিটি এবং ইনভেস্টরদের মধ্যকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন এবং নিরীক্ষক নিয়োগের বিষয়ও তদারক করে বিএসইসি।’

এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আজকের সম্মেলনের উদ্দেশ্য করপোরেট সুশাসন সম্পর্কে মাইন্ড সেট, করপোরেট কালচার ও এনভায়রনমেন্ট নির্ধারণ এবং সেই অনুসারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

বিষয়গুলোর সচিত্র উপস্থাপন করে তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেট সুশাসন কোম্পানির গুরুত্ব বাড়ায়। এর সঙ্গে নতুন মূল্য যুক্ত করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াই করপোরেট সুশাসন, যাতে আইনি বিধিমালা সন্নিবেশিত থাকে। এটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়।’

শেয়ারের দর বাড়াবে ‘করপোরেট সুশাসন’

সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘করপোরেট সুশাসন হলো একটি কোম্পানিকে পরিচালনা করতে ব্যবহৃত নিয়ম, অনুশীলন এবং প্রক্রিয়াগুলোর কাঠামো। একটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ হলো এই সুশাসন নিশ্চিত করার প্রাথমিক শক্তি। এটি স্বচ্ছ নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে, নেতৃত্বকে নির্দেশনা প্রদান করে এবং শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা এবং কর্মচারীদের স্বার্থকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে।’

তিনি বলেন, ‘করপোরেট সুশাসন বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে। এটি বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডারদের একটি কোম্পানির দিকনির্দেশনা এবং ব্যবসায়িক সততা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা প্রদান করতে পারে।’

আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘এই সুশাসন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপযুক্ত রিটার্ন পেতে সহায়তা করে। ভালো করপোরেট গভর্ন্যান্স শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতেও সহায়তা করতে পারে। এটি আর্থিক ক্ষতি, অপচয়, ঝুঁকি এবং দুর্নীতি কমাতে পারে। এটি স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য একটি গেম প্ল্যান।’

স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর পরিচালক এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের যথাযথ পরিপালন পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন
লভ্যাংশ ঘোষণা করে কিন্তু দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন
সিংহভাগ কোম্পানি ফ্লোরে, নামছে আরও অনেকগুলো

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC wants information about the banks investment in the capital market

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের তথ্য চায় বিএসইসি

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের তথ্য চায় বিএসইসি
এক্সপোজার লিমিট নিয়ে এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারে যে হতাশা, তা কাটছে না। গত দুই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পাঁচ শ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও সেটি বেড়েছে হাতে গোণা কয়েকটি কোম্পানির কারণে। পৌনে দুই শ কোম্পানির শেয়ার এখনও বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছে। আর এই দরেও শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে না বললেই চলে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সীমা বা এক্সপোজার এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগ সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার পরে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে কমিশনে জমা দেয়ার জন্য ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, ‘তালিকাভুক্ত সব ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোকে (দুটি এক্সচেঞ্জের যে কোনো একটিতে তালিকাভুক্ত) পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য গঠিত ফান্ডের বিনিয়োগ সম্পর্কে কমিশন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে তথ্য সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

চিঠিটি ব্যাংকগুলোর কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এক্সচেঞ্জ দুটিকে। এতে বলা হয়, ‘উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে এই চিঠিটি ছড়িয়ে দেয়ার এবং তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তির পরে প্রতি মাসের ৫ তারিখে বা তার আগে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধসের পর নানা সময় ব্যাংকে বিনিয়োগের সীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনা পদ্ধতি পাল্টানোর দাবি ছিল। কোনো শেয়ারের ক্রয়মূল্য বা বাজার মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি হিসাব করেই এই লিমিট গণনা করা হতো। এর ফলে শেয়ারের দর বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলো তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতো। ফলে বাজারে শেয়ারের বিক্রয়চাপ তৈরি হতো।

এ কারণে শেয়ারের ক্রয়মূল্য ধরে এক্সপোজার লিমিট নির্ধারণের দাবি ছিল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও এই সুপারিশ করে আসছিল। কিন্তু ফজলে কবির গভর্নর থাকাকালে এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

আবদুর রউফ তালুকদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার পর থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোভাব পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যে গত ১৮ জুলাই এক্সপোজার লিমিটের হিসাব পরিবর্তনে মতামত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২ আগস্ট মন্ত্রণালয় থেকে ফিরতি চিঠিতে একটি কৌশলী মতামত দেয়া হয়।

এতে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকেই বাজার মূল্য হিসেবে বিবেচনার মত দেয়া হয়। এর ফলে এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞায় বাজারমূল্য থাকলেও কার্যত ক্রয়মূল্যতেই সেটি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেই মত মেনেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কোনো ব্যাংক কোম্পানির একক ও সমন্বিত উভয় ভিত্তিতে শেয়ার ধারণের ঊর্ধ্বসীমা নিধারণে সংশ্লিষ্ট শেয়ার করপোরেট বন্ড, ডিবেঞ্চার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য পুঁজিবাজার নিদর্শনপত্রে বাজারমূল্য হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রয়মূল্যকেই বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তবে এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারে যে হতাশা, তা কাটছে না। গত দুই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পাঁচ শ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও সেটি বেড়েছে হাতে গোণা কয়েকটি কোম্পানির কারণে। পৌনে দুই শ কোম্পানির শেয়ার এখনও বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছে। আর এই দরেও শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে না বললেই চলে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে, তার মধ্যে ২০০টি কোম্পানি মিলিয়ে কেবল ৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে। অন্যদিকে ১০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল
সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shares of Monospool rallied on dividend announcement

লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল

লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মনোস্পুল পেপারের কারখানা। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট
সুশাসনের অভাব থাকায় ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়ার এক যুগ পর গত বছর মূল বাজারে ফেরে কোম্পানি। পরের বছর তাদের আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪৩ শতাংশ।

১০ শতাংশ নগদ ও সমপরিমাণ বোনাস ঘোষণার প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে কাগজ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের শেয়ারদর দিয়েছে লাফ।

এক দিন দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা না থাকার দিন দর বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

বুধবার প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ১৯২ টাকা ৯০ পয়সায়। লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে মূল্যসীমা না থাকার দিন বেড়েছে ৩৭ টাকা ১০ পয়সা বা ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। দর দাঁড়িয়েছে ২৩০ টাকা।

সুশাসনের অভাব থাকায় ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়ার এক যুগ পর গত বছর মূল বাজারে ফেরে কোম্পানি। পরের বছর তাদের আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪৩ শতাংশ।

বুধবার কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদ অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে আর বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে বিজ্ঞপ্তি আকারে সে সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়।

কোম্পানিটি এবার ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে। এর অর্ধেক বোনাসে, অর্ধেক নগদে অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার এবং প্রতি শেয়ারে পাবেন এক টাকা করে।

২০২১ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫ টাকা ৪৫ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪ টাকা ২২ পয়সা বা ৩৪৩ শতাংশ।

ওই বছর বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি এক টাকা লভ্যাংশ পেয়েছিল।

গত বছর মুনাফা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ বছর হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। বেড়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ৪৪ টাকা ৮৮ পয়সা, আগের বছর সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা ৪৩ পয়সা।

গত ৫২ সপ্তাহে এই কোম্পানির শেয়ার ১৩৩ টাকা থেকে ২৭৫ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে।

১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি। এর মধ্যে ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫১ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার।

মনোস্পুল পেপারের পরিশোধিত মূলধন ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বর্তমান বাজার মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

দাম কমেছে পেপার প্রসেসিংয়ের

মনোস্পুলের সঙ্গে ওটিসি থেকে ফেরা আরেক কোম্পানি পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ারদর লভ্যাংশ ঘোষণার পর কমেছে।

এই কোম্পানিটি এবার শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৬২ পয়সা মুনাফা করে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৩৪ পয়সা। বেড়েছে ৩ টাকা ২৮ পয়সা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪৪ টাকা।

গত বছর শেয়ারপ্রতি এক টাকা বা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

এবার যে লভ্যাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮ শতাংশ নগদে এবং ৭ শতাংশ বোনাস হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আগের দিন প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩৬ টাকা ৮০ পয়সায়, সেটি এখন দাঁড়িয়েছে ২৩৩ টাকা ২০ পয়সায়।

গত এক বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৫ টাকা, সর্বোচ্চ দর ছিল ৩১৯ টাকা।

১০ কোটি ৪৫ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০টি।

এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করে আছেন উদ্যোক্তা পরিচালকরা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ আর বাকি ৬৪ দশমিক ৪৬ শতাংশই আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

কোম্পানিটির বর্তমান বাজার মূলধন ২৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন:
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে
আয় বাড়িয়ে লভ্যাংশও কিছুটা বাড়াল কন্টিনেন্টাল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
10 day investor week from Monday

সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ

সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ
আইওএসসিও এর সদস্য দেশগুলো তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে, বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়াতে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে থাকে। বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ বাংলাদেশে পালন করে আসছে।  

আগামী সোমবার থেকে বাংলাদেশে পালিত হবে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ। ৩ অক্টোবর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হয়ে চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বিএসইসি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংঘের সদস্য। এই সংঘের নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিস কমিশনস বা আইওএসসিও।

আইওএসসিও এর সদস্য দেশগুলো তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে, বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়াতে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে থাকে।

বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ বাংলাদেশে পালন করে আসছে।

বিএসইসির প্রধান কার্যালয় হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বিশেষ অতিথি থাকবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ।

৬ অক্টোবর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে টেকসই অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশের সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংগঠন। একই দিন টেকসই অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করবে টিচাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

১০ অক্টোবর শনিবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে ফিনটেক নিয়ে আলোচনা করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)।

১১ অক্টোবর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে আলোচনা করবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

একই দিন বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা ও টেকসই পুঁজিবাজার নিয়ে আলোচনা করবে বিএএসএম ও আইসিএম। সেদিন বিনিয়োগ শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশনও।

পরদিন ক্রেটিড রেটিং নিয়ে সেমিনার করবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড (কোম্পনিজ)। এর প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

১৩ অক্টোবর হবে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে সিডিবিএল ও সিসিবিএল।

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There are no buyers in the shares 200 companies have a total transaction of 40 crores

ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি

ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
১৬ পয়েন্ট সূচক বাড়ার দিন হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ২১৬ কোটি ৯৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে কেবল ১০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৪৯৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম লেনদেন হওয়া ২০০টি কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড গড়ার পরদিন থেকে পুঁজিবাজারের লেনদেনের চিত্র বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেই চলেছে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছে গত ২৭ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এদিন সূচক বাড়লেও বিপুলসংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের কার্যন্ত কোনো ক্রেতা ছিল না। এর মধ্যে আছে বহুজাতিক শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিও, যেগুলো প্রতি বছরই আকর্ষণীয় হারে লভ্যাংশ দিয়ে থাকে।

এদিনও আরও বেশ কিছু শেয়ারের দরপতনের মধ্য দিয়ে সেগুলো ফ্লোর প্রাইসে ফিরে এসেছে। বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন দরেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কিছুদিন আগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল, এমন একটি কোম্পানির একটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে সারা দিনে, যদিও লাখ লাখ শেয়ারের বিক্রয়াদেশ ছিল।

দুটি কোম্পানির এভাবে একটি করে, দুটি কোম্পানির তিনটি করে, দুটি কোম্পানির ১০টি করে শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৬টি কোম্পানির ১০০টিরও কম শেয়ার সারা দিনে হাতবদল হয়েছে।

এর মধ্যে একটি আছে ব্যাংক খাতের বেশ শক্তিশালী কোম্পানি, একটি আছে শক্তিশালী মৌলভিত্তির বহুজাতিক কোম্পানি।

প্রকৌশল খাতে দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি ওয়ালটনের শেয়ার হাতবদল হয়েছে কেবল ১৩০টি, ব্যাংক এশিয়ার ২১১টি, বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজারের ৩০২টি, আরেক বহুজাতিক বার্জার পেইন্টসের ৭০৮টি, হাইডেলবার্গ সিমেন্টের ৮৭৭টি, বাটা শুর ১ হাজার ৩০৮টি, বিমা খাতের শক্তিশালী কোম্পানির একটি, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ৪৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এমনকি গত অর্থবছরে ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কেবল ৪৪ হাজার ৪২০টি, ৩ হাজার ৩৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫৫০ টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করা গ্রামীণফোনের কেবল ৬৯ হাজার ১৭৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

আগের কর্মদিবসে যতটুকু সূচক বেড়েছিল, বৃহস্পতিবার তার দ্বিগুণেরও বেশি পয়েন্ট সূচকে যোগ হলে লেনদেনের ৪০ শতাংশ হয়েছে ১০টি শেয়ারে।

১৬ পয়েন্ট সূচক বাড়ার দিন হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ২১৬ কোটি ৯৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে কেবল ১০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৪৯৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম লেনদেন হওয়া ২০০টি কোম্পানি মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এই লেনদেন আবার গত ২৭ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২৪ আগস্ট লেনদেন ছিল এর চেয়ে কম ১ হাজার ১৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

পুঁজিবাজারের সূচক বৃদ্ধির যে প্রবণতা গত ৩১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছিল, তাতে প্রধান ভূমিকায় থাকা ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে আগের দিন দর বেড়েছিল বেক্সিমকোর আর পতন হয়েছিল ওরিয়নগুলোর। বৃহস্পতিবার পুরো উল্টো চিত্র। দর কমেছে বেক্সিমকো কোম্পানিগুলোর আর বেড়েছে ওরিয়নগুলোর।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডে হাতবদল হয়েছে ১১০ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৯৯ কোটি ১০ লাখ টাকার।

এদিকে দরপতন ও দরবৃদ্ধির পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। ৮৫টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৯৪টির। আর সর্বোচ্চ ১৮৬টি আগের দরে হাতবদল হয়েছে, যার প্রায় সবই পড়ে রয়েছে ফ্লোর প্রাইসে।

পুঁজিবাজারের চিত্র নিয়ে ক্যাল সিকিউরিটিজের সিইও রাজেশ সাহা বলেন, ‘স্মার্ট ইনভেস্টররা ২৯, ৩০ তারিখে শেয়ার কিনে থাকেন। কিন্তু হাউজগুলোর বিভিন্ন পলিসি থাকে, বিধায় মার্জিন লোন বন্ধ রাখে। যার কারণে মার্কেট একটু ডিপ্রেশনে আছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরে কিছু টাকা মার্কেট থেকে বেরিয়ে গেছে। সেটা ইন হতে আরও অন্তত ২০দিন সময় লাগতে পারে।’

সূচক বাড়াল যারা

সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ২৫ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আইডিএলসির দর ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট।

কোহিনূর কেমিক্যাল সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এর বাইরে ওরিয়ন ফার্মা, ইস্টার্ন হাউজিং, সোনালী পেপার, বসুন্ধরা পেপার, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও ইসলামী ব্যাংক সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ২৫ পয়েন্ট সূচক কমেছে বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমেছে আইপিডিসির কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

ইউনাইটেড পাওয়ারের দর শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বেক্সিমকো ফার্মা, শাইনপুকুর সিরামিকস, আল আরফাহ ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, আরএকে সিরামিকস, বিডি কম ও এনার্জি পাওয়ার জেনারেশনের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১১ দশমিক ২৪ পয়েন্ট।

শীর্ষ ৫ খাত যেমন

ছোট চারটি খাতে দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে সেবা ও আবাসন, কাগজ ও মুদ্রণ এবং ট্যানারি খাতে ৫০ শতাংশ এবং পাট খাতে ২টি বা ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে ৭২ শতাংশ দরপতন হলেও সংখ্যার দিক থেকে বেশি দরপতন হয়েছে প্রকৌশল খাতে, ১৩টি কোম্পানির দরপতন দেখা গেছে।

বস্ত্র, আর্থিক খাত, ব্যাংক, বিমা, ওষুধ ও রসায়ন খাতে দরপতনের চেয়ে অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যাই বেশি ছিল।

লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বিবিধ খাত। ২০০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা ১৭.৮১ শতাংশ লেনদেনের বিপরীতে খাতটির ৬টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। ৪টির দর বেড়েছে, ৩টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ১৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ১৪.৮৮ শতাংশ। এদিন ১৪টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৬টির দরপতন ও ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। ১৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেনের বিপরীতে ১৪টি কোম্পানির দরবৃদ্ধি, ১৩টির দরপতন ও ১৫টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে।

আর কোনো খাতের লেনদেন শত কোটির ঘরে পৌঁছায়নি।

এর পরে সেবা ও আবাসন খাতে লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ২টি করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি ও দরপতন হয়েছে।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রযুক্তি খাতে ৮৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়। খাতের ৩টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৮টির দর।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

১০ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার দিন মনোস্পুলের শেয়ার লেনদেনে কোনো সার্কিট ব্রেকার ছিল না। অর্থাৎ কোম্পানির শেয়ারদর যত খুশি বাড়তে বা কমতে পারতো। লভ্যাংশ ঘোষণার খবরে বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৯.২৩ শতাংশ বা ৩৭ টাকা ১০ পয়সা।

সর্বশেষ শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ২৩০ টাকায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ১৯২ টাকা ৯০ পয়সা।

ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১৬ টাকা ৬০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ১০৮ টাকা ২০ পয়সা।

৭ দশমিক ৪১ শতাংশ দর বেড়ে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০৪ টাকা ১০ পয়সায়, আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ২৮৩ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়াও দরবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে আইডিএলসি, কোহিনূর কেমিক্যাল, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, কেয়া কসমেটিকস, কে অ্যান্ড কিউ লিমিটেড ও আমান ফিড।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিডিকম। ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৬১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। আগের দিনে লেনদেন হয় ৬৬ টাকা ১০ পয়সায়।

পতনের তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ দর কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারিয়েছে আইপিডিসি। ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ৬৬ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- মুন্নু অ্যাগ্রো, লাভেলো আইসক্রিম, এনার্জি পাওয়ার জেনারেশন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, লুবরেফ বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ক্যাবলস ও মীর আকতার লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
সিংহভাগ কোম্পানি ফ্লোরে, নামছে আরও অনেকগুলো
ব্যবসা বৃদ্ধির চুক্তি, সাইফ পাওয়ারের মুনাফা বাড়বে ২৫ কোটি
রেকর্ডের চার দিনের মাথায় লেনদেন অর্ধেকের নিচে
সাকিবের বাবার জায়গা থেকে সরল হিরুর শ্বশুরের নাম
চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শুরু

মন্তব্য

p
উপরে