এখনও জ্বলছে রূপগঞ্জের কারখানা

এখনও জ্বলছে রূপগঞ্জের কারখানা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার কার্টন কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ভবনের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও দাহ্যবস্তু থাকার কারণে নিচ থেকে আগুন দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য আগুন নেভাতেও অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া একাধিকবার নিয়ন্ত্রণে এলেও তা মুহূর্তের মধ্যে আবার জ্বলে উঠেছে। তবে বর্তমানে আগুন ৯০ শতাংশ নিভে গেছে।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কার্টন কারখানার আগুন এখনও নেভেনি।

কারখানায় কেমিক্যাল ও দাহ্যবস্তু থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের।

ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া সাততলা ভবনের নিচতলায় কার্টনের কারখানা। প্রস্তুতকৃত মালামাল বাজারজাত করতে এখানে কার্টন বানানো হয়। দ্বিতীয়তলায় টোস্ট বিস্কুট বানানো ও প্যাকেজিং করা হতো।

তিনতলায় সেমাই ও লাচ্ছা তৈরি করতেন শ্রমিকরা। চারতলায় বানানো হতো চকলেট। আর পঞ্চমতলায় প্রস্তুতকৃত মাল মজুত রাখা ছিল। ছয়তলায় ছিল চানাচুর বানানোর কারখানা। এ ছাড়া প্রস্তুতকৃত কার্টন রাখা হতো সাততলায়।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ভবনের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও দাহ্যবস্তু থাকার কারণে নিচ থেকে আগুন দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য আগুন নেভাতেও অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া আগুন একাধিকবার নিয়ন্ত্রণে এলেও তা মুহূর্তের মধ্যে আবার জ্বলে উঠেছে। তবে বর্তমানে আগুন ৯০ শতাংশ নিভে গেছে।’

ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা জানান, আগুন নিভে গেলে পুরো ভবনটি তল্লাশি করা হবে, যাতে করে কোনো মরদেহ থাকলে তা উদ্ধার করা যায়। এ ছাড়া আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট সূত্র জানতে তদন্ত করা হবে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কারখানাগুলোতে দিনে ও রাতে দুই শিফটে কাজ করতেন শ্রমিকরা। করোনা থাকলেও শ্রমিকদের ছুটি ছিল না। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ চলতে দেখেছেন কারখানার বয়লার শাখার দায়িত্বে থাকা আবদুল জলিল।

তিনি বলেন, ‘খাবার বানাতে অনেকে মেশিন চালাত। আবার অনেকে প্যাকেটিং করত। প্রতিটা তলায় নারী-পুরুষ মিলে কাজ করত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভবনের নিচতলায় কার্টন কারখানায় আগুন দেখতে পাই। আগুন ওপরের দিকে যেতে যেতে তিনতলায় যাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের নামতে দেখছি। তার ওপর শ্রমিকরা ছাদে উঠে লাফিয়ে নিচে পড়েছে।

‘অনেকে ফায়ার সার্ভিস আসার পর রশি দিয়ে নেমেছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন ওপরের দিকে উঠে গেলে এরপর আর আগুন নেভে নাই। সকাল পর্যন্ত আগুন জ্বলতেছে।’

গতকাল সন্ধ্যার আগুনে দুই নারী শ্রমিকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে আগুনে পুড়ে দুজনের এবং ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য