বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত তাঁর নতুন সিনেমা ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ নিয়ে পুনরায় বড় পর্দায় ফিরছেন। গত বছর ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমার ব্যর্থতার পর এটিই হতে যাচ্ছে এ বছর প্রেক্ষাগৃহে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার এক লোমহর্ষক এবং বীরত্বপূর্ণ সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক মনোজ তাপাডিয়া। এতে কঙ্গনা কামা হাসপাতালের সাহসী স্টাফ নার্স অঞ্জলি কুলথের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সেই ভয়াবহ রাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৪০০ রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। আগামী ১২ জুন সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সিনেমাটির প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রনৌত নার্সিং পেশার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্সদের হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হলেও তাঁদের বেতন দেওয়া হয় অত্যন্ত নগণ্য। অভিনেত্রীর মতে, সাধারণ মানুষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকদের অবদানের কথাই মনে রাখেন, কিন্তু লাখ লাখ নার্স যারা দিনরাত সেবা দিয়ে হাসপাতাল সচল রাখছেন, তাঁদের অবদান বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যায়। এমনকি বিনোদন জগতে বা পপ-কালচারে নার্সদের যেভাবে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়, তাতে এই মহান পেশার মর্যাদা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নার্সদের কাজের পরিবেশের পাশাপাশি তাঁদের প্রচলিত ইউনিফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা। তাঁর দাবি, বর্তমানের নার্সদের পোশাকে এখনো ঔপনিবেশিক আমলের ছাপ স্পষ্ট রয়ে গেছে। পিন, ক্যাপ কিংবা বেল্টের মতো উপকরণের সাথে বিদেশি সামরিক সংস্কৃতির যোগসূত্র রয়েছে, যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুব একটা আরামদায়ক বা প্রয়োজনীয় নয়। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এই পোশাকে আধুনিক ও সুবিধাজনক পরিবর্তন আনা জরুরি। কঙ্গনার মতে, একজন নার্সের প্রকৃত পরিচয় তাঁর বাহ্যিক পোশাকে নয়, বরং তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সেবার মানসিকতায় নিহিত।
অভিনয়ের পাশাপাশি এই সিনেমার অন্যতম প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন কঙ্গনা রনৌত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অঞ্জলি কুলথের মতো একজন অকুতোভয় নার্সের জীবন সংগ্রাম পর্দায় দেখার পর এই পেশাজীবীদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যদি এই সিনেমার মাধ্যমে নার্সরা তাঁদের যোগ্য সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ফিরে পান, তবেই তাঁর সৃজনশীল পরিশ্রম সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে নতুন করে দেশপ্রেম ও মানবিকতার বোধ জাগ্রত করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি অল্প বাজেটের হরর সিনেমাগুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। বড় তারকা বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে 'অবসেশন' ও 'ব্যাকরুমস' নামের দুটি চলচ্চিত্র। মজার বিষয় হলো, আলোচিত এই দুটি সিনেমার নেপথ্যে রয়েছেন দুই তরুণ ইউটিউবার। ২৬ বছর বয়সী ক্যারি বার্কার নির্মাণ করেছেন 'অবসেশন' এবং মাত্র ২০ বছর বয়সী কেন পারসনস পরিচালনা করেছেন 'ব্যাকরুমস'। ইউটিউবকে 'ফিল্ম স্কুল' হিসেবে ব্যবহার করে এই দুই তরুণ নির্মাতা প্রমাণ করেছেন যে মেধা আর সৃজনশীলতা থাকলে সীমিত সম্পদেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব।
ক্যারি বার্কারের পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্প ও ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে দর্শক মনস্তত্ত্ব আয়ত্ত করেন। ২০২৪ সালে মাত্র ৮০০ ডলার বাজেটে বন্ধুদের নিয়ে 'মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল' বানিয়ে তিনি প্রথম চমক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'অবসেশন' টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হওয়ার পর ফোকাস ফিচারস এর স্বত্ব কিনে নেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং এটি ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ছবিটির রহস্যময় প্রচারণা এবং কাল্পনিক জাদুকরি বস্তুর বাণিজ্যিক বিপণন এই সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে, কেন পারসনস তাঁর 'ব্যাকরুমস' সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় একটি হরর কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে ইউটিউবে তাঁর তৈরি করা ভিডিও সিরিজটি ২০০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে। এই প্রতিভা দেখে এ২৪ স্টুডিও তাঁকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেনের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহান্তেই ৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় করে, যা এ২৪ স্টুডিওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড। বাস্তব জগতের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে এক অন্তহীন হলুদ দেয়ালের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ার ভীতি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
এই সিনেমাগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে আধুনিক দর্শকদের গতানুগতিক হলিউড ব্লকব্লাস্টারের প্রতি অনীহা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকরা এখন প্রথাগত রক্তারক্তি বা সস্তা চমকের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ও আবহভিত্তিক ভীতি বেশি পছন্দ করছেন। 'ব্যাকরুমস'-এ নিঃসঙ্গতা আর অজানা শব্দের মাধ্যমে যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যান কমিউনিটি ও মিম সংস্কৃতির কারণে এই ছবিগুলো দ্রুত পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই তরুণের সাফল্য হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোকে এখন ইউটিউব ও স্বাধীন নির্মাতাদের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য করছে।
ছবি: এআই নির্মিত
দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের হাত ধরে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতে নরওয়ে দল ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক বিচিত্র কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি মাথায় রেখে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের সাথে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী উড়িয়ে নিয়ে এসেছে।
আমেরিকার স্থানীয় খাবারের ওপর শতভাগ ভরসা না করে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারের ওপরই আস্থা রাখছে নরওয়েজিয়ানরা। তাদের এই অদ্ভুত রসদের তালিকায় রয়েছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ। মূলত মেগা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদেশের মাটিতেও পরিচিত স্বাদের খাবার বজায় রাখাই এই বিশাল আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। ফুটবলারদের ডায়েট চার্টকে নিখুঁত রাখতে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এই নজিরবিহীন ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
খেলোয়াড়দের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির লক্ষ্যে দলের সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন নরওয়ের দুই প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকেও নরওয়ে দলের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন। এই দুই অভিজ্ঞ শেফ দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে হাল্যান্ড ও ওডেগার্ডদের শারীরিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করছেন। তাঁরা মনে করেন, সঠিক ডায়েটই পারে মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের ক্লান্তিহীন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে।
নরওয়ে থেকে সুদূর আমেরিকায় প্রায় আধ টন মাছ ও অন্যান্য খাবার পরিবহন করা ছিল এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড জানান যে, খাঁটি নরওয়েজিয়ান উপাদানের গুণগত মানের ওপর তাদের অবিচল বিশ্বাসের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে, খাবারে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণের উৎস, এমনকি কোন কৃষক সেটি চাষ করেছেন কিংবা কোন জেলে মাছটি ধরেছেন—সে সম্পর্কেও তাঁরা নিশ্চিত থাকতে চান। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়ে ফুটবলারদের সেবা করতে পারাটা তাঁদের কাছে এক বড় প্রাপ্তি।
নরওয়ের এমন নিখুঁত ও পেশাদার প্রস্তুতি ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডায়েটের প্রতি এই গভীর মনোযোগ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে। আর্লিং হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন এবং ওডেগার্ডের মতো মাঝমাঠের কারিগরদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নিতেই এই সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে কেবল তাদের ফুটবল দিয়েই নয়, বরং তাদের জীবনযাত্রা ও উন্নত ব্যবস্থাপনা দিয়েও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে প্রস্তুত।
শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’ ও তার গোয়েন্দা দলটি এবার নতুন এক আঙ্গিকে ফিরছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। সম্প্রতি ওটিটি জায়ান্টটি তাদের আসন্ন লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ ‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর একটি প্রাথমিক ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ছোট এই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের ঘন জঙ্গলে দৌড়ানোর সময় শ্যাগির সাথে প্রথমবার দেখা হয় গ্রেট ডেন জাতের কুকুর স্কুবি-ডুর। জনপ্রিয় এই কার্টুনটির আধুনিক ও বাস্তবসম্মত রূপান্তর ভক্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
সিরিজটির শুটিং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় পুরোদমে চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশনের ব্যানারে সিরিজটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে বার্লান্টি প্রোডাকশনস ও মিডনাইট রেডিও। সিরিজের মূল গোয়েন্দা দল ‘মিস্ট্রি ইনক’-এর চিরচেনা চরিত্রগুলোতে দেখা যাবে একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ তারকাকে। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেতা পল ওয়াল্টার হাউজার এই সিরিজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন। সিরিজটির লেখক ও প্রধান পরিচালক হিসেবে রয়েছেন জশ অ্যাপেলবাম ও স্কট রোজেনবার্গ, আর এর প্রথম পর্বটি পরিচালনা করছেন প্রখ্যাত পরিচালক টবি হেইন্স।
‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর গল্পটি মূলত এই গোয়েন্দা দলের একদম শুরুর দিকের কাহিনী নিয়ে সাজানো হয়েছে। ক্যাম্পের শেষ গ্রীষ্মের ছুটিতে পুরনো দুই বন্ধু শ্যাগি ও ড্যাফনি একটি রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি হয়। কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রেট ডেন কুকুরছানা, যে সম্ভবত একটি অতিপ্রাকৃত হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। পরবর্তীতে দলের বাকি দুই সদস্য ভেলমা এবং নতুন ছেলে ফ্রেডিকে সাথে নিয়ে তারা এই জটিল রহস্যের সমাধানে নামে। পুরো সিরিজ জুড়ে এই দলের গড়ে ওঠার পেছনে থাকা রোমাঞ্চকর সব অভিযান ফুটিয়ে তোলা হবে।
গল্পটি কেবল সাধারণ রহস্য সমাধান নয়, বরং গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক মোড় নিতে যাচ্ছে বলে নির্মাতারা আভাস দিয়েছেন। তদন্ত করতে গিয়ে মিস্ট্রি ইনক দলটি এমন এক দুঃস্বপ্নের জালে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই আধুনিক রূপান্তরটি আগের অ্যানিমেশন সিরিজের তুলনায় অনেকটা রহস্যময় এবং রোমহর্ষক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলেবেলার প্রিয় চরিত্রগুলোকে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে নতুনভাবে পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্য নেটফ্লিক্সের এই উদ্যোগ একটি বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকার শোবিজের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্নিগ্ধতম অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত আফসান আরা বিন্দু দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্দায় ফিরছেন। অনিয়মিত কাজের ভিড়েও দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখা এই অভিনেত্রী এবার একটি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন করে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন। সালেহ সোবহান অনীম পরিচালিত ‘হেডলাইন’ নামের এই সিরিজটি আগামী ২৫ জুন জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-তে মুক্তি পাবে। সোমবার বিকেলে সিরিজটির একটি টানটান উত্তেজনার টিজার প্রকাশের মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিন্দুর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, দীর্ঘ ১০ বছরের বিরতি কাটিয়ে তিনি ২০২৩ সালে ‘উনিশ ২০’ ওয়েব চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়ে ফিরেছিলেন। এরপর আবারও তিন বছরের জন্য পর্দার আড়ালে চলে যান তিনি। তবে এবার ‘হেডলাইন’ সিরিজের মাধ্যমে তাঁর সেই দীর্ঘ নীরবতা ভাঙছে। এই সিরিজে বিন্দু অভিনয় করেছেন ‘আইরিন’ নামক একটি চরিত্রে, যাকে প্রকাশিত টিজারে মূলত একজন দক্ষ ‘সমস্যা সমাধানকারী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই রহস্যময় উপস্থিতি ও ভিন্নধর্মী চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে নতুন করে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এই টিজারে সিরিজের গল্পের একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে সংবাদের পেছনে সাংবাদিকদের নিরন্তর ছুটে চলা এবং তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের অন্ধকার জাল। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে বিন্দুর পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও উদীয়মান তারকা ইয়াশ রোহান। অপূর্বকে এখানে একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র সাংবাদিক এবং ইয়াশকে একজন উদ্যমী তরুণ রিপোর্টারের ভূমিকায় দেখা যাবে। পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও টানাপোড়েন এই গল্পের মূল উপজীব্য।
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, ইয়াশ রোহান এবং বিন্দু ছাড়াও এই তারকাবহুল সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সারিকা সাবরিন, শ্যামল মাওলা, ফারহানা হামিদ ও ইন্তেখাব দিনারের মতো জনপ্রিয় সব শিল্পী। পরিচালক সালেহ সোবহান অনীম জানান, বর্তমান সময়ের অস্থিরতার মাঝে দর্শকদের একটি ভিন্নধর্মী ও স্বস্তির গল্প উপহার দিতেই ‘হেডলাইন’ নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আবহে তৈরি একটি ধ্রুপদী পারিবারিক ড্রামা। যে ধরনের গল্পে মানুষ সাধারণত অভ্যস্ত বা যা মনের খুব কাছের, ঠিক সেই ঘরানার আবহেই সিরিজটি তৈরি করা হয়েছে।
টিজার প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। বিশেষ করে অপূর্বর সাথে বিন্দুর নতুন রসায়ন এবং ইয়াশ রোহানের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই তাদের দর্শকদের জন্য এই মাসে অন্যতম আকর্ষণীয় কনটেন্ট হিসেবে ‘হেডলাইন’-কে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিকতা আর পারিবারিক রহস্যের এই মেলবন্ধন দর্শকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার কতটুকু প্রতিফলন ঘটাতে পারে। আগামী ২৫ জুন থেকেই দর্শকরা পূর্ণাঙ্গ সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন।
থিয়েটার ও মঞ্চনাটকের জগতের সবথেকে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘টনি অ্যাওয়ার্ডস’-এর ৭৯তম আসরে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জন লিথগো। গত ৭ জুন নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক রেডিও সিটি মিউজিক হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘জায়ান্ট’ নাটকে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন। সিনেমার জন্য অস্কার বা টেলিভিশনের জন্য এমি যেমন প্রভাবশালী, মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে টনি অ্যাওয়ার্ডস ঠিক ততটাই গুরুত্ব বহন করে। এবারের আসরে জন লিথগোর এই জয় কেবল একটি ট্রফি প্রাপ্তি নয়, বরং এটি বয়সভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদী সফলতার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
৮০ বছর বয়সে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে জন লিথগো টনি অ্যাওয়ার্ডসের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ডিক লাটেসা এবং আন্দ্রে দে শিল্ডস ৭৩ বছর বয়সে এই পুরস্কার জিতে এতদিন পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ বিজয়ীর তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। তাঁদের সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে লিথগো প্রমাণ করেছেন যে, শিল্প ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। তাঁর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং জয়লাভ উপস্থিত দর্শক ও থিয়েটার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক অনন্য উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
রেকর্ডের এই তালিকায় আরও একটি বিষয় সবাইকে অবাক করেছে, যা হলো জন লিথগোর প্রথম ও তৃতীয় টনি জয়ের মধ্যবর্তী বিশাল সময়। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় টনি ট্রফি, যার প্রথমটি তিনি অর্জন করেছিলেন ১৯৭৩ সালে ‘দ্য চেঞ্জিং রুম’ নাটকের জন্য। প্রথম এবং সাম্প্রতিক এই জয়ের মাঝখানে অতিবাহিত হয়েছে দীর্ঘ ৫৩ বছর। টনি অ্যাওয়ার্ডসের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে আর কোনো অভিনয়শিল্পীর জীবনে দুটি পুরস্কার জয়ের মাঝে এত বিশাল সময়ের ব্যবধান দেখা যায়নি। এটি তাঁর দীর্ঘ পাঁচ দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারের এক অনন্য ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
পুরস্কার হাতে নিয়ে জন লিথগো তাঁর স্বভাবসুলভ হাস্যরসের মাধ্যমে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর ক্যাটাগরিতে মনোনীত তরুণ অভিনেতাদের কাজের প্রশংসা করে মজা করে বলেন যে, ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত এক ‘বুড়ো মানুষের’ কাছেই চলে এলো। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৫৩ বছরের এই দীর্ঘ ব্যবধানে তিনি থিয়েটার ও মঞ্চের নানা রূপান্তর এবং বিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। লিথগোর মতে, এই শেষ বয়সে এসে এমন সম্মাননা প্রাপ্তি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন এবং এটি তাঁকে নতুনভাবে প্রাণশক্তি যুগিয়েছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের দাপট ধরে রাখা জন লিথগো কেবল থিয়েটারেই নয়, সিনেমা ও টেলিভিশনেও সমানভাবে সফল। তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি এমি পুরস্কার, দুটি গোল্ডেন গ্লোব এবং অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা। এছাড়াও তিনি চারবার গ্র্যামি এবং দুবার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। মঞ্চনাটকের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর অদম্য নিষ্ঠাই তাঁকে ব্রডওয়ের মঞ্চে আজ এক অমর কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। এবারের টনি অ্যাওয়ার্ডসের আসরটি মূলত তাঁর এই ঐতিহাসিক কীর্তির জন্যই বিশ্বজুড়ে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
রুপালি পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন এক চমক নিয়ে আসছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির জন্য নির্মিত নতুন একটি অরিজিনাল ওয়েব ফিল্মে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। ‘লাইফলাইন’ শিরোনামের এই বিশেষ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা কাজী আসাদ। দীর্ঘ বিরতির পর মিমের ওটিটিতে ফেরার এই সংবাদটি বিনোদন জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ওটিটি জায়ান্ট চরকি এই নতুন প্রজেক্টের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির প্রথম প্রমোশনাল পোস্টার প্রকাশ করা হয়। পোস্টারটিতে একটি রহস্যময় আবহ বজায় রাখা হয়েছে এবং ক্যাপশনে সময়ের গুরুত্বকে ইঙ্গিত করে লেখা হয়েছে, ‘লাইফের এই জার্নিতে সময় যখন এক বিশাল প্রতিপক্ষ’। কাজী আসাদ পরিচালিত এই অরিজিনাল ফিল্মটি খুব শীঘ্রই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
‘লাইফলাইন’ সিনেমাটির কাহিনী বা অন্যান্য প্রধান চরিত্রগুলোতে কারা অভিনয় করেছেন, সে বিষয়ে এখনও এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রেখেছে নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। জীবনের চড়াই-উতরাই আর সময়ের জটিল সমীকরণ পর্দায় কীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শকদের মনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মিমকে এই চলচ্চিত্রে কোন ধরনের অবতারে দেখা যাবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়। চরকি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি জীবনঘনিষ্ঠ এবং ভিন্নধর্মী একটি গল্প হতে যাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে বিদ্যা সিনহা মিম তাঁর ক্যারিয়ারের বেশ তুঙ্গে রয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বড় পর্দায় ‘মালিক’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওটিটির পর্দায় তাঁর এই নতুন যাত্রা মিমের পেশাগত বৈচিত্র্যকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে। আধুনিক নির্মাণশৈলী আর চিত্রনাট্যের গুণে ‘লাইফলাইন’ তাঁর ক্যারিয়ারে আরও একটি সাফল্যের পালক যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি গত কয়েক বছরে মানসম্পন্ন কনটেন্ট উপহার দিয়ে দর্শকদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। কাজী আসাদের নির্দেশনায় এবং মিমের শক্তিশালী অভিনয়ে ‘লাইফলাইন’ সিনেমাটিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শকরা এখন সিনেমাটির মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। খুব শীঘ্রই এর টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে গল্পের প্রেক্ষাপট ও মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ জানানো হবে বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য