চট্টগ্রামে হাসপাতালে হাঁটুপানি

চট্টগ্রামে হাসপাতালে হাঁটুপানি

‘রোববার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে হাসপাতাল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। শুরুতে হাসপাতালের প্রবেশমুখে পানি জমে যায়। এরপর হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢোকে। এখন হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটুপানি।’

সকাল থেকে ভারী বর্ষণের প্রভাবে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটুপানি জমেছে। ফলে বিশেষায়িত এই হাসপাতালে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দুই বছর বয়সী কন্যাশিশু জাইমা রহমানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর বি ব্লকের বাসিন্দা জোবায়দা রহমান। পানি ওঠায় নিচতলার শিশু ওয়ার্ড থেকে তাদের চতুর্থ তলায় স্থানান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জোবায়দা রহমান বলেন, ‘রোববার ভোরে আমার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলাম। পানি ওঠাতে দুপুরের দিকে চতুর্থ তলায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

মাঝারি বৃষ্টিতে রোববার তলিয়ে যায় আগ্রাবাদ এলাকা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আগ্রাবাদের পানি মহেশখাল হয়ে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। কিন্তু খালটি দখল হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খাল সরু হয়ে যাওয়াতে পানিপ্রবাহ ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে হাসপাতাল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। শুরুতে হাসপাতালের প্রবেশমুখে পানি জমে যায়। এরপর হাসপাতালে নিচতলায় পানি ঢোকে। এখন হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটুপানি।’

তিনি বলেন, পানির কারণে নিচতলার জরুরি বিভাগ তৃতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া নিচতলায় থাকা শিশু ওয়ার্ড, অভ্যর্থনা কক্ষ, বহির্বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ পানিতে তলিয়ে যায়। নিচতলায় থাকা সাধারণ শিশু ওয়ার্ড থেকে কিছু রোগীকে চতুর্থ তলায় জেনারেল ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) নুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, মাঝারি বৃষ্টিতে পানি নামতে না পেরে হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

তিনি বলেন, ‘আগ্রাবাদের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। আমরা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বারবার তাগাদা দিয়েছি। বলেছি, আগ্রাবাদ থেকে পানি নামার জন্য মহেশখাল খালটি যেন দখলমুক্ত করা হয়। কিন্তু এখনও মহেশখাল দখলদারকে কবজায়। ফলে বৃষ্টির পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। এ জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগরে দীর্ঘদিন সমস্যা জলাবদ্ধতা। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুর্নখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়নে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তবে এখনও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় মহেশখালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মাঈনুদ্দিন বলেন, ‘স্লুইসগেটটির কাজ বর্ষার আগে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে কাজের গতি কমেছে। পাশাপাশি খালটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। তবে খালের দুই পাশে সীমানাপ্রাচীর এবং খননকাজ চলছে। আশা করছি, শিগগিরই এর সুফল মিলবে।’

আরও পড়ুন:
রেকর্ড বৃষ্টিতে আবার ডুবল ঢাকা
জলাবদ্ধতা, মশার সমস্যা জানান ‘সবার ঢাকা’য়
তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাবে রাজধানী
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য