কমিউনিটি পুলিশিং কার্যালয়ে ছুরিকাঘাতে খুন, ১৭ ঘণ্টায়ও হয়নি মামলা

কমিউনিটি পুলিশিং কার্যালয়ে ছুরিকাঘাতে খুন, ১৭ ঘণ্টায়ও হয়নি মামলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকার একটি গলির ভেতর চার-পাঁচ জন দুর্বৃত্ত শাওনকে ছুরিকাঘাত করে। জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ে মোড়ে অবস্থিত কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়েও দুর্বৃত্তরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।’

যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় ছুরি হামলার শিকার হয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়ে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন শাওন। সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার ১৭ ঘণ্টা পার হলেও এখনও কোনো মামলা হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন শহরের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকার একটি গলির ভেতর চার-পাঁচ জন দুর্বৃত্ত শাওনকে ছুরিকাঘাত করে। জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ে মোড়ে অবস্থিত কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়েও দুর্বৃত্তরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।’

নিহতের বোন নিলা বলেন, ‘আমার ভাই শাওন শংকরপুর টার্মিনাল এলাকায় গাড়ি সার্ভিসিংয়ের কাজ করে। সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয় সে। রাত ১০টার দিকে শুনি দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরি মেরেছে। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।’

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ছুরিকাঘাতে জখম শাওন নামে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ’

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ হত্যার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।’

থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় এখনও তার পরিবারের কেউ মামলা করেনি। পরিবারের কেউ মামলা না করলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় পাহাড় থেকে নামার সময় দুইটি ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কায় সাতজন আহত হয়েছে।

জেলা সদরের প্রবেশমুখে ২০ নম্বর জিরোমাইল সংলগ্ন আলুটিলা পাহাড়ের রাস্তায় রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ট্রাক্টরচালক মইনুল হোসেন, ট্রাক্টরের শ্রমিক বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মো. শাহাদাত, আবদুর রহিম, মো. করিম ও সুজন। বাদশা ও রমজানের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রবেশমুখের মোড়টি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সময়ই এখানে দুর্ঘটনা হয়। ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে আসায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

লিবিয়া থেকে ফিরেই গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি

লিবিয়া থেকে ফিরেই গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় কালুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই সেই পরোয়ানা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তার সন্ধানে। ঘটনার ৫ বছর পর কালু দেশে ফিরতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন বাকি আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হবে।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক আসামি।

গ্রেপ্তার আজাদ হোসেন কালুকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজাদ হোসেন কালুর বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার এসআই কেএম আব্দুল হক জানান, ২০১৬ সালে স্কুলছাত্রী কবিতা হত্যার পর লিবিয়ায় পালিয়ে যান আসামি আজাদ হোসেন কালু। শনিবার সকালে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কালুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিষয়টি জানতে পারেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। ইমিগ্রেশন থেকে গৌরনদী মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে কালুকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় কালুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই সেই পরোয়ানা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তার সন্ধানে। ঘটনার ৫ বছর পর কালু দেশে ফিরতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন বাকি আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হবে।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সকালে গৌরনদীর সুন্দরদী এলাকার আয়নাল হকের মেয়ে কবিতা আক্তারের হাত-পা বাঁধা মরদেহ স্থানীয় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। টরকী বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কবিতা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ধানডোবা গ্রামের আজাদ হোসেন কালুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই কবিতাকে তার প্রেমিক কালু হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা এবং মেয়েটির বাবা আইনুল হক বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এসব ঘটনার পর থেকেই কালুর কোনো সন্ধান মিলছিল না।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে শিশুর প্রাণ গেল দুর্ঘটনায়

চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে শিশুর প্রাণ গেল দুর্ঘটনায়

আদুরি খাতুন জানান, মেয়ের ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আলমসাধুতে বাড়ি ফিরছিলেন। হাকিমপুরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকি লেগে তিনি মেয়েসহ আলমসাধু থেকে পড়ে যান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার সময় আলমসাধু থেকে পড়ে সাত মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শিশুটির মা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে রোববার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত আনিকা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম ও আদুরি খাতুনের ছোট মেয়ে। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে।

আদুরি খাতুন নিউজবাংলাকে জানান, মেয়ের ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আলমসাধুতে বাড়ি ফিরছিলেন। হাকিমপুরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকি লেগে তিনি মেয়েসহ আলমসাধু থেকে পড়ে যান।

স্থানীয়রা তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটি মারা গেছে। তার মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত বা মামলার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

জমি লিখে নিতে অমানবিক আচরণ, তবু নেই অভিযোগ

জমি লিখে নিতে অমানবিক আচরণ, তবু নেই অভিযোগ

হাত-পা বেঁধে মাদারীপুরে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে নিয়াতনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী-ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

খলিল শেখ বলেন, ‘আমি ১২ বছর বিদেশে ছিলাম। আমার ১০-১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ওরা সব সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিত। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। আমি মরে গেলে তো ওরাই এসব সম্পত্তির মালিক হবে। কেন আগে লিখে দেব।’

জমিজমা লিখে নিতে ষাটোর্ধ্ব খলিল শেখকে স্ত্রী-সন্তানরা পাবনার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করান। মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে ভর্তির পর চিকিৎস জানান খলিল শেখ সুস্থ। এরপর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্ত্রী-সন্তানরা। অমানবিক এমন আচরণের শিকার হলেও খলিল শেখ বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রামে।

বাড়ি ফিরে খলিল শেখ নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন নয় দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাগল না, আমাকে পাগল সাজানো হয়েছিল।’

রোববার সকালে বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেন খলিল শেখ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে খলিল শেখের বিষয়ে জানতে পারেন এলাকার লোকজন।

জানা গেছে, সম্পত্তি বেহাতের আশঙ্কা করে তা লিখে নিতে খলিল শেখের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে মিলে তাকে নির্যাতনের পর ১০ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খলিল শেখের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর খালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম হামিদুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সাগর হোসেন, যুবলীগ নেতা রেজওয়ান হোসেন এবং নির্যাতনের শিকার খলিল শেখের দুই ছেলে নাজমুল শেখ ও আসিব শেখ পাবনা সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক মানসিক হাসপাতালে গিয়ে খলিলকে বাড়ি আনেন। চিকিৎসরা খলিল শেখ সুস্থ বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে খলিল শেখ বলেন, ‘আমি কখনোই পাগল ছিলাম না। সম্পত্তির জন্য আমার স্ত্রী-সন্তানরা আমাকে পাগল সাজিয়ে পাবনা নিয়ে গেছে। তারা ভেবেছে আমার সম্পত্তি আমি অন্য কারও নামে লিখে দেব। সেটা তাদের ভুল ধারণা। এখন তাদের ধারণা পাল্টেছে, তাই বাড়িতে আনছে। আমি ওদের সঙ্গেই থাকব। ওদের ছাড়া আমার তো কেউ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ১২ বছর বিদেশে ছিলাম। আমার ১০-১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ওরা সব সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিত। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। আমি মরে গেলে তো ওরাই এসব সম্পত্তির মালিক হবে। কেন আগে লিখে দেব।’

খলিল শেখের ছোট ছেলে আসিব শেখ বলেন, ‘আমার বাবা সুস্থ হওয়ায় পাবনা থেকে বাড়িতে এনেছি। আব্বা আমাদের সঙ্গে বাড়িতে থাকবে। আত্মীয়স্বজনরা তাকে দিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

খলিল শেখের ছোট ভাই তারা মিয়া বলেন, ‘আমরা সম্পত্তি লিখে নিতে চাইনি। বরং তার স্ত্রী-সন্তানরা মিলে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করে পাগল সাজিয়েছিল। এখন অন্তত বাড়িতে আনছে, এতেই আমরা খুশি।’

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খলিল শেখের ছোট ভাই নিখোঁজের জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তিনি এখন বাড়িতে। বিষয়টি নিয়ে কিছু করার নেই। তবে খলিল শেখ যদি তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্ধকার ঘরে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মিনুসহ বিএনপির ৩ নেতার জামিন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মিনুসহ বিএনপির ৩ নেতার জামিন

বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ। সেই তারিখ পর্যন্ত আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ তিন বিএনপি নেতা।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে রোববার দুপুরে তারা জামিনের আবেদন করলে বিচারক ও এইচ এম ইলিয়াস হোসাইন তাদের জামিন দেন।

মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও জামিন পাওয়া অন্য দুই নেতা হলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলাটির বাদী।

তিন নেতার আইনজীবী আবদুল মালেক রানার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জামিন দেয়। শুনানিতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদীসহ বেশ কিছু আইনজীবী অংশ নেন।

জামিন পাওয়ার পর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ। সেই তারিখ পর্যন্ত আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সরকারবিরোধী বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি এবং সরকার উৎখাতের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আসামি।

গত ২৫ আগস্ট মিনু, বুলবুল ও মিলন উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। উচ্চ আদালত সেদিন তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই তিন নেতা বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নথি না আসার কারণে সেদিন শুনানি হয়নি। সেদিন শুনানির জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছিল আদালত। এদিন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে আদালতে যান ওই তিন নেতা। শুনানি শেষে তারা জামিনও পেলেন।

গত ২ মার্চ রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু যে বক্তব্য দেন তার একাংশে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, রাজপথে থেকে দেশনেত্রী হয়েছেন। তাকে বের করে আনব, মুক্তি চাই না হাসিনা... রেডি হও। ‘আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে। মনে নাই ৭৫ সাল? ৭৫ সাল মনে নাই?’ এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে নগর আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ

পদ্মায় ধরা পড়া সাড়ে ৮ কেজির ঢাই মাছ। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার সকালে পদ্মায় ৩৭ কেজির একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। এটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ টাকায়। দুপুরে ধরা পড়ে সাড়ে ৮ কেজির ঢাই মাছ।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আবারও ধরা পড়েছে ঢাই মাছ। এবারের মাছের ওজন সাড়ে ৮ কেজি।

পদ্মা নদীর চরকনেশনা এলাকায় দৌলতদিয়ার বাচ্চু হালদারের জালে রোববার বেলা ২টার দিকে মাছটি ধরা পড়ে।

ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখের কাছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি দরে তিনি এই মাছ বিক্রি করেন।

শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে জানান, মাছটি কেনার পর বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর পদ্মা-যমুনা নদীর মোহনায় ১১ কেজির ঢাই মাছ ধরা পড়ে।

এই মাছের নাম আছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইউসিএন) লাল তালিকায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Silonia Silondia। শিলং নামেও পরিচিত মাছটি।

রোববার সকালে পদ্মায় ৩৭ কেজির একটি বাগাড় মাছও ধরা পড়েছে। এটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ টাকায়।

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ
পদ্মায় ধরা পড়া ৩৭ কেজির বাগাড় মাছ

চরকনেশনা এলাকাতেই মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জের জেলে গোবিন্দ হালদারের জালে এই মাছ ধরা পড়ে।

গোবিন্দ হালদার নিউজবাংলাকে জানান, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের পাশে দুলাল মণ্ডলের মৎস্য আড়তে নিয়ে গেলে নিলামে সর্বোচ্চ দাম বলেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চাঁদনী-আরিফা মৎস্য আড়তের মালিক চান্দু মোল্লা।

চান্দু মোল্লা বলেন, ‘সকালে ঘাটে এসেই দেখি একটি বড় বাগাড় নিলামে উঠছে। পদ্মার মাছের প্রতি মানুষের চাহিদা বেশি। তাই একটু বেশি দামেই মাছটি কিনে নিই।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকোনুজ্জামান জানান, পদ্মায় এখন নিয়মিতই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। এতে জেলে ও ব্যবসায়ী সবাই খুশি।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামি কারাগারে

স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামি কারাগারে

সাতক্ষীরার দেবহাটার এক স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামি পার্থ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার সন্ধ্যায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার বৈকারী সীমান্ত এলাকা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বিকেল ৪টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

সাতক্ষীরার দেবহাটায় এক স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আসামিকে পাঠানো হয়। বিকেল ৪ টার দিকে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

আসামির নাম পার্থ মণ্ডল। তার বাড়ি উপজেলার টিকেট গ্রামে। তিনি নলতা খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ প্যারা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র।

পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার বৈকারী সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি মোস্তাফিজুর জানান, দেবহাটার একটি গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পার্থের।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় তারক মণ্ডলের পরিত্যক্ত বাড়ির বাগান থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মরদেহের কিছুটা দূরে পড়ে থাকা বই-খাতা, জুতা ও একটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে ওই বাগানে ডেকে পাঠান পার্থ।

ওইদিন দেবহাটা থানায় পার্থকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা।

জেলার এসপি জানান, ঘটনার পরপরই সাতক্ষীরা শহরের একটি মেসে ওঠেন পার্থ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শনিবার সন্ধ্যায় পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ জানান ওই ছাত্রী অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় প্রতিশোধ নিতে এই কাজ করেছেন তিনি।

তিনি জানান, ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলায় কেব্‌ল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন পার্থ।

আরও পড়ুন:
‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ৪ জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা’
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা, পুলিশ বলছে হত্যা
ঈদের ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন