রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর

রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর

বুধবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন নেতারা নবনির্বাচিত সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

দেশকে আরও এগিয়ে নিতে অধিক রাজস্ব আদায়ে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

বুধবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন নেতারা নবনির্বাচিত সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

শুভেচ্ছাসিক্ত এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যসোসিয়েশনের নেতা ও সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে বেসরকারি খাত প্রসারের একটি সুষ্ঠু ও টেকসই নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এ জন্য সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

‘আবার শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অর্জনের জন্য উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব এফবিসিসিআইর। আমি আশ্বস্ত করছি, এফবিসিসিআই সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়েই দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করবে।’

এদিন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস্ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইমিটেশন জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স, এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা), বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতারা এফবিসিসিআই সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, মো. হাবিব উল্লাহ ডনসহ পর্ষদ পরিচালকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এডিপি বাস্তবায়ন ৫৮ শতাংশ

এডিপি বাস্তবায়ন ৫৮ শতাংশ

আলো ঝলমল ফরিদপুর-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসে এডিপির বাস্তবায়নের হার থাকে শোচনীয়। প্রায় তিন প্রান্তিক পর্যন্ত প্রতি মাসের গড় বাস্তবায়নের হার ৫-৬ শতাংশের মতো। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো যখন দেখে সময় শেষ তখন পুরো বছরের খরচ করতে থাকে তিন মাসে। এতে শেষ সময়ে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়, কাজের মানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পুরো বছরের প্রায় অর্ধেক খরচ হয় শেষ এক মাসে।

উন্নয়ন বাজেটে পিছুটান ছাড়ছে না। চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের এরই মধ্যে ১১ মাস পার হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় মিলে খরচ করেছে মোট বরাদ্দের অর্ধেকে একটু বেশি।

মে পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ৫৮ শতাংশ। এতে শেষ মাসের খরচের জন্য বেঁচে গেছে ৪২ শতাংশ বা প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল অর্থ থেকে জুনে যত কম খরচ হবে, বছর শেষে এডিপির বাস্তবায়নও তত কম হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বলছে, মাস তিনেক আগে কাটছাটের পর সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৭২ কোটি টাকা। তবে মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা বা ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে দেশীয় উৎসের অর্থ ব্যয় হয়েছে ৮২ হাজার ৬৩৪ কোটি। আর বৈদেশিক সহায়তার অংশ থেকে ৩৯ হাজার ৪৯৮ কোটি ব্যয় হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসে এডিপির বাস্তবায়নের হার থাকে শোচনীয়। প্রায় তিন প্রান্তিক পর্যন্ত প্রতি মাসের গড় বাস্তবায়নের হার ৫-৬ শতাংশের মতো। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো যখন দেখে সময় শেষ তখন পুরো বছরের খরচ করতে থাকে তিন মাসে। এতে শেষ সময়ে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়, কাজের মানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পুরো বছরের প্রায় অর্ধেক খরচ হয় শেষ এক মাসে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নিবার্হী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এডিপি বাস্তবায়নে বড় দুর্বলতা হচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলোর গাফিলতি। এই যে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা রয়েছে তা পুরো কাজে লাগবে না। দেখা যাবে, শেষ মাসে এ টাকার বেশিরভাগই তারা ছাড় করে ফেলেবে, মন্ত্রণালয়গুলো হিসাব দেখাবে এক মাসে বিশাল খরচ হয়েছে। মনে রাখতে হবে টাকা খরচ হলেই কিন্তু কাজ বাস্তাবয়ন হয় না, মানসম্মত হয় না। এটা কোন সিস্টেম হতে পারে না। এ জায়গায় মনিটরিং ও জবাবদিহিতা জোরদার করতে হবে।’

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে অর্থ বরাদ্দে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চলমান প্রকল্পগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সরাসরি করোনা মোকাবেলা ও করোনার কাজেও গতি আসত। আঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, আইসিটি শিক্ষার উন্নয়ন, দারিদ্র্য কমানো এবং প্রকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে নেয়া প্রকল্পগুলো পর্যাপ্ত অর্থ পেয়েছে। এমনকি বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে এমন প্রকল্পের বরাদ্দ কেটে নিয়ে দ্রুতগতির প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়। অগ্রাধিকার বাছাইয়ের পরও কাঙ্খিত ব্যয় হয়নি।

আইএমইডি সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ১১ মাসে মোট এডিপি বাস্তবায়নের হার ৭৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, টাকার অংকে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। এর পরেই সেতু বিভাগের মোট অগ্রগতি ৭১ শতাংশ, টাকার অংকে ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।

বড় মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বাস্তবায়নের হারে হতাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ১০ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার মধ্যে ১১ মাসে বাস্তবায়নের হার ৪৫ দশমিক ১২ শতাংশ। টাকার অংকে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। কাছাকাছি রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে খরচ করেছ ৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৪৪ শতাংশ। এ তালিকায় সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। ১১ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েও খরচ করেছ মাত্র ৩ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়ন হার ৩১ শতাংশ।

আইএমইডি সূত্র জানায়, শুধু মে মাসে এডিপি বরাদ্দের ১৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ মাসে বাস্তবায়ন হার ৯.২৭ শতাংশ। তবে বছরভিত্তিক তুলনায় দেখা যায়, এবারের সার্বিক এডিপি বাস্তবায়ন হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। গত বছর ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে এ সময় বাস্তবায়ন হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। টাকার অংকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২১ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়াসহ নানা কারণে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সময়মত কাজ শুরু করতে পারেনি। যে কারণে বাস্তবায়নে ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। বছরের পর বছর এসব নিরসনে সুপরিশ করা হলেও কাজ হচ্ছে না।

তাছাড়া করোনার কারণে সরকার কৃচ্ছতাসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বড় অংকের অর্থ খরচে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের মতো এবারও মার্চে দেশে করোনায় উন্নয়ন কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। এবার তাই এডিপি বাস্তবায়ন আরও কমে যেতে পারে। গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয় ৮৬ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি হাতে নিয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ উৎস (জিওবি) থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে। তবে এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশন থেকে পাওয়া যাবে ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

ছাড় দিয়েও বেড়েছে খেলাপি ঋণ

ছাড় দিয়েও বেড়েছে খেলাপি ঋণ

চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ ভাগ।

স্বাভাবিক হয়নি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। দীর্ঘমন্দায় দেশের অর্থনীতি। ঘুরে দাঁড়াতে নানামুখী সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও বাড়ছে খেলাপি ঋণ। গেল ডিসেম্বরের চেয়ে মার্চে খেলাপি বেড়েছে ৬ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা।

চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ ভাগ।

ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

মোট খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।

গেল বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো মোট ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে খেলাপি ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।

২০২০ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত বছরের মার্চের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ২ হাজার ৫৭৪ কোটি।

সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ

মার্চ শেষে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এ সময়ে সরকারি ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। অর্থাৎ সরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশই খেলাপি।

ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। তিন মাসে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংক

রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। এ অঙ্ক বিতরণ করা ঋণের ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মার্চ পর্যন্ত বিশেষায়িত তিন ব্যাংক ৩০ হাজার ৫৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি ব্যাংকগুলো খেলাপি মোট ঋণের ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এ সময়ে দেশে কার্যরত বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৮ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেড়েছে।

বিদেশি ব্যাংক

বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া, বিদেশি ৯ ব্যাংক ৫৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

বিশেষ সুবিধা

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এই সঙ্কটকালে ঋণ খেলাপিদের আরও সুবিধা দিয়েছে সরকার। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে হয়নি কাউকে।

অর্থাৎ ২০২০ সালজুড়েই কোনো ঋণের শ্রেণিমান পরিবর্তন করা হয়নি। কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ঋণের কিস্তি বা খেলাপি ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মানে হচ্ছে, এই এক বছর কেউ কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেনি। যে ঋণ যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতে আছে। যে খেলাপি ঋণ আদায় হয়েছে, সেটা কিছু উদ্যোক্তা নিজ উদ্যোগেই দিয়েছে।

চলতি মার্চে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ শুরু হলে আবারও ঋণ পরিশোধে ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এবার আগের মতো গণসুবিধা না দিয়ে কিছুটা কৌশলী ভূমিকা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরে ঋণ পরিশোধ না করেও বিশেষ সুবিধায় যারা খেলাপি হননি, তাদের জন্য নতুন করে সুবিধা দিয়ে গত ২৪ মার্চ সার্কুলার জারি করা হয়। এতে বলা হয়, যেসব চলমান ঋণের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নতুন করে নবায়ন করা হয়নি, এসব ঋণের শুধু সুদ পরিশোধ করলেই ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিত রাখতে হবে।

এছাড়া যেসব গ্রাহকের ২০২০ সালের সুদ বকেয়া রয়েছে তাদের চলতি বছরের মার্চ থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৬টি কিস্তির ত্রৈমাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত যে সুদ আসে, তাও ত্রৈমাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। আগে চলমান ঋণের কিস্তি প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হতো। এ ছাড়া তলবি ঋণ চলতি মার্চ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। এভাবে শোধ হলে খেলাপি করা যাবে না।

এছাড়া ২০১৯ সালের ১৬ মে ঋণ খেলাপিদের মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে পরিশোধের সুযোগও দেয় সরকার।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, এর আগে খেলাপিদের অনেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নতুন করে প্রণোদনার ঋণ নিতে চাওয়ার ফলে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে কিছু টাকা আদায় হয়েছিল। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঋণগ্রহীতা ঋণের কিস্তি শোধ না করলেও তাকে খেলাপির তালিকায় দেখানো যাবে না, পুরো ২০২০ সাল এমন সুবিধা পেয়েছেন ঋণ গ্রাহীতারা।

তার মতে, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনে বিভিন্ন নীতিমালার শর্ত শিথিলতা আনা হয়। এতে করে গত এক বছরে ঋণের কিস্তি না দিয়েও নতুন করে কোনো ঋণ খেলাপি হয়নি। এতে সে সময়ে খেলাপি কিছুটা কমেছিল।

তবে এখন ব্যাংকগুলোকে সতর্ক হবে বলে মন্তব্য করেন সালেহ উদ্দিন। বলেন, ‘ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে’-এমন নিয়ম করতে হবে।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

পণ্য ছাড়ে ৮ শর্ত, ব্যবসায়ীদের আপত্তি 

পণ্য ছাড়ে ৮ শর্ত, ব্যবসায়ীদের আপত্তি 

রাজস্ব বাড়াতে নতুন নিয়ম জারির কথা বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শর্ত মানতে গেলে বাণিজ্যে ধীরগতির পাশাপাশি এ পথে আমদানিতে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেকে।

অনিয়ম ঠেকিয়ে রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা আনতে আমদানিতে আট শর্ত জারি করেছে যশোরের বেনাপোলা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব শর্ত মানতে গেলে বাণিজ্যে ধীরগতি বাড়ার পাশাপাশি এপথে আমদানিতে আগ্রহ হারাতে পারেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত শর্ত জারির চিঠি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

শর্তগুলো হলো-

১. একটি সুনির্দিষ্ট ও ডিটেইল প্যাকিং লিস্ট (সুনির্দিষ্ট বর্ণনা, মার্কস নম্বর, আর্ট নম্বর, পার্ট নম্বর ও ব্র্যান্ড নামসহ) এবং সুস্পষ্ট কান্ট্রি অফ অরিজিন থাকা বাধ্যতামূলক। আমদানি করা পণ্য চালানের বিপরীতে দাখিল করা বাণিজ্যিক দলিলের সঙ্গে ডিটেইল প্যাকিং লিস্ট এবং কান্ট্রি অফ অরিজিন দাখিল করতে না পারলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২. আমদানি করা পণ্য চালানের প্রতিটি প্যাকেজে একের বেশি আইটেম মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি করা যাবে না। একটি প্যাকেজে শুধু একটি আইটেম আমদানি করা যাবে।

৩. বিভিন্ন ধরনের পণ্যের প্রতি চালানে এক হাজারের বেশি প্যাকেজ আমদানি করা যাবে না।

৪. একটি পণ্যের চালান টু হুইলার, থ্রি হুইলার ও ফোর হুইলার পার্টস মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি করা যাবে না। পৃথক পৃথক পণ্য চালান আমদানি করতে হবে।

৫. ফেব্রিক্স কিংবা অন্য কোনো পণ্যের সাধারণ ঘোষণা না দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে যেমন শাড়ি, প্যান্টিং, কটন, সিনথেটিক, ওড়না, সিনিল ভেলভেট ফেব্রিক্স প্রভৃতি নামে ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান আমদানি করতে হবে।

৬. একই পণ্য চালানে ৩৫টির অধিক আইটেম আমদানি করা যাবে না।

৭. সীমান্তে এন্টিপয়েন্টে পণ্য চালান রিসিভ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মালিক কর্তৃক সংশিষ্ট প্রতিনিধিকে দেয়া এনওসি দাখিল করতে হবে।

৮. অননুমোদিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা তাদের প্রতিনিধি বা কর্মচারীকে কাস্টমস হাউজে প্রবেশ এবং আমদানি করা পণ্য চালান খালাস কাজে নিয়জিত করা যাবে না।

আট শর্তের বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘কাস্টমস কর্তৃক নির্দেশিত শর্তের কয়েকটি যৌক্তিকতা আছে। তবে এর অধিকাংশ শর্ত নিয়ম মেনে আমদানি করতে গেলে বাণিজ্যে ধীরগতি নামবে। এছাড়া খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের কারণে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাবেন অনেক ব্যবসায়ী।’

যশোর চেম্বার অফ কর্মাসের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমসের জারি করা শর্তের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র আমদানিকারকরা আর ব্যবসা করতে পারবেন না। কারণ এতে কনসাইনমেন্ট প্রতি আনুষঙ্গিক খরচ দ্বিগুণ হারে বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারে আমদানি পণ্যের ওপর।’

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ডেপুটি কমিশনার শামিমুর রহমান বলেন, ‘আট শর্ত মেনে পণ্য আমদানি হলে সরকারের যেমন রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে, তেমনি অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।’

তিনি জানান, খুব দ্রুত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

দেশে চালু থাকা ১২টি স্থলবন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে বেনাপোল বন্দরের কাস্টমস হাউস থেকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি।

প্রতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও আট হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হয়।

আমদানি বাণিজ্য থেকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায় সরকার। বন্দরে বিভিন্ন নিয়ম জারির কারণে এ পথে ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধ করেছেন। একারণে গত কয়েক বছরে রাজস্ব আয়ও অনেক কমে এসেছে।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বাড়াতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংরক্ষিত আসনের এই এমপি বলেন, সরকারের দিক থেকে বাজেট একেবারে ঠিক আছে।

‘ক্ষমতায় থাকতে যাকে প্রয়োজন তার জন্যই তো বাজেট হবে। জনগণের ম্যান্ডেট লাগলে জনগণকে খুশি করতে হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় ব্যবসায়ী আর আমলা, তাহলে তাদের জন্যই বাজেট হবে; হয়েছেও সেটা।’

তিনি বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে গত বছর অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে লোক হাসিয়েছিলেন। এবার তিনি দাবি করছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশের কথা। যদিও বিশ্বব্যাংকের মতে এটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

‘প্রবৃদ্ধি মানেই যে সু-সরকার, সুশাসন বা জনগণের সরকার তা নয়। তার প্রমাণ ১৯৬৮ এবং ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের আমলে পূর্ব পাকিস্তানের দুটি উল্লেখযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ এবং ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।’

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে বলা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কেবলই বাড়ছে। ২০১২ সাল থেকে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত খরচ ৬০ শতাংশ থেকে ক্রমাগত বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ২৮ শতাংশের পুরোটাও সরকারের ব্যয় নয়, এর একটা বড় অংশ এনজিও থেকে আসে। প্রতি বছর স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যান ৬৬ লাখ মানুষ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এখনও ভারত থেকে তিন কোটি টিকা পাওয়ার গল্প করছেন। অথচ ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই বছর শেষ হওয়ার আগে তারা কোনোরকম টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও টিকার দাম আগেই চুকানো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই তিন লাখ টাকা রাখা হয়েছে। করোনার মধ্যেই সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী এবং সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট ডেটা, ‘ইলেকট্রনিক গ্যাজেট’ কেনা ইত্যাদি খাতে খরচ অনেক বেড়েছে। নানা দফায় গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। সহজে শনাক্ত করা যায় বলে চাকরিজীবী মধ্যবিত্তদেরই আয়করের প্রধান টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ট্রাস্ট আইনের অধীনে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আয়কর বসানো বেআইনি এবং এটা পরবর্তীতে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি-এর ওপর ধার্য হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ হয় সেটুকুর উপকারও জনগণের কাছে পৌঁছে না।

‘লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত। একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের হিসাব নিয়ে ‘নজিরবিহীন কারসাজি’

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের হিসাব নিয়ে ‘নজিরবিহীন কারসাজি’

শেয়ারের হিসাব নিয়ে ব্যাপক কারসাজির অভিযোগ উঠেছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে

পুঁজিবাজারে প্রতি মাস শেষে উদ্যোক্তা পরিচালক, সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ারের কত শতাংশ আছে তার হিসাব প্রকাশ করতে হয়। গত কয়েক দিনে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, মে মাসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে থাকা কোম্পানিটির ২০.২৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। তবে আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশের পরে জানা যায়, এই মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির শেয়ারের ৮.২৮ শতাংশ বিক্রি করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কার কাছে কী পরিমাণে আছে, তার হিসাব প্রকাশ নিয়ে নজিরবিহীন একটি ঘটনা ঘটেছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক পেজে গত দুই দিনে ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, এই কোম্পানির শেয়ারের সিংহভাগ কিনে নিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। আর সাধারণ মানুষের হাতে আছে কেবল ১.৩২ শতাংশ।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুই দিনে শেয়ারটি নিয়ে বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়। তবে মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে যে হিসাব প্রকাশ হয়েছে তাতে দেখা যায়, গত এক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আসলে শেয়ার বিক্রি করেছেন বেশি, ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেই শেয়ার কিনেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে কারসাজি বন্ধে কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই কমিটি শতাধিক ব্যক্তির ওপর নজর রাখছে বলে খবরও এসেছে।

পুঁজিবাজারে প্রতি মাস শেষে উদ্যোক্তা পরিচালক, সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ারের কত শতাংশ আছে তার হিসাব প্রকাশ করতে হয়।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই হিসাবে নজর রাখেন বহু বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে অনেক সময় ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা সেই শেয়ারে উৎসাহী হন।

পুঁজিবাজারে গত বছরের জুন থেকেই, বিশেষ করে সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। শেয়ারের দামও কোনোটির তিন গুণ, কোনোটির ছয় গুণ, কোনোটির ১০ গুণ বা তার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

অনেক বেশি দাম বাড়া একটি কোম্পানি হলো ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, যেটির দাম গত কয়েকদিনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে মে মাস শেষে এই কোম্পানির শেয়ারের হিস্যা নিয়ে হিসাব প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার। তবে তার আগে কয়েকদিন ধরেই একটি চার্ট ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে।

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের হিসাব নিয়ে ‘নজিরবিহীন কারসাজি’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের হিস্যা নিয়ে কারসাজির স্কিনশট

সেখানে দেখানো হয়, ৩০ এপ্রিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২২.১৯ শতাংশ শেয়ার। আর ৩১ মে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯২ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এপ্রিল শেষে শেয়ার ছিল ১৬.৩৫ শতাংশ। আর মে শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৬২ শতাংশ।

বলা হয়েছে, এক মাসে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের কাছে থাকা মোট শেয়ারের ২০.২৭ শতাংশ বিক্রি করেছেন, যার পুরোটাই কিনেছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

কিন্তু ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে উল্টো কথা। এখানে বলা আছে, ৩১ মে শেষে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে মোট শেয়ারের ৩০.৪৫ শতাংশ, যেখানে এপ্রিলে ছিল ২২.১৯ শতাংশ।

একইভাবে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মে মাস শেষে ছিল ৮.০৮ শতাংশ, আর এপ্রিলে ছিল ১৬.৩৬ শতাংশ।

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের হিসাব নিয়ে ‘নজিরবিহীন কারসাজি’
ছড়িয়ে পড়া স্কিনশটে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার কিনে নিচ্ছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা

এক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করেছেন ৮.২৮ শতাংশ শেয়ার, যার ৮.২৬ শতাংশ কিনেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাকিটা কিনেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

এটা বোঝা যায় যে, অপপ্রচারের উদ্দেশ্য ছিল এটা প্রমাণ করা যে, কোম্পানিটি আগামীতে আরও ভালো করবে। এর মাধ্যমে একটি কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা হয়।

গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৫২ শতাংশের বেশি। গত দুই দিনে কোম্পানির শেয়ারের দর ১৭ টাকা ১০ পয়সা বেড়েছে।

মঙ্গলবার লেনদেন হয় ১০৭ টাকা ৬০ পয়সায়। অবশ্য গত ৮ জুন সর্বোচ্চ দাম উঠে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর তা সংশোধন হয়ে ৯০ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা এখন জানলাম। যাচাই-বাছাই করে দেখব।’

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কমিশনের মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা কিছুই আসুক না কেন, ডিএসইর ওয়েবসাইট সবার জন্য উন্মুক্ত। সেখানে যে কেউ এসব গুজব যাচাই করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের বলব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য দেখেই বিনিয়োগ না করে, সঠিক তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগ করুন।’

তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্য তথ্য প্রচার করে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে। সময় সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকার কিছুটা বেশি। মোট চার কোটি এক লাখ ২৫ হাজার শেয়ার আছে কোম্পানিটির। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে আছে মোট শেয়ারের ৬১.৩৫ শতাংশ বা ২ কোটি ৪৬ লাখ ১৬ হাজার ৬৮৭টি।

এই শেয়ার বিক্রি করতে হলে উদ্যোক্তা পরিচালকদের আগাম ঘোষণা দিতে হবে। বাকি শেয়ার যে কেউ ঘোষণা ছাড়াই বিক্রি করতে পারেন। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রিতে ঘোষণা দিতে হয় না।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন

সবার শেষে এনবিএল

সবার শেষে এনবিএল

‘আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যেই বোর্ডসভা করতে হবে। আমরা সেটি করব এবং বোর্ডসভার পরবর্তী যেসব কার্যক্রম আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হবে না। সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে আগেভাগেই লভ্যাংশ ঘোষণার সুনাম থাকলেও এবার তালিকায় সবার শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএল। অর্থবছরের সাড়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভার তারিখই জানায়নি ব্যাংকটি।

যদিও ব্যাংকটির কোম্পানি সচিব নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তাদের লভ্যাংশ ঘোষণার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নথিপত্র বাংলাদেশে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত ২৯টি ব্যাংক তাদের লভ্যাংশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। আর একটি ব্যাংক আগামী ২১ জুন সভা করতে যাচ্ছে। তবে এনবিএলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি; যদিও এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই তাদের লভ্যাংশ ঘোষণা হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দু-একটি বহুজাতিক কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। আর তাদের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরের পরের কয়েক মাস পুঁজিবাজারে লেনদেনে গতি পায়।

নিয়ম অনুযায়ী জীবন বিমা ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করতে হয়।

তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ কর্মদিবস বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই ১২০ কর্মদিবস সাধারণত ৬ মাস হয়ে থাকে। আর এই সময়ের পুরোটাই নিতে যাচ্ছে এনবিএল।

গত বছরও ব্যাংকটি ৩০ জুন লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করেছিল। সে সময় করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে পুঁজিবাজার ৬৬ দিন বন্ধ ছিল।

ব্যাংকটি কবে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে- জানতে চাইলে ন্যাশনাল ব্যাংকের কোম্পানি সচিব কাইসার রাশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নানা কারণে আমাদের এ বছর বোর্ডসভা করতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে আমরা এখন সবকিছু গুছিয়ে এনেছি।’

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার।

কোম্পানি সচিব বলেন, ‘আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যেই বোর্ডসভা করতে হবে। আমরা সেটি করব এবং বোর্ডসভার পরবর্তী যেসব কার্যক্রম আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হবে না। সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগের পরিচালন মুনাফাই আগের বছরের তুলনায় কমে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এনবিএল। এই কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা অনেক বেড়েছে।

আবার চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এবার পরিচালন মুনাফা কম হলেও চূড়ান্ত মুনাফা বেশি হয়েছে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই। এখন এনবিএলের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, সেটি আগেভাগে প্রকাশ করায় আইনি বাধা আছে। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পরেই সেটি প্রকাশ করা হবে।

তৃতীয় প্রান্তিকের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৭ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অবশ্য কম। সে সময় তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় ছিল ৬৭ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটি গত বছর পরিচালন মুনাফা করেছে ৯৮০ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ৯৫০ কোটি টাকা।

তবে এই মুনাফা থেকে ঋণের সঞ্চিতি সংরক্ষণ আর ৪০ শতাংশ কর পরিশোধের পর চূড়ান্ত মুনাফার ঘোষণা আসবে। কত টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়ে আগেভাগে কোনো তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠানই দেয় না।

২০১৯ সালে এনবিএল শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪১ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৫০ পয়সা দেখা হয় নগদে, আর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পেয়েছেন প্রতি ২০টিতে আরও একটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সবচেয়ে পুরোনো ও বড় ব্যাংকগুলোর একটি হলেও ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার মূল্য একেবারেই তলানিতে। প্রতিবছর লভ্যাংশ ঘোষণা করে, এমন কোম্পানির মধ্যে এত কম দামে আর কোনো শেয়ার বিক্রি হয় না।

মঙ্গলবার ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা করে। অর্থাৎ অভিহিত মূল্য ১০ টাকার চেয়ে ২২ শতাংশ কমে আছে দাম।

গত দুই বছরে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দাম ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা আর সর্বনিম্ন দাম ছির ৬ টাকা ৮০ পয়সা।

ব্যাংক খাতের একমাত্র লোকসানি কোম্পানি আইসিবি ইসলামীর দাম এর চেয়ে কম আছে।

আরও পড়ুন:
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই
‘উন্নত অর্থনীতি গড়তে বাস্তবায়নযোগ্য পলিসি দিতে হবে সরকারকে’
সরকার-ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব: এফবিসিসিআই সভাপতি
বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন জসিম উদ্দিন

শেয়ার করুন