ডজকয়েন কী, কেন এত উল্লম্ফন

বাড়ছে ডজকয়েনের চাহিদা, বাড়ছে দামও। ছবি: সংগৃহীত

ডজকয়েন কী, কেন এত উল্লম্ফন

ডজকয়েন আলোচনায় আসে ইলেক্ট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের টুইটের পর। মাস্ক টুইটে ডজকয়েনের কথা উল্লেখ চন্দ্রাভিযানে মুদ্রাটিকে সঙ্গী করার কথা বলার পর হু হু করে বাড়তে থাকে এর দাম।

কয়েক বছর আগেও কাগজে ছাপানো নোট ছাড়া বিকল্প মুদ্রাব্যবস্থা ছিল না। সেখানে এলো অনলাইনে অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা। সেটাকেও এখন ছাড়িয়ে বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে বিশ্বে এখন সবচেয়ে দামি ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন। কিন্তু হঠাৎ করেই বিটকয়েনের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে আরেকটি নাম ডজকয়েন

ডজকয়েন আলোচনায় আসে ইলেক্ট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের টুইটের পর। মাস্ক টুইটে ডজকয়েনের কথা উল্লেখ চন্দ্রাভিযানে মুদ্রাটিকে সঙ্গী করার কথা বলার পর হু হু করে বাড়তে থাকে এর দাম।

কয়েনডেস্ক জানায়, সোমবার দিন শেষে শেয়ারবাজারে দিন শেষে করেছে যখন তখণ ডজকয়েনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ০.৩২ ডলার।

ডজকয়েন কী

এখন ক্রিপ্টোকারেন্সির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ডজকয়েন। বিটকয়েনের মতোই আরেকটি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো এই ডজকয়েন।

ডজকয়েন চালু হয় ভিন্নধরনের এক ধারণা থেকে। ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ডজকয়েনের যাত্রা শুরু দুজন প্রকৌশলীর হাত ধরে। চালুর এক মাসের মধ্যে ডজকয়েন ডটকম ওয়েবসাইটে দশ লাখের বেশি ভিজিটর ভিজিট করেন।

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএমের দুজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিলি মার্কস ও জ্যাকসন পালমার ডজকয়েন নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে ডজকয়েন আনতে চাননি; চেয়েছিলেন একটা বিনামূল্যে অর্থ লেনদেন বা পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করবেন।

ডজকয়েন কী, কেন এত উল্লম্ফন
ডজকয়েন দিয়ে চন্দ্রাভিযান করার ঘোষণা দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

তারা কাজ শুরু করেন এমন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে যেখানে থাকবে না প্রথাগত ব্যাংক লেনদেনের ঝামেলা। কাজ শুরু করেন সেই লক্ষেই। কিন্তু ভাগ্য হয়তো ভিন্ন কিছুতেই তাদের টানছিল বলে পেমেন্ট সিস্টেম না হয়ে হয়ে যায় ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা।

বিটকয়েনের মতোই ডজকয়েনও মাইনিং করতে হয় শক্তিশালী কম্পিউটারে। তবে বিটকয়েনের মতো অতো কঠিন পক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না ডজকয়েনের ক্ষেত্রে।

যেভাবে নামকরণ

একটা মজার বিষয় থেকেই ডজকয়েনের নামকরণ করেছেন দুই প্রকৌশলী। সে সময় ইন্টারনেটে শিবা ইনু নামের একটি কুকুরের মুখের মিম খুব জনপ্রিয় হয়। পরে সেই কুকুরের মুখকেই ডিজিটাল কয়েনটির লোগো হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন বিলি ও জ্যাকসন।

ইলন মাস্ক ও ডজকয়েন

ডজকয়েন বাজারে থাকলেও তা নিয়ে আলোচনা তেমন ছিল না। ইলেক্ট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম টুইট করেন ডজকয়েন নিয়ে।

প্রথম টুইটের পরেই ডজকয়েনের দাম বাড়ে ৭৫ শতাংশ। সে সময় ডজকয়েনের বাজার মূলধন ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়; সেটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

সেই মূল্যবৃদ্ধির পর ডজকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে শীর্ষ পাঁচে উঠে আসে।

পরে ৪ মে বিস্ময় ঘটায় ডজকয়েন। এদিন প্রথমবারের মতো এক বছরে ২০ হাজার শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বিটকয়েন ০.৫০ ডলারে দাঁড়ায়।

৮ মে হঠাৎ করেই মূল্য হারায় ডজকয়েন। এর পিছনেও ছিলেন ইলন মাস্ক। তিনি ঘোষণা দেন, ডোজকয়েন নিয়ে লাইভে আসবেন রাতে। লাইভ চলার সময় ৪৫ মিনিটে ডজকয়েনের দাম ৩৪ শতাংশ পড়ে যায়।

পরের দিন সকালে ডজকয়েনের মূল্য হারায় ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর এতে মোট ৩৫ বিলিয়ন ডলার কমে যায় ডজকয়েনের মূল্য।

এ মাসেই ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনা। ইলন মাস্ক ঘোষণা দেন, তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স চাঁদে অভিযান শুরু করবে, যেখানে তাদের সঙ্গী হবে ডজকয়েন। অর্থাৎ সেই চন্দ্রাভিযানের ব্যয় বহন হবে ডজকয়েনে।

সেই ঘোষণাতেই বাজিমাত। হু হু করে বাড়তে থাকে ডজকয়েনের দাম।

ইলন মাস্ক এর আগে একবার সংবাদমাধ্যম টিএমজিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মজার ছলেই ডজকয়েনের উদ্ভাবন। অনেক সময় ভাগ্য বিদ্রূপ ভালোবাসে। সেটার ফলও যে সবসময় বিদ্রুপাত্মক হয় তা নয়, ডজকয়েন মজার ছলে তৈরি হলেও তা এখন আকাশছোঁয়া মূল্যে পরিণত হয়েছে।’

গত জানুয়ারিতে বিটকয়েনে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন টেসলাপ্রধান মাস্ক। পরের মাসে ঘোষণা আসে, টেসলার গাড়ি বিক্রি হবে বিটকয়েনে।

ওই ঘোষণার পরই তরতর করে বেড়ে যায় বিটকয়েনের মূল্য। ১৪ এপ্রিল প্রায় ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়ায় বিটকয়েনের মূল্য। অবশ্য এর এক মাস পরেই সিদ্ধান্ত বদলান মাস্ক। জানান, পরিবেশের কথা চিন্তা করে বিটকয়েনে টেসলার গাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে তার প্রতিষ্ঠান।

ঘোষণার পরই পড়তে থাকে বিটকয়েনের দর। তার মধ্যেই চীন জানায়, তারাও বিটকয়েন লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করছে। এরপরও ব্যাপক পতন হয় বিটকয়েনের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ হাজার ডলার থেকে প্রতি বিটকয়েনের মূল্য কমে দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ডলারে।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ

করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে সরকার। সোমবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গীকার। বিআরডিবি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ৩০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

রাজধানীর কারওরান বাজারে পল্লী ভবনে ফরিদপুরের পাঁচ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকার চেক দিয়ে সোমবার এ ঋণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প‍্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) মোট ৩০০ কোটি টাকা ঋণ তহবিল বরাদ্দ পেয়েছে। ৪ শতাংশ সরল সুদে দুই বছর মেয়াদে এই ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে দ্রুত স্বাভাবিক করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্নয়ন কাজ অব‍্যাহত রয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত নারী পল্লী উদ্যোক্তাদের এ প্রণোদনা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গীকার। বিআরডিবি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে।’

বিআরডিবির মহাপরিচালক সুপ্রিয় কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রেজাউল আহসান। অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জের, প্রস্তুত হোন: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এফবিসিসিআই-এর নবনির্বাচিত নেতারা সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ আসবে। এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সচিবালয়ে সোমবার এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত পরিষদের ৪৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করতে এলে বাণিজ্যমন্ত্রী এই পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে টিপু মুনশি বলেন, এলডিসিসি উত্তরণের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সেক্টরভিত্তিক সাবকমিটি গঠন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি থাকবে। গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে এফবিসিসিআইকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যসুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আরও তৎপর থাকতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের আইসিটি, লেদার, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। সরকার এসব খাতে রপ্তানি বাণিজ্য দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এখানেও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী অর্থবছর আমরা ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে চাই। এ জন্য দেশের রপ্তানিকারকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানায় এফবিসিসিআই। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও আলোচনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এম এ মোমেন, মো. আমীন হেলালী, সালাহউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবিব উল্লাহ ডন এবং এম এ রাজ্জাক খানসহ সংগঠনের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সুযোগ দিতে হবে, অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এফবিসিসিআই, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করার কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বাণিজ্য সংগঠনের কিছু নীতিমালা সংস্কার করার কথা জানান। এফবিসিসিআই ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করেন।

এছাড়া, সভায় ই-কমার্স, আইসিটি, শিপিং কস্ট, ঘরে ঘরে উদ্যেক্তা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা। তারা ব্যবসাবান্ধব পলিসি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের

খুলনায় কেপিসিএলের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএলের দু্টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে শেয়ারধারীদের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা, তার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

উৎকণ্ঠার কারণ ছিল, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর অনুমোদন করবে না। আর এই নীতিতে অটল থাকলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারত।

কেপিসিএলের এই অনিশ্চয়তা নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও তৎপর হয়। কেন্দ্রগুলোকে যেন বিশেষ বিচেনায় অনুমোদন দেয়া হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে সুপারিশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেন সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

নিউজবাংলা গত ১৯ মে বিশেষ শর্তে কেপিসিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ ছিল, বাড়তি মেয়াদে তারা কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ, অর্থাৎ বিদ্যুৎ কেনা না হলে সরকার কেন্দ্র বসিয়ে রেখে যে অর্থ দেয়, সেটি দেবে না।

পরে বিএসইসি চেয়ারম্যান নিজেও নিউজবাংলাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছিল না। আর এ কারণে শেয়ার মূল্যও ক্রমেই কমছিল।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

তবে মন্ত্রণালয় থেকে ফিরতি চিঠি এসেছে কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে কবে থেকে কেন্দ্রগুলো আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে এসএসএস পাঠিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি জবাব দেননি।

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও বিষয়টি জানেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যে পাওয়ার প্লান্টগুলো আছে সেগুলো যে অনুমোদন হয় সেদিকে আমরা শুরু থেকেই নজর রাখছি। প্লান্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীগের স্বার্থে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হতে যাওয়া প্লান্টগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম।’

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন কেপিসিএল অনুমোদন পাবে

সম্প্রতি নিউজবাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সরকারের সাথে একটু নেগোসিয়েশন পর্যায়ে আছি। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট-এ রকম একটা ব্যবস্থাপনায়। এটা হলে লিস্টেড কোম্পানিগুলো কিছুটা বেনিফিট পাবে। তাদের যতটুকু বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ততটুকুর জন্য পেমেন্ট পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎকে এ ধরনের কোম্পানি অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে অংক কষে নেব। যেন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অগ্রগতি জানতে কোম্পানি সচিব আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে কথা হয় কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সোহরাব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে পত্রিকা পড়ে জেনেছি। পত্রিকায় সংবাদ যেহেতু এসেছে, নিশ্চয় এর একটি গ্রাউন্ড আছে। শুধু শুধু তো আর নিউজ হয় না।’

কেপিসিএল ছাড়াও অনুমোদন পাচ্ছে আরও কয়েকটি

এই সুবিধা কেপিসিএল ছাড়াও সামিট পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মার সাবসিডিয়ারি ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট ও ডাচ বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড এসোসিয়েটসও পাচ্ছে।

এর সামিট পাওয়ারের ১০২ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে গত ৩১ মার্চ। আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বছরের শেষে। তবে এই দুটি একেবারেই ছোট কেন্দ্র। একটি সাড়ে ১৩ মেগাওয়াটের, একটি ২৪.৩০ মেগাওয়াটের।

এ ছাড়াও ওরিয়ন ইনফিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে আগামী ২০ জুলাই। মধ্যে ডাচ বাংলা পাওয়ারের মেয়াদ শেষ হবে জুলাই মাসে।

বিএসইসি চেষ্টা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি কেপিসিএল-এর দুটি প্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ থেকেই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত ২৩ মার্চ বিএসইসি কার্যালয়ে ডাকা হয় কেপিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তারা বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর গত ১৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানকে চিঠি দেয় বিএসইসি। এতে দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে কেপিসিএল যে আবেদন করেছে, সেদিক বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজার থেকে বিভিন্ন সময় মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
খুলনায় কেপিসিএলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

এ পরিস্থিতিতে খুলনা পাওয়ার কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অর্থ লভ্যাংশ থেকে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত আসেনি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কমিশন উদ্বিগ্ন। তাই কেপিসিএলসহ অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির পিপিএ চুক্তি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য অনুরোধ করে কমিশন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও। তার বক্তব্য শুনে তিনি মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। আর তিনিই বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ‘নো পে নো ইলেকট্রিসিটির’ ভিত্তিতে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান।

কেপিসিএল আদ্যোপান্ত

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয় গড়ে ২১১ টাকায়। এটি যে মেয়াদী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধারণা ছিল না।

কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মোট তিনটি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে।

এরপর থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে লভ্যাংশ পেয়ে আসছে বিনিয়োগকারীরা। এই দুটির মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১ এর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। আর ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

গত ২০ মে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে।’

মেয়াদ শেষে কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চেষ্টা তদবিরের কতটা আগাল, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আর উৎকণ্ঠার কারণ নেই কেপিসিএলের শেয়ারধারীদের
কেপিসিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র

তিনটি কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কোম্পানির মালিকানায় এখন আছে কেবল সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা।

পটুয়াখালী জেলার খলিসাখালী এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনবে আগামী ১৫ বছর। এটি উৎপাদন শুরু করেছে গত ১৮ জানুয়ারি।

গত ৩১ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯.২ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২০.৫১ শতাংশ শেয়ার। আর দশমিক ৩০ শতাংশ আছে বিদেশীদের হাতে।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

জাপানে টয়োটা গাড়ির কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের এমন আগ্রহে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণে মুভমেন্ট হচ্ছে, কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে আমরা শুধু ইমপোর্ট করব, সেটা না। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরও কিছু ডেভেলপ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি করতে চায় জাপান। দেশটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশে অটোমোবাইল শিল্পে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জন, উৎপাদন এবং এ শিল্পের বিকাশে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। তাই শিল্প মন্ত্রণালয়ের আনা ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২১’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভা বৈঠক। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশে গাড়ি উৎপাদনের বিষয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত একটা প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘তারা জাপানের একটা বিখ্যাত কোম্পানির গাড়ি এখানেই প্রডিউস করতে চান।’

জাপানের এমন আগ্রহে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণে মুভমেন্ট হচ্ছে, কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে আমরা শুধু ইমপোর্ট করব, সেটা না। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরও কিছু ডেভেলপ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

ইতিমধ্যে এ খাতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘অনেক কিছু অলরেডি চালু আছে। সেটাকে সিস্টেমেটিক ওয়েতে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সে জন্য তারা (শিল্প মন্ত্রণালয়) এই অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে আসছে।’

নীতিমালার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘অটোমোবাইল, যন্ত্র উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশীয় শিল্পকে বিকশিত করা। স্থানীয় অটোমোবাইলের উৎপাদনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগ সুযোগ বৃদ্ধি করা। যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের মডেল ও গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ হয়।’

স্থানীয় ডিজাইন তৈরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলাকৌশলের উৎকর্ষতা অর্জনে অটোমোবাইল খাতে গবেষণা ও উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ

রাষ্ট্রায়াত্ব রূপালী ব্যাংকের কার্যালয়

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

গত তিন কার্যদিবসে ৩১ শতাংশ দর বৃদ্ধির মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব একমাত্র ব্যাংক রূপালীর লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভার তারিখ জানানো হলো।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে আগামী সোমবার লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা করবে ব্যাংকটি।

এখন কেবল ন্যাশনাল ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাকি আছে।

এরই মধ্যে ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে একটি কেবল বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও একটি ব্যাংক আজ রাতেই সভা করবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ক্লোজিং বা আর্থবছর শেষে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড সভার করার নিয়ম থাকলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও এক মাস বাড়তি সময় দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ফলে নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যে ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের কোম্পানিগুলোর অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সভায় লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে।

ব্যাংকটির ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে তা এখনও বিতরণ করতে পারেনি। তারপরও দর বৃদ্ধি থেমে নেই ব্যাংকটির। পর পর তিন দিন ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সোমবার ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা।

এই দামে হাতবদল হয় মোট চার লাখ ৭ হাজার ৫১টি শেয়ার। লেনদেন ছিল এক কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার টাকা।

গত ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা প্রত্যাহারের দিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা ৪০ পয়সা।

৪ মে এক পর্যায়ে দাম কমে ২২ টাকা ১০ পয়সা। সেদিন থেকেই দাম বাড়তে থাকে।

তবে ২৭ মে ৩১ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পর ব্যাংক খাতে যে দর সংশোধন শুরু হয়, তাতে পড়ে যায় রূপালী ব্যাংক। এক পর্যায়ে ৯ জুন দাম কমে হয়ে যায় ২৮ টাকা।

১০ জুন ২ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ার সুযোগ থাকলেও বাড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা। অথচ সেদিন ব্যাংক খাতের প্রায় সব কটি কোম্পানি দর হারায়।

উল্লম্ফনের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ
গত তিন কার্যদিবসে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

আর রোববার ব্যাংক খাতের ৩১টি কোম্পানির দর হারানোর মধ্যে উজ্জ্বল ছিল রূপালী ব্যাংকই। আর সোমবার এ খাতের ২০টি ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়লেও রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

সেদিনও কেবল একটি দাম ৩৩ টাকা ৭০ পয়সায় পাঁচ লাখেরও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়।

ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর তিনি ইতোমধ্যে কাজে যোগদান করেছেন। যোগদান করেই বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করেছেন। রূপালী ব্যাংককে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হঠাৎ আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ চেয়ারম্যান যোগদান করার পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা।

গত বছর ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেও তা দিতে পারেনি ব্যাংকটি। এবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতিমালার কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলে একটি অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এর পর থেকেই ব্যাংকটির শেয়ার দর হারাতে থাকে।

তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশ ঘোষণায় এবার কোনো বাধা নেই।

গত ১ এপ্রিল ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দুই মাসের মতো শূন্য ছিল পদনি। ৩০ মে নিয়োগ দেয়া হয় হাজী সানাউল হককে। তিনি কাজে যোগ দেন দুই এক দিন পর। লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ে চেয়ারম্যানের পদ ফাঁকা থাকার কারণেই মূলত এই বিলম্ব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

৪৩ টাকা ভ্যাট দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

৪৩ টাকা দিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রামের নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের নাসির উদ্দিন।

আগ্রাবাদে সৈকত সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) লটারি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন।

গত ২৯ মে নগরের হোটেল গোল্ডেন ইনে অবস্থান করেন নাসির উদ্দিন। তখন ৫০০ টাকা রুম ভাড়ার সঙ্গে ৪৩ টাকা ভ্যাট দেন তিনি।

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘হোটেল গোল্ডেন ইনের একজন গ্রাহক পুরস্কার জিতেছেন। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই ভ্যাটদাতারা ইএফডি চালান সংরক্ষণ করে সবাই পুরস্কার জিতুক।’

ভ্যাট কমিশনার বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ভ্যাট দেয়া। ইএফডি চালান পেলেই বুঝবেন ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।’

এবার চট্টগ্রামে ১৬ জন পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে আগ্রাবাদ ডিভিশন থেকে ১৩ জন, চান্দগাঁও একজন, পটিয়া একজন, চট্টলা থেকে একজন পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন

মুজিববর্ষে জামানাতহীন ঋণ ৯০১ কোটি টাকা

মুজিববর্ষে জামানাতহীন ঋণ ৯০১ কোটি টাকা

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ জন বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু যুবঋণ কার্যক্রমের আওতায় জামানতবিহীন ৯০১ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হাবিব হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ জন বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবকদের জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ৩১ হাজার ৩৯ ঋণগ্রহীতাকে ৮ হাজার ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিটকয়েনের মূল্য কমছেই
চীনের সতর্কতায় বড় পতনে সপ্তাহ পার করল বিটকয়েন
চীনের নিষেধাজ্ঞায় বিটকয়েনে বড় পতন
বিটকয়েনে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ
বিটকয়েনে গাড়ি বেচবে না টেসলা

শেয়ার করুন