চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে

চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে

বিদায়ী অর্থবছরে সরকার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচককে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে বেঁধে রাখার আশা করছে। তবে এপ্রিল পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় এ হার ছিল সরকারের লক্ষ্যের চেয়ে বেশি।

চালসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমায় মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট এবং ১২ মাসের গড় - এ দুই ভিত্তি ধরেই কমেছে মূল্যস্ফীতি। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ, এপ্রিল মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর গত বছরের মে মাসে ছিল ৫ দশমকি ৩৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একেনক) বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মে মাসের ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মূল্যস্ফীতি নিরুপণ করার দায়িত্ব থাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচককে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে বেঁধে রাখার আশা করছে। যদিও এপ্রিল পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় এ হার ছিল সরকারের লক্ষ্যমাত্রার বাইরে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তাতে তিনি আগামী বছর গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে বেঁধে রাখার কথা জানান, যদিও করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে থমকে যাওয়া অর্থনীতি সচল করতে প্রণোদনাসহ বাজারে বাড়তি মুদ্রাপ্রবাহের কারণে কিছুটা ঝুঁকি থাকবে।

মূল্যস্ফীতি কমা মানে মূল্য কমেছে এমন নয়। পণ্যের দাম ঠিকই বেড়েছে, তবে তার আগের বছরের চেয়ে দাম বাড়ার হার কিছুটা কম। মে মাসের মূল্যস্ফীতির সহজ অর্থ করলে দাঁড়ায়, ২০২০ সালের মে মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের মে মাসে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ২৬ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার বিবিএসের দেয়া তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে চাল, সবজি, মাছ-মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। ফলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমেছে, যদিও খাদ্য বহির্ভুতখাতে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তি রয়েছে। তবে দুই খাত মিলিয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মে মাসে চাল, ডাল, চিনি, মুড়ি, মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগি, শাক-সবজি, ফল, মসলা, তামাক, দুধজাতীয় দ্রব্যাদি এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর মূল্য কমেছে। এ জন্য এ উপখাতে মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক শুন্য ৯ শতাংশ।

তবে খাদ্য বহির্ভূত উপখাতে মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর গত বছরের মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জ্বালানি, প্রসাধনী, জুতা, পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ সেবা খাতের দাম বাড়তি ছিল।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য