সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সেরা করদাতা ঘোষণা করেছে এনবিআর। ছবি: নিউজবাংলা

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে ১৪১ জনসহ মোট ৫২৫ জনকে সেরা করদাতা ঘোষণা করেছে এনবিআর।

মিসেস রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন এবারও সেরা করদাতা হয়েছেন। সর্বোচ্চ কর দেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়েছে তাকে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তার হাতে ট্যাক্স কার্ড ও ক্রেস্ট তুলে দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন।

প্রতিক্রিয়ায় ফারজানা হোসেন বলেন, এ সম্মাননা পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত। অনেক বছর ধরে তিনি এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সরকারকে সর্বোচ্চ কর দিচ্ছেন বলে জানান ফারজানা।

পুরস্কার পাওয়া অন্য সেরা করদাতারা বলেন, এ সম্মান পাওয়ায় গর্ববোধ করছেন তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এ উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা আরও বলেন, এর ফলে অন্য করদাতারাও সরকারকে কর প্রদানে উৎসাহিত হবেন।

এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে ১৪১ জনসহ মোট ৫২৫ জনকে সেরা করদাতা ঘোষণা করেছে এনবিআর।

এদের সম্মাননা দিতে বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনবিআর। করোনার কারণে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে দশ সেরা করদাতাকে সম্মাননার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের পাঁচ জন, বাকি পাঁচ জন কোম্পানি পর্যায়ের।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সেরা করদাতার সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে আদায় বাড়াতে অটোমেশন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।

কোম্পানি পর্যায়ে সেরা করদাতাদের মধ্যে গ্রামীণফোনকে সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রধান নিরবাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াছির আজমান পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। যে কোনো কাজে এনবিআরের পাশে থাকব।’

আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আকিজ উদ্দিন বলেন, সেরা করদাতার পুরস্কার পেয়ে সম্মান বোধ করছেন তিনি। এর ফলে আগামীতে আরও বেশি কর প্রদানে উৎসাহিত হবেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন তথ্যউপাত্ত তুলে বলেন, স্বাধীনতাপরবর্তী মোট রাজস্বে করের অংশ ছিল ১০ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। অর্থাৎ আয়কর আদায় বাড়ছে। কিন্তু আরও বাড়ার সুযোগ আছে।

এ জন্য আদায় প্রক্রিয়া সহজ করা, ভয়-ভীতি দূর করা, অনলাইনে রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধ পদ্ধতি নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

অর্থনীতির সঙ্গে রাজস্ব আয় যে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তা স্বীকার করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আদায় বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভুয়া টিআইএন চিহ্নিত করতে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ভয়ভীতির জায়গাগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার রেকর্ড

পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার রেকর্ড

পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। ছবি: জি নিউজ

পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে এক লিটারের পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি। প্রতি লিটার হাইস্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি এবং প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ধরা হয়েছে ১১০ দশমিক ২৬ রুপি।

পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্য এক লাফে রেকর্ড ১০ রুপির বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শনিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে জ্বালানিপণ্যের পুননির্ধারিত দাম।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে এক লিটারের পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি। প্রতি লিটার হাইস্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি এবং প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ধরা হয়েছে ১১০ দশমিক ২৬ রুপি।

পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য এখন প্রায় ৮৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের পুরো জ্বালানি খাতেই ব্যাপক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ও বিক্রয় কর সর্বনিম্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাতেও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

পেট্রোলিয়ামজাতীয় সব পণ্যের নতুন মূল্য শনিবার থেকে কার্যকরের কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়।

এসব পণ্যের মূল্য না বাড়াতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও সিনেটের সাবেক চেয়ারম্যান মিঞা রেজা রাব্বানি।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটার পেট্রোলের মূল্য ৯ রুপি বাড়ানো হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম এখন সর্বোচ্চ। পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারকে দ্রুত বাতিল করতে হবে।’

রাব্বানি বলেন, ‘পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের বর্ধিত মূল্য জনসাধারণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাবে। সরকারে থাকা অভিজাত শ্রেণি জনগণকে আত্মহত্যা বা বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দাবি মেনে সরকার বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতি ইউনিটে ১.৩৯ রুপি বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের ওপর ৭৭ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি বাতিলের পর ওই শুল্ক এ পরিমাণে বাড়ানো হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছে পিপিপি।’

পিপিপির এই নেতা জানান, রান্নার তেল ও ঘি ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এখন প্রতি কেজি রান্নার তেল ও ঘিয়ের মূল্য যথাক্রমে ৩৯৯ ও ৪০৯ রুপি। টমেটো, আলু, খাসির মাংস, এলপিজিসহ ২২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য সম্প্রতি অনেক বেড়েছে।

রাব্বানি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘গত কয়েকদিন মার্কিন ডলারের মান রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। আইএমএফের ঋণ পরিশোধের বিনিময়ে পণ্যের ওপর আরও কর বসাতে সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে সংস্থাটি।’

পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ শুল্ক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর জনগণের ওপর ‘পেট্রোল বোমা’ ‘মিনি বাজেটের’ ধারাবাহিকতা।

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তার পদত্যাগ জাতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। ‘মিনি বাজেট’ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ।”

শেয়ার করুন

ঘোষণার মধ্যেই আটকে পর্যটনের প্রণোদনা

ঘোষণার মধ্যেই আটকে পর্যটনের প্রণোদনা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

ট্যুর অপারেটররা ঋণ পাবেন না। হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলো শর্তের কারণে ঋণ নিতে পারছে না। এ কারণে পর্যটনশিল্পকে বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন খাত। ব্যাপক জনসমাগম এড়াতে শুরু থেকেই বন্ধ ছিল পর্যটনকেন্দ্রগুলো। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধীরে ধীরে খুলতে থাকে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। তবে বিদেশি পর্যটক আসা এখনও শুরু হয়নি।

করোনায় অনিশ্চয়তার কারণে পর্যটন পেশায় থাকা অন্তত ৬০ ভাগ কর্মী বিকল্প পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখনও অনেক সময় লাগবে।

এ পরিস্থিতিতে এ খাতকে খাদের কিনার থেকে তুলে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৩ জুলাই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এতে এ খাতের অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। এর আওতায় পর্যটন খাতের হোটেল, মোটেল, থিম পার্কগুলো তাদের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ শতাংশ সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সহায়তা পাওয়ার কথা।

তবে প্রণোদনা ঘোষণার দুই মাস পরও এখনও এর সুফল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে শুধু হোটেল, মোটেল, থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য। এর বাইরে যারা আছেন তাদের এ সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি রাফিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, এটা মূলত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য। এ কারণে আমাদের পাওয়া না-পাওয়ার কোনো প্রশ্ন আসছে না।

‘এই টাকা মালিকরা অন্য কাজে লাগাতে পারবে না। এ কারণে ট্যুর অপারেটররা কোনো সহযোগিতা পায়নি।’

এদিকে হোটেল-মোটেলগুলো বলছে, প্রণোদনার কঠিন শর্তে তারাও প্রণোদনাবঞ্চিত। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) তথ্য মতে, দেশে এখন ১৭টি পাঁচ তারকা হোটেলসহ তিন ও চার তারকাবিশিষ্ট মোট ৫০টি হোটেল আছে। এদের কেউই এই প্রণোদনা পায়নি।

বিহার সাধারণ সম্পাদক মহাসিন হক হিমেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রণোদনার সুফল এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, কোনো হোটেলই এখন পর্যন্ত টাকা পায়নি।

‘এর কারণ হলো, এতে একটি ক্লজ আছে যে যাদের ঋণ আছে, তারা নতুন করে লোন পাবে না। বেশির ভাগ হোটেলই তো ব্যাংক লোন নিয়ে তৈরি করা। এ কারণে প্রণোদনা পায়নি। কেউই পায়নি।’

বিহার এই নেতা মনে করেন, প্রণোদনার শর্ত সহজ করা হলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মত হলো, যেহেতু বড় হোটেলগুলো ব্যাংক লোন নিয়ে করা হয়েছে, সেগুলোকে যদি সহজ কোনো শর্তে প্রণোদনা দেয়া হতো, তাহলে আমরা সুফলটা পেতাম। প্রণোদনা এখনও ঘোষণার মধ্যেই আছে। কঠিন শর্তের কারণে ইমপ্লিমেন্টেশন হচ্ছে না।’

ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটনশিল্পকে গোছাতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে দাবি করেছেন পর্যটনসচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যটনশিল্প কোভিডের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্য এ সময়ে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেখানে খুব স্বল্প সুদে তারা লোন পাচ্ছেন, আমরা সেটি সমন্বয় করে দিচ্ছি।

‘কোভিডের কারণে অনেক কর্মী যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে এনে কীভাবে সহায়তা দেয়া যায়, সেটিও আমরা বিবেচনা করছি। কোভিডকালীন সমস্যার জন্য আমরা একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি করে দিয়েছি। তারাও কাজ করছে।’

এর বাইরেও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে একটি সার্ভে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পর্যটনসচিব বলেন, ‘কীভাবে কোভিড আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাবটা কীভাবে পড়বে বা আমরা কীভাবে এর থেকে উত্তরণ পেতে পারি, সে দিকগুলো খুঁজতে আমরা কাজ করছি।’

দেশে সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয় পর্যটন মৌসুম। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও টোয়াবের হিসাবে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর দেশে গড়ে বিদেশি পর্যটক আসে ৫ লাখের মতো। অবশ্য করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে এই সংখ্যা শূন্যের কোঠায়।

এর বাইরেও বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আনাগোনা থাকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ অভ্যন্তরীণ পর্যটকের। গত বছর করোনার মধ্যেও ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আয় করেছে পর্যটন খাত।

শেয়ার করুন

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা

প্রতীকী ছবি

ই-কমার্সে পেমেন্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ক্রেতার অর্থের সুরক্ষা দিতে চালু হয়েছে গেটওয়ে পদ্ধতি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গেটওয়েতে আটকে গেছে শত শত কোটি টাকা। অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে দু’একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টারের দাবি, অর্থ তছরুপ হয়নি, ব্যাংকে জমা আছে গ্রাহকের অর্থ।

ক্রেতার অর্থের সুরক্ষায় নতুন নিয়ম করেও কমছে না দুশ্চিন্তা। ই-কমার্স থেকে পণ্য কিনে অর্থ পরিশোধের টেকসই উপায় বের করা যায়নি। সরাসরি ই-কমার্সে অর্থ না দিয়ে, গেটওয়ে বা এসক্রো পদ্ধতি চালু করা হলেও তাতেও নিশ্চিত হয়নি সুরক্ষা। শৃংখলা আনতে কি করা প্রয়োজন তাও বের করতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

ই-কমার্সে পেমেন্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ক্রেতার অর্থের সুরক্ষা দিতে চালু হয়েছে গেটওয়ে পদ্ধতি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গেটওয়েতে আটকে গেছে শত শত কোটি টাকা। অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে দু’একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টারের দাবি, অর্থ তছরুপ হয়নি, ব্যাংকে জমা আছে গ্রাহকের অর্থ।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এসক্রো পদ্ধতিই এখন পর্যন্ত শক্তিশালী পেমেন্ট করার উপায়। তবে এই পদ্ধতিতে কিছু স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। তিনি বলেন, অটোমেশন না করা গেলে ধীর গতির কারণে পণ্য পৌঁছানো যাবে না।

গেটওয়ে পদ্ধতি কী?

নতুন নিয়মে, গ্রাহক পণ্যের জন্য অর্থ পরিশোধ করলে প্রথমে পাবে পেমেন্ট গেটওয়ে বা পিএসও। গ্রাহক পণ্য পেয়ে নিশ্চিত করার পর সার্ভিস চার্জ কেটে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করবে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান। তারপর সেই টাকা পেয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উৎপাদনকে অর্থ পরিশোধ করবে। কিন্তু অর্থ পরিশোধ করা নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বলছে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান অর্থ ছাড় করছে না। আর গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি, দ্রুত সময়ে অর্থ ছাড় করা কঠিন।

কিউকমের অভিযোগ

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম বরাবরই অভিযোগ করছে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টার পেমেন্ট-এর কাছে আটকে আছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। যে টাকাগুলো গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। কিন্তু ফস্টার পণ্য ছাড়ে সংকেত না দেয়ায় আটকে গেছে ডেলিভারি। ক্ষুব্ধ হচ্ছে গ্রাহক।

কিউকম-এর ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ তানভীর চৌধুরী জানান, কিউকমের হাতে কিছুই নেই। ফস্টার সব অর্থ আটকে রেখেছে। তারা ছাড় করলেই পণ্য পাবে গ্রাহক।

অর্থ আছে বলছে ফস্টার

গ্রাহকের একটি অর্থও তছরুপ হয়নি বলে দাবি করেছে ফস্টার পেমেন্ট। প্রতিষ্ঠানের হেড অব পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘ফস্টার পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের একটি টাকাও দেশের বাইরে যায়নি। সব টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের চলতি হিসাবে রক্ষিত আছে’।

পেমেন্ট সিস্টেমে গলদ আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘এসক্রো পদ্ধতি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার একটা ভালো উপায়। পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবস্থায় ব্যাংকে টাকা রক্ষিত আছে। ভ্যারিফিকেশনের মাধ্যমে টাকা ছাড় করা হচ্ছে। টাকা অন্য কোনো দেশে যায়নি। দেশের ব্যাংকেই আছে। গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রেগুলেটর অথরিটির নির্দেশনায় টাকা বিতরণ করা হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে সময় লাগছে। এ সময়টা আমাদের দিতে হবে।’

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘ফস্টার পেমেন্টের সব কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছেন। স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। নির্দশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যাংক ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে টাকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের চুক্তি করা আছে। চুক্তি অনুযায়ী টাকা গ্রাহক পেয়ে যাবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে দেরি হচ্ছে।’

অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা

অভিযোগ উঠেছে ফস্টার পেমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়নি। অভিযোগের সত্যতাও স্বীকার করেছে এই প্রতিষ্ঠান।

ফস্টার পেমেন্ট-এর হেড অব পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘২০১৬ সালে লাইসেন্স অনুমোদেনের জন্য আবেদন করা হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আশা করছি শিগগির লাইসেন্স পাওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনওসির (নো অবজেকশন লেটার) মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

ফস্টারের সন্দেহজনক লেনদেন

ফস্টার পেমেন্ট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও এখনও তা বিবেচনায় নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই লাইসেন্স দেয়া হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠায়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুরোধে গেল ৯ সেপ্টেম্বর ফস্টারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। শুধু ফস্টারই নয়, অন্য আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ।

গেটওয়ে ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

ই-পেমেন্ট গেটওয়ে বা ই-ওয়ালেট সেবা দিতে বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস রেগুলেশনস-২০১৪-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। এখন পর্যন্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর বা ই-পেমেন্ট গেটওয়ে সেবার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। আর চারটি প্রতিষ্ঠানকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা ই-ওয়ালেট সেবার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স পেয়েছে পোর্টোনিক্স লিমিটেড।

কে দেবে গ্রাহকের টাকা

প্রশ্ন হচ্ছে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে? কিউকম, আলিশামার্ট কিংবা ই-অরেঞ্জ। যারা এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করেছে তাদের টাকা কে ফেরত দেবে?

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা
ই-কমার্স। ফাইল ছবি

গ্রাহকরা অভিযোগ করছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বলে টাকা আছে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে। আর গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান বলে ব্যাংকে আছে টাকা। তাহলে টাকা দেবে কে?

বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন ও কিউকম কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এসক্রো সিস্টেম চালু করা হলেও এটিই এখন গ্রাহক ভোগান্তির মূল কারণ।

সরকারের তরফ থেকে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা জমা অর্থ ফিরিয়ে দেবার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অথবা আদৌ টাকা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

রিহ্যাব-এর নেতৃত্বে তরুণদের আহ্বান

রিহ্যাব-এর নেতৃত্বে তরুণদের আহ্বান

রিহ্যাবের নবনির্বাচিত পরিচলক ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষ থেকে রিহ্যাবের নবনির্বাচিত সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

গত মঙ্গলবার রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদ ২০২১-২৩ নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন শামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচিত ২৬ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৩ জনসহ মোট ২৯ জন পরিচালক নির্বাচিত হন।

নতুন প্রজন্ম আবাসন ব্যবসায় চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ‘রিহ্যাব’-এর নবনির্বাচিত সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল। তাই তিনি তরুণদেরকেই রিহ্যাব দেখাশোনা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘তরুণদেরকেই রিহ্যাব লিড দিতে হবে।’

গত বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে ন্যাশনাল প্লাজায় রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় তরুণ নেতৃত্বকে নিয়ে আসার দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান রিহ্যাবের নবনির্বাচিত পরিচালক ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল। তিনি বলেন, ‘রিহ্যাব সভাপতির নেতৃত্বে নবনির্বাচিত কমিটি দেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে গুনগত পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের আবাসন সৃষ্টিতে সহযোগিতা করে এই কমিটির তরুণরা ভবিষ্যতে রিহ্যাবের নেতৃত্ব দেবে।’

গত মঙ্গলবার রিহ্যাব-এর পরিচালনা পর্ষদ ২০২১-২৩ নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন শামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচিত ২৬ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৩ জনসহ মোট ২৯ জন পরিচালক নির্বাচিত হন।

শেয়ার করুন

দাম কমাতে শুল্ক কমল পেয়াঁজ-চিনির

দাম কমাতে শুল্ক কমল পেয়াঁজ-চিনির

প্রতীকী ছবি

পূজার কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আসা ও সেখানে দাম বাড়ার অজুহাতে সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছিল।

ভোক্তা যেন বাজার থেকে সহনীয় দামে পেঁয়াজ ও চিনি কিনতে পারেন, সেজন্য এই দুটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্কহার কমানো হয়েছে।

বর্তমানে পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ। এই শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা আরডি ২০ শতাংশ। এটি কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ‘এনবিআর’। একই দিনে নতুন শুল্কহার কার্যকর করা হয়েছে।

পেঁয়াজের শুল্ক হার কমানোর মেয়াদ বলবৎ থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর চিনির ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি।

এনবিআর বলেছে, চিনি ও পেঁয়াজের শুল্কহার কমানোর ফলে এই দুটি পণ্যের দাম কমবে এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে তা খেতে পারবেন।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই দুটি পণ্যের শুল্ক তুলে নেয়ার জন্য এনবিআরকে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়। এ অবস্থায় প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে এনবিআর।

পূজার কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আসা ও সেখানে দাম বাড়ার অজুহাতে সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে।

কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম হুট করে বেড়ে হয়ে যায় ৮০ টাকা। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গত ১১ অক্টোবর বৈঠকে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

ব্যাংক-পুঁজিবাজার বন্ধ আগামী বুধবার

ব্যাংক-পুঁজিবাজার বন্ধ আগামী বুধবার

ব্যাংক বন্ধ থাকবে আগামী বুধবার। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঘোষিত ছুটি ১৯ অক্টোবরের পরিবর্তে ২০ অক্টোবর, বুধবার নির্ধারণ করা হলো।

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আগামী বুধবার দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ওই দিন পুঁজিবাজারও বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহস্পতিবারের সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ১৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

‘জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঘোষিত ছুটি ১৯ অক্টোবরের পরিবর্তে ২০ অক্টোবর, বুধবার নির্ধারণ করা হলো।’

শেয়ার করুন

কিউকমসহ ১০ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত

কিউকমসহ ১০ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত

কিউকম ডটকমের সিইও রিপন মিয়া। ছবি; সংগৃহীত

বিএফআইইউয়ের চিঠিতে হিসাব স্থগিত করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এহসান গ্রুপ, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স, এহসান এমসিএস লিমিটেড, এহসান মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ, নুরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, মেসার্স নুর জাহান ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, মেসার্স আল্লার দান বস্ত্রালয়, মেসার্স পিরোজপুর বস্ত্রালয়, কিউকম লিমিটেড ও জেএমআর ডিজিটাল ইন্টারন্যাশনাল।

লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম, এহসান গ্রুপের আট প্রতিষ্ঠান ও জেএমআর ডিজিটাল ইন্টারন্যাশনালসহ দশ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও আট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধিত-২০১৫) সালের ২৩ (১) (গ) ধারার ক্ষমতা বলে ব্যাংক হিসাবগুলো ৩০ কার্যদিবসের জন্য স্থগিত থাকবে। এ সময় এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থেকে আর কোনো টাকা তোলা যাবে না।

বিএফআইইউয়ের চিঠিতে হিসাব স্থগিত করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এহসান গ্রুপ, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স, এহসান এমসিএস লিমিটেড, এহসান মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ, নুরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, মেসার্স নুর জাহান ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, মেসার্স আল্লার দান বস্ত্রালয়, মেসার্স পিরোজপুর বস্ত্রালয়, কিউকম লিমিটেড ও জেএমআর ডিজিটাল ইন্টারন্যাশনাল।

এছাড়া কিউকমের মালিক রিপন মিয়া, এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তার ভাই আবুল বাশার খান শামীম এহসানসহ হিসাব স্থগিত করাদের তালিকায় রয়েছেন মাহমুদুল হাসান, সালমা হাসান, সুমনা হক রানী ও সাইফুল হক।

একইদিন বরখাস্ত পুলিশের পরিদর্শক সোহেল রানাসহ আরও ১৯ জনের হিসাব তলব করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল ও শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীও পাঠাতে হবে।

হিসাব তলব করা ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন ই-অরেঞ্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের পরিদর্শক গ্রেপ্তার সোহেল রানা, সনিয়া মেহজাবিন, ই-অরেঞ্জের মালিক বিথী আক্তার, এমএম ইস্পাহানির এক্সিকিউটিভ মোমেনা আক্তার মাসুমা, গ্রুপ ১৯৭১ এর পরিচালক নাজমা সুলতানা পিয়া, মোহাম্মদ জায়েদুল ফিরোজ, অনিরুদ্ধ রাজবংশী, প্রতিমা রাজবংশী, শুভাশিস রাজবংশী, জোছনা রাজবংশী, আতিকুল ইসলাম, লিপি ইসলাম, মোর্শেদা আক্তার রতনা, নিলুফা বেগম, মিজানুর রহমান, রেহেনা আক্তার, জিনাত ফাতেমা, আসানুল আজিম এবং নাসিম।

শেয়ার করুন