বাল্যবিবাহ

মাদারীপুরের শিবচরে ম্যাজিস্ট্রেট বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ম্যাজিস্ট্রেট ঠেকালেন বাল্যবিবাহ, জরিমানা আদায়

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হামিদা খানম বলেন, ‘দুপুরে জানা যায় এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেই বাড়িতে যাই। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম রাকিবুল হাসান তাৎক্ষণিক বাল্যবিবাহটি বন্ধ করেন। এ সময় মেয়ের বাবার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচরে ম্যাজিস্ট্রেট বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন। কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করায় তার বাবাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শিবচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম রাকিবুল হাসান শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে পুলিশের একটি দল নিয়ে কিশোরীর বাল্যবিবাহটি বন্ধ করেন।

শিবচর উপজেলা প্রশাসন জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের কাছে খবর আসে একটি বাড়িতে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির। এ সময় তিনি শিবচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম রাকিবুল হাসান, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হামিদা খানম ও পুলিশের একটি দল সেখানে পাঠান।

মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হামিদা খানম বলেন, ‘দুপুরে জানা যায় এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেই বাড়িতে যাই। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম রাকিবুল হাসান তাৎক্ষণিক বাল্যবিবাহটি বন্ধ করেন। এ সময় মেয়ের বাবার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ না দেয়ার মুচলেকা নেয়া হয় মেয়ের বাবার কাছ থেকে।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খাল দাও নতুবা বিষ দাও

খাল দাও নতুবা বিষ দাও

‘এক যুগ ধরে নদী দখল, দূষণ ও পরিবেশ যেন সুষ্ঠুভাবে থাকে সেটার জন্য আমরা আন্দোলন করে আসছি। শুধু এই বামনি খাল না, সাভারে শতাধিক খাল আছে যেগুলো দখল হয়ে গেছে এবং দখল হচ্ছে।’

ঢাকা কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ রাজীব। পোস্টার হাতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। হলুদ রঙের পোস্টার কালো কালিতে লেখা, ‘খাল দাও নতুবা বিষ দাও।’ মূলত এলাকার জলাবদ্ধতার ভোগান্তিকে বিষের সঙ্গে তুলনা করেই খাল দখলমুক্ত করতে তার এই প্রতিবাদ।

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকায় শুক্রবার দুপুরে মানববন্ধনে দুটি হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে বামনি খাল দখলের অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানান ঢাকা কলেজের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ।

মানববন্ধনে এলাকাবাসী ছাড়াও সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, সাভার নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ রাজীব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের যে বামনি খালটা আছে, সেটা এখন প্রায় মৃতই বলা যায়। দুইটা হাউজিং এখন এটাকে দখল করে রেখেছে। প্লট আকারে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ করে তারা খালটা ব্লক করে দিয়েছে। এই খাল দিয়ে কেরানীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ভাকুর্তা, কোন্ডা, বলিয়ারপুর এই দিক থেকে সাভারের যত ট্রলা-স্টিমারে যাতায়াত করা যেত। এই খালটা এক সময় অবমুক্ত ছিল।

‘লাস্ট দুই বছর যমযম বিল্ডার্স ও আলমনগর প্রোপার্টি নামে দুটি হাউজিং এই খালটাকে দখল করে নিয়েছে। এখন অল্প বৃষ্টিতেই আমাদের বাড়িঘরে পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পাশের যাদুরচর এলাকায় বৃষ্টির পানি রাস্তায় হাঁটু পর্যন্ত জমে গেছে। লাখ লাখ শ্রমিক ওই রাস্তা দিয়ে গার্মেন্টে যায়। বৃষ্টি হলে এলাকার কেউই ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারে না। এই খালটা দখল হয়ে যাওয়ার পরে পানি নামাতে না পারায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

‘এমন দুর্বিষহ ভোগান্তি এখন আমাদের কাছে বিষের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অচিরেই খালটা দখলদারদের কবল থেকে অবমুক্ত হোক সেটা চাই। এ জন্যই আমরা নিরুপায় হয়ে আজ মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।’

এলাকাবাসীর পক্ষে সরকার তাসেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিএস, আরএস রেকর্ডে এখানে বামনি খাল রয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সেই খালের ওপর সেতু নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু যমযম ও আলমনগর হাউজিং কোম্পানি জালিয়াতির মাধ্যমে খালটি পুরোপুরি ভরাট করে প্লট করছে বিক্রির জন্য। আমরা বারবার সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সমস্ত কাগজপত্র পাঠালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই অবস্থায় খালটিতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে সামনের বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বাড়বে।’

মানববন্ধনে সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, ‘এক যুগ ধরে নদী দখল, দূষণ ও পরিবেশ যেন সুষ্ঠুভাবে থাকে সেটার জন্য আমরা আন্দোলন করে আসছি। শুধু এই বামনি খাল না, সাভারে শতাধিক খাল আছে যেগুলো দখল হয়ে গেছে এবং দখল হচ্ছে।

‘যে ভাব খাল দখল হচ্ছে তাতে আমার মনে হয় সাভারের মোর দ্যান ফিফটি পার্সেন্ট খাল সন্ত্রাসীদের দখলে আছে। এ গুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে, খালের নাব্য ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ডেলটা প্ল্যানের স্বার্থেই, পরিবেশের স্বার্থেই দখল হয়ে যাওয়া সমস্ত খাল পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

আলমনগর হাউজিং প্রোপার্টিজের কাউকে না পাওয়া গেলেও কথা বলা গেছে যমযম নূর বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদের সঙ্গে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগ মিথ্যা। আমি ব্যক্তি মালিকানা জমি কিনেছি। রেকর্ডে কোথাও বামনি খালের নাম নেই।’

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

নীলফামারীতে গ্রামে গ্রামে জ্বর

নীলফামারীতে গ্রামে গ্রামে জ্বর

চিকিৎসকরা বলছেন, সিজনাল জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম, শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাওয়া এবং গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করায় এমন হয়ে থাকে। নাপা জাতীয় ওষুধ সেবনেই এই জ্বর নেমে যাচ্ছে।

নীলফামারী শহরের মিলন পল্লী এলাকার বাসিন্দা রিপন কুমার মজুমদার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি নিজেসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন গেল কয়েকদিনে। তবে জ্বরের স্থায়ীত্ব ২৪ ঘণ্টার বেশি হয়নি।

তার নিজের চার ঘণ্টায় জ্বর নেমেছে। এজন্য নাপা সেবন করেছিলেন তিনি।

রিপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘তেমন কোন সমস্যা ছিল না আমাদের। স্বাভাবিকভাবে জ্বর হলে আমরা যে ওষুধ খাই সেটি সেবন করে জ্বর নেমে যায় সবার।’

শহরের বাবুপাড়া এলাকার মুদি দোকানি রশিদুল ইসলাম। তিনিসহ তার পরিবারের চার সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন বুধবার রাতে। এরমধ্যে স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালকও ছিল। এখন জ্বর নেমেছে সবার।

রশিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে জ্বরের অনেক রোগী দেখতে পাই। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে জ্বর নেমে গেছে সবার।

ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুইজনের জ্বর। আমি গত রাত থেকে জ্বর অনুভব করছি। তবে শুক্রবার দুপুরে জ্বর নেমে গেছে। আমার বাড়ির পাশের অনেকেরই জ্বর।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ৪৬ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে ৩৫ জন জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। বেশিরভাগই ওষুধ নিয়ে চলে গেছেন। আর কয়েকজন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বরে স্বাভাবিক যে ওষুধ দিয়ে থাকি আমরা, এখনও সে ওষুধই দিয়েছি রোগীদের। দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন রোগীরা। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন রোগীর সংখ্যা একটু বেশি।’

নীলফামারী জেনালের হাসপাতালেও জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ১১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৪ জনের শুধুমাত্র জ্বর এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে জ্বর ছিল অন্তত ১৬ জনের।

চিকিৎসকরা বলছেন, সিজনাল জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম, শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাওয়া এবং গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করায় এমন হয়ে থাকে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা অমল রায় বলেন, মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এটি তেমন কোনো বিষয় নয়। ওষুধ সেবন করলে জ্বর নেমে যাচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ আলেমুর বাশার বলেন, ‘সিজনাল জ্বর গ্রামগঞ্জে হচ্ছে। তারা নিজেরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে করোনার নমুনা দেন আবার অনেকে দেন না। তবে করোনার নমুনা আমরা শহর থেকে বেশি পাই। আমরা মাস্ক পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নীলফামারীর সভাপতি তাহমিন হক ববি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী হিসেবে করোনার জন্য নীলফামারী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু আমরা উদাসীন। ১০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করতে চাচ্ছি না।’

সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে দুই দফায় যোগাযোগ করে পাওয়া না গেলেও নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) রেজাউল করিম বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে জ্বর হলে করোনার জন্য নমুনা দেয়া ভালো। কারণ কার পজিটিভ হবে আর কার হবে না সেটি আমরা পরীক্ষা না করে বলতে পারব না। আমি মনে করি মাস্ক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গেল ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীতে নতুন করে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় করোনায় আরও ৪ মৃত্যু

কুমিল্লায় করোনায় আরও ৪ মৃত্যু

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা জরুরি বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছে ৮২ হাজার ২৯৩ জনের। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৮১হাজার ৭০৩ জনের।

কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। এদিকে, নতুন ৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন।

তিনি জানান, এ নিয়ে জেলাজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ হাজার ৭১০জন।

করোনায় কুমিল্লা জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান চারজন।

সিভিল সার্জন জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছে ৮২ হাজার ২৯৩ জনের। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৮১হাজার ৭০৩ জনের।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভীড় বেড়েছে। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল রয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আরও বেশকিছু পরিকল্পনা করেছি, আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের হারের উপর নির্ভর করে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।’

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

শুক্রবার বিকেলে ভবনে কাজ করার সময় দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাজ। তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে শাহ রাজ নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার তকিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১৮ বছরের শাহ রাজের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া এলাকায়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার বিকেলে ভবনে কাজ করার সময় দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাজ। তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মাত্রাতিরিক্ত দাম হওয়ায় ভোলা জেলার মরপুরার তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সোলার প্যানেল থেকে সরবরাহ করা ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ আর চাচ্ছে না। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানিয়েছে তারা।

এ দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন করেছে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান জানান, কোম্পানিটি এককালীন মিটার খরচ বাবদ নিচ্ছে ৫-৮ হাজার টাকা। আর প্রতি ইউনিট প্রতি চার্জ নিচ্ছে ৩০ টাকা, সঙ্গে মাসিক ভ্যাট ৭০ টাকাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এত দামের বিদ্যুৎ বিশ্বের কোথাও নেই। মনপুরাবাসীর জন্য এ ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য। কারণ এখানকার ৯৫ ভাগ মানুষ দিনমজুর, জেলে ও কৃষক।

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শতভাগ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়নে ভোলা জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের অনেক দুর্গম চরে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ভোলার মনপুরা উপজেলার আশপাশে মাত্র ১০-১২ হাজার মানুষ বসবাসকারী একটি ওয়ার্ড যুক্ত চরেও বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। কিন্তু দুভার্গবসত মনপুরার ৩ ইউনিয়নে আজও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এজন্য অবিলম্বে সরকারের কাছে মনপুরা বাসীর জন্য জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানাই।’

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্য সচিব মো. ইয়াছিন বলেন, মৎস আহরণে জিডিপিতে মনপুরার মৎসজীবীদের অবদান রয়েছে। কিন্তু এই মৎসজীবীরা আহরণ করা মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারছে না শুধুমাত্র বিদ্যুৎ না থাকার কারণে। এখানে ডিজেল চালিত একটি বিদ্যুৎ স্টেশন থাকলেও তা উপজেলা সদরের মাত্র দেড় হাজার বাসিন্দাদের রাতে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ২৭ বাংলাদেশি

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ২৭ বাংলাদেশি

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শুক্রবার ২৭ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ২৭ বাংলাদেশি। এ নিয়ে ৩৯ দিনে এই চেকপোস্ট দিয়ে ১ হাজার ৪০ জন দেশে ফিরলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভারতের গেদে চেকপোস্ট হয়ে দেশে প্রবেশ করেন ওই বাংলাদেশিরা।

দেশে প্রবেশের পর ওই চেকপোস্টেই অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল। তবে এদিন তাদের মধ্যে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শুক্রবার ২৭ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হননি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে ২৫ জনকে চুয়াডাঙ্গা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ও দুইজনকে স্থানীয় হোটেল ভিআইপিতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসনবিষয়ক শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে ভারতফেরতদের নির্ধারিত পরিবহনযোগে (মাইক্রোবাস) জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা কারাগারে

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা কারাগারে

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটির সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেন। মাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিশ্বাস করেননি। এরপর বুধবার ভোরে তাকে আবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বৃহস্পতিবার তার কারখানার মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউসার আলমের আদালত শুক্রবার বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে ৯৯৯ এ কল পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ১৩ বছর বয়সী ওই মেয়ের বাবাকে ফতুল্লার মাসদাইরের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেয়েটি কাজ করে একটি হোসিয়ারি কারখানায়। তিন বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তারা তিনজন একসঙ্গেই থাকেন।

দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটির সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেন। মাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিশ্বাস করেননি। এরপর বুধবার ভোরে তাকে আবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বৃহস্পতিবার তার কারখানার মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ৯৯৯ এ কল পেয়ে মেয়েটির সৎ বাবাকে আটক করা হয়। এরপর মেয়েটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েটি ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচতে কিশোরী দৌড়ে থানায়
বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী
১০ মাসে পাঁচ হাজার বাল্যবিবাহ

শেয়ার করুন