উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত

উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত

জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের লোকজন। বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয়েছে সহায়তা। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশের উপকূলে আঘাত হানেনি ইয়াস। আছড়ে পড়েছে পাশের দেশের ওড়িশায়। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সারা দেশে চার শিশুসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের। নষ্ট হয়েছে ফসলের জমি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের লোকজন। বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয়েছে সহায়তা। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোন উপজেলায় কতজন পানিবন্দি

জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের চার উপজেলার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে ২ হাজার ৯১টি চিংড়ি ঘের। তলিয়ে গেছে কাঁচা-পাকা রাস্তা।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার পৌর সদর, বারইখালী, খাউলিয়া, বহরবুনিয়া, পুটিখালী ও বলইবুনিয়া ইউনিয়নে পানিবন্দি প্রায় ১ হাজার পরিবার।

প্রায় ১১শ পরিবার পানিবন্দি শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা, সাউথখালি ও রায়েন্দা ইউনিয়নের বগি, চালতাখালী, আশারকোল, গাবতলা, কদমতলা ও খুড়িয়াখালী গ্রামে।

উপ‌জেলার সাউথখা‌লি ইউ‌নিয়নের ব‌গি গ্রা‌মের বা‌সিন্দা আব্দুর রাজ্জাক আকন ব‌লেন, ‘দুপু‌রের পর থে‌কে জোয়া‌রের পা‌নি নাম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। পানি নাম‌তে শুরু কর‌লেও এখনও আমরা জলমগ্ন অবস্থায় আছি। বাড়ির আশপা‌শে ডোবা নালা ও খা‌লে পা‌নি আট‌কে জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।’

মোংলা উপজেলা চিলা, চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ৮শ পরিববার পানিবন্দি। শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রামপাল উপজেলার হুকরা, বাঁসতলি ও পেড়িখালী ইউনিয়নের তালবুনিয়া, লাজনগর ও শ্রফলতলা গ্রামে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, জোয়ারের পানি নেমে যাচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলগুলোর পানিও দ্রুত নেমে যাবে।

শরণখোলা উপ‌জেলা চেয়ারম্যান রায়হান উ‌দ্দিন শান্ত ব‌লেন, ‘পা‌নি নাম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। ব‌লেশ্বর নদী তীরের এলাকাগু‌লোতে এখনও পা‌নি র‌য়ে‌ছে। ত‌বে সমস্যা হ‌চ্ছে পা‌নি‌তে ডোবা, নালা, খাল ও পুকুর পা‌নি আট‌কে থে‌কে জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।’

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম রাসেল বলেন, জোয়ারের পানির প্রভাবে জেলার দুই হাজার ৯১টি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। এর মধ্যে রামপালে নয়শ ১৭টি, মোংলায় ছয়শ ৮৫টি, মোরেলগঞ্জে তিনশ ৪৫টি ও শরণখোলায় একশ ৪৪টি ঘের ভেসে গেছে।

উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত
জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের

মো‌রেলগঞ্জর নিশারবাড়ীয়া গ্রা‌মের চা‌ষি রু‌বেল শ‌রিফ ব‌লেন, ‘মোর ছোট বড় মিল্লাহ ৬ বিঘার দুইডা ঘের আ‌ছে। ধার দেনা কইরা দুই লাখ টাহার মাছ ছারছালাম, সব ভাসাইয়া লইয়া গে‌ছে। মোর এহন আর কিছু নাই।’

রামপালের হুকরা গ্রা‌মের বা‌সিন্দা চা‌ষি ম‌নোরঞ্জর ঢা‌লি ব‌লেন, ‘সব মি‌লে আমার ১২ বিঘার তিন‌টি ঘের র‌য়ে‌ছে। যার ম‌ধ্যে দু‌টি পু‌রোপু‌রি ভে‌সে গে‌ছে। তিন লাখ টাকার ক্ষ‌তি হ‌য়ে‌ছে আমার। আমার মতো গ্রা‌মের অন্য চা‌ষি‌দেরও একই অবস্থা। আমা‌দের পু‌রো উপ‌জেলার মাছ চা‌ষি‌দের সবাই কম বে‌শি ক্ষ‌তিগ্রস্ত।’

ভোলার উপকূলীয় এলাকার ৩০টি চর প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি।

দিনভর মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

প্রবল জোয়ারের চাপে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আরও ১৫টি পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বুধবার দুপুরের পর মেঘনায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি।

উপকূলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে সাইক্লোন সেন্টারে।

অতি জোয়ারে ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা, চরজ্ঞান, সোনার চর, কুলাগাজীর তালুক, চর যতিন, চর শাহজালাল ও কলাতলীর চরে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছে।

সাগর মোহনায় ডালচরের ইউনিয়নের মরজিনা বেগম বলেন, ‘আমাগো খোঁজখবর কেউ রাহেনা। গত তিনডা দিন ধইরা পানির লগে যুদ্ধ কইরা টিক্কা আছি। পানি উঠলে আমাগো দুরভোগের শেষ নাই। রান্না করতো পারি না, খাইতো পারি না। পোলাই ছাউন লইয়া অনেক কষ্টের মইদ্ধে আছি। ভানের পানিতো আমাগো ঘর পইরা গেছে।

‘এহন ঘর কেমনে ঠিক করমু পোলাইন ছাউন লইয়া কোন জায়গা থাকমু সেই চিন্তায় ও বাচি না। শুধু আমি না। আমাগো মতো অনেক মাইনষের ঘর দুয়ার পানিতে ভাসাইয়া লয়া গেছে মাথা গোছানের মতো জায়গা নায়। এহন সরকার যদি আমাগো দিকে চায় তাহইলে আমাগো কিছুডা রক্ষা হইব।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আক্তার জানান, বাঁধের বাইরে যেসব নিচু এলাকা রয়েছে, সবগুলো তলিয়ে গেছে।



উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলায় ৩২৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৭৫ কিলোমিটার বাঁধ সিসি ও জিও ব্যাগে মোড়ানো থাকলেও ২৫০ কিলোমিটার বাঁধ মাটির তৈরি। যার মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশনে বাঁধের ৫টি পয়েন্ট, মনপুরায় ৩টি পয়েন্ট, বোরহানউদ্দিনে ২টি, লালমোহনে ২টি, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও সদরে ১টি করে পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আক্তার।

ইয়াসের প্রভাবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উপড়ে পড়েছে গাছপালা। বিধ্বস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে সেন্টমার্টিনের প্রধান জেটিঘাট। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে বেড়িবাঁধের ব্লকে ধস নেমেছে।

সদর, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও টেকনাফের ১৬ ইউনিয়নে দুই হাজার ৯৬ টন লবণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শহরের সমিতিপাড়া, নুনিয়ারছড়া পানিরকুপপাড়া, গোদারপাড়াসহ অন্তত ৮টি এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজারও মানুষ।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হাবিব খান বলেন, দ্বীপে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে যে কোনো সময় সেন্টমার্টিন তলিয়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মাতারবাড়ির ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমদুল্লাহ্ জানিয়েছেন, জোয়ারের পানিতে মাতারবাড়ির ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এরইমধ্যে ৫০ থেকে ৮০টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

কুতুবদিয়ার বাসিন্দা মো. সিকদার জানান, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, আলী আকবরডেইল ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এতে করে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

একইভাবে মহেশখালীর ধলঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী রকিয়ত উল্লাহ।

চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সজীব কুমার চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপকূলীয় চার উপজেলায় জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা, ছনুয়া ও খানখানাবাদে বেড়িবাঁধ ভাঙনের মধ্যে পড়েছে।

‘সেখানে পানি বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের একটি অংশে প্রায় পাঁচ মিটার ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে।’

উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত


তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় আনোয়ারা উপজেলায় সাঙ্গু নদীর তীরে রায়পুর ইউনিয়নে একটি বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জোয়ারের পানি নদী তীরের কয়েকটি বসতঘরেও ঢুকেছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আখিলপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া জানান, উপকূলীয় চার উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যেসব বেড়িবাঁধ ভেঙেছে সেগুলো মেরামতের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি ইউনিয়নের ১৪টি স্থান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য, গো-খাদ্যসহ পাঁচশত সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরামর্শও দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান, সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ইকবাল হোসেন, পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পায়রা সেতু: ক্ষতি এড়াতে মিলবে পূর্বাভাস

পায়রা সেতু: ক্ষতি এড়াতে মিলবে পূর্বাভাস

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এই সেতুতে হেল্প মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করার কারণই হলো নানা সুবিধা পাওয়া। ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা ওভারলোডেড গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বাভাস মিলবে এই মনিটরিং সিস্টেম থেকে।’

দেশে প্রথমবারের মতো ‘হেল্প মনিটরিং সিস্টেম’ ব্যবহার করা হচ্ছে পায়রা সেতুতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচলের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির বিষয়ে পূর্বাভাস জানাবে এই ব্যবস্থা। এতে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম মঙ্গলবার বলেন, ‘এই সেতুতে হেল্প মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করার কারণই হলো নানা সুবিধা পাওয়া। ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা ওভারলোডেড গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বাভাস মিলবে এই মনিটরিং সিস্টেম থেকে।

‘এ ছাড়া এটি দেশের দ্বিতীয় ব্রিজ, যা এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল সিস্টেমে তৈরি করা।’

তিনি জানান, পায়রা সেতু নির্মাণে নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশে সর্ববৃহৎ। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত। এ ছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে এটিতে। যার ফলে দূর থেকে সেতুটিকে মনে হবে ঝুলে আছে।

আব্দুল হালিম আরও জানান, জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু থাকবে। চারলেনের সেতুটির উভয় পাশে মোট ১ হাজার ২৬৮ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। টোলপ্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেকট্রিফিকেশন, নদীশাসন প্রকল্পের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী মাসের যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ায় সহিংসতা: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুতুবদিয়ায় সহিংসতা: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউপি নির্বাচনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আবদুল হালিম নামের এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

কুতুবদিয়া থানার ওসি ওমর হায়দার জানান, ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ সহিংস ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দেড় শ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংস ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে প্রিসাইডিং অফিসার সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় মামলাটি করেন।

নিউজবাংলাকে এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার সাহাব উদ্দিন ও কুতুবদিয়া থানার ওসি ওমর হায়দার।

ওসি জানান, সোমবার কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউপি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ও নির্বাচনে দায়িত্বরতদের ওপর হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আবদুল হালিম নামের এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ সহিংস ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দেড় শ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি ওমর হায়দার।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

বাঁধা ছিল শিকলে, পুড়ে মরল আগুনে

বাঁধা ছিল শিকলে, পুড়ে মরল আগুনে

স্থানীয়রা জানান, তিন মাস আগে মানসিক ভারসাম্য হারায় আলাউদ্দিন। এরপর থেকে তাকে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুতের মিটার থেকে তাদের ঘরে আগুন লাগে।

কুমিল্লায় ঘরে আগুন লেগে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ফকিরবাজার খাড়েরা গ্রামে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

১৯ বছরের ওই যুবকের নাম আলাউদ্দিন। সে খাড়েরা গ্রামের আবদুল মোমেনের ছেলে। স্থানীয় বুড়িচং আবদুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত সে।

স্থানীয়রা জানান, তিন মাস আগে মানসিক ভারসাম্য হারায় আলাউদ্দিন। এরপর থেকে তাকে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুতের মিটার থেকে তাদের ঘরে আগুন লাগে।

ওই সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও আলাউদ্দিন শিকলে বাঁধা থাকায় আটকা পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও তার আগেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়।

বুড়িচং ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মী জহিরুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন প্রায় নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে তারা ঘর থেকে আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি শুনেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই এবং আমার থানা থেকে ফোর্স পাঠাই। শুনেছি, স্থানীয়রা ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলে। একজন কলেজছাত্র অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছে বলে খবর পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারে উত্তেজনা

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারে উত্তেজনা

ছেলের বাবা বাড়ি খুলে জিনিসপত্র সরিয়ে নেন। ছবি: নিউজবাংলা

ছেলের বাবা অভিযোগ করেন, ‘আমি এই বিয়ে মানতে রাজি না হওয়ায় মেয়ের পরিবার আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে মেয়ের চাচা স্থানীয় কিছু লোকসহ আমার বাড়িতে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। শুধু আমাকে নয়, তারা আমার ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েকেও বেধড়ক পিটিয়েছে।’

নবম শ্রেণির ছাত্র ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিজ পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করে। দেড় মাস পর মেয়েপক্ষ বিয়ে মেনে নিলেও নেয়নি ছেলের পরিবার। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চলছে উত্তেজনা।

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঘাষিয়ারা গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে মেয়ের পরিবার, ছেলের পরিবার বাসা স্থানান্তর করেছে।

ছেলের বাবার দাবি, তার ছেলে না বুঝেই এই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পাশের বাড়ির ওই মেয়ে তার ছেলেকে পটিয়ে গত আগস্টে বিয়ে করে। মেয়ের পরিবার বিয়ে মেনে নেয়ায় ৭ সেপ্টেম্বর তারা মেয়ের বাড়িতে ওঠে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি এই বিয়ে মানতে রাজি না হওয়ায় মেয়ের পরিবার আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে মেয়ের চাচা স্থানীয় কিছু লোকসহ আমার বাড়িতে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

‘শুধু আমাকে নয়, তারা আমার ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েকেও বেধড়ক পিটিয়েছে। আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছে। না গেলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। পরদিনই আমি আমার ভাইদের নিয়ে গিয়ে সাতজনের নামে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করেছি।’

ছেলের চাচা স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাইকে মারধরের পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে তাদের নিরাপদ দূরত্বে রেখে এসেছি। থানায় অভিযোগের পর মেয়ের বাড়ির লোক মীমাংসা করবে বললেও তারা কথা রাখেনি।’

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, তারা মারধরের প্রমাণ পেয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর মেয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ১৪ সেপ্টেম্বর থানায় বসতে চান। তবে ছেলের বাবা পরে জানায়, তারা সালিশ করে মীমাংসা করতে চান। থানার হস্তক্ষেপ চান না।

এসআই বলেন, ‘এরপর আর আমি এই বিষয়টি দেখিনি। এখন শুনছি তারা মেয়ের পরিবারের হুমকিতে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। আমাকে তারা এটা জানায়নি।’

এ বিষয়ে ছেলের বাবা বলেন, ‘মেয়েপক্ষ আমার নিজের মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের পরিচিত এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। বুধবার শ্রীপুর থানায় তাদের নামে মামলা করব।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এক প্রতিবেশী জানান, মামলার খবর জানতে পেরে তারা কাউকে কিছু না বলে কোথাও চলে গেছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

অপহরণের ৪ দিন পর কিশোর উদ্ধার

অপহরণের ৪ দিন পর কিশোর উদ্ধার

অপহৃত কিশোর নাজমুল ইসলামকে উখিয়া থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

নাজমুল জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াহিয়া গার্ডেন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত কিশোর নাজমুল ইসলামকে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

কুতুপালং মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

১৬ বছর বয়সী নাজমুলের বাড়ি কক্সবাজারের খরুলিয়া এলাকায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী।

তিনি জানান, রোববার কক্সবাজার সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন এক ব্যক্তি। এতে বলা হয়, তার ছোট ভাই ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ। পরে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে তার কাছে। বলা হয়, ৫ লাখ টাকা না দিলে তার ভাইকে জীবিত পাওয়া যাবে না।

অভিযোগের পর র‍্যাবের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওই কিশোরের অবস্থান শনাক্ত করে। অপহরণের চার দিনের মাথায় উখিয়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ-ছয় জন অপহরণকারী পালিয়ে যান।

নাজমুল জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াহিয়া গার্ডেন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ সাদী জানান, এই ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা হয়েছে। অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

ইউনানি ওষুধ কারখানায় পুলিশের অভিযান

ইউনানি ওষুধ কারখানায় পুলিশের অভিযান

রংপুরে একটি ইউনানি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান আসিফ জানান, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা না থাকা, পরিবেশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না থাকার অপরাধে একটি ইউনানি ওষুধ কারখানার প্ল্যান্ট ইনচার্জকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রংপুর পৌর এলাকায় একটি ইউনানি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কারখানার এক কর্মকর্তাকে জরিমানা করে।

পৌরসভার হাজিরহাট মুচির মোড় এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে ম্যানহার্ট ল্যাবরেটরিজ নামের ওষুধ কারখানাটিতে এ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান আসিফ।

তিনি জানান, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা না থাকা, পরিবেশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না থাকার অপরাধে ওই ওষুধ কারখানার প্ল্যান্ট ইনচার্জ মো. বদিউজ্জামানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান জানান, সঠিক পরিবেশে ওষুধ তৈরি হচ্ছে না-এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ইউনানি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কারখানার এক কর্মকর্তাকে জরিমানা করে।

রংপুর মহানগর এলাকায় নকল ও অননুমোদিত ওষুধ প্রতিরোধে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

‘নৌপুলিশের পিটুনিতে’ জেলের মৃত্যু

‘নৌপুলিশের পিটুনিতে’ জেলের মৃত্যু

পটুয়াখালীতে নৌপুলিশের পিটুনিতে এক জেলের মৃত্যুর অভিযোগে এলাকাবাসী নৌপুলিশ সদস্যদের আটকে রাখে। ছবি: নিউজবাংলা

পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, ঘটনার কারণ উদঘাটনে জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে আলদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নৌপুলিশের পিটুনিতে এক জেলের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলীতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নৌপুলিশের ছয় সদস‌্যকে আটকে রাখে স্থানীয়রা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় কলাপাড়া ও মহিপুর থানা পুলিশ গিয়ে নৌপুলিশের ওই সদস্যদের উদ্ধার করে।

মৃত জেলের নাম সুজন হাওলাদার। তার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী এলাকায়।

সুজনের মামা ইব্রাহিম খলিল জানান, সকাল ১০টার দিকে বালিয়াতলীর বানাতিবাজারের নৌপুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল রাবনাবাদ নদীতে কারেন্ট জাল জব্দ করার অভিযানে নামে। খবর পেয়ে নদীতে থাকা সব জেলে তীরে উঠে পালাতে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে তার ভাগনে সুজন সবার অগোচরে নৌকায় উঠে নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় নৌপুলিশের সদস‌্যরা সুজনকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে। একপর্যায়ে সুজন অচেতন হয়ে পড়েন।

অচেতন অবস্থায় সুজনকে প্রথমে স্থানীয় বাবলাতলা বাজারে পল্লী চিকিৎসক মোহাব্বত আলীর কাছে নেয়া হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নৌপুলিশের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

তবে নৌ পুলিশের এএসআই মামুন সুজনকে মারধরের কথা অস্বীকার করে জানান, তারা টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় তাদের দেখে সুজন ও তার সহযোগীরা তাদের ট্রলার নদীর কিনারে ভেড়ান।

ট্রলারে থাকা অপর জেলেরা দৌড়ে চলে যায়। এ সময় পুলিশ ট্রলারের কাছে গিয়ে জালের ওপর সুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন।

বানাতিবাজার নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, স্থানীয় মানুষ নৌপুলিশদের আটকে রেখেছিল। কলাপাড়া ও মহিপুর থেকে ২০-২৫ জন পুলিশ এসে নৌপুলিশের সদস্যদের নিয়ে যায়।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। তবে খোঁজ নিয়ে শুনেছি ঘটনাস্থলে একাধিক সিনিয়র অফিসারের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স রয়েছে।’

পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, ঘটনার কারণ উদঘাটনে জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে আলদা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘যদিও বিষয়টি নৌপুলিশের, সেখানে জেলা পুলিশের কোনো সদস‌্যের সঙ্গে কিছু হয়নি। তারপরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সব ধরনের ব‌্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

ময়নাতদন্তের জন‌্য ওই জেলের মরদেহ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন