করোনা প্রতিরোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি

করোনা প্রতিরোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি

সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার ভোমরা, গাজীপুর, কুশখালী, কালিয়ানী, মাদরা, কাকডাঙ্গা ও তলুইগাছা এলাকাগুলো স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অবৈধ যাতায়াত প্রতিরোধে ইতিমধ্যে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল হিসেবে মোটর সাইকেলযোগে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরার সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিজিবি। কেউ যাতে সাতক্ষীরার কোনো সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত না করতে পারেন সে জন্য সোমবার থেকে এই কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তজুড়ে চলছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল মাহমুদ মঙ্গলবার জানান, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে ভারতে স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে জনগণের অবৈধ যাতায়াতের মাধ্যমে ওই ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সে প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার ভোমরা, গাজীপুর, কুশখালী, কালিয়ানী, মাদরা, কাকডাঙ্গা ও তলুইগাছা এলাকাগুলো স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অবৈধ যাতায়াত প্রতিরোধে ইতিমধ্যে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল হিসেবে মোটর সাইকেলযোগে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তে মোবাইল টহল পরিচালনা করে অবৈধ যাতায়াতের সময় ইতিমধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অবৈধ যাতায়াত বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইতিমধ্যে সীমান্তের মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেউ যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার না করেন সেটিও মাইকিং করে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় করোনায় আরও ৪ মৃত্যু

কুমিল্লায় করোনায় আরও ৪ মৃত্যু

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা জরুরি বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছে ৮২ হাজার ২৯৩ জনের। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৮১হাজার ৭০৩ জনের।

কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। এদিকে, নতুন ৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন।

তিনি জানান, এ নিয়ে জেলাজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ হাজার ৭১০জন।

করোনায় কুমিল্লা জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান চারজন।

সিভিল সার্জন জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছে ৮২ হাজার ২৯৩ জনের। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৮১হাজার ৭০৩ জনের।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভীড় বেড়েছে। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল রয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আরও বেশকিছু পরিকল্পনা করেছি, আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের হারের উপর নির্ভর করে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।’

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

নীলফামারীতে গ্রাম গ্রামে জ্বর

নীলফামারীতে গ্রাম গ্রামে জ্বর

চিকিৎসকরা বলছেন, সিজনাল জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম, শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাওয়া এবং গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করায় এমন হয়ে থাকে। নাপা জাতীয় ওষুধ সেবনেই এই জ্বর নেমে যাচ্ছে।

নীলফামারী শহরের মিলন পল্লী এলাকার বাসিন্দা রিপন কুমার মজুমদার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি নিজেসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন গেল কয়েকদিনে। তবে জ্বরের স্থায়ীত্ব ২৪ ঘণ্টার বেশি হয়নি।

তার নিজের চার ঘণ্টায় জ্বর নেমেছে। এজন্য নাপা সেবন করেছিলেন তিনি।

রিপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘তেমন কোন সমস্যা ছিল না আমাদের। স্বাভাবিকভাবে জ্বর হলে আমরা যে ওষুধ খাই সেটি সেবন করে জ্বর নেমে যায় সবার।’

শহরের বাবুপাড়া এলাকার মুদি দোকানি রশিদুল ইসলাম। তিনিসহ তার পরিবারের চার সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন বুধবার রাতে। এরমধ্যে স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালকও ছিল। এখন জ্বর নেমেছে সবার।

রশিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে জ্বরের অনেক রোগী দেখতে পাই। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে জ্বর নেমে গেছে সবার।

ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুইজনের জ্বর। আমি গত রাত থেকে জ্বর অনুভব করছি। তবে শুক্রবার দুপুরে জ্বর নেমে গেছে। আমার বাড়ির পাশের অনেকেরই জ্বর।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ৪৬ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে ৩৫ জন জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। বেশিরভাগই ওষুধ নিয়ে চলে গেছেন। আর কয়েকজন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বরে স্বাভাবিক যে ওষুধ দিয়ে থাকি আমরা, এখনও সে ওষুধই দিয়েছি রোগীদের। দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন রোগীরা। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন রোগীর সংখ্যা একটু বেশি।’

নীলফামারী জেনালের হাসপাতালেও জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ১১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৪ জনের শুধুমাত্র জ্বর এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে জ্বর ছিল অন্তত ১৬ জনের।

চিকিৎসকরা বলছেন, সিজনাল জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম, শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাওয়া এবং গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করায় এমন হয়ে থাকে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা অমল রায় বলেন, মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এটি তেমন কোনো বিষয় নয়। ওষুধ সেবন করলে জ্বর নেমে যাচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ আলেমুর বাশার বলেন, ‘সিজনাল জ্বর গ্রামগঞ্জে হচ্ছে। তারা নিজেরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে করোনার নমুনা দেন আবার অনেকে দেন না। তবে করোনার নমুনা আমরা শহর থেকে বেশি পাই। আমরা মাস্ক পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নীলফামারীর সভাপতি তাহমিন হক ববি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী হিসেবে করোনার জন্য নীলফামারী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু আমরা উদাসীন। ১০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করতে চাচ্ছি না।’

সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে দুই দফায় যোগাযোগ করে পাওয়া না গেলেও নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) রেজাউল করিম বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে জ্বর হলে করোনার জন্য নমুনা দেয়া ভালো। কারণ কার পজিটিভ হবে আর কার হবে না সেটি আমরা পরীক্ষা না করে বলতে পারব না। আমি মনে করি মাস্ক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গেল ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীতে নতুন করে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মাত্রাতিরিক্ত দাম হওয়ায় ভোলা জেলার মরপুরার তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সোলার প্যানেল থেকে সরবরাহ করা ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ আর চাচ্ছে না। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানিয়েছে তারা।

এ দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন করেছে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান জানান, কোম্পানিটি এককালীন মিটার খরচ বাবদ নিচ্ছে ৫-৮ হাজার টাকা। আর প্রতি ইউনিট প্রতি চার্জ নিচ্ছে ৩০ টাকা, সঙ্গে মাসিক ভ্যাট ৭০ টাকাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এত দামের বিদ্যুৎ বিশ্বের কোথাও নেই। মনপুরাবাসীর জন্য এ ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য। কারণ এখানকার ৯৫ ভাগ মানুষ দিনমজুর, জেলে ও কৃষক।

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শতভাগ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়নে ভোলা জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের অনেক দুর্গম চরে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ভোলার মনপুরা উপজেলার আশপাশে মাত্র ১০-১২ হাজার মানুষ বসবাসকারী একটি ওয়ার্ড যুক্ত চরেও বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। কিন্তু দুভার্গবসত মনপুরার ৩ ইউনিয়নে আজও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এজন্য অবিলম্বে সরকারের কাছে মনপুরা বাসীর জন্য জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানাই।’

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্য সচিব মো. ইয়াছিন বলেন, মৎস আহরণে জিডিপিতে মনপুরার মৎসজীবীদের অবদান রয়েছে। কিন্তু এই মৎসজীবীরা আহরণ করা মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারছে না শুধুমাত্র বিদ্যুৎ না থাকার কারণে। এখানে ডিজেল চালিত একটি বিদ্যুৎ স্টেশন থাকলেও তা উপজেলা সদরের মাত্র দেড় হাজার বাসিন্দাদের রাতে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ২৭ বাংলাদেশি

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ২৭ বাংলাদেশি

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শুক্রবার ২৭ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ২৭ বাংলাদেশি। এ নিয়ে ৩৯ দিনে এই চেকপোস্ট দিয়ে ১ হাজার ৪০ জন দেশে ফিরলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভারতের গেদে চেকপোস্ট হয়ে দেশে প্রবেশ করেন ওই বাংলাদেশিরা।

দেশে প্রবেশের পর ওই চেকপোস্টেই অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল। তবে এদিন তাদের মধ্যে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শুক্রবার ২৭ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হননি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে ২৫ জনকে চুয়াডাঙ্গা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ও দুইজনকে স্থানীয় হোটেল ভিআইপিতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসনবিষয়ক শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে ভারতফেরতদের নির্ধারিত পরিবহনযোগে (মাইক্রোবাস) জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা কারাগারে

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা কারাগারে

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটির সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেন। মাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিশ্বাস করেননি। এরপর বুধবার ভোরে তাকে আবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বৃহস্পতিবার তার কারখানার মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউসার আলমের আদালত শুক্রবার বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে ৯৯৯ এ কল পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ১৩ বছর বয়সী ওই মেয়ের বাবাকে ফতুল্লার মাসদাইরের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেয়েটি কাজ করে একটি হোসিয়ারি কারখানায়। তিন বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তারা তিনজন একসঙ্গেই থাকেন।

দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটির সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেন। মাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিশ্বাস করেননি। এরপর বুধবার ভোরে তাকে আবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বৃহস্পতিবার তার কারখানার মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ৯৯৯ এ কল পেয়ে মেয়েটির সৎ বাবাকে আটক করা হয়। এরপর মেয়েটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েটি ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ের ফকিরগঞ্জ বাজারে কাদাপানির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহান ব্যবসায়ীসহ বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

‘ছোট থেকে বড় হলাম কোনো দিন চোখে পড়ল না, এখানকার কোনো উন্নয়ন। জীবনে কোনো দিন হবে কি না সন্দেহ আছে।’

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে প্রসিদ্ধ ফকিরগঞ্জ বাজারে। চাকরি, ব্যবসাসহ নানা প্রয়োজনে প্রতি দিনই এ বাজারে আসেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ।

বর্ষায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারে এসে ভোগান্তি পড়েন তারা। কারণ বর্ষা এলেই বাজারের চারপাশে জমে থাকে বর্ষার পানি। প্রতি বছর প্রায় তিন মাস ধরে থাকে এ অবস্থা।

থকথকে কাদাপানিতে যেমন হাঁটার উপায় থাকে না আবার ছোট যান চলাচলেও ঘটে বিঘ্ন। প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে উপজেলাবাসী।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা প্রতি বছরই পানি নিষ্কাশন ও বাজার পরিষ্কার করার আশ্বাস দিলেও কোনো কাজই করা হয়নি।

বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, ‘ছোট থেকে বড় হলাম কোনো দিন চোখে পড়ল না, এখানকার কোনো উন্নয়ন। জীবনে কোনো দিন হবে কি না সন্দেহ আছে।’

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

আটোয়ারী বাসস্ট্যান্ডে মনোহারির দোকানদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ফকিরগঞ্জ বাজারের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে নেতারা তাদের নিয়েই ব্যস্ত। কে রাখে কার খবর।’

উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্ষার শেষে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ উপলব্ধি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে দাবি করে ইউএনও আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা হলে জনগণ উপকৃত হবে। তাদের আর চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন

কোরবানির পর্যাপ্ত পশু নেই খুলনায়

কোরবানির পর্যাপ্ত পশু নেই খুলনায়

খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়ছে। এ কারণেই এই লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্য জেলা থেকে পশু আনতে হবে। এতে করে পশুর দামও বেড়ে যেতে পারে।’

করোনাভাইরাসের তীব্র সংক্রমণের মধ্যেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশে পালিত হবে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদে খুলনায় ৫ হাজার ২১২টি খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু। কিন্তু জেলায় এবার পশুর চাহিদা রয়েছে অন্তত পক্ষে ৭৫ হাজার। এই সংখ্যক পশু দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা জেলাবাসীর।

ঈদে পশুর চাহিদা মেটাতে খুলনা জেলার সদর, ফুলতলা, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রুপসা, দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ বেশকিছু উপজেলার খামারিরা পশুর খেয়াল রাখতে ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার বামনদিয়া গ্রামের খামারি আফসার শেখ বলেন, ‘হাটে নেয়ার আগে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে ষাঁড়গুলোর যত্ন নিচ্ছি। ওষুধ না দিয়ে খাবারের মাধ্যমেই মোটাতাজা করা হয়েছে। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি করতে পারবো ষাঁড়।’

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী খুলনা জেলায় এবার ৫ হাজার ২১২ জন খামারি ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এই পশুগুলোর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৬৮টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩১৯টি বলদ, ২ হাজার ৪০৪টি গাভি, ৯টি মহিষ, ১২ হাজার ২৩৯টি ছাগল এবং ২ হাজার ২৫০টি ভেড়া রয়েছে। এই পশুগুলোকে কোরবানির জন্য বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটবাজারে নেয়া হবে।

তবে জেলায় এবার পশুর চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার। গত বছর জেলায় কোরবানি হয়েছিল ৭৪ হাজার পশু। এ অবস্থায় এবার ঈদে জেলার অভ্যন্তরে খামারিরা যে পশু উৎপাদন করেছেন তা দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। অন্য জেলা থেকে আনতে হবে পশু।

ডুমুরিয়া উপজেলার বামনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান সরদার বলেন, ‘যৌথ পরিবার হওয়ায় আমার দুই-তিনটি পশু কোরবানি দিতে হয়। বাইরে থেকে আসা গরু দেখা যায় বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। আবার অন্য উপজেলা থেকে পশু আনতে গেলেও যাতায়াতের খরচ বেড়ে যায়। এমনকি হাটে টোলও বেশি দিতে হয়।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়ছে। এ কারণেই এই লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্য জেলা থেকে পশু আনতে হবে। এতে করে পশুর দামও বেড়ে যেতে পারে।’

তবে এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রণজীতা চক্রবর্তী বলেন, ‘জেলার অভ্যন্তরে খামারিরা যে পশু উৎপাদন করেছেন তা দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো না গেলে আশপাশের জেলা থেকে পশু আনতে হবে। মহানগরীর জোড়াগেট হাটসহ জেলায় অন্তত ২৫-২৬টি হাট বসবে। সেখানে পাশ্ববর্তী জেলা থেকে পশু আসবে। তখন কোরবানির জন্য পশুর সংকট থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশু যাতে রোগাক্রান্ত না হয় এ জন্য মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। এ ছাড়া বাজারে অথবা বিক্রয় কেন্দ্রে যে পশুটিই আসুক, সেটাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে সেটির রোগ আছে কি না।

‘তবে বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অফিস তৎপর এবং খামারিরাও সচেতন। ফলে এখন আর কোনো পশুর শরীরে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার হয় না।’

আরও পড়ুন:
করোনা ভ্যারিয়েন্টের তথ্য জানানো দরকার: রওশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে প্রতীকী ক্লাস
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৪১, শনাক্ত ১৭৬৫
৩৫ দিন পর ভারতে মৃত্যু ৩ হাজারের নিচে
যশোরে ৮ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

শেয়ার করুন