নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে বাম দলগুলো

নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে বাম দলগুলো

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম (বাঁয়ে), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (মাঝে) ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

‘ইলেকশন করব কী করব না, আমাদের আন্দোলনের পটভূমিতে আমরা যখন ইলেকশন আসবে, সেটা কী ধরনের ইলেকশন হচ্ছে, সেটা দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’ 

সব ঠিক থাকলে ২০২৩ সালের শেষে অথবা ২০২৪ সালের শুরুতে হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের অনেক সময় বাকি থাকলেও প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

কমপক্ষে দুই বছর পর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে বামপন্থি দলগুলো, তা জানতে আলাপ হয় তিন নেতার সঙ্গে। তাদের বক্তব্যে নির্বাচনি ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দলগুলোর মনোভাব উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

আগামী নির্বাচন নিয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের ব্যাপারে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

সেলিম বলেন, ‘নির্বাচনে কেউ কোনো পয়সা খরচ করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন সবার জন্য (প্রার্থী) পোস্টার ছাপিয়ে দেবে; তার জীবনবৃত্তান্ত ছাপিয়ে দেবে, কর্মসূচি ছাপিয়ে দেবে। এগুলো নিয়ে আমাদের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও সুপারিশমালা আমরা ২০ বছর ধরে সব সরকারের কাছে দিয়ে যাচ্ছি। সব ইলেকশন কমিশনের কাছে দেয়া আছে।’

নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সেলিম বলেন, ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হলো এখন আমাদের অগ্রাধিকার। নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আমাদের কথা হলো, বিধি-বিধান, আইন করে সেটা করতে হবে।’

সিপিবি নির্বাচনে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সভাপতি বলেন, ‘ইলেকশন করব কী করব না, আমাদের আন্দোলনের পটভূমিতে আমরা যখন ইলেকশন আসবে, সেটা কী ধরনের ইলেকশন হচ্ছে, সেটা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এখন পর্যন্ত একটা অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নাই। কিন্তু আমাদের তো একটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে ২০২৩ সাল শেষে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের।

‘এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট, দলীয় সরকারের অধীনে বাস্তবে বাংলাদেশে এখন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। এটা বিশেষ করে আমরা দেখছি যে, গত কয়েকটি নির্বাচনে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচন ও ২০১৮ সালের যে তামাশাপূর্ণ নির্বাচন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে, আমাদের এখানে দলীয় সরকারের অধীনে বাস্তবে মানুষের ভোটাধিকার অস্বীকৃত এবং সরকার এমন কোনো নির্বাচনে যাচ্ছে না, যে নির্বাচনে তারা হেরে যেতে পারে। গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা বাস্তবে বিপর্যস্ত হয়েছে। পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর একটা গণহতাশা, গণ-অনাস্থা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রকৃতপক্ষে বিদায় দেয়া হয়েছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই নির্বাচন, এখানে একটা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার ছাড়া ভোটের ন্যূনতম অধিকার, ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে, পছন্দের দল বা প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে—এর কোনো সুযোগ হবে না।

‘সে কারণে আমরা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকেও বলেছি যে, এই সরকারকে অবশ্যই নির্বাচনের আগেই পদত্যাগ করতে হবে, পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।’

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে সরকারি দলের বক্তব্যের বিষয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারি দল থেকে বলছে তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না। সংবিধান তো একটা কাগুজে ব্যাপার। সংবিধান তো মানুষের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য। সর্বশেষ সংবিধান সংশোধনের আগে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কমপক্ষে আরও দুটি নির্বাচন তদারকি সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হওয়া উচিত।

‘পরবর্তী সময়ে সরকার সংবিধান সংশোধন করে এটাকে বাতিল করবে। সুতরাং দেশের জন্য, মানুষের প্রয়োজনে আমরা মনে করি যে প্রয়োজনবোধে এটা সংশোধন করে নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের জায়গাটায় যাওয়া দরকার।’

নির্বাচন নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তুতি কেমন, তা জানতে চাওয়া হয় সাইফুল হকের কাছে।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা তো প্রথমত নির্বাচনপন্থি দল নই; বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বা আমাদের বাম জোট, আমরা আন্দোলনের জোট। আমরা একটা গণবিপ্লবের পার্টি বা গণবিপ্লবের জোট। তার পরও আমরা নির্বাচনটাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংগ্রাম হিসেবে বিবেচনা করি।

‘আমরা ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করেছি, প্রত্যাখ্যান করেছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা আবার অংশগ্রহণ করেছি। এই বছর আমাদের জোট থেকে তিনটি প্রতীকে আমরা নির্বাচন করেছি। ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল মার্কায়, বাসদ মই মার্কায় আর সিপিবি কাস্তে মার্কায়। সুতরাং নির্বাচন তো আমরা নিশ্চয়ই করতে চাই। তার জন্য একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের ভাবনাটা হচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, এই ১১টা নির্বাচনের মধ্যে মোটামুটি চারটি নির্বাচন ছাড়া বাকি সব নির্বাচন নিয়ে শুধু প্রশ্ন। এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে, রাজনৈতিক মহলের মধ্যে প্রশ্ন আছে। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বলতে পারি। যে চারটি আপাত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল, সেই চারটি ছিল দলীয় সরকারের বাইরে নির্বাচন পরিচালনা করার মাধ্যমে। যেমন: ১৯৯১ সালের, ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন, ২০০১ সালের এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন।

‘এই চারটা নির্বাচন তুলনামূলকভাবে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত আপাত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল। আর বাকি সব নির্বাচনই, দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সব কটি নির্বাচনই গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করতে পারেনি। এ কারণে আমরা বলেছিলাম যে, ১১টি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, দলীয় সরকারের নির্বাচন করা আমাদের এখানে, অন্তত গণতান্ত্রিক যতটুকু মূল্যবোধ থাকবে, দলীয় সরকারের অধীনেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে। সেই মূল্যবোধের চর্চাটাও ক্ষমতাসীন দল করে না। প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করে।’

নির্বাচন নিয়ে বামপন্থি দলগুলোর প্রস্তাব বিষয়ে রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘বামপন্থি দলগুলোর পক্ষ থেকে তিনটা প্রস্তাব আমাদের ছিল। প্রথমত, নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন দলের প্রশাসনিক প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। ২ নম্বর হচ্ছে, আমাদের এখন যে উইনার টেকস অল প্রবণতা, অর্থাৎ যে বিজয়ী হলো সে-ই সব আর যে হেরে গেল সব হারাল, এটার পরিবর্তে আমরা চেয়েছিলাম সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের কথা। ৩ নম্বর হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন মর্যাদাসম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে কালো টাকা, পেশিশক্তি এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারমুক্ত নির্বাচন করতে হবে। এ রকম একটা পরিস্থিতি আমরা প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই তিনটা কাজ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, অবাধও হবে না এবং তা গ্রহণযোগ্যও হবে না। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের এই পরিবেশটা তৈরির জন্য দীর্ঘদিন কথা বলে আসছি।

‘সেদিকে নজর না দিয়ে শুধু নির্বাচনের কথা বলে আমাদের একটা নির্বাচনি বাধ্যবাধকতা এবং তামাশার নির্বাচনের মধ্যে আটকে ফেলার চেষ্টা বারবার চলছে। এই জন্য আমরা একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি যে, বিগত নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত সেই দৃষ্টান্ত আমাদের বলে যে ওই ধরনের নির্বাচন হলে তা দেশের গণতন্ত্রকে কোনোভাবেই সংহত করবে না।’

২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল এটা একটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচনের পর আমরা দেখলাম গণতান্ত্রিক নিয়মবিধি কোনোটাই রক্ষিত হয়নি। ২০১৮ সালে বলা হয়েছিল, আসুন আমরা সবাই মিলে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করি; আমাদের ওপর ভরসা রাখুন, আস্থা রাখুন। ২০১৪ সালের নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে নিয়ম রক্ষিত হয়নি, ২০১৮ সালের আস্থা রক্ষার নির্বাচনে আস্থাটা রক্ষা হয়নি।

‘২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে তারা অনেকে বলছেন, এখন প্রশাসনের খবরদারিমুক্ত, হস্তক্ষেপমুক্ত নির্বাচন হবে। ফলে আগের দুটিতে যেহেতু কথা রাখতে পারেনি, পরেরটাতে যে কথা রক্ষিত হবে, এতে কোনো ভরসা নাই। সে কারণে আমরা বলি যে নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক পরিবেশটা খুবই দরকার। সেটার জন্য আমরা কথা বলছি। ফলে এখনই আমরা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার কোনো বিষয়ে আলোচনা করছি না। আমরা বলছি, নির্বাচনের পরিবেশটার বিষয়ে।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইনের বিষয়ে রতন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য আমাদের সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, একটা নির্বাচন কমিশন আইন হইবে এবং এই আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ প্রদান করা হইবে।’

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্বাচন কমিশন ও কমিশনার নিয়োগ নিয়ে আইন না থাকায় আক্ষেপ করেন রতন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ৫০ বছরে যারাই ছিলেন, তারা সব সময় সংবিধানের দোহাই দেন, কিন্তু নির্বাচন যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অঙ্গ, সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ করবার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আইন থাকা দরকার। সেই আইন তারা এখন পর্যন্ত প্রদান করেননি। ফলে কখনও চাপে এবং কখনও গণ-আন্দোলনের চাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছে, আর কখনও কখনও নিজেদের মর্জিমতো নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিয়েছে।

‘ফলে নির্বাচন কমিশন এখানে কখনও মর্যাদাপূর্ণও হয় নাই, স্বাধীনও হয় নাই এবং নির্বাচন কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে নাই। সার্চ কমিটির নামে যে কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটায় আছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রস্তাব দিবেন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে, রাষ্ট্রপতি তার মধ্য থেকে বেছে নেবেন। কিন্তু আমরা দেখেছি, সার্চ কমিটির মাধ্যমেও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার চাইতেও নির্বাচন কমিশনার যারা হয়ে যান তাদের গায়ে দলীয় লেবেল এঁটে দেয়া হয় এবং তারাও নিরপেক্ষভাবে আর কাজ করতে পারেন না।’

সরকারের কাছে এখনও সময় আছে মন্তব্য করে জ্যেষ্ঠ এ রাজনীতিক বলেন, ‘আমরা মনে করি, এখনও সময় আছে। পার্লামেন্টে যেহেতু একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ও যেকোনো ধরনের সংশোধনী আনার যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ক্ষমতাসীন দলের, তারা যদি একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য একটা নির্বাচন কমিশন আইন করতে চান, এটা যথেষ্ট সময়।’

শেয়ার করুন

মুরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগও

মুরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগও

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বিব্রত, লজ্জিত। এর বাইরে আর কী বলার আছে।’ আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। যে অডিওগুলো এসেছে এগুলো যদি সত্যি হয়, বানানো না হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সুপারিশ করব।’

মন্ত্রিসভা থেকে সরে যেতে হচ্ছে, এখানেই শেষ নয়, দল হিসেবেও মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুরাদের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে কোনো পদ নেই। তিনি তার নিজ জেলা জামালপুর শাখার স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নিতে হলে জেলা কমিটি থেকে সুপারিশ আসতে হবে। এরপর কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যবস্থা নেবে।

নিউজবাংলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এখনও দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হবে, এর পর আমি আপনাকে বলতে পারব কী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দুই নেতার বক্তব্য ফেসবুকে প্রকাশ হলে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে তারা স্থানীয় সরকার ও দলের পদ হারান। এরা হলেন গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও রাজশাহীর কাটাখালীর আব্বাস হোসেন।

তবে মন্ত্রিত্ব হারালে আর দল কোনো ব্যবস্থা নিলে, এমনকি বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্য পদ যাবে না মুরাদের।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য দেয়ার ঘটনায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ও দল থেকে বহিষ্কারের পর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরে তিনি নিজে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।

মুরাদ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০৮ সালে। তবে তার আসন ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরেরবার নৌকা আবার প্রার্থী দেয় আর জিতে আসেন মুরাদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মুরাদকে প্রথমে করা হয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর একটি অভিজাত হাসপাতালে একটি ঘটনায় তার দপ্তর বদল করে করা হয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তবে মন্ত্রিসভা ও দলে তার অবস্থান বেশ সংহতই ছিল।

আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সিআরআইএ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা সম্প্রতি ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবি তোলেন। তার এই দাবি সেক্যুলার রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়।

তবে তিনি সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে এসে যে ভাষায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে আক্রমণ করেন, সেটিতে নিন্দার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অশালীন ভাষায় ঘায়েল করার এই চেষ্টার পর প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। নারী নেত্রীরাও এর সমালোচনা করেন। তিনি এই ধরনের বক্তব্য দিয়েও কীভাবে মন্ত্রিসভায় থাকেন, সেই প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন।

এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, তিনি দুঃখ প্রকাশ করবেন কি না। জবাবে মুরাদ বলেন, তিনি বক্তব্যে অটল আর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সমালোচনাকে গা করছেন না।

এর মধ্যে ফেসবুকে একটি ফোন রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যাতে পুরুষ কণ্ঠের একজন মুরাদ হাসান বলে চিহ্নিত হন। তিনি একজন চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। না গেলে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তুলে নেয়ার হুমকি দেন। আর সেই নায়িকাকে ধর্ষণ করার ইচ্ছাও পোষণ করেন।

এর আগে আরও একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়েও করেন আপত্তিকর মন্তব্য। এসব ঘটনায় ঘরে-বাইরে সব জায়গায় অবস্থান হারান তিনি।

এসব ঘটনায় সোমবার রাতে মুরাদকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জানান, মঙ্গলবারের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করে মুরাদের শাস্তির দাবিতে। নেতারা বলেন, কেবল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ নয়, মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে তিনি পার পাবেন না।

দিনভর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তারা সবাই বলেছেন, মুরাদ যা করেছেন, তাতে তারা বিব্রত, এটা লজ্জাজনক।

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বিব্রত, লজ্জিত। এর বাইরে আর কী বলার আছে।’

আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। যে অডিওগুলো এসেছে এগুলো যদি সত্যি হয়, বানানো না হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সুপারিশ করব।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে তো আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক কথা বলেছেন। তার বক্তব্যই আমার বক্তব্য।’

মুরাদকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জানানোর আগে সোমবার দুপুরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, মুরাদের বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা সরকারের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের বা সরকারের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য এসব না। এই ধরনের বক্তব্য কেন সে দিল, অবশ্যই আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।’

শেয়ার করুন

মুরাদের বিচার চেয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ

মুরাদের বিচার চেয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ

সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের কুশপুতুল দাহ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা

বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে অনেকে অনেকে বলে থাকেন পাগল। কিন্তু তিনি পাগল বা উন্মাদ নন। তিনি জাতে মাতাল তালে ঠিক। ধর্ম নিয়ে শুরু করে তিনি নারী সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের কুশপুতুল দাহ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তারা মুরাদ হাসানকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের কুশপুতুল নিয়ে জুতা মিছিল করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে শুরু হয়ে শামসুন নাহার হলের পাশ দিয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে মুরাদের কুশপুতুলে জুতা ছুড়ে মারেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘মুরাদের চামড়া, তুলে নিব আমরা’, ‘মুরাদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ম তে মুরাদ, তুই ধর্ষক তুই ধর্ষক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীবের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, 'প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে অনেকে অনেকে বলে থাকেন পাগল। কিন্তু তিনি পাগল বা উন্মাদ নন। তিনি জাতে মাতাল তালে ঠিক। ধর্ম নিয়ে শুরু করে তিনি নারী সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এই লাগামহীন বলদকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন। অন্যথায় আমরা ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানাব- আপনারা তাকে (মুরাদ হাসান) যেখানে পাবেন সেখানে গণধোলাই দেবেন।’

ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য। এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের সব মেয়ের জন্য অপমানজনক।

‘এখন কেন ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ দেখি না। কেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিচার হবে না। তাকে বিচারের আওতায় আনা না হলে আমরা নারী শিক্ষার্থীরা সারা দেশে আন্দোলন শুরু করব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন জানালে ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাবি শাখার দফতর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ‘তাকে অপসারণ করলেই হবে না। তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

শেয়ার করুন

পাপ বাপকেও ছাড়ে না: ব্যারিস্টার সুমন

পাপ বাপকেও ছাড়ে না: ব্যারিস্টার সুমন

ফেসবুক লাইভে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: সংগৃহীত

‘একটু আগে খবর পেলাম যে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিতর্কিত মন্তব্য করে তুমুল সমালোচিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন- পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আইনজীবী বলেন, ‘একটু আগে খবর পেলাম যে প্রধানমন্ত্রী উনাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

‘শুধু মন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করলে হবে না। উনি যে এলাকার এমপি, জামালপুরের এমপি; এমপি হিসেবে বহু মানুষ, বহু মেয়ে তার কাছে যাবে সাহায্যের জন্য। উনার এই চরিত্র নিয়ে যদি এই মেয়েদের... যে ধরনের কথা আসতেছে, সেই চরিত্র নিয়ে কি এমপি থাকার ন্যূনতম যোগ্যতা তার আছে?’

প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এই ব্যক্তির নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক হিসেবে দাবি করার কোনো যোগ্যতা আছে? ওনার যে তিন-চারটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে আছে, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, জরুরিভিত্তিতে সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করুন। কারণ ভিডিওগুলো অপসারণ না করলে বাচ্চারা এ ধরনের গালাগালি ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনে মানসিকভাবে অসুস্থ হবে। তারা এমন একটি অসুস্থ পরিবেশে বড় হবে।

‘আমি মনে করি, ওনার পদত্যাগও অতোটা জরুরি না, যতোটা জরুরি এই ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানো। এই ভিডিওগুলো না সরালে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের যে বিতৃষ্ণা তা আরও বেড়ে যাবে।’

সুমন আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলতাম, মায়ের থেকে যখন মাসির দরদ বেশি হয়ে যায়...। এই ভদ্রলোককে যখন দেখছি কথায় কথায় এত বেশি দরদ দেখাচ্ছেন তখনই আমার সন্দেহ হয়েছিল। এটাকেই আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি। আপনি নিজের কাজটুকু করে যান, আপনার এলাকায় মানুষের সেবা করে যান। আপনার দায়িত্ব স্বয়ং বিধাতা নিতেন। আপনি যদি ভালো কাজ করেন, আপনার নেত্রী এমনিই টানবেন।

‘পাপ বাপরেও ছাড়ে না। পাপ যখন ম্যাচিউর হয় তখন নাকি কাউকেই ছাড়ে না। আমি জানি না উনি মন্ত্রিত্ব পেয়ে কেন দলকে এত বিতর্কিত করলেন। আমরা যারা সাপোর্ট করি, আমাদেরকে কেন বিতর্কিত করলেন। আমি মনে করি যে তাকে পদত্যাগ করতে বলাটা যথার্থ সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী মুরাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের তথ্য উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘অধ্যাপক মতিউর রহমান উনার বাবা, অত্যন্ত সম্মানীয় মানুষ। উনার ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে হলেও এই পদ থেকে উনার রিজাইন করা উচিত বলে আমি মনে করি। এতে তার পরিবারটা বেচে যাবে। এর দায় পরিবারকে বহন করতে হবে না। তা না হলে যে ইতিহাস তিনি সৃষ্টি করেছেন, আমার মনে হয় সেই ইতিহাসে উনার পরিবারও অনেক বেশি প্রভাবিত হবে।’

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতাদের ধন্যবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতাদের ধন্যবাদ

‘আমি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম (মুরাদের পদত্যাগের নির্দেশ)। যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি সঠিক কাজ হয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে থাকেন, তাহলে আমি বলব বহুদিন পর উনি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ওনাকে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার পর ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নারীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

মুরাদের পদত্যাগের দাবি তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারপ্রধান এই নির্দেশ দেয়ার পর নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সেলিমা রহমান।

আব্বাস বলেন, ‘আমি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম (মুরাদের পদত্যাগের নির্দেশ)। যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি সঠিক কাজ হয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে থাকেন, তাহলে আমি বলব বহুদিন পর উনি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ওনাকে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

দুই দিন আগে একটি অনলাইন টকশোয় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেন।

এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই ফেসবুকে একটি টেলিফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি মুরাদের। সেখানে শোনা যায়, তিনি একজনকে ফোন করে এক চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। এই কথোপকথনে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসভ্য’ উল্লেখ করে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যও দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি নেতাদের তীব্র প্রতিবাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে সরে যেতে হবে মুরাদকে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা আব্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, ওনার নিজেরও সন্তান আছে। আমাদেরও সন্তান আছে। আমরা রাজনীতি করি, মাঠেঘাটে মার খাই। কিন্তু আমাদের রাজনীতির বলি কেন আমাদের সন্তানরা হবে?’

বিএনপি নেতা বলেন ‘শুধু আমাদের কথা কেন, এই যে নারী নেত্রীরা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন। সাংবাদিকতার জায়গা থেকে বলুন, যে শব্দ তিনি (মুরাদ) ব্যবহার করেছেন, যে অশ্রাব্য কথা তিনি বলেছেন, সেটা গ্রহণযোগ্য কি না?’

মির্জা আব্বাস এও মনে করেন, মুরাদকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশ না দিয়ে তাকে বরখাস্ত করতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে তিনি আরও খুশি হতেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) বিবেচনাবোধে ধরেছে, তা থেকে তিনি এটা করেছেন, এ জন্য আমরা খুশি। তাই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যে অশ্রাব্য ভাষা এই প্রতিমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতি আমিও করি, আমিও একজন নারী, উনিও (প্রধানমন্ত্রী) একজন নারী। আমরা রাজনীতি করব, কিন্তু আমাদের সন্তানরা তো রাজনীতি করে না। আর রাজনীতি করলেই বা কী, রাজনীতির একটা ভাষা আছে। সমালোচনা করার একটা ভাষা আছে। কিন্তু তিনি (মুরাদ) যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, সেটি পুরো দেশের জন্য একটি কলঙ্কময়।‘

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওনাকে (মুরাদ) আরও আগেই পদত্যাগ করিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এখন সেটা হয়েছে, ঠিক আছে, কিন্তু শাস্তির কী হবে?’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তিনি ফোন ধরে প্রশ্ন শুনে বলেন, ‘আমি এই মাত্র ঘরে ফিরেছি। আপনি ৫ মিনিট পরে ফোন দিন।’

তবে ৫ মিনিট পর কল করলে বিএনপি নেতা আর ফোন ধরেননি। একবার কলটি কেটে দেয়া হয়, পরে ফোন বেজে চললেও সেটি আর ধরেননি তিনি।

শেয়ার করুন

মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে: ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীরা

মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে: ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীরা

২৯ নভেম্বর অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সভায় রকস্টারের ভূমিকায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এবং কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি যাদের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা আছে তাদের কেউ প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে সমর্থন করতে পারে না।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা। তারা বলছেন, নারীর প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে মুরাদকে।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মধ্যে আছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। এর মধ্যে একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার মধ্যে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, মুরাদকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে এসে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেন প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। এরপর রোববার রাতে আরেকটি লাইভেও আপত্তিকর বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়েও অশোভন উক্তি করেন মুরাদ।

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ বলেন, ‘এরা আবার জয়বাংলার কথা বলে। এরা আবার ছাত্রলীগ করছে নাকি। এরা নাকি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এরা নাকি আবার নেত্রী ছিল হলের। কেউ কেউ বলে শামসুন নাহার হল, কেউ কেউ আবার রোকেয়া হল, বিভিন্ন হলের নাকি নেত্রী টেত্রী ছিল।

‘কিন্তু রাতের বেলায় এরা নিজেদের রুমে থাকতেন, ঘুমাতেন হোটেলে হোটেলে। কারণ ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার মজা আর রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হলে থাকা, এটা কি এক কথা?’

তিনি বিদ্রূপের স্বরে আরও বলেন, ‘আমি এর থেকে বেশি বললে আপনার এই শো শেষ হইতে না হইতেই মিছিল শুরু হয়ে যাইতে পারে কিন্তু…’ এরপর উচ্চস্বরে হাসতে থাকেন মুরাদ।

রোববার রাতের লাইভটি প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি নাহিদ রেইনসের পেজ নাহিদ রেইনস পিকচার্সেও যে ভিডিওটি আছে, সেখান থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বক্তব্য।

মুরাদের এসব বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এবং কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু ছাত্রলীগ নয়, আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। যেই বঙ্গবন্ধু নারীদের এতো উপরের আসনে আসীন করেছেন, সেই বঙ্গবন্ধুর নামে রাজনীতি করে যদি কেউ নারীদের নিয়ে কটূক্তি করে এ ধরনের মন্তব্য করে সে আসলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসই করে না।'

বঙ্গবন্ধুর প্রতি যাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আছে তাদের কেউ প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে সমর্থন করতে পারে না বলে মনে করেন তিলোত্তমা। তিনি বলেন, ‘জাতির সামনে এসে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি উনাকে তার এই বক্তব্য উঠিয়ে নিতে হবে।’

তিলোত্তমা বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নেতৃত্বের আলেকবর্তিকা নিয়ে সারা বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীও নারীর প্রতি এ ধরনের কোন বক্তব্যকে প্রশ্রয় ও সমর্থন করবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

গণমাধ্যমে এসে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ শামসুন নাহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা।

নিজের ফেসবুকে লেখা স্ট্যাটাসে এই ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসা কোন ব্যক্তির মুখের ভাষার এই শ্রী শুনে মনে হচ্ছে আমরা দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। এসব নিয়ে কথা বলার রুচি আসলেই নাই। কিন্তু ডোন্ট কেয়ার মুডে থাকলে বা নীরব থাকলে সমাজের অতি বুঝদার শ্রেণী মনে করে অপরাধী, তাই হয়ত চুপ মেরে আছে।’

এসব প্রসঙ্গে কথা বলা উচিত বলে মনে করেন জিয়াসমিন শান্তা। তিনি বলেন, ‘আমাদেরই বলতে হবে; নয়তো এসব ফালতু লোকের মুখ দিয়ে বের হওয়া বিষে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এই লোক এতবড় স্পর্ধা নিয়ে কথা বলে যদি বহালতবিয়্যতে থাকে তাহলে দলের সবাইকে বলছি-রাজনীতি করা একটি মেয়েও যদি নৈতিক, চরিত্রবান থেকে থাকে তার দীর্ঘশ্বাস থেকে কেউ রক্ষা পাবে না।’

শান্তা বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী সাহেব, চাওয়া বা যোগ্যতার চেয়ে বেশি পেয়ে গেছেন। তাই হজম না হয়ে বদহজম হওয়াতেই এসব কথাবার্তা বলছেন। আপনার রিহ্যাবে যাওয়া উচিত।’

প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে ‘সাইকো’ ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর বাতুল লোক সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পদে থাকার যোগ্য নয়। তার যে মুখের ভাষা সে মুখে পবিত্র জয়বাংলার কথা শুনলে লজ্জা, ঘৃণা ও ক্রোধ হয়।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সদস্য ফরিদা পারভিন বলেন, ‘মুরাদ হাসানের এমন বক্তব্য কুরুচিপূর্ণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের নিয়ে যে অশোভন এবং নারী বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচার বা সংস্কৃতি না বুঝে, তিনি হলে না থাকার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন এটির আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মাননীয় নেত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, তার বিরুদ্ধে যেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

এদিকে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সোমবার বিকালে ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কুশপুতুলে আগুন দিয়েছে।

শেয়ার করুন

স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

‘এখন রাস্তায় নেমেই কেউ স্লোগান দিতে পারে না, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এ থেকেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্র ভোগ করছে।’

সামরিক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়কার স্লোগান ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’কে দুর্ভাগ্যজনক বলেছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার দাবি, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পরই স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের বলতে হচ্ছে, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর হতে পারে না।’

গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের ৩১তম বার্ষিকীতে সোমবার বনানীতে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন জাপা নেতা। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দিবসটিকে ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে পালন করলে জাতীয় পার্টি এটি পালন করে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে। দলটির দাবি, এরশাদ সেদিন পদত্যাগ করে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে পল্লিবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলেন। কিন্তু কেন স্বৈরাচার বলেন তার উত্তর দিতে পারেন না। পল্লিবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চেয়ে ছোট স্বৈরাচার কে?’

এরশাদ সংবিধান মেনে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন বলে দাবি করে তার ভাই বলেন, ‘১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। আবার ১৯৯০ সালে সংবিধান সমুন্নত রেখে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবিধানিক নিয়মনীতি মেনেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন।’

জি এম কাদেরের দাবি, তার ভাই ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই স্বৈরাচারের উত্থান হয় আর গণতন্ত্র নিপাত যেতে শুরু করে।

এরশাদ সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমান শাসন আরও কঠোর বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এখন রাস্তায় নেমেই কেউ স্লোগান দিতে পারন না, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এ থেকেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্র ভোগ করছে।’

দেশে সাংবিধানিকভাবেই একনায়কতন্ত্র চলছে- এই বিষয়টি বেশ কয়েক দিন ধরেই বলছেন জি এম কাদের। সেটি আবার উল্লেখ করে বলেন, ‘একটি দলের প্রধান সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের নির্বাহী বিভাগের প্রধান হন তিনি। আবার সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের বাইরে দলীয় সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারে না, তাই সরকারপ্রধান যা বলেন তার বাইরে কিছুই হতে পারে না।

‘এতে আইন সভা সরকারপ্রধানের অধীনে। অপর দিকে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শতকরা ৯৫ ভাগই সরকারপ্রধানের অধীনে। তাই রাষ্ট্রে প্রধান তিনটি বিভাগ এক ব্যক্তির অধীনে থাকায় এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র বলা যায়।’

এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মানুষে মানুষে বৈষম্য তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন জি এম কাদের। বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের কর্মী না হলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েও কেউ চাকরি পায় না। সরকারি দলের সদস্য না হলে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। তেমনিভাবে সরকারি দলের হলে এক ধরনের আইন আর বিরোধীদের জন্য আলাদা আইন।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদেরও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

মন্ত্রিসভায় নোংরা লোক: মির্জা আব্বাস

মন্ত্রিসভায় নোংরা লোক: মির্জা আব্বাস

‘এগুলো সহ্য করা যায় না, এগুলো আমরা সহ্য করব না। এর প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই সমস্ত নোংরা লোকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে ‘নোংরা লোক’ উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে।

অনলাইন টক শোতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছেলে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখার মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে আছেন। নারী সংগঠনগুলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছে। এর মধ্যে ফেসবুকে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে প্রতিমন্ত্রীর নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ স্মরণে এক আলোচনায় বিএনপি নেতারাও মুরাদের তীব্র নিন্দা করলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ফুটপাত থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছে। বাংলাদেশের লোক ফুটপাতের মন্ত্রী দেখতে চায় না, বাংলাদেশের লোক চোর-বাটপার দেখতে চায় না, বাংলাদেশের ঘুষখোর লোক মন্ত্রী দেখতে চায় না, বাংলাদেশের লোক তাদের অশ্রাব্য, অকথ্য কথাবার্তা শুনতে চায় না।’

বেগম খালেদা জিয়া ও জাইমা রহমানকে নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো সহ্য করা যায় না, এগুলো আমরা সহ্য করব না। এর প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই সমস্ত নোংরা লোকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারকে বলতে চাই, এত মারপ্যাঁচ না করে আপনারা সোজাসুজি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেবেন কি দেবেন না। আমরা সাফ সাফ কথা জানতে চাই, এখনই জানতে চাই। আপনাদের এত কথা শুনতে চাই না। নইলে দেশের জনগণ এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে সুচিকিৎসার জন্য নেবে।'

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে বিএনপি এই দিনকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে আসছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় নব্বইযের সাবেক ছাত্র নেতার মধ্যে আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলও বক্তব্য রাখেন।

এই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়।

ফখরুল জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী মুরাদ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদল করতেন। তখন যুবদলের এক নেতা তার সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় পড়িয়ে পড়লে সভাস্থলে হৈ চৈ শুরু হয়।

শেয়ার করুন