কোথায় যায় রিজার্ভের স্বর্ণ?

কোথায় যায় রিজার্ভের স্বর্ণ?

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে স্থায়ী ও অস্থায়ী খাত মিলে স্বর্ণের মজুত আছে প্রায় ৩ হাজার কেজি। এর মধ্যে অস্থায়ী খাতে ২ হাজার ৮৫০ কেজি ও স্থায়ী খাতে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫০ কেজি।

স্বর্ণ বা সোনা। মূল্যবান এই ধাতু শুধু নারীর অলংকার হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না, লেনদেনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টকে সমৃদ্ধ করে এই ধাতু। প্রশ্ন হচ্ছে: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে কোথা থেকে আসে স্বর্ণ? কোথায় যায়?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ জানায়, শুধু চোরাচালানে জব্দ স্বর্ণই দেশের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভল্টে জায়গা করে নেয়, যা নানা সময়ে স্বর্ণ বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেও স্বর্ণ কেনে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সহসভাপতি দেওয়ান আমিরুল ইসলাম জানান, একটা সময়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রধান উৎস ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের স্বর্ণ। এখন কালেভাদ্রে এই স্বর্ণ বিক্রি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আটক করা স্বর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে তা ভল্টে জমা হয়। এরপর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো ভল্টেই থাকে। মামলা নিষ্পত্তির পর সরকারি এজেন্সির মাধ্যমে এটা নিলাম করে বিক্রি করা টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি চায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক বাজারদরে কিনে নিতে পারে। কেনার পর সেই স্বর্ণ তখন রিজার্ভে জমা হয়।’

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে বাইরে থেকে কিছু স্বর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছিল। দাম বাড়ার পরে কিছু বিক্রিও করেছে। তবে বর্তমানে স্বর্ণ কেনার প্রয়োজন নেই।

স্বর্ণের বৈধ উৎস বাংলাদেশ ব্যাংক

কাস্টমস বা অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নানা সময়ে চোরাচালান বা চুরি-ডাকাতির স্বর্ণ আটক করে। সেগুলো আদালতের নির্দেশক্রমে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আদালতের নির্দেশে মামলার আলামত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় স্বর্ণ। মামলা নিষ্পত্তি শেষে আদালতের আদেশে নির্ধারণ হয় সেটার ভাগ্য।

গচ্ছিত স্বর্ণ কী করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উদ্ধার করা স্বর্ণ মামলার রায় দাবিদারের পক্ষে গেলে তা পাওনাদারকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর যদি দাবিদার খুঁজে না পাওয়া যায়, সেটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন সেটি বিক্রি করে তার অর্থ নিয়ে নেয় সরকার।

তবে, রাষ্ট্রের অনুকূলে যেসব স্বর্ণ আসে, আর তা যদি বার আকারে থাকে, তবে সেই স্বর্ণ কিনে নিতে পারে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে খাঁটি স্বর্ণ হতে হবে। ক্রয়কৃত অর্থ সরকারকে দিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর আদালতে নিষ্পত্তি হয় না যে স্বর্ণ, সেগুলো অস্থায়ীভাবে জমা থাকে।

অস্থায়ী খাতের স্বর্ণে লাভ নেই

ভল্টে স্বর্ণ রাখার কাজটি করলেও এর থেকে কোনো লাভ পায় না বাংলাদেশ ব্যাংক। স্থায়ী খাতে নেয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণ পরীক্ষা করা, ওজন করা এবং এর হিসাব নিয়মিত লেজারে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খরচ ছাড়া কোনো লাভ নেই।

মামলা নিষ্পত্তি শেষে ওই স্বর্ণের আর্থিক মূল্য কাস্টমসের হাতে তুলে দেয়া হয়, যা তাদের কমিশন আয় খাতে দেখানো হয়। পরবর্তী সময় সেটা কাস্টমসের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ মামলার আলামত হিসেবে বছরের পর বছর ভল্টেই পড়ে থাকছে।

কখন স্বর্ণ বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক?

বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় স্বর্ণ বিক্রি করে না। তবে যখন বিক্রি করা হয় অলংকার ব্যবসায়ীরা তখনই তা লুফে নেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে নিলামের (অকশন) মাধ্যমে ২০ কেজির বেশি স্বর্ণ বিক্রি হয়। এরপর ১৩ বছর কেটে গেলেও আর বিক্রি করা হয়নি। বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতাকে বাজারমূল্য দিতে হয়। পাশাপাশি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা অন্যান্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়।

ভল্টে স্বর্ণের মজুত

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে স্থায়ী ও অস্থায়ী খাত মিলে স্বর্ণের মজুত আছে প্রায় ৩ হাজার কেজি। এর মধ্যে অস্থায়ী খাতে ২ হাজার ৮৫০ কেজি ও স্থায়ী খাতে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫০ কেজি।

স্বর্ণ বিক্রি করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভল্টে রাখা স্বর্ণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রি করা হবে। এ জন্য প্রক্রিয়াগত দিকগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

স্বর্ণের স্বল্প মজুত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিক্রির উদ্যোগ নেয় না। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুতের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত স্বর্ণ বিক্রির উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে এত দীর্ঘ সময় স্বর্ণ বিক্রি বন্ধ ছিল না।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘যৌথ প্রয়াসে গড়া হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি’

‘যৌথ প্রয়াসে গড়া হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: সংগৃহীত

পলক বলেন, ‘‘২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার আইটি শিল্পের জন্য ‘মিশন ৫ বিলিয়ন ডলার’ শীর্ষক প্রবৃদ্ধিকৌশল প্রণয়ন করেছে। সরকার বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়াকে সঙ্গে নিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন চায়।’’

সরকারি-বেসরকারি ও একাডেমিয়ার সম্মিলিত প্রয়াসে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আইসিটি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এলআইসিটি প্রকল্প ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের জন্য তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনীতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এরই মধ্যে দেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলার অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই আয় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি।

পলক বলেন, ‘‘২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার আইটি শিল্পের জন্য ‘মিশন ৫ বিলিয়ন ডলার’ শীর্ষক প্রবৃদ্ধিকৌশল প্রণয়ন করেছে। সরকার বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়াকে সঙ্গে নিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন চায়।’’

এ জন্য তিনি আইটি প্রতিষ্ঠানের সিইওদের যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

জোনায়েদ আহমেদ পলক জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সামনে রেখে বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে। দেশেই ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনে মেড ইন বাংলাদেশ-আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাটেজির খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

পলক বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত প্রয়াস ও সহযোগিতার কারণেই করোনাকালেও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে।

‘২০২০ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার জন্য পেমেন্ট সিস্টেমের ডিজিটাইজেশন করেছে, যা মোবাইল আর্থিক সেবা ও ই-কমার্সের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটায়। ২০২১ সালের এপ্রিলে মোবাইলে লেনদেন হয় ৬৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ১৬৬ শতাংশ।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে সরকারের সকল সেবা ডিজিটালাইজেশন করা হবে। এর মধ্যে ৭ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৬০ লাখ মানুষকে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে।’

এলআইসিটি প্রকল্পের আইটি-আইটিইএস পলিসি অ্যাডভাইজার সামি আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, অধ্যাপক শেখ মোরশেদ জাহান, বাক্কোর পরিচালক রাশেদ নোমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাত আনোয়ার।

দেশের আইটি প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

পরে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ফরহাত আনোয়ার সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধনের পর এক মাসের কম সময়ে ট্রেনটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি আম পরিবহন করেছে।

রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

জেলার রেলস্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ মে এই ম্যাঙ্গো ট্রেন উদ্বোধন করেন। গত ২১ জুন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এই ট্রেনের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ (৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি) আম পরিবহন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দিনে। গত বছর গোটা আম মৌসুমে ট্রেনে আম গিয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭২ কেজি।

তিনি মনে করেন, খরচ কম হওয়ায় ট্রেনে আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে বাগানমালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের।

উদ্বোধনের পর থেকেই সপ্তাহের সাত দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। প্রথম দিন ৯৬০ কেজি আম নিয়ে যাত্রা করলেও দিন যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে পরিমাণ।

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে বুকিং দিতে রেলস্টেশনে এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অনুপনগর গ্রামের নাঈম আলী। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে আম সরবরাহ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে নাঈম বলেন, ‘আমি এক ক্যারেট (২৫ কেজি) আম পাঠালাম (ঢাকায়) ৫০ টাকায়। যেখানে কুরিয়ারে এক কেজি আমেই লাগত ১২ টাকা। ট্রেনের আরেকটা সুবিধা হলো, পরের দিনই আম পৌঁছে যাচ্ছে। সেখানে কুরিয়ারে অনেক সময় দুই-তিন লেগে যায়। অনেক সময় আম পচেও যায়। অন্যদিকে ট্রেনে আম খুব সুন্দর থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আম পৌঁছানোর পর স্টেশন থেকে গ্রাহককে ফোন করে খবরটা জানানো হলে আরও ভালো হতো। ঠিক যেমন কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রে হয়।’

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা


স্পেশাল ট্রেনে আম বুকিং দিতে এসেছিলেন সাহাদাত হোসেন নামে সদর উপজেলার আরেক লোক। তিনি ঢাকায় মামার বাসায় আম পাঠাতে চান।

নিউজবাংলাকে সাহাদত বলেন, ‘কোনো কোনো কুরিয়ারে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে ১৫ টাকা লেগে যায়। অন্যদিকে ট্রেনে কুলি খরচসহ দুই টাকাতেই আম পাঠাতে পারছি। ট্রেনে বেশি সুবিধা, তাই ট্রেনেই পাঠাচ্ছি। এর আগেও একবার ১০ মণ আম পাঠিয়েছি।’

করোনার কারণে অনেক দিন রেলসেবা বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন কুলি, মজুর ও শ্রমিকরা। ম্যাঙ্গো ট্রেনের কারণে কাজ ফিরে পাওয়ায় তারাও এখন বেশ খুশি।

রেলস্টেশনে প্রায় ৩৬ বছর ধরে কুলির কাজ করেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কোনো কাজ ছিল না। ম্যাঙ্গো ট্রেন চালু হওয়ায় কাজের সুযোগ হয়্যাছে, হ্যামরা খুশি… এ্যাতে খুশি, আল্লাহ আছে, আলহামদুল্লিহ, ভালো আছি।’

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহনের সুযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম ১ টাকা ৩০ পয়সায় পরিবহনের সুযোগ এখানকার আমচাষিরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, সারা বছরই এ সেবা অব্যাহত রাখবে রেলওয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাল্টা, পেয়ারাসহ অন্য কৃষি পণ্য পরিবহনে সারা বছরই এমন সেবা চালু থাকলে উপকৃত হবে কৃষি খাত।’

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

হালাল ফুড: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী ঢাকা

হালাল ফুড: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী ঢাকা

‘বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা হালাল ফুড উৎপাদনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের সাথে কাজ করতে পারে। মিউচুয়াল রিকগনিশন, সার্টিফিকেশন এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

হালাল ফুড রপ্তানিতে সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নেবে বাংলাদেশ। দেশটির নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা দেশের হালাল ফুড উৎপাদনে আরো সহায়ক হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদনে সিঙ্গাপুরের সাথে যৌথভাবে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ‘স্পট লাইট বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই আগ্রহের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ভার্চু্য়ালি যোগ দেন সিঙ্গাপুরের ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড মিনিস্টার ইন চার্জ অফ ট্রেড রিলেশনস এস. ইসওয়ারান।

ওয়েবিনারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের ট্রেড রিলেশনস মিনিস্টারও বাংলাদেশে যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাই কমিশন ইন সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে কাজ করছে। বিশ্ববাজারে হালাল ফুডের একটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে প্রায় ২.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের হালাল পণ্যের বাজার সৃষ্টি হতে পারে।

‘বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা হালাল ফুড উৎপাদনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের সাথে কাজ করতে পারে। মিউচুয়াল রিকগনিশন, সার্টিফিকেশন এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ সফল করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পেপারলেস ট্রেডে সক্ষমতা অর্জন করছে। এ জন্য বাংলাদেশ ইউএনএস্ক্যাপ এ চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করছে।

তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে দক্ষতা অর্জন করে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের এর মতো বাণিজ্য চুক্তি করে বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর এ ধরনের অনেক বাণিজ্যচুক্তি করেছে, তাই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এতে করে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সময় নেগোসিয়েশনে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

টিপু মুনশি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্সে বিশ্বে যে ২০ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ তার একটি।

বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি বলেও মনে করেন মন্ত্রী। বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আমদানি ও রপ্তানি অফিস, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এর অফিস, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সেবা প্রদান ডিজিটাল করা হয়েছে, সেখানে অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আমদানি রপ্তানি সহজ করতে ন্যাশনাল সিংগেল উইনন্ডোজ চালু করেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে নৌ ও আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়েছে। পটুয়াখালীতে নতুন সমুদ্র বন্দর চালু হয়েছে, মোংলা সমুদ্র বন্দরকে আধুনিক করা হয়েছে, চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামের মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এসবিএফ দক্ষিণ এশিয়া বিজনেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান প্রসন মুখার্জি, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আয়সা আজিজ খান, সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মিডিল ইস্ট পিএসএ-এর রিজিওনাল সিইও ওয়ান সি ফং, মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে এর বোর্ড মেম্বার আসিফ ইকবাল, গ্রামীণ ফোন এক্সেলেটর এর প্রধান মিনহাজ আনোয়ার।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

কোম্পানি আইন আরও সংশোধনের দাবি

কোম্পানি আইন আরও সংশোধনের দাবি

আইসিএবি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈশ্বিক সূচকে এবং বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান কোম্পানি আইন আরও সংশোধন এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসকে (আরজেএসসি) পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এ দাবি জানান বক্তরা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের পরিবেশের উন্নতির জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সভায় বক্তরা বলেন, বাংলাদেশের অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট স্বচ্ছ নয়। আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে অডিট রিপোর্ট অবশ্যই স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।

এ জন্য আন্তর্জাতিক নিরীক্ষণ স্ট্যান্ডার্ড (আইএসএ) এর মাধ্যমে অডিট রিপোর্ট নিরীক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভায় অডিটরদের ন্যূনতম নিরীক্ষা ফি নির্ধারণের পক্ষে মত দেয় আইসিএবি।

‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বাণিজ্য সচিব তপন ঘোষ প্রধান অতিথি ছিলেন। স্নেহাশীষ বড়ুয়া এফসিএ ও আইনজীবী তানজিব-উল আলম যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আরজেএসসি-এর ভারপ্রাপ্ত নিবন্ধক এএইচএম আহসান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) পরিচালক জীবনকৃষ্ণ সাহা রায়, এমসিসিআই-এর সভাপতি ব্যারিস্টার নীহাদ কবির, বাংলাদেশের পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট, বাণিজ্যিক ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং-এর প্রধান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক। আইসিএবির সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির এফসিএ, অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

আইসিএবির বর্তমান সভাপতি মাহমুদুল হাসান খুসরু এফসিএ বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কোম্পানি আইন আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই আইনের কিছু বিধান সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা যেতে পারে। এটা করা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও আকর্ষণ করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে উন্নত হবে ব্যবসার পরিবেশ।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

ব্যবসায় দরকার উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার

ব্যবসায় দরকার উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে শ্রম ব্যয় বেড়ে যাবে। যেখানে সস্তায় পণ্য তৈরি হবে, ক্রেতারা যেখানেই চলে যাবে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশে এখনও ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির বেশি প্রতিষ্ঠান হাতে লেখা ডকুমেন্ট ব্যবহার করে। আর তিন-চতুর্থাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও হাতে-কলমে পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করে থাকে।

বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘গিয়ারিং আপ ফর দি ফিউচার অফ ম্যানুফ্যাকচারিং ইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে এ হতাশাজনক তথ্য বের হয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে অর্থনৈকি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যের পেছনে তৈরি পোশাক খাতের বড় অবদান রয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে এই শিল্প থেকে। ৪০ লাখ শস্তা শ্রমিকের কারণে এই খাত সারা বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক হতে সক্ষম হয়েছে।

তবে অগ্রগতির এই চিত্র চিরকাল টিকে থাকবে এমনটি বলা যায় না। বাংলাদেশ একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে শ্রম ব্যয় বেড়ে যাবে। যেখানে শস্তায় পণ্য তৈরি হবে, ক্রেতারা যেখানেই চলে যাবে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়তে পারে দেশটি। মোট কথা, উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যহত হবে।

‘বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির এই সঙ্কটকালে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য উৎপাদন খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়তেই হবে। আর এ জন্য বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই’ – বলা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে আরও বলা হয়, দক্ষ ম্যানেজার, ডিজাইনার ও অন্যান্য কারিগরি বিশেষজ্ঞের অভাব বাংলাদেশের আবেদনকে আরও সীমিত করে তুলবে। কোভিড-১৯ এই চিত্রকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

‘তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ কী করতে পারে’- এমন প্রশ্ন রেখে প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কম পারিশ্রমিকে প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণের পরিবর্তে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। সমগ্র উৎপাদন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আরও জ্বালানি সাশ্রয়ী মেশিন ব্যবাহরসহ উন্নত শিল্পপ্রযুক্তি ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবে শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। ব্যবসায় পরিচালনায় মান বাড়াতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এখনও দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টির বেশি প্রতিষ্ঠান হাতে লেখা ডকুমেন্ট ব্যবহার করে। তিন-চতুর্থাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো হাতে কলমে গুণগতমান পরীক্ষা করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই আরও উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। যেমন, আরও ভালো পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা এবং প্রণোদনা ব্যবহার করা। কিন্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই মনে করে না যে, তাদের উন্নয়নের দরকার আছে। অন্যরা জানেই না কিভাবে উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সহায়তা করতে পারে। নতুন নীতিমালা তিনটি ‘স’কে উন্নত করতে পারে- সামর্থ্য, সংযোগ এবং সম্পূরক বাজার।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য

বাংলাদেশে ম্যানেজারদের স্নাতক ডিগ্রি থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহার ১০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু যারা ব্যবসায় চালাচ্ছেন, তাদের অর্ধেকেরই স্নাতক ডিগ্রি নেই। নীতিমালায় অবশ্যই শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি সমর্থন থাকতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবশ্যই সাশ্রয়ী পরামর্শ সেবা পেতে এবং প্রাপ্ত সাধ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে সরকারকে সাহায্য করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ

যেসব প্রতিষ্ঠান বহুজাতিক সংস্থার সাথে কাজ করে, তারা স্থানীয় প্রর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রতিযোগিতার কারণেই নতুন হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কিনে থাকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের উপর বিধিনিষেধ অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে। তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও অবশ্যই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দিতে হবে। আমদানি প্রতিযোগিতা থেকে লাভবান হতে স্পেশাল বন্ডেড ওয়্যার হাউজ ব্যবহারের সুবিধা দিতে হবে, যা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সম্পূরক বাজার

প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রধান বাধা হিসাবে ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকই অর্থায়নের অভাবকে দায়ি করে থাকে। নিয়মকানুন বিধিমালা মেনে চলার খরচ সম্পর্কেও তারা চিন্তিত। প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজে তাদের প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণের জন্য ঋণ পেতে পারে সে জন্য সরকারকে আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসা সংক্রান্ত বিধি-নিয়মের অপ্রয়োজীয়ন খরচ কমাতে হবে।

এই তিনটি ‘স’ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী এবং স্থানীয়ভাবে উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু করবে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারবে। বাংলাদেশের উৎপাদন খাত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক খাত ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই খাত দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটোমেশনের কারণে এ খাতে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। মহামারি পরবর্তী মহাবিশ্বে এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হবে।

‘এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের সস্তা শ্রমিকনির্ভর উৎপাদনশীলতার প্রতিযোগিতা থেকে উচ্চ উৎপাদনশীলতার প্রতিযোগিতা করার জন্য জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এ জন্য সবাইকে সবক্ষেত্রে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।’

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং এই প্রতিবেদনের সহ-সমন্বয়ক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশের আরও উন্নয়নের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের দিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ। সে কারণে তৈরি পোশাকসহ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রেই আরও উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। টেকসই এবং আরও ভাল বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশটিকে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের ভবিষৎ উজ্জ্বল হবে।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

বাজেট সংশোধন করে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি

বাজেট সংশোধন করে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি

প্রজ্ঞা ও আত্মা বলছে, সত্যিকার অর্থে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে চাইলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে ভোক্তা বেশি খায় এমন কম দামি সিগারেটের ওপর বেশি হারে শুল্ক আরোপ করতে হবে। তা না হলে সরকারের লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বাজেট সংশোধন করে কমদামি সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোসহ সুনির্দিষ্ট করা আরোপের দাবি জানিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের তামাকবিরোধী সংগঠন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সভায় সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেট ও তামাকপণ্যে যে কর প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কার্যকর হলে সব ধরনের তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে। এতে করে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাকের ব্যবহার বাড়বে, যা জনস্বাস্থের জন্য হুমকি।

৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে শুধু অতি দামি প্রিমিয়ার ও উচ্চস্তর সিগারেটের ট্যারিফ খুব সামান্য বাড়লেও বেশির ভাগ সিগারেট ও তামাকের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

৩০ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেটে পাশ হবে। এর আগেই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের ট্যারিফ মূল্য ও শুল্ক বাড়িয়ে সেটি সংশোধনের দাবি করেছে আত্মা ।

বেসরকারি সংগঠন প্রজ্ঞা ও আত্মার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের ৮০ শতাংশ ভোক্তা কম দামি অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট খান।

সংগঠন দুটি বলছে, সত্যিকার অর্থে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে চাইলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে ভোক্তা বেশি খায় এমন কম দামি সিগারেটের ওপর বেশি হারে শুল্ক আরোপ করতে হবে। তা না হলে সরকারের লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

বৃহস্পতিবারের আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন আত্মার যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ।

বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম।

অতিথি আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রাম হাসান শাহরিয়ার।

বাজেট সংশোধনের প্রস্তাবসমূহ

সভায় আত্মার পক্ষ থেকে ২০২১-২২ সালের সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিচের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়।

এগুলো হলো-

১। সিগারেটের সকল ব্র্যান্ডে অভিন্ন করভারসহ (সম্পূরক শুল্কও খুচরা মূল্যের ওপর ৬৫ শতাংশ) মূল্যস্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা।

২। প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৫০ টাকা, মধ্যম স্তরে ৭০ টাকা, উচ্চস্তরে ১১০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে যথাক্রমে ৩২.৫০ টাকা, ৪৫.৫০ টাকা, ৭১.৫০ টাকা এবং ৯১ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৩। ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে (৪৫%) সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৪। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে ২৭ টাকা সুনির্দিষ্ট কর এবং ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১৫ টাকা কর আরোপ এবং ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

আগে পণ্য পরে টাকায় আপত্তি নেই ইভ্যালির

আগে পণ্য পরে টাকায় আপত্তি নেই ইভ্যালির

‘গণমাধ্যমের সূত্রে বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ছাড়া শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি পরিচালন নির্দেশিকা করা হবে, যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেয়া না হয়। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে, তারা পেমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন।’

যে উদ্যোগকে নিয়ে এত কথা, সেই ইভ্যালি জানিয়েছে, ই-কমার্স ব্যবসায় আগে পণ্য দিয়ে পরে টাকা নেয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় তার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপর এক বিজ্ঞপ্তিতে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এ কথা জানান।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু এমন ই-কমার্স সাইট তৈরি হয়েছে, যেগুলো গ্রাহকদের অবিশ্বাস্য ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে। তবে কোম্পানিগুলোকে আগে টাকা পরিশোধ করতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর পণ্য সরবরাহ করে।

তবে টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহে বারবার সময়ক্ষেপণের অভিযোগ আছে। আবার তাদের ব্যবসার কৌশলটিও স্পষ্ট নয়। এ কারণে নানা সন্দেহ-সংশয় আছে জনগণের মধ্যে।

এর মধ্যেই কমার্স সাইট ইভ্যালিকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি তদন্ত চালিয়েছে; যাতে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি এক টাকা আয় করতে সাড়ে তিন টাকার বেশি ব্যয় করে। আবার তাদের সম্পদের তুলনায় দেনা ছয় গুণ। ফলে তারা এই টাকা আদৌ পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

এর মধ্যে তিনটি ব্যাংক তার গ্রাহকেদর জানিয়ে দিয়েছে কার্ড দিয়ে ১০টি ই-কমার্স সাইটে টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। আরও দুটি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সতর্ক করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য পৌঁছে দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা পাবে না।

ক্রেতার অর্ডার করা পণ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই পণ্যের পেমেন্ট সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এ জন্য পণ্য অর্ডারের বিপরীতে পরিশোধিত টাকা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মিডলম্যান প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা জমা থাকবে।

অর্ডার করা পণ্য ক্রেতা হাতে পাওয়ার পর ডেলিভারিম্যানের কাছে দেয়া স্বাক্ষরযুক্ত রিসিভ কপি জমা দিলেই পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টাকা ছাড় হবে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে করা হবে।

এ বিষয়টি নিয়ে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘গণমাধ্যমের সূত্রে বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ছাড়া শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি পরিচালন নির্দেশিকা করা হবে, যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেয়া না হয়। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে, তারা পেমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন।’

ই-কমার্স নিয়ে নীতিমালা জরুরি বলে মনে করেন রাসেল নিজেও। বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ই-কমার্স নীতিমালা নেই। ইভ্যালি নিজেও দীর্ঘদিন এই নীতিমালার কথা বলে আসছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে সেই নীতিমালা প্রণয়নের প্রথম ধাপ বলেই বিশ্বাস করেন ইভ্যালি-প্রধান। বলেন, এর ফলে গ্রাহক, বিক্রেতা, ই-কমার্সসহ পুরো ইকো সিস্টেমই উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন:
সোনার মজুত বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় লাগামহীন দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার টাকা
স্বর্ণ ও আকরিক আমদানির পথ খুলল
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২৩৩২ টাকা
চার্জার লাইটে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন