বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড মহাসড়কের ইউনিক থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ি থেমে থেমে চলতে দেখা গেছে। এতে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় কোথাও কোথাও কোমর পানি জমে আছে।

ঢাকার সাভারে মঙ্গলবার ভোর থেকে ভারী বর্ষণে সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এরপর থেকেই সড়কটিতে থেমে থেমে দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া গত রোববার রাতে টানা এক ঘণ্টার বৃষ্টির পরে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড রাস্তাতেও তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানিতে আশুলিয়ায় সড়কের আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতায় বসতবাড়ি, দোকানপাট, সিএনজি স্টেশন, শিল্প কারখানায় পানি ঢুকে পড়ায় আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই আশুলিয়ার ইউনিক, জামগড়া, শিমুলতলা, বুড়ির বাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড মহাসড়কের ইউনিক থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে গাড়ি চলতে দেখা গেছে। এতে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকার কোথাও কোথাও কোমর পানি জমেছে।

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ
ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েন সাভারের অনেক এলাকার বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

পানিতে তলিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকার অকটেন ও ডিজেল নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি শিমুলতলা এলাকার আনোয়ার সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের।

মালিক আনোয়ার মৃধা বলেন, ‘বৃষ্টিতে আমার পাম্প ডুবে গেছে। ৭৫০০ লিটার অকটেন ও ১৭ হাজার লিটার ডিজেল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কোটি টাকার কম্প্রেসার ও জেনারেটর মেশিন পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

‘নিজেরাই পানি নামানোর জন্য সেচ পাম্প দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছি। এই শিল্প এলাকায় ড্রেন না থাকায় আমরা অনেক দিন ধরেই এভাবে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির শিকার হই। কোথাও জানিয়েও কোনো প্রতিকার আমরা পাইনি।’

আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দা হামিদা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ কইরা ভোরে ঘরে কোমর সমান পানি ঢুকছে। আমার খাট, ফ্রিজ, আলমারি পানিতে শেষ। সকাল থাইকাই পানি সেইচা কমাইতে পারতেছি না। অ্যার কারণে অফিসেও যাইতে পারি নাই।’

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ
পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বাড়িঘরের আসবাবপত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বাইপাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক খসরু পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গত দুই দিন ধরেই এই সড়কে পানি জমে আছে। আজকে অবস্থা বেশি খারাপ। বাইপাইল থেকে জামগড়া পর্যন্ত সড়ক পানিতে ভরপুর। নৌকা চলার মত অবস্থা। এতে গাড়িও খুব আস্তে চলতে হচ্ছে।

‘আমাদের ডেপ্লয়েড যানজট নিরসনে কাজ করছে। কিন্তু পানি না কমা পর্যন্ত এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ জন্য বারবার সওজ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি।’

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ
সাভারে বৃষ্টিতে অলিগলিতে জমেছে হাঁটুপানি। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগের টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড মহাসড়কের দায়িত্বে থাকা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বদিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কার কাজে নিয়োজিত মেইনেটন্যান্স ঠিকাদার ইমাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা রাত-দিন পানি নিষ্কাশনে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আশপাশের বিভিন্ন শিল্প কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি সড়কে ছেড়ে দেয়াসহ খাল দখল করে আবসান গড়ে তোলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও আমরা ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা তুলে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

‘সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। বৃষ্টি যখন কম হচ্চে তখন দুই একজন প্যাসেঞ্জার পাচ্চি। রাস্তায় লোক নেই। ভাড়া-ভুতি কম হচ্চে।’

আষাঢ়ের টানা বর্ষণে ঝিনাইদহে স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটেছে। শুক্রবার ও শনিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

দুই দিন ধরেই কখনও ভারী কখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শহরবাসী। অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন তারা।

আবার জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে বৃষ্টির কারণে অনেকে আটকা পড়েন শহরে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন দোকানে তাদের দীর্ঘক্ষণ আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। কাজের সন্ধানে বের হয়ে কাজ না পেয়ে অনেককেই বসে থাকতে দেখা গেছে।

শৈলকুপা উপজেলার ভাটই গ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মুদি দোকানের মালামাল কিনতি শহরে আসলাম। এত বৃষ্টি হচ্চে যে মুকামে যেতেই পারছিনে। আবার দোকানও খুলছে না। দুই দিন ধরে বৃষ্টি হচ্চে।’

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

সদর উপজেলার হাটগোপালপুর এলাকার মসিউর রহমান বলেন, ‘সকালে শহরে আসিছি একজনের সাথে দেখা করার জন্যি। মাহেন্দ্র থেকে নেমে আর কোথাও যাতি পারছিনে। সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি হচ্চে। এখন ভিজতি ভিজতিই কাজ সারে বাড়ি যাতি হবি।’

শহরের রিকশাচালক সাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। বৃষ্টি যখন কম হচ্চে তখন দুই একজন প্যাসেঞ্জার পাচ্চি। রাস্তায় লোক নেই। ভাড়া-ভুতি কম হচ্চে।’

শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বসে থাকা দিনমজুর আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এখানে কাজের জন্যি আসি। আজ সকালে এসে বসে আছি। কোনো লোক কামের জন্য নিতি আসছে না। আর একটু সময় বসে থাকব। কাম না পালি বাড়ি ফিরে যাতি হবে। কী আর করব।’

এদিকে অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে আউশ ধানের বীজতলা। নষ্ট হচ্ছে মরিচ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, পানি জমে থাকলে গাছ নষ্ট হওয়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এজন্য ফসলের জমিতে যেন পানি না জমে এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে পানি জমলে দ্রুত তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

মাদারীপুর: টানা বর্ষণে একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছেন মাদারীপুর জেলাবাসী।

তিনদিনের প্রবল বর্ষণে মাদারীপুর সদর, রাজৈর ও টেকেরহাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে খাল, বিল, নালা ও পুকুর।

এদিকে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজৈর পৌরসভার পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকা এবং টেকেরহাট বন্দর বাজারে হাঁটু পানি জমে। এতে জনসাধারণ চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহায়।

এলাকাবাসীরা জানান, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আবার বেশ কিছু স্থানে ড্রেন না থাকায় পানি জমে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ঘরে আটকা পড়ায় শ্রমজীবী মানুষ কাজ না করতে পেরে আনাহারে অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন

ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি, নোবিপ্রবি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি, নোবিপ্রবি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

জিয়াউর রহমান সম্রাট। ফাইল ছবি

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৭ জুন রাত ১২টা ৮ মিনিটের দিকে জিয়াউর রহমান সম্রাট তার ফেসবুকে ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ ধরনের স্ট্যাটাস মন্ত্রীর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিকেলে ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলার উত্তর লামছি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নোবিপ্রবির ডিপিডি দপ্তরের সহকারী পরিচালক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বডুয়া।

তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করায় শুক্রবার রাতে কবিরহাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৭ জুন রাত ১২টা ৮ মিনিটের দিকে জিয়াউর রহমান সম্রাট তার ফেসবুকে ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ ধরনের স্ট্যাটাস মন্ত্রীর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করে।

বিবাদী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়ে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছেন।

জিয়াউর রহমান সম্রাট অবশ্য দাবি করছেন, ফেসবুকের ওই আইডি তার হলেও স্ট্যাটাসটি তিনি দেননি। বিষয়টি তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সম্রাটের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি

‘আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যক্তি আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোনো কর্মী হতাম, তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সঙ্গে আমার ছবি থাকত। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।’

সদ্য ঘোষিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পান ছাত্রদলের প্রথম সারির এক নেতা। জানাজানি হওয়ার পর শনিবার ওই বিতর্কিত নেতাকে বিতাড়িত করেছে উভয় দলই।

অভিযোগ, রায়হান রনি নামের ওই নেতা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থাতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পান।

রায়হান রনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার আলফাডাঙ্গা মৌজার বাসিন্দা। পড়াশোনা করেন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।

ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে ২৩ জানুয়ারি ২১ সদস্যবিশিষ্ট আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছে রায়হান রনির নাম।

অপরদিকে গত ১২ জুন আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে আংশিক কমিটি অনুমোদন করে জেলা ছাত্রলীগ। ঘোষিত ওই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে মোহাম্মদ রায়হান রনির নাম।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি


এ নিয়ে মোহাম্মদ রায়হান রনি বলেন, ছাত্রদলের রায়হান রনি আর তিনি এক ব্যক্তি নন। তিনি আজীবন ছাত্রলীগ করেছেন, ছাত্রদল তিনি করেননি। ছাত্রদলের রায়হান রনিকে তিনি চেনেনও না।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান জানান, তার জানামতে ছাত্রদলের রায়হান রনি আর ছাত্রলীগের রায়হান রনি এক ব্যক্তি নন। তারপরও কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে এই দুই রনি একজনই তাহলে রায়হান রনির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছাত্রলীগে কোনো বিতর্কিত লোকের স্থান হবে, না এমনকি অন্য যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠন করে ছাত্রলীগে আসা যাবে না।

অবশ্য এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান ও সধারণ সম্পাদক ফাহিম আহম্মেদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ রায়হান রনিকে (সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখা) নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

শনিবার অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস বলেন, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শচ্যুতির অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মোহাম্মদ রায়হান রনি, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হলো।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, ‘জেলা থেকে কখন কী কমিটি ঘোষণা করে, আমাদের কাছ থেকে মতামত বা পরামর্শও নেয় না। ছাত্রলীগের এই কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রেও আমার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। এখন শুনছি, ছাত্রদলের এক নেতা কমিটির বড় পদ পেয়েছেন।’

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি


এদিকে নিজেকে শুধু ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ রায়হান রনি। শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যক্তি আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোনো কর্মী হতাম, তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সঙ্গে আমার ছবি থাকত। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গার পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমানসহ নেতারা।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মিলন জানান, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

শেয়ার করুন

১০ বছর পর নির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

১০ বছর পর নির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটার সাদেকুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা ভোট দিতে কিভাবে যাব। এমনিতে দিনাজপুরে করোনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া ভয়ের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আর এক দিন পর দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। সীমানা জটিলতায় ১০ বছর অপেক্ষার পর ভোটের আগ মুহূর্তে চলছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। তবে করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আগ্রহ নেই ভোটারদের।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘খ’ শ্রেণীর এ পৌরসভার সবশেষ নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি। সীমানা জটিলতার কারণে ১০ বছর আটকে ছিল সেতাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ২১ জুন ইভিএমের মাধ্যমে ২১ হাজার ৩৫৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৩২৬ এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৩২ জন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ৭৪টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেতাবগঞ্জে টানা ১১ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস সবুর।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন এবং ৯টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আসলাম, হাতুড়ী প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির রশিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়াও মেয়র পদে লড়াইয়ে আছেন তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের মধ্যে নারিকেল গাছ প্রতীকে হাবিবুর রহমান দুলাল, জগ প্রতীকে নাহিদ বাসার চৌধুরী, মোবইল প্রতীক নিয়ে আছেন নাজমুন নাহার মুক্তি।

প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না।

ভোটার সাদেকুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা ভোট দিতে কিভাবে যাব। এমনিতে দিনাজপুরে করোনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া ভয়ের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ছন্দা পাল বলেন, ‘সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারেরা যেনো কেন্দ্র এসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট দিতে পারেন সে দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় প্রথমবারের মত ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে।

শেয়ার করুন

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা: ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা: ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ জুন বরিশাল সদর, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় বরিশালে ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ জুন বরিশাল সদর, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউপি নির্বাচনে
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্ধারণ করেছিল।

তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস নিউজবাংলাকে বলেন, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী। তাদের মধ্যে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন, আবার কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

বহিষ্কৃতদের সঙ্গে যারা যোগাযোগ বা নৌকাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

হিজলায় বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পণ্ডিত সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ফারুক সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান সিকদার।

মুলাদীর বহিষ্কৃত নেতারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুন্সী, সদস্য মজিবুর রহমান শরীফ, ইউসুফ আলী।

বানারীপাড়ায় বহিষ্কার হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজেম আলী হাওলাদার।

সদর উপজেলায় বহিষ্কার হলেন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

বাকেরগঞ্জের বহিষ্কার হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন পান্না, দাড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাছের আহম্মেদ বাচ্চু, গারুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন তালুকদার মিন্টু, কলসকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম তালুকদার।

বাবুগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থনকারী জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মনির খান, ইসমাইল ব্যাপারী এবং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আ. রব ব্যাপারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আদিবাসী নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

আদিবাসী নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

স্থানীয়রা জানান, আসামিরা কাপ্তাইয়ে বড়ইছড়ি-ঘাগড়া সড়কের বগাপাড়ায় সেতু নির্মাণ শ্রমিক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়াগ্গা ইউনিয়নের দেবতাছড়ি দুপতারেঙ্গ পাহাড়ের ঢালের ক্ষেতে এক নারীকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। 

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নে এক আদিবাসী নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এরা হলেন ফজলুল হক সজিব, মিয়াজন ইসলাম রাজু ও তৌহিদুল ইসলাম। তিনজনই রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানান, আসামিরা কাপ্তাইয়ে বড়ইছড়ি-ঘাগড়া সড়কের বগাপাড়ায় সেতু নির্মাণ শ্রমিক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়াগ্গা ইউনিয়নের দেবতাছড়ি দুপতারেঙ্গ পাহাড়ের ঢালের ক্ষেতে এক নারীকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা।

এসময় ওই নারী তার সাথে থাকা ধারালো দা দিয়ে ভয় দেখালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বড়ইছড়ি-ঘাগড়া সড়কে বগাপাড়ায় সেতু নির্মাণের কাজ করার সময়ে তাদের তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। রোববার কোর্টে পাঠানো হবে।’

শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে শনাক্ত ১৩

২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে শনাক্ত ১৩

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে দুই দিনে করোনো আক্রান্ত হন ১০ জন।

খাগড়াছড়িতে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়েছে গেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে দুই দিনে আক্রান্ত হন ১০ জন।

জেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় ছয় হাজার ৭২০ জন করোনা পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে পজিটিভ হয়েছেন ৯৩১ জন। আক্রান্তের হার ৯ শতাংশ। এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের।

খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন মিটন চাকমা বলেন, জেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলা দেখা যাচ্ছে। সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এতে সংক্রমণ কমানো সম্ভব হবে।

সিভিল সার্জন নুপূর কান্তি দাশ বলেন, মাঝে কম থাকলেও নতুন করে শনাক্তের হার বেড়েছে। সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া কোন উপায় নেই।

শেয়ার করুন