মেয়র সাদিকের সঙ্গে পুলিশের দ্বন্দ্ব কী নিয়ে?

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ছবি: ফেসবুক

মেয়র সাদিকের সঙ্গে পুলিশের দ্বন্দ্ব কী নিয়ে?

পুলিশের উদ্দেশে মেয়র সাদিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তৃণমূলের দল। আমরা পুলিশি ক্ষমতায় চলি না, আমরা তৃণমূলের ক্ষমতায় চলি। আপনারা যা করছেন সেটা দলের জন্য বদনাম।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মহানগর পুলিশের বিরোধ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।

নেতা-কর্মীদের হেনস্তা অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভায় পুলিশের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন মেয়র সাদিক।

তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার মানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা।’

বরিশালের পুলিশ প্রশাসন বাইরের কোনো গোষ্ঠীর টার্গেট পূরণে ব্যস্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বলছে, মেয়রের মন্তব্যগুলো একান্তই তার ব্যক্তিগত। শুধু সিটি করপোরেশন নয়, পুলিশ সকল সংস্থার সমন্বয়ে নাগরিক সেবা দেয়ার কাজ করছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহানগর পুলিশের সঙ্গে মেয়র সাদিকের অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরোধের শুরু এ বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে।

এদিন বরিশাল নগরীর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ হাওলাদারকে বিসিকের ফরচুন সুজ কোম্পানিতে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটকে মারধরের অভিযোগ ওঠে এবং সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবাদে কাউনিয়া থানা ঘেরাও করেন মেয়র সাদিকের অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

মেয়র সাদিকের সঙ্গে পুলিশের দ্বন্দ্ব কী নিয়ে?
মেয়র সমর্থক নেতা-কর্মীদের কাউনিয়া থানা ঘেরাও

একপর্যায়ে সোহাগকে ছাড়াতে না পেরে তারা বরিশালের বাস, লঞ্চ, থ্রি হুইলার ও রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর সোহাগকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

২৯ মার্চ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহসভাপতি গোলাম রসূলসহ বেশ কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।

৩০ মার্চ বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী রিপন মাঝিসহ ছয়জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা করেন গোলাম রসূল। ওই মামলায় ১৬ মে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

১৭ মে রিপন মাঝিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এবং তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুর নেতৃত্বে দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাও করেন।

রিপনকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

পরে মেয়রের অনুসারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নগরীর সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং রিপনকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

সবশেষ ২৭ মে নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের মানু মিয়ার লেনে ৯৯৯-এর কলে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার টিম।

সেখানে উপস্থিত বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্না পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনকে হেনস্তা এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে মান্নার বিরুদ্ধে। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে মান্না সটকে পড়েন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাওয়ের পর শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে নগরীর কালিবাড়ির সেরনিয়াবাত ভবনে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পুলিশকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করেন।

তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বরিশালকে অশান্তির দিকে ডেকে নেবেন না। আমি এখানে ভেসে আসিনি। আগের থেকে বরিশাল আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। এত বড় আওয়ামী লীগকে আপনারা আটকাতে পারবেন না। বরিশালে অশান্তি হলে সে দায়ভার আপনাদেরকেই নিতে হবে।’

মেয়র সাদিকের সঙ্গে পুলিশের দ্বন্দ্ব কী নিয়ে?
মেয়র সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাও

মেয়র সাদিক বলেন, ‘যারা সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে আন্দোলন করছে, প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের পক্ষ নিয়ে আপনারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করছেন। রাতের আঁধারে তাদের বাড়িতে রেড দিয়ে গ্রেপ্তার করছেন। আর যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদের নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

‘এ অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? আওয়ামী লীগ তৃণমূলের দল। আমরা পুলিশি ক্ষমতায় চলি না, আমরা তৃণমূলের ক্ষমতায় চলি। আপনারা যা করছেন সেটা দলের জন্য বদনাম।’

২৯ মে সেরনিয়াবাত ভবনে মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায়ও পুলিশের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ জানান মেয়র সাদিক।

ওই সভায় তিনি বলেন, ‘কোনো থানায় কি আমি কখনও কাউকে ছাড়াতে ফোন দিয়েছি? কাউকে মোটরসাইকেলসহ ধরলে আমি কি ফোন দেই ছাড়ানোর জন্য? সমস্যাটা কোথায়?

‘বরিশাল কি আপনাগো সম্পত্তি মনে করতে আছেন আপনারা। কার বিরুদ্ধে কাজ করতেছেন আপনারা। এই সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করতেছেন? আমার বিরুদ্ধে কাজ করতেছেন নাকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কাজ করতেছেন? আমার বিরুদ্ধে কাজ করা মানেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কাজ করা।’

মেয়র সাদিক বলেন, ‘আমি কাজ করতেছি এইটাই কি অপরাধ আমার। আপনারা উইঠা পইরা লাগছেন আমার পেছনে। আমি তো সব শান্ত কইরা রাখছি, এটাই মনে হয় আমার অপরাধ। প্রশাসন যা করছে সেটা আমরা মহানগর আওয়ামী লীগ আমাদের অভিভাবক ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানাব।’

তিনি বলেন, ’২১ নম্বর ওয়ার্ডে কী হইছে, মারামারি হইছে? মার্ডার হইছে? কী বড় ঘটনা ঘটছে যে ওইখানে দাঙ্গা পুলিশ নিয়া যাওয়া লাগছে? শুনছি ফোন নিয়া গেছে পুলিশের। ইন্টেলিজেন্সরা তদন্ত করবে বিষয়টা। এইটা একটা ষড়যন্ত্র। আমার না আমার দলের, আমার নেত্রীর ক্ষতি করতে আছে।’

মেয়র সাদিক বলেন, ‘নতুন ডিসি আসছে ভালো কথা। মন্ত্রী মহোদয়রা ইদানীং আসলে সেই চিঠিও পাই না। আমাদের সঙ্গে মন্ত্রী মহোদয়দের কথা হলে কি আপনাদের সমস্যা। এসব ষড়যন্ত্র করতে বারবার মানা করছি আপনাদের। কী কী আলাদা করতে চান আপনারা ক্লিয়ার করেন। আমি তো তদবির করতে যাই না আপনাদের কাছে। কার পারপাস সারভ করেন?

‘আপনাদের ক্ষমতা নিয়ে তো আমি এখানে হই নাই, আমি জনগণের ক্ষমতায় হইছি। জনগণ আমারে ভালোবাসে। আপনাগো পিছনে জনগণ হাঁটে না, সেটা কি আমার দোষ। প্রশাসন আমার গায়ের ওপর লাফাইয়া পড়তে চায় কেন? এটা তো আপনাদের কিছু না। বহুত সহ্য করছি, মনে করেন কি বুঝি না কিছু।’

তিনি বলেন, ‘চার পুরুষের রাজনীতি শরীরে, সবকিছুই বুঝি। আমারে ঠ্যালা দিয়া ফালাইয়া দেয়া এত সহজ না। আমার নেতা-কর্মীদের আমি ফালাইয়া দেব, আবার আমিই কোলে নিব। এর মধ্যে কেউ ওগো পকেটে ভইরা নিয়া যাইবে, সেইটা হইবে না।’

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্র নতুন না। ষড়যন্ত্রকারীরা বারবার ষড়যন্ত্র করে। সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে বিতর্কিত করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সাদিক আব্দুল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা আমাদের।’

বিভিন্ন সভায় মেয়রের বক্তব্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

তিনি বলেন, ‘বরিশালে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নেই। পুলিশের ওপর যে হামলার ঘটনা, সেই ঘটনায় মামলা না হলেও বিষয়টির তদন্ত চলছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে যত বড়ই রাঘববোয়াল থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘মেয়র সমর্থকদের প্রতিপক্ষ পুলিশ নয়। সিটি করপোরেশন জনগণের জন্য কাজ করে, আমরাও কাজ করি জনগণের জন্য। যদি কোনো জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটা আমরা বিচ্ছিন্নভাবেই নিয়েই থাকি।’

তিনি বলেন, ‘মেয়রের ব্যক্তিগত অভিরুচিতে বা মতামতে সেটা তিনি বলতে পারেন, এটা তার ইস্যু। আমরা জনসেবায় নিয়োজিত, এতে সকল সংগঠনের সহযোগিতা চাই। সেখানে যদি কমিউনিকেশন গ্যাপ থাকে, তাহলে সেটি পূরণের চেষ্টা রয়েছে আমাদের।’

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্বাচনী মহড়ায় প্রকাশ্যে শটগান

নির্বাচনী মহড়ায় প্রকাশ্যে শটগান

পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউপি নির্বাচনি মহড়া থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পাথরঘাটা থানার ওসি জানান, মোটরসাইকেল মিছিল থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার আগ্নোয়াস্ত্রটি নিবন্ধিত। তিনি নির্বাচনী এলাকায় কেন শটগান নিয়ে ঘুরছিলেন জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনার পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউপি নির্বাচনি মহড়া থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের ফকিরহাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

৪৫ বছর বয়সী আজিম উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটখালি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরিশালে বসবাস করেন।

কাকচিড়া ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাউদ্দীন পল্টুর দাবি, আটক আজিম ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক।

স্থানীয় লোকজন জানান, কাকচিড়া ইউনিয়নের ফকিরহাট (৪নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় সভা শেষে নৌকার প্রার্থী আলাউদ্দীন পল্টু কর্মী-সমর্থক নিয়ে ফিরছিলেন। একই সময় ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান পহলানের কর্মীরা-সমর্থকরাও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। মহড়ার মধ্যে শটগানসহ আজিম নামের একজনকে দেখে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে পাথরঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, মোটরসাইকেল মিছিল থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার আগ্নোয়াস্ত্রটি নিবন্ধিত। তিনি নির্বাচনী এলাকায় কেন শটগান নিয়ে ঘুরছিলেন জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলাউদ্দীন বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকায় ভোট নেই বুঝতে পেরে সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। প্রকাশ্যে আগ্নোয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান পহলান বলেন, ‘আটক আজিম আমাদের কর্মী বা সমর্থক নন। এমনকি তিনি আমাদের বহরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন না। আমার বিরুদ্ধ এমন প্রচরাণা চালিয়ে প্রতিপক্ষ নির্বাচনের মাঠে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।’

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

নির্মাণ শেষের আগেই মুজিব কিল্লায় ফাটল

নির্মাণ শেষের আগেই মুজিব কিল্লায় ফাটল

বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা নামের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

‘মুজিব কিল্লা নির্মাণের শুরুতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয়। সঠিকভাবে কাজ করার শর্তে পুনরায় নির্মাণ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এবার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। কিল্লার পেছনের অংশে সঠিকভাবে পাইলিং না করায় দেয়াল দেবে ফেটে গেছে।’

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা নামের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বালুখালীতে প্রকল্প এলাকার লোকজনের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মুজিব কিল্লায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

এলাকার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে মাটির কাজ, স্লোপ প্রোটেকশন, ক্যাটল শেডসহ বিভিন্ন কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে স্লোপ প্রোটেকশন ও ক্যাটল শেডে ফাটল দেখা দিয়েছে।’

আরেক বাসিন্দা জমির বিন হাসান বলেন, ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণের শুরুতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয়। সঠিকভাবে কাজ করার শর্তে পুনরায় নির্মাণ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এবার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। কিল্লার পেছনের অংশে সঠিকভাবে পাইলিং না করায় দেয়াল দেবে ফেটে গেছে।’

ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ জানান, অবকাঠামোতে ফাটল দেখা দেয়ায় এরই মধ্যে ইউনিয়নের পরিষদের পক্ষ থেকে প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মুজিব কিল্লায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে আমরা বিষয়টি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের লোকজনকে জানিয়েছি। আমরা উপজেলা প্রশাসনকেও জানিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিব কিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন কাজল বলেন, 'আমি কেন মুজিব কিল্লার কাজের দায়িত্ব পাবো? আমি কি কোনো সরকারি কর্মকর্তা?’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কাজটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের। উনাদের ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার সবকিছু দেখভাল করছেন। আমাদের তদারকির সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিও) আবুল কালাম মিয়াজীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট ছনুয়া টেক আপদকালীন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র মুজিব কিল্লার নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি সাত লাখ ২৫ হাজার টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় কাজল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মুজিববর্ষের উপহার স্বরূপ সারাদেশের মতো বাঁশখালীতেও এই মুজিব কিল্লা নির্মিত হচ্ছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা এখনও শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

তাসবিহ জপে টাকা, বকেয়া ৩৩ লাখ

তাসবিহ জপে টাকা, বকেয়া ৩৩ লাখ

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামে নারীদের দেয়া তসবিহ। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামের হাবিবুল্লাহর স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা একই নামের এক নারীর পরিচয় হয়। তিনি নাসরিনকে বলেন, গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য। এজন্য তসবিহ জপার পরামর্শ দিয়ে তিনি পারিশ্রমিক দেয়ার কথা জানান।

শুধু তসবিহ জপার জন্য মাসে পাওয়া যাচ্ছিল সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। এভাবে টাকা মিলেছে প্রায় এক বছর। তবে আট মাস আগে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় টাকা। এরপর টাকার জন্য স্থানীয় সমন্বয়ককে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামের।

স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের হাবিবুল্লাহর স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা একই নামের এক নারীর পরিচয় হয়। তিনি নাসরিনকে বলেন, গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য। এজন্য তসবিহ জপার পরামর্শ দিয়ে তিনি পারিশ্রমিক দেয়ার কথা জানান।

তারা আরও জানান, ওই নারীর কথা অনুযায়ী নাসরিন ১২৪ জন নারীকে বাছাই করেন। তাদের প্রত্যেককে প্রথমে এক হাজার টাকা ও এক হাজার দানার একটি তাসবিহ ছড়া দেয়া হয়। এরপর তাসবিহ ছড়া এক হাজারবার পড়লে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে দেয়া হতো। মাস শেষে নারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিতেন গ্রামের নাসরিন।

এভাবে প্রায় এক বছর ধরে তাসবি জপার জন্য টাকা পেয়ে আসছিলেন গ্রামের নারীরা। তবে আট মাস আগে হঠাৎ টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানী থেকে টাকা না পেয়ে এক পর্যায়ে গ্রামের নারীদের তসবিহ পড়া বন্ধ রাখতে বলেন নান্দাইলের নাসরিন।

তবে নারীরা নাসরিনের কথা না মেনে তসবিহ জপছেন, আবার মাস শেষে তার বাড়িতে গিয়ে টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। ওই নারীদের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রায় ৩৩ লাখ টাকা পাওনা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তবে এ বিষয়ে জানতে বাঁশহাটি গ্রামের নাসরিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি জানান, টাকার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে বাঁশহাটি গ্রামের নাসরিনের বাড়িতে যান ওই নারীরা। তবে নাসরিন কোনো টাকা দিতে পারেননি। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান।

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় কসবা থানার এসআই নিহত

সড়ক দুর্ঘটনায় কসবা থানার এসআই নিহত

প্রতীকী ছবি।

নিহত এসআইয়ের নাম গোলাম মোস্তফা। ৫৭ বছরের গোলাম মোস্তফা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার পৈহারা এলাকার হাজী আলী আজমের ছেলে। কসবা থানার এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার একজন এসআই নিহত হয়েছেন।

উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কালামুড়িয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত এসআইয়ের নাম গোলাম মোস্তফা। ৫৭ বছরের গোলাম মোস্তফা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার পৈহারা এলাকার হাজী আলী আজমের ছেলে। কসবা থানার এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কালামুড়িয়া গ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহন হন গোলাম মোস্তফা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ ভ্যানটি আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মির্জা মো. সাইফ বলেন, ‘গোলাম মোস্তফাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ছাড়া ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

বাইকে মায়ের কোল থেকে ছিটকে শিশুর মৃত্যু

বাইকে মায়ের কোল থেকে ছিটকে শিশুর মৃত্যু

চাটমোহর থানার ওসি জানান, মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন রফিকুল ও তার স্ত্রী পপি। মায়ের কোলে ছিল আট মাসের কন্যা রওশন। পথে করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে ছিটকে পড়েন তিনজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আট মাস বয়সী কন্যা রওশন ও স্ত্রী পপি খাতুনকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বের হন রফিকুল ইসলাম। পথে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে মায়ের কোল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত স্বামী-স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব টিয়ারতলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

২৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম চাটমোহরের সাহাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি। তার বাড়ি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে চাটমোহর উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন রফিকুল ও তার স্ত্রী পপি খাতুন। পপির কোলে ছিল আট মাসের শিশু রওশন। পূর্ব টিয়ারতলা এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে রাস্তায় ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন।

গুরুতর আহত তিনজনকে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত স্বামী-স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাকে বাড়িতে নেয়ার পর রিনাসহ অন্যদের ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে যায়। তাকে তারা বলেন, যত সহজে আসছিস, তত সহজে যেতে পারবি না। ওই সময় কর্মকর্তা বাড়ি যেতে চাইলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কর্মকর্তা টাকা দিতে রাজি হননি। এতে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ সময় কর্মকর্তার পকেটে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। পরে কর্মকর্তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপলোয় এক নারীসহ ফেসবুকে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া নারী ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে বাড়িতে ডেকে এনে ব্ল্যাকমেইল করে করে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেন একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) একজন কর্মকর্তা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভদ্রদিঘী গ্রামের রিনা বেগম, কহুলী গ্রামের লিটন হোসেন ও একই গ্রামের গোলাম রাব্বি।

মামলার আরেক আসামি বুলু পলাতক রয়েছেন। তিনি উপজেলার কহুলী গ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই এনজ্ওি কর্মকর্তা চাকরির সুবাদে সিলেটে বসবাস করেন। তার স্ত্রীসহ পুরো পরিবার নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় বসবাস করেন। ফেসবুকে বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার রিনা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত মঙ্গলবার ওই কর্মকর্তা গ্রামের বাড়ি নাটোরের উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে রওনা দেন। বিষয়টি জানতেন রিনা বেগম। ফলে তার সঙ্গে দেখা করতে তাকে অনুরোধ করেন রিনা। একপর্যায়ে কর্মকর্তাও রিনার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়ে যান। মঙ্গলবার রাতে সিলেট থেকে রওনা দেন কর্মকর্তা।

বুধবার সকালে তিনি বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলায় রিনার বাড়ির সামনে পৌঁছান। সেখানে তার রিনার সঙ্গে দেখা হয়। রিনা তাকে বাড়িতে আসতে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু কর্মকর্তা রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে রিনা বলেন তার স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। রিনার স্বামী বাড়িতে নেই শুনে ওই কর্মকর্তা বাড়িতে আর প্রবেশ করতেই চাননি। ওই সময় রিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা অপ্যায়ন করার কথা বলে তাকে জোর করেই বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাকে বাড়িতে নেয়ার পর রিনাসহ অন্যদের ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে যায়। তাকে তারা বলেন, যত সহজে আসছিস, তত সহজে যেতে পারবি না। ওই সময় কর্মকর্তা বাড়ি যেতে চাইলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কর্মকর্তা টাকা দিতে রাজি হননি। এতে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ সময় কর্মকর্তার পকেটে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। পরে কর্মকর্তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়।

তাদের মারধরের শিকার হয়ে কর্মকর্তা তার এক সহকর্মীকে বলে তাদেরকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২০০ টাকা দেন। পরে অভিযুক্তরা আরও ৮৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তারা মোত্তালিবের মোবাইলে থাকা একটি মেমোরি কার্ড, মানিব্যাগে থাকা একটি সাউথ-ইষ্ট ব্যাংক ও একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেন। সবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় দুইটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে কর্মকর্তা ছেড়ে দেওয়া হয়।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন

প্ল্যাকার্ড হাতে বাবা হত্যার বিচার চাইল সন্তানেরা

প্ল্যাকার্ড হাতে বাবা হত্যার বিচার চাইল সন্তানেরা

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর সঙ্গে মানবন্ধনে অংশ নেয় তার চার বছরের সন্তান শাফিন মাহমুদ সামী। ছবি: নিউজবাংলা

ফরিদপুরের মধুখালীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়ায় তার চার বছর বয়সী ছেলে শাফিন মাহমুদ সামী ও ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ঢাকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল জাহান প্রীতি ও দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা জাহান জ্যোতি ।

চার বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে হারিয়েছে তিন সন্তান। বাবাই ছিল একমাত্র ভরসা। সেই বাবাও সন্ত্রাসমূলক কাজে বাধা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন। বাবার খুনিদের বিচার চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে আসে তিন সন্তান।

ফরিদপুরের মধুখালীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়ায় তার চার বছর বয়সী ছেলে শাফিন মাহমুদ সামী ও ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ঢাকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল জাহান প্রীতি ও দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা জাহান জ্যোতি ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে মধুখালীর মাকড়াইল বাজারের চৌরাস্তায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মধুখালীর কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার, কামালদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইউনুস মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেনের বাবা হারুন-অর-রশিদ হিরু মিয়াসহ, বড় মেয়ে মাহমুদা জাহান জ্যোতিসহ অনেকে।

হিরু মিয়া বলেন, ‘১১ দিন আগে জাহাঙ্গীরকে হত্যার পর মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।’

নিহতের মেয়ে মাহমুদা জাহান জ্যোতি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা সারা জীবন সততার সঙ্গে জীবন পরিচালিত করেছেন। তিনি কারও ওপর কোনো অন্যায় আচরণ করেছেন বলে শুনিনি। গ্রামে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মামুন জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছেন। তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মাদক ব্যবসা ও নারী পাচারের সাথে জড়িত মামুন। জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যার আগেও এলাকায় একাধিক অপকর্ম করেছেন মামুন। এলাকায় মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। মামুন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যার আগের দিন তারা মেছোড়দিয়ায় তাঁর ভগ্নিপতির বাড়িতে বসে গোপন বৈঠক করেন। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যা করে। এর আগে এই মামুন ঢাকায় ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন। র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখনও তিনি এলাকায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসব অঘটন ঘটিয়ে চলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মামলা দায়েরের ১২ দিন পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি চাই জাহাঙ্গীর হোসেনের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।’

এ ব্যাপারে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি সিআইডি দেখছে। আমাদের সহায়তা চাইলে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।

ফরিদপুরের সিআইডির পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান মিনা বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকরাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত গৃহস্থ হারুনুর রশীদ হিরু মিয়ার বড় সন্তান জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাতেই মোটর পার্টসের ব্যবসা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তিনি ঢাকা থেকে নিজ গ্রাম মাকরাইলে ফিরে আসেন এবং মধুখালী বাজারে পার্টসের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন।

তার স্ত্রী সাজেদা মাহমুদ বিথী ঢাকার ভিকারুন্নেসা স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ৪ নভেম্বর সাজেদা মাহমুদ বিথী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

৫ জুন দুপুরে মধুখালী বাজার থেকে ভ্যানযোগে বাড়ি আসছিলেন জাহাঙ্গীর। মাকরাইল গ্রামের উত্তর পাড়া পৌঁছামাত্রই রাস্তার উপরে প্রকাশ্যে দিবালোকে মামুন ও তার লোকজন জাহাঙ্গীরের উপর হামলা চালিয়ে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে মৃত ভেবে ফেলে যায়।

পরে গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মধুখালী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা হিরু মিয়া বাদী হয়ে ওয়ালিদ হাসান মামুনকে প্রধান আসামি এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ
ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার
‘বিরল রোগে’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসুস্থ বোনকে সহায়তা
ভিক্ষুক থেকে ব্যবসায়ী

শেয়ার করুন