মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ

player
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ

ভারতের হিন্দুস্তান সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল সার্ভিস কারখানায় তৈরি হচ্ছে সিরিঞ্জ। ছবি: বিবিসি

ভারতের এইচএমডি প্রতিবছর ২৫০ কোটি সিরিঞ্জ তৈরি করে। চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারিতে সিরিঞ্জের চাহিদা বাড়ায় তাদের উৎপাদনও বাড়াতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা এবার ২৭০ কোটি সিরিঞ্জ তৈরি করতে পারবে।

মিনিটে ৬ হাজার। দিনে ৪০ লাখ। এরপরও চাহিদা মেটাতে খেতে হচ্ছে হিমশিম।

বিভিন্ন দেশের জন্য এসব সিরিঞ্জ উৎপাদন করছে হিন্দুস্তান সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল সার্ভিস (এইচএমডি)।

ভারতের সবচেয়ে বড় সিরিঞ্জ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নাথ বিবিসিকে জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশ থেকে তার কাছে সিরিঞ্জের ক্রয়াদেশ আসে। এই মুহূর্তে সিরিঞ্জ তৈরির অন্তত ৪০টি আবেদন আছে তার কাছে।

তিনি জানান, সেসব আবেদনের চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান। এমন বাস্তবতায় নতুন করে ক্রয়াদেশ নিচ্ছে না তার প্রতিষ্ঠান।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর গত বছর থেকে বিশ্বজুড়ে চাহিদা বেড়েছে সিরিঞ্জের। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশকে করোনার টিকাদানের আওতায় আনতে অন্তত ১ হাজার কোটি সিরিঞ্জ দরকার।

ভারতের এইচএমডি প্রতি বছর ২৫০ কোটি সিরিঞ্জ বানায়। মহামারিতে সিরিঞ্জের চাহিদা বাড়ায় তাদের উৎপাদনও বাড়াতে হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা ২০২১ সালে ২৭০ কোটি সিরিঞ্জ তৈরি করতে পারবে।

বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয় বলে জানান রাজীব নাথ।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর সিরিঞ্জের চাহিদা মেটাতে আমাদের আরও ১ হাজার কর্মী নিয়োগ দিতে হয়েছে; তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে। মানে ছাড় না দিয়ে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে এর বাইরেও নানা ধরনের কাজ করতে হচ্ছে।’

এইচএমডির এ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি থেকে এখন বেশি ক্রয়াদেশ আসছে। পাশাপাশি ইউরোপের অন্য দেশগুলো থেকেও ক্রয়াদেশ পাওয়া যাচ্ছে।

সিরিঞ্জ তৈরিতে মানতে হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান। যেহেতু অল্প সময়ে বেশি সিরিঞ্জ তৈরি করতে হচ্ছে, তাই সময় কমিয়ে এনে ডব্লিউএইচওর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজীব নাথ।

সমন্বয় সহজ হলে আরও বেশি সিরিঞ্জ তৈরি করা যাবে বলে মনে করেন রাজীব।

ভারতের সবচেয়ে বড় সিরিঞ্জ ও মেডিক্যাল ডিভাইস তৈরির কারখানাটির যাত্রা শুরু ১৯৫৭ সালে। হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদ শহরের কারখানাটি উৎপাদনে যায় ১৯৫৯ সালে।

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার করোনায় স্বাদ-গন্ধ স্বাভাবিক, কেন?

এবার করোনায় স্বাদ-গন্ধ স্বাভাবিক, কেন?

ফাইল ছবি

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে হয়ে থাকতে পারে। কারণ বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে আগে আক্রান্তদের সমস্যার বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রোগীদের মধ্যে এমন পার্থক্য ওমিক্রনের কারণেই কি না সুনির্দিষ্টভাবে তা জানতে গবেষণা প্রয়োজন।

গণমাধ্যমকর্মী মুস্তাফিজ রহমান ছয় মাসের ব্যবধানে দু’বার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমবার করোনা আক্রান্ত হলে অন্যান্য উপসর্গের মতো মুখে স্বাদ ও গন্ধ পাচ্ছিলেন না তিনি। সুস্থ হওয়ার চার মাস পর আবার করোনা আক্রান্ত হন তিনি। অন্যান্য উপসর্গ থাকলেও এবার মুখের স্বাদ ও গন্ধ চলে যায়নি। স্বাভাবিক সময়ের মতোই তিনি খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন।

মুস্তাফিজের সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তার স্ত্রী। একই অবস্থা তারও- অন্যান্য জটিলতা থাকলেও স্বাদ-গন্ধ অটুট আছে।

চলমান তৃতীয় ঢেউয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরেক গণমাধ্যমকর্মী ইয়াসমিন। করোনা শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মাথায় কোমর ও পায়ের পাতায় ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। এ ছাড়া তেমন কোনো জটিলতা নেই। স্বাদ-গন্ধও আছে স্বাভাবিক সময়ের মতোই।

বিষয়ে নিয়ে করোনা আক্রান্ত একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের বড় একটি অংশেরই বক্তব্য- শারীরিক অন্যান্য জটিলতা থাকলেও মুখের স্বাদ ও গন্ধ চলে যায়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে হয়ে থাকতে পারে। কারণ বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে আগে আক্রান্তদের সমস্যার বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রোগীদের মধ্যে এমন পার্থক্য ওমিক্রনের কারণেই কি না সুনির্দিষ্টভাবে তা জানতে গবেষণা প্রয়োজন।

আইসিডিডিআর,বি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে তাদের ল্যাবরেটরিতে এক হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ২৮ শতাংশই ছিল করোনায় আক্রান্ত। আর আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন ছিল ৬৯ শতাংশের দেহে।

গবেষণা সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে ৬ ডিসেম্বর ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে ১১ ডিসেম্বর। ওই মাসেই আইসিডিডিআর,বির ল্যাবে পরীক্ষা করা ঢাকা শহরের ৭৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে পাঁচটিতে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। অন্যগুলো ছিল ডেল্টা ধরন।

রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত যত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তার ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। গত বছর দেশের ইতিহাসে পরীক্ষার বিপরীতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয় শাটডাউন চলাকালে, ২৪ জুলাই। শনাক্তের ওই হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫।

করোনা আক্রান্তদের মুখে স্বাদ ও গন্ধ না থাকলেও ওমিক্রন আক্রান্তদের স্বাদ ও গন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন বিদেশি সংক্রামক বিশেষজ্ঞ ড. ক্যাথারিন পোহলিং। তিনি বিদেশি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনে রোগীরা গন্ধ ও খাবারের স্বাদ হারালেও ওমিক্রনের ক্ষেত্রে এমনটা হচ্ছে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার নতুন ধরন সংক্রমণে নতুন কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। দেশে এ ধরনের কোনো গবেষণাও হয়নি। দেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রন ধরনে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো গবেষণাও নেই। অনেকেই নিজেদের মতো করে অনুমান করে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে তথ্য দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার (সিডিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া পাঁচজন নতুন করে ওমিক্রনে আক্রান্ত হন। তাদের মাঝে চারজন প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার পর মুখের স্বাদ ও গন্ধ হারিয়েছিলেন। কিন্তু ওমিক্রন আক্রান্ত হয়ে তারা গন্ধ ও স্বাদ হারাননি।

এদিকে নরওয়ের এক ক্রিসমাস পার্টি থেকে ৮১ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়। তাদের সবারই পূর্ণ ডোজ প্রতিষেধক টিকা দেয়া ছিল। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ শতাংশ গন্ধ নেয়ার অনূভুতি কমে যায়। ৩২ শতাংশের স্বাদের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে ওমিক্রনে আক্রান্তরা মুখের স্বাদ-গন্ধ হারান না অটুক থাকে তা নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি।

দেশসেরা ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার নতুন ধরন সংক্রমণে নতুন কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। দেশে এ ধরনের কোনো গবেষণাও হয়নি। দেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রন ধরনে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো গবেষণাও নেই। অনেকেই নিজেদের মতো করে অনুমান করে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে তথ্য দিচ্ছে।’

এই বিশেষজ্ঞ গবেষক বলছেন, ‘করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সরকারের উদ্যোগে একটি ল্যাব স্থাপন করে করোনার ধরন, উপসর্গ ও আক্রান্তের অবস্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার দরকার ছিল। তাহলে করোনাদের শারীরিক নানা সমস্যা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হতো। কেন এবার স্বাদ-গন্ধ অটুট থাকছে তার কারণটাও বলা যেত। ডেল্টা থেকে কম শক্তিশালী ওমিক্রন- এমনটা অনেকেই বলছে। তবে এ বিষয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই।’

‘আপনি যে তথ্যের উল্লেখ করেছেন তা সঠিকভাবে জানতে হলে গবেষণায় বসতে হবে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্তদের উপসর্গ নিয়ে একটি গবেষণা করা গেলে বোঝা যেত কী কারণে বর্তমানে আক্রান্তদের অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকলেও মুখের স্বাদ ও গন্ধ অটুট থাকছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার করোনা আক্রান্ত রোগীদের অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার প্রবণতা কম দেখা যাচ্ছে। অনেকে আক্রান্ত হওয়ার ৮-১০ দিনের মধ্যেই হাসাপাতালে আসছে। অক্সিজেনও কম প্রয়োজন হচ্ছে। তবে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আর এসব রোগীর মধ্যে প্রধানত জ্বর, শুষ্ক কাশি, শরীর ব্যথার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

নরসিংদীতে দৈনিক শনাক্ত ৪৬ শতাংশ ছাড়াল

নরসিংদীতে দৈনিক শনাক্ত ৪৬ শতাংশ ছাড়াল

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ৫২ জনের শরীরে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

নরসিংদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ছাড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন মো. নূরুল ইসলাম সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত এক দিনে ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ৫২ জনের শরীরে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে ২৯ জন সদর উপজেলার, একজন মনোহরদীর, সাতজন বেলাবোর, ১২ জন শিবপুরের ও তিনজন পলাশ উপজেলার।

জেলাটিতে এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত ১১ হাজার ৮৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৩৭৮ জন শনাক্ত হয়েছে সদর উপজেলায়। এ ছাড়া পলাশে ১ হাজার ৬৮৯ জন, শিবপুরে ১ হাজার ৪৬৮ জন, মনোহরদীতে ৮৯৮ জন, বেলাবোতে ৭৭৯ জন, রায়পুরায় ৬১৮ জন শনাক্ত হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯১ জন। এর মধ্যে সদরের ৪১ জন, রায়পুরার ৯ জন, বেলাবোর ৯ জন, মনোহরদীর ১১ জন, শিবপুরের ৯ জন, পলাশ উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।

বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা ৩৬৬। এর মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে ও বাকি সবাই হোম আইসোলেশনে। হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সাতজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

করোনা সংক্রমণের হার এবার রেকর্ডের কাছাকাছি

করোনা সংক্রমণের হার এবার রেকর্ডের কাছাকাছি

এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৮২৮ জন, যা গত ৩ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সে সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছিল এবং দেশে শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছিল। অকারণে বাড়ির বাইরে গেলে জরিমানাও করা হচ্ছিল।

করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে রোগী ও সংক্রমণের হার প্রায় প্রতিদিনই আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে এবার ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমণের হার পাওয়া গেল দুই বছরের রেকর্ডের কাছাকাছি।

রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত যত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

গত বছর দেশের ইতিহাসে পরীক্ষার বিপরীতে সর্বোচ্চ সংক্রমণের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫, যা শাটডাউন চলাকালে গত বছরের ২৪ জুলাইয়ের চেয়ে বেশি সংক্রমণের হার পাওয়া যায়।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৮২৮ জন, যা গত ৩ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সে সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছিল এবং দেশে শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছিল। অকারণে বাড়ির বাইরে গেলে জরিমানাও করা হচ্ছিল।

শাটডাউন চলাকালে সেদিন ২৪ ঘণ্টায় রোগী পাওয়া যায় ১৫ হাজার ৭৭৬ জন।

এখন পর্যন্ত সারা দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৪ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫৯ জন।

এই ২৪ ঘণ্টায় যত নতুন রোগী পাওয়া গেছে, তা গত ৩ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সে সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছিল এবং দেশে শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছিল। অকারণে বাড়ির বাইরে গেলে জরিমানাও করা হচ্ছিল।

সংক্রমণের হার ও সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় রোগীর মৃত্যুও বেড়েছে। এই সময়ে সারা দেশে ভাইরাসটিতে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ নিয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৮ হাজার ২৩৮ জন।

আগের দিন সারা দেশে সংক্রমণের হার ছিল ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ, রোগী পাওয়া যায় ১০ হাজার ৯০৬ জন, মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের।

নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে রেকর্ডের কাছাকাছি। গত বছরের ২৬ জুলাই দেশে ৫০ হাজার ৯৫২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৫ হাজার ৮০৭টি। অর্থাৎ করোনার উপসর্গও এখন বেড়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি থেকে করোনার সংক্রমণ, শনাক্তের হার ক্রমেই বাড়ছে। গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার তিন মাস পর সেদিন প্রথমবারের মতো শনাক্তের হার পাওয়া যায় ৫ শতাংশে বেশি। রোগী পাওয়া যায় দেড় হাজারের কিছু কম।

আগের দিন সারা দেশে সংক্রমণের হার ছিল ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ, রোগী পাওয়া যায় ১০ হাজার ৯০৬ জন, মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী পাওয়া গেল ১৪ হাজার ৮২৮ জন, শনাক্তের হার পাওয়া গেল ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।

করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়ানোর প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরদিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা, পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত ও নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে। কেবল শুক্রবার আগের দিনের চেয়ে কম নমুনা পরীক্ষা করা হয় বলে শনিবার আগের দিনের তুলনায় কম রোগী পাওয়া গেছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথমে ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি ঢেউ দেখেছে সরকার।

এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৮২৮ জন, যা গত ৩ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সে সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছিল এবং দেশে শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছিল। অকারণে বাড়ির বাইরে গেলে জরিমানাও করা হচ্ছিল।

এর মধ্যে প্রথম ঢেউ থাকে ২০২১ সালের শুরু পর্যন্ত। একই বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার ছিল তুলনামূলক বেশি।

তৃতীয় ঢেউয়ে এসে শনাক্ত ও শনাক্তের হার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউনকালের বিধিনিষেধের সমান হলেও মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

প্রথম ঢেউয়ে দেশে ছড়ায় মূলত ইতালীয়, ইউকে, সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট। প্রাণঘাতি দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছড়ায় মূলত ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। তৃতীয় ঢেউয়ে ডেল্টার পাশাপাশি ছড়াচ্ছে ওমিক্রন। সারা দুনিয়াতেই এ ধরনটি এখন বেশি ছড়াচ্ছে। এতে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

তৃতীয় ঢেউ চলাকালে সরকার নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে। স্কুল-কলেজে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সশরীরে ক্লাস। সামাজিক-রাজনৈতিক জমায়েতেও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

বাড়তে পারে করোনার বিধিনিষেধ

বাড়তে পারে করোনার বিধিনিষেধ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরও বাড়তে পারে। ফাইল ছবি

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সকলেই মাস্ক পরুক। এই সময়টা আমরা অতিক্রম করতে চাই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্য নাগাদ এটি বাড়তে থাকবে। সকলকে সচেতন হতে হবে। আমরা চাই- এই তৃতীয় ঢেউ থেকে যাতে খুব তাড়াতাড়ি উত্তরণ করতে পারি। সে জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে হবে।’

শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে ক্লাস বন্ধ ছাড়া দৃশ্যত আর কোনো বিধিনিষেধ যখন কাজ করছে না তখন বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা আসতে যাচ্ছে সেটি জানানো হয়নি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ জারির বিষয়ে কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ আরও দীর্ঘায়িত হবে কি না। ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাড়ানো হতে পারে। কারণ আমাদের সচেতনতার উপরে...'

করোনার দুটি ঢেউয়ে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির পর এবার আঘাত হেনেছে তৃতীয় ঢেউ। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও আক্রান্ত দৈনিক ছাড়িয়েছে ১০ হাজার। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছাড়িয়েছে ৩০ শতাংশ।

তৃতীয় ঢেউয়ের লক্ষণ যখন স্পষ্ট তখন ১৩ জানুয়ারি সরকার জারি করে ১১ দফা বিধিনিষেধ। দেয়া হয় গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা, গণপরিবহনে যাত্রী অর্ধেক। যদিও পরে ট্রেন ছাড়া অন্য যানবাহনে আসনের সমান যাত্রী বহন করতে বলে।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিতের পর ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে ক্লাস বন্ধের আদেশ আসে। তবে এর মধ্যেও মানুষের জটলা চোখে পড়ছে, এমনকি তৃণমূলে নির্বাচনের জমজমাট প্রচার চলছে। বন্ধ হয়নি বাণিজ্যমেলার মতো আয়োজনও।

যদিও নতুন করে অর্ধেক লোক দিয়ে সরকারি চালানোর নির্দেশ এসেছে, একই নির্দেশ এসেছে আদালত ও ব্যাংকের পক্ষ থেকেও।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবার মৃত্যুর হার কম থাকার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এখন যে ভ্যারিয়েন্টটা দেখছি ওমিক্রম, সেটা সেরে উঠতে অল্প সময় নিচ্ছে। রিকভারি রেট কিন্তু খুবই ভালো।

‘৮৫ শতাংশের বেশি আক্রান্ত মানুষ ঘরে থেকে ট্রিটমেন্ট নিতে পারছেন এবং তারা সেরে উঠছেন। আমরা অবশ্যই আগামী এক সপ্তাহ পর দেখব এটা (সংক্রমণ) কী পর্যায়ে আছে, সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী নির্দেশনা দেব।’

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সকলেই মাস্ক পরুক। এই সময়টা আমরা অতিক্রম করতে চাই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্য নাগাদ এটি বাড়তে থাকবে। সকলকে সচেতন হতে হবে। আমরা চাই- এই তৃতীয় ঢেউ থেকে যাতে খুব তাড়াতাড়ি উত্তরণ করতে পারি। সে জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে হবে।’

গণপরিবহন সরকারের বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ সবাইকে মানতে হবে। ইউরোপে সংক্রমণের ক্ষেত্রে তাদের পিক সময় পার করেছে। আমাদের একটু পরে শুরু হয়েছে, এ জন্য আমাদের একটু পরে সেটা (চূড়ান্ত সংক্রমণ) হতে পারে।

‘সেক্ষেত্রে আমরা চাইব যাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, নির্দেশনাগুলো সবাই মেনে চললে তা সকলের জন্যই ভালো। পরিবহন সেক্টরে যারা রয়েছেন তাদেরকেও আমাদের সহযোগিতার করতে হবে। নিয়ম মেনে তারা গণপরিবহন পরিচালনা করবেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা একটা ভালো রেজাল্ট পাব। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে তৃতীয় ঢেউ উত্তোরণ করব।’

সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে এর আগে মোবাইল কোর্টের নির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানুষকে অবহিত করে, বলব- আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। সকলকে মাস্ক পরে বাইরে আসতে হবে। আমাদের অ্যানাউন্সমেন্টে বলা হবে আপানারা মাস্ক পরেন। একটা ডেট দেয়া হবে যে, আগামীকাল থেকে মোবাইল কোর্ট নামবে। তাই আগে থেকে সতর্ক করে নিয়েই কিন্তু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

‘মানুষ ইতোমধ্যে অবহিত হয়েছে যে, এটা (করোনা সংক্রমণ) বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ সচেতন হওয়া শুরু করেছে। তাদের কাছে বার্তা চলে গেছে। আমরা চাই, সবাইকে জানিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তখন বলার একটা যৌক্তিকতা থাকবে যে, আমরা সতর্ক করে দিয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

ঢাকায় ওমিক্রনের ৩ উপধরন

ঢাকায় ওমিক্রনের ৩ উপধরন

আইসিডিডিআরবির বলা হয়, ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের জিনোম সিকুয়েন্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা শহরে তিনটি সাব টাইপ রয়েছে। এগুলো আফ্রিকান, ইউরো-আমেরিকান এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ওমিক্রন ধরনের সঙ্গে মিলে যায়।

ঢাকা শহরে ওমিক্রন ধরনের তিনটি সাব টাইপ (উপধরন) রয়েছে। এই উপধরনগুলো বেশি ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার সকালে এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের জিনোম সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে তিনটি সাব টাইপ রয়েছে। এগুলো আফ্রিকান, ইউরো-আমেরিকান এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ওমিক্রন ধরনের সঙ্গে মিলে যায়।

আইসিডিডিআরবি বলছে, জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে তাদের ল্যাবরেটরিতে ১ হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৮ শতাংশই ছিল করোনায় আক্রান্ত। আর আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন ছিল ৬৯ শতাংশের দেহে।

গবেষণা সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে ৬ ডিসেম্বর ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে ১১ ডিসেম্বর। ওই মাসেই আইসিডিডিআরবির ল্যাবে পরীক্ষা করা ঢাকা শহরের ৭৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে পাঁচটিতে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্যগুলো ছিল ডেল্টা ভেরিয়েন্ট।

ওমিক্রনে আক্রান্ত ২৯ জনের সাক্ষাৎকার নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে আইসিডিডিআরবি প্রতিবেদনে। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ জন ও মহিলা ১৬ জন। ২৭ জনের কোনো উপসর্গও ছিল না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৪ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। আর প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৩ জন। ২৯ জনের মধ্যে মাত্র একজনকে একদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। করোনার এই ধরনে আক্রান্ত একজন সৌদি আরব থেকে ফেরা। বাকিরা দেশেই ছিলেন।

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ফের উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। শুরু হয়েছে তৃতীয় ঢেউ।

করোনা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের বরাতে রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশে করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৮০ শতাংশই করোনা পজিটিভ আসছে। ধরণা করা হচ্ছে, এখন বেশির ভাগই করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। আস্তে আস্তে ডেল্টার জায়গাগুলোকে দখল করে ফেলছে ওমিক্রন।’

তিনি জানান, ৭৩ শতাংশ মানুষের নাক দিয়ে পানি ঝরছে। ৬৮ শতাংশ মানুষের মাথা ব্যথা করছে। ৬৪ শতাংশ রোগী অবসন্ন-ক্লান্তি অনুভব করছেন। ৭ শতাংশ রোগী হাঁচি দিচ্ছেন। গলা ব্যথা হচ্ছে ৭ শতাংশ রোগীর। ৪০ শতাংশ রোগীর কাশি হচ্ছে।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এখন সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে কিন্তু ওমিক্রনের মিল রয়েছে। তাই এখন থেকে আরও সর্তক হতে হবে।’

ওমিক্রন রোধে কিছু সুপারিশও রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়ানো; পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপরে জোর দেয়া। সঠিক নিয়মে মাস্ক পরা। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার পাশাপাশি ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া।

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

করোনার ‘শেষ খেলা’ হবে ইউরোপে

করোনার ‘শেষ খেলা’ হবে ইউরোপে

করোনা পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ জারি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। মাস্ক পরে প্রয়োজনীয় কাজে বের হচ্ছে মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

‘সংক্রমণের গতি কিছুটা ধীর হওয়ায় স্বস্তি মিলতে পারে। বছরের শেষ দিকে করোনা সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মহামারিও ফিরে আসবে।’

করোনার নতুন নতুন ধরন প্রতিনিয়ত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিপর্যস্ত বিশ্বকে। ওমিক্রন এই উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়েছে। তবে এবার শঙ্কা কাটিয়ে কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ইউরোপে হয়তো দ্রুতই ওমিক্রনের প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ‘শেষের শুরুতে’ এসে ঠেকবে বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি

ইউরোপে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ‘শেষের শুরুর’ ইঙ্গিত দিচ্ছে মন্তব্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপৗয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স ক্লুগ বলেন, ‘এটা সত্যিই সম্ভব যে, ইউরোপ হয়তো মহামারির শেষের শুরুর একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

আগামী মার্চের মধ্যে ইউরোপের ৬০ ভাগ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে বলে জানান তিনি।

হ্যান্স ক্লুগ বলেন, ‘ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাস বিশ্বজুড়ে সব মানুষেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে। এটি টিকার কারণে বা করোনা সংক্রমিত হওয়ার কারণে হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণের গতি কিছুটা ধীর হওয়ায় স্বস্তি মিলতে পারে। বছরের শেষ দিকে করোনা সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মহামারিও ফিরে আসবে।’

এর আগে রোববার প্রায় একই ধরনের মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি। এবিসি নিউজের টক শো ‘দিস উইক’-এ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে করোনার সংক্রমণ তীব্রভাবে কমে আসছে। এটা ভালো ব্যাপার।’

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বের অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হচ্ছে। রূপ বদলাচ্ছে করোনা।

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিয়ে আটকালো করোনা

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিয়ে আটকালো করোনা

জেসিন্ডা আরডার্ন। ছবি: সংগৃহীত

জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার বিয়েও হবে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিজের বিয়ে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

স্থানীয় সময় রোববার সাংবাদিকদের আরডার্ন এ কথা জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

দেশজুড়ে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় নিজের বিয়ে নিয়ে কথা বলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার বিয়েও হবে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত।’

দীর্ঘদিনের সঙ্গী টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন জেসিন্ডা আরডার্ন। তবে বিয়ের তারিখ বা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও জানা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকতা সারবেন তারা। তবে এর মধ্যেই নতুন বিধিনিষেধে পিছিয়ে গেল জেসিন্ডা-গেফোর্ডের বিয়ে।

সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ে বাতিলের ঘোষণায় কেমন অনুভব করছেন, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘জীবন এমনই।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে সাহস করে বলতে হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার বাসিন্দা যাদের জীবনে মহামারি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে তাদের থেকে আমি আলাদা নই। এই প্রভাবের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, কেউ যখন গুরুতর অসুস্থ হন, তখন প্রিয়জনের সাথে থাকতে পারেন না।’

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘এর বেদনা আমার অন্য যেকোনো দুঃখজনক ঘটনাকে ছাড়িয়ে যাবে।’

ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর পুরো নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ স্তরের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে সম্প্রতি। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি মানুষের উপস্থিতি না থাকা এবং দোকান ও গণপরিবহনে মাস্ক পরা।

২০২০ সালের মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ড অন্য দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রেখেছে। মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত দেশটিতে ১৫ হাজার ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

আরও পড়ুন:
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন