পুলিশ পরিদর্শকের বাসায় শিশু গৃহকর্মী কেন

শিশু

বরিশাল নগরীতে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধরের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘বিষয়টি মর্মান্তিক। এখানে রক্ষককে ভক্ষকের ভূমিকায় দেখছি। যে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় শিশুটিকে কাজের জন্য রাখা হয়েছে সেই পুলিশ কর্মকর্তা নতুন কর্মকর্তা নয়। তিনি ডিবির পরিদর্শক পদে আসার আগে বিভিন্ন থানায় ওসির দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি একটা শিশুকে তার বাসায় কাজ করানোর জন্য রাখতে পারেন না। এর সুষ্ঠু বিচার দরকার।’

বরিশালে পুলিশ পরিদর্শকের বাসায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর থেকে তোলপাড় চলছে। আইনের রক্ষক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় শিশু গৃহকর্মী রাখার ঘটনায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির পালিয়ে গিয়েও রেহাই পায়নি, রাস্তায় ওই শিশুকে প্রকাশ্যে মারধর করেন পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী। পরে স্থানীয়দের রোষানলে ঘটনাস্থলে ত্যাগ করেন। তখনই পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তোলপাড় চলেছে বরিশালে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন সমাজ অনেকে।

নির্যাতনের শিকার শিশুটি জানায়, সম্প্রতি বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ১১ বছর বয়সী মেয়ে শিশুটিকে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য নগরীর রুপাতলীর বাসায় নিয়ে নেন বরিশাল জেলা পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমান। ছয় দিন কাজ করার পর নির্যাতনের কারণে বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে সে পালিয়ে যায়। এরপর মিজানুরের স্ত্রী ও ছেলে দুপুরে শিশুটির সন্ধান পান নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায়। সেখানে মেয়েটিকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে মারধর করেন পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শিশুটি বলে, ‘ছয় দিন ধরে কাজ করছি ওই স্যারের বাসায়। স্যারে কিছু কইতো না। তয় হের পোলা মাইয়ায় আমারে অনেক জালাইতো। বকাঝকা করতো। প্রত্যেকদিন এমন করতো। এত ঝামেলা করছে যে আমি সকাল বেলা বাসা দিয়া বাইর হইয়া আইছি। হেইর পর রাস্তায় আমারে মারছিলো। আমি আর ওই বাসায় যামু না।’

প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম ও মমতাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এভাবে মানুষ মানুষকে মারতে পারে না। এদের বিচার হওয়া দরকার। যাওয়ার সময় ওই নারীর সঙ্গে থাকা ছেলে বলে গেছে তার বাবা ডিবির বড় অফিসার।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘বিষয়টি মর্মান্তিক। এখানে রক্ষককে ভক্ষকের ভূমিকায় দেখছি। যে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় শিশুটিকে কাজের জন্য রাখা হয়েছে সেই পুলিশ কর্মকর্তা নতুন কর্মকর্তা নয়। তিনি ডিবির পরিদর্শক পদে আসার আগে বিভিন্ন থানায় ওসির দায়িত্বেও ছিলেন। শিশু আইন সম্পর্কে তার সম্মক ধারণা রয়েছে। তারাই যদি আইন ভঙ্গ করেন, সেটা বেমানান। তিনি একটা শিশুকে তার বাসায় কাজ করানোর জন্য রাখতে পারেন না। এর সুষ্ঠু বিচার দরকার।’

গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘শিশু শ্রম আইন সরাসরি লঙ্ঘন করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এর বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন দরকার। বড় বিষয় হচ্ছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় শিশু শ্রমিক থাকা উদ্বেগজনক।’

অভিযোগ সম্পর্কে জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গৃহ পরিচারিকা নয়, পরিবার অসহায় থাকায় শিশুটিকে আমার সন্তানদের খেলার সঙ্গী হিসেবে আনা হয়েছিল, দুই দিন হয়েছে মাত্র। তাকে কোনো নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না।’

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, অ্যাক্সিডেন্টলি হয়েছে। মেট্রোর কোতয়ালি মডেল থানা বিষয়টি দেখছে।’

বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিল। কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাস্তায় গৃহকর্মীকে মারধর পরিদর্শকের স্ত্রীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য