পর্যটকদের জন্য নভোএয়ারের প্যাকেজ

পর্যটকদের জন্য নভোএয়ারের প্যাকেজ

দুই জনের জন্য দুই রাত তিন দিনের প্যাকেজের আওতায় বিমান ভাড়া, হোটেল ভাড়া, বিমানবন্দর থেকে হোটেল যাওয়া-আসা, সকালের নাস্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের ২০টি শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীরা বিনা সুদে ৬ মাসের সহজ কিস্তিতে এই প্যাকেজ নিতে পারবেন।

চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ার। পর্যটকরা ছয় মাসের ইএমআই পদ্ধতিতে এসব প্যাকেজের টাকা শোধ করতে পারবেন।

শনিবার প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দুই জনের জন্য দুই রাত তিন দিনের এই প্যাকেজের আওতায় বিমান ভাড়া, হোটেল ভাড়া, বিমানবন্দর থেকে হোটেল যাওয়া-আসা, সকালের নাস্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের ২০টি শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীরা বিনা সুদে ৬ মাসের সহজ কিস্তিতে এই প্যাকেজ নিতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারে সর্বনিম্ন এক হাজার ৮৯৯ টাকা ও দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে তিন হাজার ৫৮ টাকা মাসিক কিস্তিতে এ সুবিধা নেয়া যাবে।

কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ পার্ল বীচ রিসোর্ট, সায়মন বীচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইজ হোটেল এন্ড রিসোর্ট, লং বীচ হোটেল, উইন্ডি ট্যারেস বুটিক হোটেল, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেলে এই প্যাকেজের আওতায় থাকার সুবিধা রয়েছে।

এই প্যাকেজে ঢাকা থেকে সিলেটে জনপ্রতি সর্বনিম্ন এক হাজার ৭৪৫ টাকা এবং দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সর্বনিম্ন দুই হাজার ৯০৬ টাকার মাসিক কিস্তিতে ভ্রমণ করা যাবে। হোটেল রোজভিউ ও হোটেল নুরজাহান গ্র্যান্ডে এই প্যাকেজের আওতায় থাকার সুবিধা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই প্যাকেজে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে জনপ্রতি সর্বনিম্ন দুই হাজার ১৩৯ টাকা ও দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে জনপ্রতি সর্বনিম্ন তিন হাজার ৩০০ টাকার মাসিক কিস্তিতে ভ্রমণ করা যাবে। এই প্যাকেজের আওতায় হোটেল আগ্রাবাদে থাকার সুবিধা রয়েছে।

এছাড়া এই প্যাকেজে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ঢাকায় জনপ্রতি সর্বনিম্ন দুই হাজার ১০১ টাকার মাসিক কিস্তিতে ভ্রমণ করা যাবে। হোটেল লেক শোর ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এই প্যাকেজের আওতায় থাকার সুবিধা রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে ব্যয় হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ৯টি ব্যাংক।

বেসরকারি ৯টি ব্যাংক এ বাবদ ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৮ টাকা অনুদান দিয়েছে। অনুদানের এ টাকা ব্যয় হবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলায়।

৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকের সাথে চুক্তি সই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে লাগানো হবে।

উদ্যোগ দুটির মূল কার্যক্রম হলো- মাস্ক বিতরণ এবং মেডিক্যাল সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে রিসিলিয়েন্স গঠন এবং লকডাউনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা পরিবারগুলোতে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেয়া’।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের উদ্দেশে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ‘করপোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি’ (সিএসআর) কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকগুলো ব্র্যাকের ‘ডাকছে আবার দেশ’ এবং ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ দুইটি কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে।

এ ৯টি ব্যাংকের প্রতিশ্রুত টাকা থেকে ‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগের অধীনে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। যা দিয়ে ৭২ হাজার ১৬০টি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

বাকি অর্থ দিয়ে ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং অন্যান্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি এই রোগের উপসর্গযুক্ত ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি জেলায় কমিউনিটিকে সংযুক্তিকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় যথাযথ সতর্কতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচারণা এবং ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ভুল তথ্য ও গুজব নিরসনেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ।

‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগটির মাধ্যমে প্রথম দফায় করোনার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৯টি জেলায় ৫০ হাজার পরিবারে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তার এই তহবিল গঠিত হয়েছে ব্র্যাকের কর্মীদের একদিনের বেতন এবং এর সঙ্গে ব্র্যাকের সমপরিমাণ অর্থের অনুদান মিলিয়ে।

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে ৩০ অক্সিজেন প্ল্যান্ট  

করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে ৩০ অক্সিজেন প্ল্যান্ট  

দেশে এখন দিনে ২০০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য। বৈঠকে এ সংক্রান্ত  প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এডিবি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসাবে সরকার। বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এদিন বৈঠক শেষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আহ ম মুস্তফা কামাল ।

তবে এতে কত টাকা ব্যয় হবে, কবে কাজ শুরু হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে পরের বৈঠকে এর ব্যাখ্যা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার সব হাসপাতালেই অক্সিজেন সংকট চলছে। জেলা পর্যায়েও একই পরিস্থিতি।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখন দিনে ২০০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই চাহিদা ৩০০ টনে পৌঁছাবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য। বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।‘

তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনার প্রস্তাব নাকচ অর্থমন্ত্রীর

বৈধ পথ বা ব্যাকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে এর ওপর বর্তমানে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পেছনে এটি অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয়।

এ খাতে অতিরিক্ত আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

ইতোমধ্যে যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে সেটি যথেষ্ঠ বলেও দাবি করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শাটডাউনের কারণে এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গণটিকা দান কর্মসূচি আবার শুরু হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এর ফলে আগামীতে রেমিট্যান্সের তেজি ভাব অব্যাহত থাকবে।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি অর্থনেতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিতে, বাকি নয়টি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে।

শেয়ার করুন

সিএসআরের টাকা বিতরণের সময় বাড়ল

সিএসআরের টাকা বিতরণের সময় বাড়ল

সিএসআরের টাকা বিতরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বলছে, ‘১৪ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকগুলো জেলা প্রশাসক বা এনজিও বা এমএফআই এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা কিংবা সেনা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।’

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) টাকা বিতরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে নির্দিষ্ট থাকা অর্থ বিতরণের সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বলছে, ‘১৪ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকগুলো জেলা প্রশাসক বা এনজিও বা এমএফআই এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা কিংবা সেনা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।’

বিশেষ এ কার্যক্রমের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে হত-দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এ বিশেষ কাজকে বেগবান করার পরামর্শ দিয়েছে সেই সার্কুলারে।

সার্কুলারে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন তদারকি নিশ্চিতের লক্ষ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে জুনের বিতরণের প্রথম প্রতিবেদন ১০ আগস্টের মধ্যে দিতে হবে।

অন্য পাক্ষিক প্রতিবেদন (প্রতি মাসের ১৫ ও ৩০ তারিখ ভিত্তিক) প্রতি পক্ষকাল শেষ হওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

টিকা নিশ্চিতের শর্তে ভারতে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব

টিকা নিশ্চিতের শর্তে ভারতে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব

ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালাতে প্রস্তাব দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত এরই মধ্যে আমাদের সাথে ফ্লাইট চলাচলে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির মাধ্যমে ফ্লাইট শুরু করা যায় কি না তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতের শর্ত রেখে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে বুধবার পাঠানো হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত এরই মধ্যে আমাদের সাথে ফ্লাইট চলাচলে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির মাধ্যমে ফ্লাইট শুরু করা যায় কি না তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ১৪ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ১ মে ১২টি ছাড়া সব দেশের সঙ্গেই আকাশপথ খুলে দেয়া হয়। এই ১২টি দেশের মধ্যে ছিল ভারত।

পরে বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশের তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন হলেও ভারতের সঙ্গে আকাশ পথ বন্ধই রয়েছে।

সবশেষ ৫ জুলাই থেকে ভারতসহ ৮টি দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বেবিচক।

এর আগেও গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে বেশ কয়েকমাস বন্ধ ছিল ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ। পরে গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।

সম্প্রতি ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল শুরু বিষয়ে আগ্রহ দেখায় ভারত। এ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি প্রস্তাবও দেয়া হয় দেশটির তরফ থেকে।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন আগস্ট থেকে ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে গত ২৭ জুলাই গণমাধ্যমকে ধারণা দিয়েছিলেন।

তখন তিনি বলেন, ‘আমরা সীমিত আকারে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়েছি। আগস্টের কোনো একটা সুবিধাজনক সময়ে এটা শুরু করার ব্যাপারে আশা রাখি।

‘আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশের কোভিড সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিচার-বিশ্লেষণ করে থাকি। যেহেতু ভারতের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে, সে অনুযায়ী আমরা মনে করছি, বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করতে পারি আমরা।’

ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি কতদুর এগুলো জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘ফ্লাইট শুরুর বিষয়ে আমরা আমাদের কিছু শর্তের কথা তাদের জানিয়েছি। এর মধ্যে সব যাত্রীর যেন টিকা থাকে সে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

‘কোন কোন ক্যাটাগরির যাত্রীদের নিয়ে ফ্লাইট চলাচল করা যাবে সে বিষয়েও তাদের দেয়া চিঠিতে দেয়া হয়েছে। তবে শুরুতে অবশ্যই সীমিত আকারে ফ্লাইট শুরু হবে।’

তিন দেশি এয়ারলাইনস বিমান, নভো এয়ার ও ইউএস বাংলা এয়ার ছাড়াও ভারতের বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালিয়ে থাকে। ভারতের এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইনডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা ও গোএয়ার।

শেয়ার করুন

কম সুদে ঋণ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা

কম সুদে ঋণ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা

নারী উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে। ফাইল ছবি

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুদ কমাতে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নারী উদ্যোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ দিতে সুদ হার কমানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ দেযার ক্ষেত্রে সুদ বা মুনাফার হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সাল শেষে সিএমএসএমই খাতের নিট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির ন্যূনতম ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। একই সার্কুলারে নারী উদ্যোক্তাদের ‘স্মল এন্টারপ্রাইজ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হয়।’

‘পরে, করোনা মহামারির কারণে নারী উদ্যোক্তাদের অনুকূলে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা সহজীকরণে সুদ বা মুনাফার হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৩ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পুনঃনির্ধারণ করা হয়।’

সার্কুলারে নারী উদ্যোক্তা পর্যায়ে দেয়া ঋণ বা বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪ সাল শেষে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নতুন কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তাদের প্রদত্ত ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে এ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান করতে হবে।

এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়নের সুদ বা মুনাফার হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শেয়ার করুন

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

দ্য লাস্ট মার্সেনারি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: আইএমডিবি

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ভ্যান ড্যাম অভিনীত ছবি ‘দ্য লাস্ট মার্সেনারি’। এতে একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একজন অভিনয়শিল্পী বলছেন, ‘হ্যাঁ, এটা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট’। প্রত্যুত্তরে আরেকজন বলেন, ‘এটা মেড ইন ফ্রান্স। তবে যদি এটি বাংলাদেশ থেকে আসে, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।’

কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া একটি চলচ্চিত্রে বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে।

প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারী কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক মুহম্মদ খান এই সংলাপের প্রতিবাদ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী অনেক প্রবাসী মুহম্মদ খানের ফেসবুক ওয়ালে লিখে প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করেছেন দেশের অনেকে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানও উষ্মা প্রকাশ করেছেন ওই সংলাপে।

গত ৩০ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ভ্যান ড্যাম অভিনীত ছবি ‘দ্য লাস্ট মার্সেনারি’। চলচ্চিত্রটি এখন এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তার তালিকার সেরা দশে অবস্থান করছে।

বহুল ভিউ হওয়া ছবিটিতে বাংলাদেশি পণ্যবিরোধী প্রচারণার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলচ্চিত্রটির একটি সংলাপে তার প্রমাণও মেলে।

অনেকেই মন্তব্য করেছেন ডেভিড চারহন পরিচালিত ফ্রেঞ্চ ভাষার এ ছবির মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে নিম্নমানের বলে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ছবিটির ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটে শুরু হওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, একজন অভিনয়শিল্পী বলছেন, ‘হ্যাঁ, এটা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট (Ah, yes. Bulletproof tuxedo)’।

প্রত্যুত্তরে আরেকজন বলেন, ‘এটা মেড ইন ফ্রান্স। তবে যদি এটি বাংলাদেশ থেকে আসে, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব (Made in France. If it was from Bangladesh, I,d be gone.)।

সংলাপটি নিয়ে মুহম্মদ খান তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন…

#হোক_প্রতিবাদ

"The Last Mercenary" : এ বছরই মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্স অরিজিনাল মুভি। জানি না বাংলাদেশে কতজন দেখছে, তবে কানাডায় আজকের 'টপ টেন' তালিকায় ৭-এ। মানে, লাখো কানাডিয়ান দেখছে মুভিটা। সারা বিশ্ব মিলে নিশ্চয়ই কোটি দর্শক!

মুভিটার শেষভাগে এসে একটা ডায়লগ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলাম না। পরিচালক ডেভিড চ্যারন কিংবা দারুণ জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম-এর মুভিতে এমন ডায়লগ কোনোভাবেই আশা করিনি। ডায়লগটা এমন : Ah, yes. Bulletproof tuxedo. Made in France. If it was from Bangladesh, I,d be gone.

বাংলাদেশকে, আরও স্পষ্ট করে বললে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যকে খুব নিম্নমানের হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। (স্ক্রিনশট দেখলেই বুঝবেন। অথবা মুভিটার ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের পরপরই আছে ডায়লগটা)

বিষয়টাকে নেহাত সিনেমার একটা ডায়লগ মনে করলে আমার মনে হয় চরম বোকামি হবে। এটা খুব প্রচ্ছন্নভাবে করা হয়েছে বলেই ধরে নেয়া ভালো। এবং বাংলাদেশের বা বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের নেগেটিভ ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য এসব মুভি যে মোক্ষম অস্ত্র, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না! একটা জুতসই প্রতিবাদ হওয়া দরকার না?’

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ

সুজন হোসেন নামের একজন লেখেন, ‘আমরা বুলেটপ্রুফ কিছু তৈরি করি না। তার পরেও এর সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জুড়ে নিম্নমানের প্রমাণ করাটা সত্যিকার অর্থে একটা গভীর চক্রান্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক, চামড়া, ওষুধ এবং অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে।’

সুমন কায়সার লিখেছেন, ‘এত দেশ থাকতে বাংলাদেশ! প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচার হওয়া অসম্ভব না।’

শেখ শাফায়েত হোসেন লিখেছেন, ‘খান ভাই, এ রকম একটি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবাদ হওয়া দরকার। একজন বিজনেস রিপোর্টার হিসেবে আমি তো ভাই কোনোভাবেই মেলাতে পারছি না।

‘বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক। এসব পোশাকের মান এতই ভালো যে, এই লকডাউনের মধ্যেও কারখানা খুলে পোশাক বানিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পোশাকের বাইরে অন্য যেসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়, এগুলোও দেশের মধ্যে থেকে বাছাই করা সেরা পণ্য। তাহলে কেন বিদেশি মুভিতে বাংলাদেশের পণ্য নিম্নমানের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বুঝলাম না।’

সাংবাদিক নাসরিন গীতি লেখেন, ‘এটা সচেতনভাবেই ফিল্ম মেকার ব্যবহার করেছেন। দুঃখজনক। জুতসই প্রতিবাদ দরকার।’

রাশেদুজ্জামান লিটু লেখেন, ‘অবশ্যই এর যথার্থ প্রতিবাদ হওয়া উচিত। এভাবে কূটকৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগীর দালালি করে মুভির মতো একটা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অতিরিক্ত স্বার্থ হাসিলের যে অপপ্রয়াস মি. পরিচালক ডেভিড চ্যারন করেছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তার এই নেতিবাচক উক্তির ফলে আমাদের তৈরি পোশাকের বাজারে যে মর্যাদাহানি হয়েছে, তার বিপরীতে তাকে ক্ষতিপূরণসহ ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’

বিজিএমইএর সভাপতিরও উদ্বেগ

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুভিটি আমি দেখিনি। তবে যা শুনছি…সত্যিই যদি বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে এ ধরনের কোনো সংলাপ কোনো ছবিতে দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিবাদ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় উন্নত মানের পোশাক রপ্তানি করি, সে কারণেই বিশ্বের বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো আমাদের পোশাক কেনে। কোনো চলচ্চিত্র বা মুভিতে বাংলাদেশকে নিয়ে বিতর্কিত কোনো সংলাপ মোটেই সমীচীন নয়।’

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

নেটফ্লিক্স একটি মার্কিন বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সালের ২৯ আগস্ট মাসে রিড হ্যাস্টিংস এবং মার্ক রেন্ডোল্ফ দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের স্কটস ভ্যালি শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত সংস্থান মিডিয়া দর্শন এবং প্রয়োজন মাফিক অনলাইন।

নেটফ্লিক্স পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র এবং ছোট পর্দার ধারাবাহিক, চলচ্চিত্র পরিচালনায় সম্প্রসারিত হয়, এর সঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক অনলাইনে চলচ্চিত্রের বণ্টনও চালু করে।

নেটফ্লিক্স ২০১৩ সালে কনটেন্ট (নাটক, চলচ্চিত্র, ভিডিও) প্রযোজনা শিল্পে প্রবেশ করে।

শেয়ার করুন

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান

দেশের ৮০ শতাংশ লোককে দেয়ার জন্য টিকা কিনতে যে টাকা লাগবে, তা পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ের প্রায় সমান। সরকার এ অর্থের জোগাড়ের যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে সিংহভাগ আসবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। এ অর্থ ঋণ হিসেবে নেয়া হবে, যার কোনো কোনোটি শোধ দিতে লেগে যাবে ত্রিশ বছর।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কিনতে অর্থায়নের একটি পরিকল্পনা করেছে সরকার। দুই বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনায় টাকা কোথায় থেকে আসবে এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে করোনা প্রতিরোধে টিকা দেবে সরকার।

হিসাব কষে দেখা গেছে, এতে মোট ব্যয় হবে ৩৭০ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, এটি পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ের প্রায় সমান।

সরকার এ বিপুল অর্থের জোগান দেবে কোথা থেকে?

সরকারের পরিকল্পনায় এর সিংহভাগ আসবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। সহায়তার পরিমাণ হবে ২৯৫ কোটি ডলারের বেশি। অবশিষ্ট টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

জুলাইয়ের শেষে অর্থায়নের পরিকল্পনা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপন করেছে সরকার। কীভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, কত টিকা লাগবে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে পরিকল্পনায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক ঋণদানকারী সংস্থা কাছ এডিবির কাছ থেকে। সংস্থাটি দেবে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ডলার।

এরপর রয়েছে বাংলাদেশের অপর উন্নয়ন সহযোগী ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তারা দেবে ৫৫ কোটি ডলার। এ ছাড়া চীনের নেতৃতাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক বা এআইআইবি অর্থায়ন করছে ৫০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অপর উন্নয়ন অংশীদার জাপানের জাইকা দিচ্ছে ৩৫ কোটি ডলার। এর বাইরে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা দিচ্ছে ৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান
জাপান থেকে আসা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার চালান। ছবি: নিউজবাংলা

সব মিলিয়ে টিকা কিনতে উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সহজ শর্তে এবং কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এডিবি তাদের বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এ ঋণের সুদ হার হবে ২ শতাংশ এবং ২০ বছরে পরিশোধ যোগ্য। ‘রেসপনসিভ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচি’র আওতায় এডিবি এ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশকে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ঋণের সুদ হার ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং পরিশোধ করতে হবে ত্রিশ বছরে।

বিশ্বব্যাংকও তাদের বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। দুই ধাপে এই ঋণ দেয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়েরে এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী মাসে জাইকা ও এআইআইবি তাদের অর্থ ছাড় করবে।’

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও অর্থ ছাড় করবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে টিকার কার্যক্রমের আওতায় আনাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

সরকারের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সরকার প্রতি মাসে কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লাখ লোককে টিকা দেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৩ কোটি ৮২ লাখ লোককে টিকা দেয়া হবে।

টিকার ব্যয় পদ্মা সেতুর সমান
১২ মে চীনের উপহারের টিকা পৌঁছে ঢাকায়

অর্থাৎ দেশের ৮০ ভাগ লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে গরিব দেশগুলোর জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘কোভ্যাক্স’ এর কাছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডোজ টিকা অনুদান হিসেবে দেয়ার কথা। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ডোজ ফাইজারের টিকা।

সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের আরও বলেছে, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হওয়ায় চীন ও রাশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে দুই চালানে দেশে আসছে ৫০ লাখ টিকা। এছাড়া উপহার হিসেবে আর ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

সব মিলিয়ে চীন থেকে সিনোফার্মের ৬১ লাখ টিকা দেশে আসছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আরও ৩০ লাখ টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বাইরেও করোনা টিকা কিনতে আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সোমবার চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে করোনার টিকা কিনতে ২৬৭ কোটি টাকা অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। এ লক্ষ্য অর্জনে থোক বরাদ্দের ১০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বরাদ্দের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলে টিকা কেনার পেছনে ব্যয় করা হবে।

তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে টাকার কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যখন যা চাইবে, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে।

শেয়ার করুন