টেন্ডুলকার-ওয়াকারের অভিষেক: উদযাপনের উপলক্ষ, আফসোসেরও!

টেন্ডুলকার-ওয়াকারের অভিষেক: উদযাপনের উপলক্ষ, আফসোসেরও!

শচীন টেন্ডুলকার আর ওয়াকার ইউনিসের টেস্ট অভিষেক শুধু একই দিনে নয়, একই টেস্টে। আজ থেকে ৩১ বছর আগে করাচিতে একই সঙ্গে অমরত্বের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছিল এক ব্যাটসম্যান আর এক ফাস্ট বোলারের।

বিশেষ কোনো উপলক্ষের দশক পূর্তির উদযাপন করাই যায় বা বিভিন্ন জয়ন্তীর - রজত, সুবর্ণ....। কিন্তু ৩১ বছর পূর্তি মোটেই স্মৃতিচারণা করার মতো উপলক্ষ নয়। তবে সেই বিশেষ উপলক্ষটা বিশেষ কারও হলে এই নিয়ম আর খাটে না। এই যেমন শচীন টেন্ডুলকার।

প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর দিনটি এলেই ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম অবধারিতভাবে মনে করিয়ে দেবে, এত বছর আগে এই দিনে শচীন টেন্ডুকারের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। ‘এত’ শব্দটার জায়গায় যে শুধু সংখ্যাটা বদল হয়, তা তো বুঝতেই পারছেন। শুধু ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমই বা বলছি কেন, আজ বিশ্বের যেকোনো ক্রিকেট পোর্টালে গেলেই দেখবেন, নিয়মকে প্রমাণ করা দুয়েকটা ব্যতিক্রম বাদ দিলে ১৫ নভেম্বর দিনটির এই আলাদা মহিমার কথা বলা আছে। সঙ্গে পাদটীকার মতো করে আরেকটা তথ্যও, একই দিনে টেস্ট অভিষেক আধুনিক ক্রিকেটের আরেক ‘গ্রেট’ ওয়াকার ইউনিসের।

শুধুই দিনটিকে হিসাবে নিলে অনেক গ্রেটের টেস্ট অভিষেকই মিলে যাবে। শচীন টেন্ডুলকার আর ওয়াকার ইউনিসের ব্যাপারটা সম্ভবত অনন্যতাই দাবি করে। এই দুজনের টেস্ট অভিষেক তো শুধু একই দিনে নয়, একই টেস্টে। আজ থেকে ৩১ বছর আগে করাচিতে একই সঙ্গে অমরত্বের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছিল এক ব্যাটসম্যান আর এক ফাস্ট বোলারের।

দুজনই তখন টিন এজার। করাচি টেস্ট শুরুর দিন টেন্ডুলকারের বয়স ১৬ বছর ২০৫ দিন। ওয়াকারের ১৭ বছর ৩৬৪ দিন। ব্যাটসম্যান-বোলার বলে অভিষেকে দুজন সরাসরি প্রতিপক্ষও। সেই লড়াইয়ে জয়ীর নাম ওয়াকার ইউনিস। টেস্টে প্রথম ব্যাটিং করতে নেমে চোখেমুখে কেমন আঁধার দেখেছিলেন, তা টেন্ডুকার নিজেই অনেকবার বলেছেন। ২৪ বছর পর যাঁর ক্যারিয়ার শেষ হবে টেস্ট খেলার ডাবল সেঞ্চুরি করার অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়ে, তাঁর নাকি মনে হয়েছিল, জীবনের প্রথম টেস্টটাই না শেষ টেস্ট হয়ে যায়! সেই ‘যন্ত্রণা’ থেকে টেন্ডুলকারকে মুক্তি দিয়েছিলেন ওয়াকার। খুব দ্রুতই ব্যাটসম্যানদের দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠা ইনসুইঙ্গারে টেন্ডুলকারকে বোল্ড করে। ২৪ বলে ১৫ রানের ইনিংসেও অবশ্য টেন্ডুলকারীয় অন ড্রাইভে দুটি চার ছিল।

টেস্ট অভিষেক একই সঙ্গে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় ধরলে ওয়াকার মাসখানেকের সিনিয়র। বাবার কর্মসূত্রে যে শারজায় কৈশোরের অনেকটা সময় কেটেছে তাঁর, সেখানেই ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে। এমনই গতির ঝড় তুলে যে, আম্পায়ার ডিক বার্ড তাঁকে দিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের দ্রুততম বোলারের স্বীকৃতি। দাবানলের মতো যা ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। সবচেয়ে বড় কারণ, সেই টুর্নামেন্টেরই এক দল ওয়েস্ট ইন্ডিজে তখন খেলছেন ম্যালকম মার্শাল, ইয়ান বিশপ, কার্টলি অ্যামব্রোস ও কোর্টনি ওয়ালশ।

টেস্ট অভিষেকের আগে ওয়াকারের ৮টি ওয়ানডে খেলা হয়ে গেছে। শারজার ওই টুর্নামেন্টের পর নেহরু কাপ খেলতে ঘুরে এসেছেন ভারতও। এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলারদের ছায়াসঙ্গী ইনজুরিও উঁকিঝুঁকি দিতে শুরু করেছে। যে কারণে টেস্ট অভিষেকের পর সেই সিরিজের পরের দুই টেস্টে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে। টেন্ডুলকার সেই দুটি টেস্টেই খেলেছেন এবং দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম হাফ সেঞ্চুরিও করে ফেলেছেন। টেন্ডুলকারের সঙ্গে ওয়াকারের আবার দেখা শিয়ালকোটে সিরিজের শেষ টেস্টে। প্রথম তিন টেস্ট ড্র হয়েছে বলে নিজেদের পেস আক্রমণকে লেলিয়ে দিতে পাকিস্তান যেখানে তৈরি করেছে ঘাসে ঢাকা সবুজ উইকেট। শচীন টেন্ডুলকার নামের অত্যাশ্চর্য গল্পের প্রথম অধ্যায়টাও সেখানেই লেখা। যাতে আছেন ওয়াকার ইউনিসও। যাঁর বাউন্সার টেন্ডুলকারের নাকে ছোবল দিয়ে রীতিমতো রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। সেই রক্ত মুছে ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টেন্ডুলকার এবং পরের বলটিতেই মেরেছেন বাউন্ডারি!

ওয়াকারও বুঝে গেছেন, প্রথম দর্শনে যাঁকে মোটেই 'বিশেষ কিছু' মনে হয়নি, মুখে বেবি ফ্যাটের চিহ্ন বয়ে বেড়ানো সেই ব্যাটসম্যান অন্য ধাতুতে গড়া। ভবিষ্যতে আরও অনেকবারই এর সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হবে। কেই-বা তখন ভেবেছিল, টেস্ট ম্যাচে দুজনের আবার দেখা হবে দশ বছর পর!

আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে আফসোসটার কথা বলার সময় হলো এখন। ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় শচীন টেন্ডুলকার বনাম দুই ডব্লিউ, ওয়াসিম আকরাম আর ওয়াকার ইউনিস। যে লড়াইয়ের কথা ভাবলেই জিভে জল চলে আসে। ওই সিরিজের পরই আরও অনেকবারের মতো দুই দেশের সম্পর্ক ভেঙে পড়ায় যা আসলে কখনো আমাদের দেখাই হয়নি। শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটে যখন রানের ফল্গুধারা বইছে, একই সময়ে রিভার্স সুইংয়ে ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন তুলছেন দুই ডব্লিউ; কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে তাঁদের দেখাই হচ্ছে না। আবার যখন তা হলো, টেন্ডুলকার তখনো দেদীপ্যমান, কিন্তু ওয়াকারের ক্যারিয়ার-সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে। প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে দিনের পর দিন গতির ঝড় তোলার ধকল নিতে নিতে ক্লান্ত শরীর, যেটির ছাপ পড়ছে বোলিংয়েও। এমনই যে, ১৯৯৯ সালের সেই ভারত সফরে প্রথম দুই টেস্টে মাত্র ২ উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় টেস্টে দল থেকেই বাদ পড়ে গেছেন ওয়াকার।

ওয়াকারের বাউন্সারে টেন্ডুলকারের রক্তাপ্লুত নাকের সেই শিয়ালকোটের পর চেন্নাইয়ে আবার যখন দুজনের দেখা হয়েছে টেস্টে, আরও ৫৩টি টেস্ট খেলে ফেলেছেন ওয়াকার, টেন্ডুলকার খেলেছেন ৬৪টি। ৫৫ টেস্টে ২১.৫৭ গড়ে ২৭৫ উইকেট ওয়াকারকে সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের দলে ঢোকার ছাড়পত্র একরকম দিয়েই দিয়েছে। ৬৪ টেস্টে ৫৪.৭৭ গড়ে ৪৮২০ রান শচীন টেন্ডুলকারকেও তুলে দিয়েছে অমরত্বের হাইওয়েতে।

কিন্তু ওই যে আফসোসটা, একই সঙ্গে শুরুর পর সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলা দুই গ্রেটের টেস্ট ক্যারিয়ার পরস্পরকে ছেদ করেছে কিনা আর মাত্রই একবার! ১৯৮৯ সালে দুই টেস্টের পর ১৯৯৯ সালেও দুই টেস্ট- মাত্র এই চার টেস্টেই শেষ টেন্ডুলকার-ওয়াকারের টেস্ট লড়াইয়ের গল্প। এত সব অর্জনের পরও টেন্ডুলকারেরও তাই হয়তো আফসোস হয়, সেরা ফর্মের দুই ডব্লিউকে তাঁর জয় করা হয়নি। গত শতকের নয়ের দশকে টেন্ডুলকার-লারা দ্বৈরথে ক্রিকেট বিশ্ব যখন দ্বিধাবিভক্ত, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের যে তখন ব্রায়ান লারাকেই এগিয়ে রাখতে দেখেছি, এর কারণও হয়তো এটাই। সঙ্গে আরেকটি নাম এসেছে, সেটিও রিভার্স সুইং সামলানোর দক্ষতাকে মানদণ্ড ধরেই। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন ক্রো। যে পরীক্ষা টেন্ডুলকারকে দিতেই হয়নি, সেটিতে তাঁকে 'ফেল' বলে দেওয়াটা অন্যায়, আবার পাসই বা করাবেন কিভাবে!

ওয়ানডেতে অবশ্য সেরা ফর্মের দুই ডব্লুর সঙ্গে টেন্ডুলকারের মাঝে মধ্যেই দেখা হয়েছে। তাতে আফসোসটা বরং আরও বেড়েছে। ওয়ানডে কি আর ব্যাটসম্যান-বোলারের ক্ল্যাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ হতে পারে! টেস্ট ক্রিকেট, একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটই যেটি ধারণ করার মতো কলোসিয়াম। তারপরও নিছক কৌতুহল মেটানোর জন্য হলেও পরিসংখ্যানের আয়নায় ওয়ানডেতে টেন্ডুলকার-ওয়াকার লড়াইটা দেখে নেওয়া যেতেই পারে। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও দুজনের প্রথম লড়াইয়েও জিতেছিলেন ওয়াকার। টেস্ট ক্রিকেটে টেন্ডুলকারকে প্রথম আউট করেছিলেন, ওয়ানডেতেও তা-ই। ১৯৮৯ সালের সেই সিরিজেই ওয়ানডে অভিষেকে শূন্য রানে আউট হওয়ার যন্ত্রনা উপহার দিয়েছিলেন টেন্ডুলকারকে। প্রায় সাত বছর পর ওয়াকারকে দ্বিতীয়বারের মতো উইকেট দেওয়ার পর অবশ্য টেন্ডুলকার খুব বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন বলে মনে হয় না। কারণ ১৯৯৬ সালে শারজায় পেপসি কাপের ওই ম্যাচে এর আগেই ১১৪ রান করা হয়ে গেছে তাঁর।

২৩টি ওয়ানডে ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে টেন্ডুলকারকে পেয়েছেন ওয়াকার। আউট করেছেন চারবার। এই হিসাবটা সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু ওয়াকারের বলে টেন্ডুলকার কত রান নিয়েছেন, তা জানার কোনো উপায় নেই। তবে ওই ২৩ ম্যাচে দুজনের পারফরম্যান্স তো জানাই যায়। ২টি সেঞ্চুরি ও ৪টি হাফ সেঞ্চুরিসহ টেন্ডুলকারের রান ৭৮০। ওই ২৩ ম্যাচের স্ট্রাইক রেট আর ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেট প্রায় সমান (৮৬.৩৭/৮৬.২৩), তবে অ্যাভারেজ প্রায় সাড়ে সাত কম (৩৭.১৪/৪৪.৮৩)।

প্রতিপক্ষ দলে টেন্ডুলকার, এমন ম্যাচের একটিতে ৫ উইকেট নিয়েছেন ওয়াকার, একটিতে ৪ উইকেট, মোট উইকেট ৩৬। ওই ২৩ ম্যাচের অ্যাভারেজ-স্ট্রাইক রেট-ইকনমি রেটের সঙ্গে ক্যারিয়ার রেকর্ডের আশ্চর্য সমতা (২৩.৯১/২৩.৮৪, ৩০.৫/৩০.৫ ও ৪.৭০/৪.৬৮)। নিছক তথ্য হিসাবেই সংখ্যার এই কচকচানি। প্রতিপক্ষ দলে ওয়াকার থাকলে টেন্ডুলকারের পারফরম্যান্স একটু খারাপ হয়েছে আর ওয়াকারের একই থেকেছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যতই প্ররোচনা থাকুক এতে, তা হবে অতি সরলীকরণ।

এ সবের দরকারই কি! ৩১ বছর আগে আজকের এই দিনে টেস্ট ক্রিকেটে একই সঙ্গে আবির্ভূত হয়েছিলেন দুই ক্ষণজন্মা ক্রিকেটার- আমরা বরং সেটিরই উদযাপন করি।

লাইনটা লিখতে লিখতে ওই আফসোসটা আবারও হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেইন্ট লুসিয়া টেস্টের নিয়ন্ত্রণে সাউথ আফ্রিকা

সেইন্ট লুসিয়া টেস্টের নিয়ন্ত্রণে সাউথ আফ্রিকা

ছবি: এএফপি

প্রোটিয়াদের করা ২৯৮ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৪৯ রানে অলআউট হয়েছে উইন্ডিজ। সফরকারী দলের লিড দাঁড়িয়েছে ১৪৯ রানের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সাউথ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের করা ২৯৮ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৪৯ রানে অলআউট হয়েছে উইন্ডিজ। সফরকারী দলের লিড দাঁড়িয়েছে ১৪৯ রানের।

২১৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে সাউথ আফ্রিকা। ৫৯ রানে থাকা কুইন্টন ডি ককই লড়াই করেন দলের হয়ে। এক প্রান্ত আগলে রেখে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন ডি কক।

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে থেকে আউট হন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ৯৬ রানে আউট হন ডি কক।

তার আউটের পর বেশীক্ষণ টেকেনি প্রোটিয়া ইনিংস। ২৯৮ রানে প্রথম ইনিংসে তাদের গুটিয়ে দেয় উইন্ডিজ।

স্বাগতিক দলের পক্ষে জেসন হোল্ডার চারটি, জেইডন সিলস তিনটি ও কিমার রোচ দুটি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে, বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম বলেই কাগিসো রাবাডার ডেলিভারিতে ফিরে যান অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েইট।

এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল। শেই হোপ ও কাইল মায়ার্স ছাড়া কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মায়ার্স ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন। আর হোপের ব্যাট থেকে আসে ৪৩।

শেষ চার উইকেট মাত্র ছয় রানে হারায় উইন্ডিজ। ৫৪ ওভার টেকে তাদের পুরো ইনিংস।

১৪৯ রানে অলআউট হলে সাউথ আফ্রিকা সমান রানের লিড পায়। সফরকারী দলের পক্ষে উইয়ান মাল্ডার এক রানে তিন উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের টেইল-এন্ড ধসিয়ে দেন।

রাবাডা, আনরিখ নরটিয়া ও কেশভ মহারাজ দুটি করে উইকেট নেন।

প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ৬৩ রানে জিতে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে সাউথ আফ্রিকা।

শেয়ার করুন

বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে ভারতকে সামলালেন কোহলি-রাহানে

বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে ভারতকে সামলালেন কোহলি-রাহানে

ভারতের হয়ে ৫৮ রানের জুটি গড়েন রাহানে ও কোহলি। ছবি: আইসিসি

দিনের খেলা শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল তিন উইকেটে ১৪৬। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে। ভারতের অধিনায়ক অপরাজিত ৪৪ রানে আর সহ-অধিনায়ক খেলছেন ২৯ রান নিয়ে।

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দ্বিতীয় দিনেও ছিল বৃষ্টির বাধা। বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতায় পুরো দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৬৮ ওভার।

দিনের খেলা শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল তিন উইকেটে ১৪৬।

দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে। ভারতের অধিনায়ক অপরাজিত ৪৪ রানে আর সহ-অধিনায়ক খেলছেন ২৯ রান নিয়ে।

বৃষ্টিতে প্রথম দিন ধুয়ে যাওয়াতে দ্বিতীয় দিনই কার্যত হয়ে পড়ে ফাইনালের প্রথম দিন। আর ম্যাচ রেফারি রিজার্ড ডে যোগ করাতে পাঁচদিনই খেলা হবে।

সাউদ্যাম্পটনে বৃষ্টির কারণে ঘণ্টাখানেক দেরিতে টস করতে নামেন দুই অধিনায়ক। টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান কেইন উইলিয়ামসন।

সিমিং কন্ডিশনে দুই ভারতীয় ওপেনার দেখেশুনে শুরু করেন। উইকেটে ২০ ওভার টিকে থেকে সংগ্রহ করেন ৬২ রান। ২১তম ওভারের প্রথম বলে ভাঙ্গে জুটি।

কাইল জেমিসনের বলে টিম সাউদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রোহিত শর্মা। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান।

চার ওভার পরই আউট হন গিল। নেইল ওয়াগনারের বলে কট বাহাইন্ড হন তিনি। গিল করেন ২৮।

চেতেশ্বর পুজারা ওয়ান ডাউনে নেমে স্বভাবজাত ধীরগতিতে ব্যাট করা শুরু করেন। তবে দলের কাজে আসেনি তার ইনিংস। ৫৪ বলে আট রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

৮৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে ভারত। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন কোহলি ও রাহানে। ৫৮ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত থাকেন দুই জন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বোল্ট, জেমিসন ও ওয়াগনার নেন একটি করে উইকেট।

রোববারও বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে সাউদ্যাম্পটনে। শনিবারের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন ৯৮ ওভার খেলা হবার কথা।

শেয়ার করুন

বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্রথম দিন

বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্রথম দিন

সাউদ্যাম্পটনের ভেজা মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন নিউজিল্যান্ডের পেইসার ট্রেন্ট বোল্ট। ছবি: এএফপি

ইংল্যান্ড সময় বেলা ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত আটটা) পিচ পরিদর্শন করেন আম্পায়ার।মাঠ ভেজা থাকায় ও তখনও বৃষ্টি পুরোপুরি না থামায় প্রথম দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়ার। তবে ফাইনালের জন্য নির্ধারিত রাখা রিজার্ভ ডে যোগ হচ্ছে টেস্টের সঙ্গে।

সাউদ্যাম্পটনে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিন বৃষ্টির বাধায় পড়েছে। বৃষ্টির কারণে খেলা মাঠে গড়াতে পারেনি। প্রথম দিন টসও করেননি দুই অধিনায়ক ভিরাট কোহলি ও কেইন উইলিয়ামসন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি একেবারেই না থামলে আম্পায়ার লাঞ্চ সেশন ঘোষণা করেন। বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় দ্বিতীয় সেশনও। ইংল্যান্ড সময় বেলা ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত আটটা) পিচ পরিদর্শন করেন আম্পায়ার।

মাঠ ভেজা থাকায় ও তখনও বৃষ্টি পুরোপুরি না থামায় প্রথম দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়ার। তবে ফাইনালের জন্য নির্ধারিত রাখা রিজার্ভ ডে যোগ হচ্ছে টেস্টের সঙ্গে।

অর্থাৎ প্রথম দিন ধুয়ে গেলেও, বৃষ্টি আবার ব্যাঘাত না হলে পুরো পাঁচদিনই খেলা হতে পারে সাউদ্যাম্পটনে।

প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট মাথায় নিতে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না দুই দল। এক ম্যাচের ফাইনালের টেস্টটি ড্র বা টাই হয়, তবে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

নয়টি দলকে নিয়ে ২০১৯ সালের আগস্টে শুরু হয় প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে পথচলা শুরু টুর্নামেন্টের।

এরপর বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে। প্রতি দল ছয়টি করে সিরিজ খেলেয়ার কথা ছিল। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া সেরা দুই দলের খেলার কথা ছিল ফাইনাল।

কিন্ত ২০২০ সালের মার্চ থেকে বিশ্বব্যাপি করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য খেলার মত থমকে যায় ক্রিকেটও।

তাই করোনার কারনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের বেশ কয়েকটি ম্যাচ ও সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে আইসিসি। পয়েন্টের হিসেব বাদ দিয়ে শতকরা হিসেবে পয়েন্ট টেবিলের নিয়ম চালু করে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা।

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট ছিলো ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। ভারত ছিলো সবার উপরে। ৬ সিরিজে ভারতের শতকরাতে পয়েন্ট ৭২ দশমিক ২। আর পাঁচ সিরিজে নিউজিল্যান্ডের শতকরাতে পয়েন্ট ৭০।

তাই পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল হয়ে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

ছয় সিরিজে ১৭ ম্যাচে ভারতের জয় ১২টিতে, হার ৪টিতে ও ড্র ১টিতে। পাঁচ সিরিজে ১১ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় ৭টিতে। হার ৪টিতে, কোন ড্র নেই।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থাকা দলের জন্য প্রাইজমানি সাড়ে ৪ লাখ ডলার। চার নম্বরে থাকা দল পাবে সাড়ে ৩ লাখ ও ৫ নম্বরে থাকা দলের থাকছে ২ লাখ ডলার প্রাইজমানি। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম দল পাবে ১ লাখ ডলার করে।

ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে টেস্ট ফরম্যাটে ৫৯বার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। এরমধ্যে নিউজিল্যান্ডের জয় ১২ ম্যাচে। ভারতের ২১টিতে জয়। বাকী ২৬ টেস্ট ড্র হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছিলো ভারত। সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল।

ফাইনালের আগের রাতে বৃহস্পতিবার নিজেদের একাদশ ঘোষনা করেছে ভারত। দলে জায়গা পেয়েছেন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার রভিন্দ্র জাদেজা।

ভারত একাদশ:
রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, চেতেশ্বর পুজারা, ভিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, রিশাভ পান্ট, রভিন্দ্র জাদেজা, রভিচন্দ্রন আশউইন, মোহাম্মদ শামি ও ইশান্ত শর্মা।

শেয়ার করুন

ইলিয়াস সানির ঘটনায় বিব্রত সাব্বির

ইলিয়াস সানির ঘটনায় বিব্রত সাব্বির

সাব্বির রহমান। ছবি: বিসিবি

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আচরণবিধি ভাঙায় সাব্বির ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ম্যানেজার সুলতান মাহমুদকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় বৃহস্পতিবার।

শেখ জামালের খেলোয়াড় ইলিয়াস সানির বিপক্ষে বাজে আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও জাতীয় দলের তারকা ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। দুই জনের মধ্যে কোনো ধরণের রেষারেষি নেই উল্লেখ করে এক ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন সাব্বির।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আচরণবিধি ভাঙায় সাব্বির ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ম্যানেজার সুলতান মাহমুদকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় বৃহস্পতিবার।

শাস্তি পাওয়ার পরদিন এক ফেসবুক পোস্টে সাব্বির লেখেন ইলিয়াসের সঙ্গে তার কোনো ঝামেলা নেই। শুক্রবার সকালে নিজের ভ্যারিফাইড পেইজে সাব্বির লেখেন, ‘সানি ভাই আমার বড়ভাই এর মতো, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলছি।

আমাদের দুজনকে কেন্দ্র করে যে অপ্রীতিকর বিষয়টি মিডিয়াতে এসেছে সেটি আমার জন্য বিব্রতকর কারণ তাকে আমি সম্মান করি একজন সিনিয়র ক্রিকেটের হিসেবে। আমাদের দুজনের মধ্যে আজকেও কথা হয়েছে এবং আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। সবাই ভালো থাকবেন।’

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘১৬ জুন বিকেএসপিতে দুজন খেলোয়াড় এবং একটি ক্লাবের কর্মকর্তা জড়িত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত, যা ঢাকা ক্লাব ক্রিকেট পরিচালনাকারী সংস্থা সিসিডিএমের কাছে জানানো হয়েছে।’

১৬ জুন সন্ধ্যায় একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের খেলোয়াড় মো. ইলিয়াস সানি, রূপগঞ্জের খেলোয়াড় সাব্বির রহমান, শেখ জামাল ম্যানেজার সুলতান মাহমুদ এবং ম্যাচের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ইলিয়াস সানি সাব্বিরের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ করেন। ইলিয়াসের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তার ক্লাব শেখ জামাল সিসিডিএমের কাছে অভিযোগ জমা দেয়।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সাকিব, খেলছেন না সুপার লিগ

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সাকিব, খেলছেন না সুপার লিগ

ছবি: সংগৃহীত

হাতে চোট পাওয়ার কারণে খেলছেন না তামিম। আর সাকিবের না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়াবসাইট ক্রিকবাজ। বিসিবির সূত্র থেকে পাওয়া খবরে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে যাচ্ছেন সাকিব। সুপার লিগ খেলছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে ১১টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো। বৃহস্পতিবার রাতেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে সুপার লিগের ছয় দল।

সুপার লিগের রাউন্ডে থাকছেন না জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।

হাতে চোট পাওয়ার কারণে খেলছেন না তামিম। আর সাকিবের না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়াবসাইট ক্রিকবাজ। বিসিবির সূত্র থেকে পাওয়া খবরে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে যাচ্ছেন সাকিব। সুপার লিগ খেলছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

সাকিবের দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব নিশ্চিত করেছে সুপার লিগ। নিষেধাজ্ঞার কারণে মোহামেডানের হয় শেষ চার ম্যাচের তিনটি খেলতে পারেননি সাকিব। তার বদলে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শুভাগত হোম।

রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে ১১ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে তামিমের দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে প্রাইম দোলেশ্বর এসসি।

একই পয়েন্ট নিয়েও তিনে আবাহনী। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে চারে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সাকিবের মোহাডোন পাঁচে ও একই পয়েন্ট নিয়ে শেখ জামাল ছয়ে শেষ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সাকিব, খেলছেন না সুপার লিগ
সুপার লিগ মিস করবেন তামিম। ছবি:বিসিবি

১১ ম্যাচে ৫২.২৫ গড় নিয়ে সর্বোচ্চ রান ব্রাদার্স ইউনিয়নের ব্যাটসম্যান মিজানুর রহমানের। ডিপিএলের এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরি এসেছে তার ব্যাট থেকে। ৩৬৭ রান নিয়ে দুইয়ে মাহমুদুল হাসান জয়। ৩০৭ রান নিয়ে মোহাম্মদ নাঈম তিনে। ৩০৬ রান নিয়ে চারে তামিম ইকবাল ও ২৯৫ রান নিয়ে তানজিদ হাসান পাঁচে।

সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় শীর্ষে আছেন শাইনপুকুরের তানভির ইসলাম। ১০ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন এই বোলার। দুইয়ে ২০ উইকেট নিয়ে প্রাইম দোলেশ্বরের কামরুল ইসলাম রাব্বি। ১৭ উইকেট নিয়ে তিনে শেখ জামালের সালাউদ্দিন শাকিল। ১৬ উইকেট নিয়ে খেলাঘরের খালেদ আহমেদ চারে ও ১৫ উইকেট নিয়ে পাঁচে শরিফুল ইসলাম।

সুপার লিগে ইনজুরির কারণে খেলছেন না তামিম ইকবাল। আর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। যদিও এখনও বিসিবি থেকে কোনো কিছু নিশ্চিত করা যায়নি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে যোগ দেয়ার কথা সাকিবের।

শেয়ার করুন

নির্ভার ক্রিকেট খেলবে ভারত, খালি হাতে ফিরতে চায়না নিউজিল্যান্ড

নির্ভার ক্রিকেট খেলবে ভারত, খালি হাতে ফিরতে চায়না নিউজিল্যান্ড

ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি ও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। ফাইল ছবি

প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট মাথায় নিতে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না দুই দল। এক ম্যাচের ফাইনালের টেস্টটি ড্র বা টাই হয়, তবে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আয়োজিত প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শুক্রবার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-নিউজিল্যান্ড। প্রায় আড়াই বছর বিভিন্ন দলের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষীক সিরিজ খেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই স্থান দখল করে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় দল দুটি।

প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট মাথায় নিতে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না দুই দল। এক ম্যাচের ফাইনালের টেস্টটি ড্র বা টাই হয়, তবে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

নয়টি দলকে নিয়ে ২০১৯ সালের আগস্টে শুরু হয় প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে পথচলা শুরু টুর্নামেন্টের।

এরপর বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে। প্রতি দল ছয়টি করে সিরিজ খেলেয়ার কথা ছিল। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া সেরা দুই দলের খেলার কথা ছিল ফাইনাল।

কিন্ত ২০২০ সালের মার্চ থেকে বিশ্বব্যাপি করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য খেলার মত থমকে যায় ক্রিকেটও।

তাই করোনার কারনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের বেশ কয়েকটি ম্যাচ ও সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে আইসিসি। পয়েন্টের হিসেব বাদ দিয়ে শতকরা হিসেবে পয়েন্ট টেবিলের নিয়ম চালু করে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা।

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট ছিলো ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। ভারত ছিলো সবার উপরে। ৬ সিরিজে ভারতের শতকরাতে পয়েন্ট ৭২ দশমিক ২। আর পাঁচ সিরিজে নিউজিল্যান্ডের শতকরাতে পয়েন্ট ৭০।

তাই পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল হয়ে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

ছয় সিরিজে ১৭ ম্যাচে ভারতের জয় ১২টিতে, হার ৪টিতে ও ড্র ১টিতে। পাঁচ সিরিজে ১১ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় ৭টিতে। হার ৪টিতে, কোন ড্র নেই।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালকে অনেকেই সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালের সাথে তুলনা করছেন। নিউজিল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার নিল ওয়াগনার ফাইনালে আগে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কাছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো। আমি কখনও নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেনি। তাই বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলা হয়নি। শুধু আমার কাছে নয়, দলের সকলের কাছেই এটি অন্যান্য ফরম্যাটের ফাইনালের মত।’

ফাইনাল খেলতে পারাটাকে সৌভাগ্যের মানছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। তিনি বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে বিশ্বের নয়টি দেশ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলছে। তাই সকলেরই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ছিল। এমন ফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার এবং সতীর্থরা সেটা জানে।’

এতদূর এসে শিরোপা ছাড়া ফিরতে চায়না নিউজিল্যান্ড জানালেন নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টিড। ফাইনাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা এখানে এসেছি এবং নিজেদের প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট ও সিরিজ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বাড়িয়ে রেখেছে। ভারত শক্তিশালি প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে আমাদের।’

ফাইনালের মঞ্চে লড়াইয়ের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে নিউজিল্যান্ড। লর্ডসে প্রথম টেস্ট ড্র হলেও, দ্বিতীয় ম্যাচ ৮ উইকেটে জিতে কিউইরা। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ জয়ে আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে আসে ব্ল্যাক ক্যাপস।

নিউজিল্যান্ডের মত ফাইনালের আগে কোনো সিরিজ খেলেনি ভারত। তবে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে মাসের শুরুতে ইংল্যান্ডে পা রাখে ভিরাট কোহলির দল। কোয়ারেন্টিন পর্ব শেষে নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও খেলে ভারত।

ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, নিউজিল্যান্ডের জন্য পরিচিত। তাই এই কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে প্রত্যেকেই চাইবে সাফল্য পেতে। তবে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেললে জেতার সুযোগ বেশি। শেষ দুই থেকে তিন বছরে যা করে আসছি আমরা, সেটা করলেই কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। ফাইনাল ভেবে যদি এই ম্যাচ খেলতে নামি, প্রত্যেকের উপর বাড়তি চাপ পড়বে। আর পাঁচটি ম্যাচের মত যদি দেখি, তা হলে অনেক নির্ভার হয়ে খেলা যাবে।’

আগামী পাঁচ দিন দল কি রকম খেলছে, তার উপর নির্ভর করবে সব কিছু। প্রতিপক্ষকে নিয়ে না ভেবে আমরা কিভাবে ভালো খেলতে পারি, তা নিয়েই বেশি চিন্তা করছি। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ম্যাচে ভাল খেলার ফল পাচ্ছি। আশা করি, ফাইনালেও একই ছন্দ ধরে রাখতে পারব।’

ফাইনালে ব্যাটসম্যানদেরই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হবে বলে জানান রাহানে। তিনি বলেন, ‘দুই দলের বোলিং বিভাগ বিশ্বসেরা। ইংল্যান্ডের পরিবেশে যারা ভাল ব্যাট করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। কারণ, এই আবহাওয়ায় ব্যাটসম্যানদেরই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। যে দল বেশি রান করবে, তাদের কাছে জেতার সুযোগ অনেক বেশি থাকবে।’

ফাইনালের শিরোপা জয়ী দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ১৬ লাখ ডলার। আর রানার্সআপ দল পাবে ৮ লাখ ডলার।

ফাইনাল ম্যাচ ড্র বা টাই হলে প্রাইজমানি দুই দলের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে। প্রাইজমানির পাশাপাশি পুরস্কার হিসাবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিশেষ ট্রফি দেয়া হবে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থাকা দলের জন্য প্রাইজমানি সাড়ে ৪ লাখ ডলার। চার নম্বরে থাকা দল পাবে সাড়ে ৩ লাখ ও ৫ নম্বরে থাকা দলের থাকছে ২ লাখ ডলার প্রাইজমানি। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম দল পাবে ১ লাখ ডলার করে।

ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে টেস্ট ফরম্যাটে ৫৯বার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। এরমধ্যে নিউজিল্যান্ডের জয় ১২ ম্যাচে। ভারতের ২১টিতে জয়। বাকী ২৬ টেস্ট ড্র হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছিলো ভারত। সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল।

ফাইনালের আগের রাতে বৃহস্পতিবার নিজেদের একাদশ ঘোষনা করেছে ভারত। দলে জায়গা পেয়েছেন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার রভিন্দ্র জাদেজা।

ভারত একাদশ:
রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, চেতেশ্বর পুজারা, ভিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, রিশাভ পান্ট, রভিন্দ্র জাদেজা, রভিচন্দ্রন আশউইন, মোহাম্মদ শামি ও ইশান্ত শর্মা।

ইংল্যান্ডের সাউদ্যাম্পটনে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।

শেয়ার করুন

ডিপিএল থেকে ছিটকে গেলেন তামিম

ডিপিএল থেকে ছিটকে গেলেন তামিম

তামিম ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগতভাবে এই আসরে ১১ ম্যাচে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রহক তামিম। ২৭ গড়ে করেছেন ৩০৬ রান। নিজে থাকতে না পারলেও দলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তামিম।

হাঁটুতে চোটের কারণে চলমান বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) আর খেলতে পারছেন না তামিম ইকবাল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের এই অধিনায়ক।

তামিম লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সাথে আমার সময়টি শেষ হয়ে গেছে চলমান বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে। আমি গত কয়েক দিন ধরে হাঁটুর চোটে আছি এবং এখন আমাকে কিছুটা বিশ্রাম নিতে হবে।’

ডিপিএলে এবার ১১ ম্যাচে ৯ জয় ও দুই হারে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে প্রাইম ব্যাংক এসসি। এরই মধ্যে সুপার লিগ নিশ্চিত করে ফেলেছে তার দল। চোটের কারণে সুপার লিগের খেলাগুলো মিস করবেন তামিম।

দলের ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তামিম বলেন, ‘বিদায় বলার পাশাপাশি বলব, আমি প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি তানজিল চৌধুরী ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাকে এবং দলের উভয়কেই দারুণভাবে সমর্থন করার জন্য।

‘আমি কয়েক বছর ধরে ঢাকা লিগের অনেক দলের হয়ে খেলেছি, তবে প্রাইম ব্যাংক সিসিকে শীর্ষে রাখব। তারা একটি উজ্জ্বল পেশাদার ইউনিট।’

ডিপিএল থেকে ছিটকে গেলেন তামিম
১১ ম্যাচে ৯ জয় ও দুই হারে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে প্রাইম ব্যাংক এসসি

ব্যক্তিগতভাবে এই আসরে ১১ ম্যাচে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। ২৭ গড়ে করেছেন ৩০৬ রান।

নিজে থাকতে না পারলেও দলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তামিম। বলেন, ‘আমরা লিগ পর্যায়ে শীর্ষে এসেছি এবং আশা করি আমরা সুপার লিগে এটি বজায় রেখে চলব এবং টুর্নামেন্টটি একটি উচ্চতায় শেষ করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন