যাত্রীবোঝাই বাসে ভাড়া কয়েক গুণ

যাত্রীবোঝাই বাসে ভাড়া কয়েক গুণ

বরিশালে সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই যাত্রী তোলা হচ্ছে বাসে। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা যায়, আন্তজেলা রুটের বাসগুলোই মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। কোনো বাসে ৬০০ টাকা আবার কোনো বাসে যাত্রীপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়া রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও সেটি উপেক্ষিত হচ্ছে বরিশালে। যাত্রী বোঝাই করে বাস চলাচল করলেও ভাড়া রাখা হচ্ছে কয়েক গুণ। আন্তজেলা রুটে বাস চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও চলছে দূর পাল্লার রুটে।

শনিবার বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে গিয়ে দেখা যায়, আন্তজেলা রুটের বাসগুলোই যাত্রী পরিবহন করছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত। কোনো বাসে ৬০০ টাকা আবার কোনো বাসে যাত্রীপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়া রাখা হচ্ছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক জানান, বরিশাল থেকে পাঁচ দিন ধরে মাওয়া রুটে যাতায়াত শুরু করেছে আন্তজেলা রুটের বাসগুলো।

পারিবারিক কাজে ঢাকা যাচ্ছিলেন বরিশালের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা সাইফুল নহর পলাশ। টার্মিনালে এসে প্রথমে থ্রি হুইলার পেলেও পরে দেখেন সব বাসই চলাচল করছে।

তিনি বলেন, ‘মাওয়া যাওয়ার জন্য লোকাল বাসে ৬০০ টাকা ভাড়া চুক্তিতে উঠি। ঠেলে বাসের ভেতরে ঢোকানো হলে দেখি আরেক কাণ্ড। যেখানে প্রতি দুই সিটে একজন বসার কথা, সেখানে বসছে দুজন করে। এ ছাড়া অনেকে দাঁড়িয়েও ছিলেন।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দূরপাল্লার রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকার কথা। অথচ নথুল্লাবাদ স্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়ছে স্বাভাবিকভাবেই।

বরিশাল থেকে মাওয়া রুটের বিএমএফ পরিবহন কাউন্টারের সামনে গিয়ে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেল। প্রতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।

যাত্রী আওলাদ হোসেন বলেন, ‘এমনে ভাড়া ২২০ টাকা। এখন ভাড়া দেয়া লাগতেছে ৫০০ টাকা। ভাড়া ডাবল দিছি, তবে সিট তো পুরো একা পাই নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমার পাশে আরও একজন আছে। এমন দুর্ভোগ তো হওয়ার কথা না। বাসশ্রমিকদের খামখেয়ালিতে এমনটা হচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসমালিক বলেন, ‘টানা লকডাউন থাকায় পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের লোকাল বাসগুলো ঈদের আগে-পরে মাদারীপুর বাস মালিক সমিতির সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করে বরিশাল টু মাওয়া রুটে যাত্রী পরিবহন করছে।’

যাত্রীবোঝাই বাসে ভাড়া কয়েক গুণ
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে যাত্রী বসানো হয়েছে প্রতি সিটে। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদেরও তো বাঁচতে হবে। আমাদের বাসমালিকদের অবস্থাও খুব খারাপ। আয়-ইনকাম না থাকায় মাওয়া রুটে বাস চলাচল করাতে হচ্ছে। স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।’

বরিশাল আন্তজেলা রুটের একটি বাসের চালক আলিম তালুকদার বলেন, ‘আমরা তো অনেক দিন বাস চালাইন্না বন্ধ রাখছি। মোগো ১৪ রুটে গাড়ি চালাইতাম। তয় মোগো সামনে দিয়া সিএনজি, মাহিন্দ্রা, অ্যাম্বুলেন্স আর মাইক্রোবাসে কইরা যাত্রী মাওয়া নেতে আছে।’

তিনি বলেন, ‘হেরা জনপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার ভাড়া রাখতে আছে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। আমরা কী শুধু দেখমু আর না খাইয়া থাকমু?’

আলিম তালুকদার আরও বলেন, ‘লোকাল রুটে এহন যাত্রী নাই। তাই মালিকগো লগে কথা কইয়া বাস মাওয়ায় চালাইতে আছি। ভাড়া বেশি নেই না, মানে দু-এক শ টাকা বেশি নিই। আমাগোও তো পোষান লাগবে।’

আরেকটি বাসে চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গাদাগাদি কইরা কাউরেই বওয়ান হয় না। হেরা হেগো মতো বয়। মোরা বাস চালাইলেই সমস্যা খালি, হেয়া ছাড়া তো সমস্যা নাই।’

বাস চলাচ‌লের বিষ‌য়ে ব‌রিশাল জেলা বাস মা‌লিক গ্রু‌পের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাস‌রেক বাবলু ব‌লেন, ‘আন্তরু‌টের বাস লং রু‌টে চলাচল ক‌রে না। এ রকম কিছু ঘটলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে।’

ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের ট্রা‌ফিক বিভা‌গের উপক‌মিশনার জা‌কির আলম মজুমদার ব‌লেন, ‘পু‌লি‌শের তদার‌কি র‌য়ে‌ছে। বিষয়‌টি খ‌তি‌য়ে দেখা হ‌বে।’

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

কিছু দিন ধরে আতঙ্কজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীতে ভর্তি রোগী অবশ্য ঢাকা থেকেই আক্রান্ত হন।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এক রোগী ভর্তি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী হিলাড়ি স্বপন কর্মকারও একইদিন বিকেলে সেখানে যান। তার বাড়ি রাজশাহীতে হলেও পড়াশোনার জন্য ঢাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে ভর্তি তিন রোগী হলো বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩২ বছরের সজীব, রামপাল উপজেলার বাঁশতলি এলাকার অপু বিশ্বাসের চার বছরের ছেলে অতিস ও নড়াইল লোহাগড়ার লুটিয়া এলাকার কানু ঘোষের ১০ বছরের ছেলে লিংকন ঘোষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু প্রভাব বিস্তার করেনি। তবুও সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘প্রাথমিকভাবে ১০ শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। উপজেলাগুলোতে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী আসলে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টও করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা রাখা আছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি স্বপনের বাড়ি নগরীর ডিঙ্গাডোবা বাগানপাড়া এলাকায়। তিনি ঢাকায় নর্দান ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী। সোমবার ভোরে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। বিকেলেই হাসপাতালটিতে ভর্তি হন তিনি।

স্বপন জানান, তিনি নার্সিং কলেজের হোস্টেলে থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি অসুস্থ হওয়ায় সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজেটিভ রেজাল্ট আসে। এর পরই তিনি রাজশাহীতে চলে আসেন।

সোমবার রামেক হাসপাতালে ভর্তির পর ফের পরীক্ষা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানেও পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে। এখন ডেঙ্গুর চিকিৎসা চলছে। তবে শারীরিকভাবে এখনও ভালো আছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তিনি ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখানে আসার পর আমরা তাকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

‘চলতি মৌসুমে এই হাসপাতালে এটিই প্রথম ডেঙ্গু রোগী। আমরা তাকে সুরক্ষা দিয়ে রাখছি। বুধবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করার পর তাকে সেখানে রাখা হবে।’

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবশ্য আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে অনেকেই যাওয়ায় ডেঙ্গু ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় গত মাসের শেষ সপ্তাহেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

খানখানাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক জেলে নিহত হয়েছেন। সাগরে ডুবে নিখোঁজ আরও পাঁচ জেলে।

বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালীর খানখানাবাদ অংশে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির উদ্দিনের বাড়ি খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

নিহত নাছিরের মরদেহ তীরে আনতেও বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির বলেন, ‘সংঘর্ষে বোট ডুবে এক জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি। এখনও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্তকাজকে এগিয়ে নেবে। তবে গায়ত্রী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া গায়ত্রীর দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে গায়ত্রীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এ সময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে উপহার দেয়া গায়ত্রীর একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you...’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি (বাবুল) লিখেছেন ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ১ ছাত্রের মৃত্যু, অসুস্থ ১৭

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ১ ছাত্রের মৃত্যু, অসুস্থ ১৭

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি দুই ছাত্র। ছবি: নিউজবাংলা

অসুস্থ ছাত্ররা জানায়, দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় ছাগলের মাংস রান্না হয়। দুপুরে আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে ভাত খায়। এশার নামাজের পর একই মাংস দিয়ে ১৮ ছাত্র রাতের খাবার খায়। ওই সময় মাংসে কিছুটা উটকো গন্ধ ছিল। মাংস মুখে নেয়ার পর মুখ অনেকটা তেতো হয়ে যায় এবং মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে মাদ্রাসায় খাবার খেয়ে নিশান নূর হাদী নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

অসুস্থ আরও ১৬ ছাত্রকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিফাত হোসেন নামে এক ছাত্রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

সোমবার রাতে উপজেলার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ও এতিমখানায় ছাত্ররা রাতের খাবার খাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নিশান উপজেলার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ওই খাবারে বিষ মেশানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অসুস্থ ছাত্রদের স্বজনরা। এ অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে নিশানের চাচা আহসান উল্যাহ বেগমগঞ্জ থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক, তিন শিক্ষক ও কমিটির দুই সদস্যকে আটক করেছে।

আটক ছয়জন হলেন সোনাইমুড়ী উপজেলার ঘোষকামতা গ্রামের হাফেজ মো. দাউদ ইব্রাহীম, সুবর্ণচর উপজেলার মাওলানা মাইনুদ্দীন, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মাওলানা জহিরুল ইসলাম, হাতিয়া উপজেলার চর কৈলাশ গ্রামের হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান হাসান, বেগমগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের হাফেজ বেলাল হোসাইন ও বেগমগঞ্জ পূর্ব একলাশপুর গ্রামের হাফেজ মো. ইসমাঈল।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মোজ্জামেল হোসেন, পারভেজ, আবদুর রহিম, আশিক, মেহেরাজ, শান্ত ও নুর হাসানসহ ১৬ ছাত্র জানায়, সোমবার দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় ছাগলের মাংস রান্না হয়। দুপুরে আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে ভাত খায়। তখন মাংসে ঝোল কম ছিল।

এশার নামাজের পর একই মাংস দিয়ে ১৮ ছাত্র রাতের খাবার খায়। রাতে মাংসে ঝোল ছিল। এ ছাড়া মাংসে কিছুটা উটকো গন্ধ ছিল। মাংস মুখে নেয়ার পর মুখ অনেকটা তেতো হয়ে যায় এবং মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়।

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ১ ছাত্রের মৃত্যু, অসুস্থ ১৭

মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ছাত্রদের অসুস্থতার কথা শুনে স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসককে মাদ্রাসায় ডেকে আনা হয়। তিনি অসুস্থ ছাত্রদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এর মধ্যে অসুস্থ ছাত্র নিশানের মৃত্যু হয়। পরে দ্রুত অন্য ছাত্রদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে প্রতিদিন ৭০ জন ছাত্র খাবার খায়। রাতে ১৮ জন খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের আর ওই খাবার দেয়া হয়নি।

ফেরদৌসী আক্তার, আমির হোসেনসহ হাসপাতালে উপস্থিত ছাত্রদের অভিভাবকরা জানান, এর আগে ওই মাদ্রাসায় বাচ্চাদের খাবারে এ ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। দুপুরেও একই খাবার খেয়েছে বাচ্চারা, তখনও কোনো সমস্যা হয়নি।

তারা অভিযোগ করেন, রাতে খাবারের সঙ্গে কেউ বিষাক্ত কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছে, না হলে একসঙ্গে খাবার খাওয়া সব বাচ্চার এ সমস্যা হতো না।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তারা।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম জানান, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসুস্থদের মধ্যে নিশানকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ১৭ ছাত্রের মধ্যে রিফাত হোসেন নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৬ জনের অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে শঙ্কামুক্ত কি না, ২৪ ঘণ্টার আগে তা বলা যাচ্ছে না।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতের ওই খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিশানের চাচার করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার জানান, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

‘ওভারটেক করতে গিয়ে’ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

‘ওভারটেক করতে গিয়ে’ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকি মোটরসাইকেলে কুমিল্লা সেনানিবাসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে ময়নামতির রাফি উল্লাহর মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।

কুমিল্লায় একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবপুর এলাকায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকি চন্দ্র সিংহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক। তার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর এলাকার চৌকিদারি বাড়ি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকি মোটরসাইকেলে কুমিল্লা সেনানিবাসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে ময়নামতির রাফি উল্লাহর মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।

‘ওভারটেক করতে গিয়ে’ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ময়নামতি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রাকির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাফিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী হাসান উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, তিনি খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি যেহেতু হাইওয়ে পুলিশের, তাই তাদের খবর দেয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রশিদ জানান, মোটরসাইকেল দুটি ফাঁড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

‘অক্সিজেনের জন্য হাসপাতালে হাহাকার’, বাইরে বিক্ষোভ

‘অক্সিজেনের জন্য হাসপাতালে হাহাকার’, বাইরে বিক্ষোভ

করোনা ইউনিটে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের দাবিতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছে বাসদ। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে ডা. মনীষা বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। একটি সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

করোনা ইউনিটে শিগগির নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের দাবিতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছে বাসদ।

করোনা ইউনিটের সামনে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ শেষে সমাবেশ করে বাসদের বরিশাল জেলা শাখা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা বাসদের আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন। বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা শাখার সদস্য রিতা ব্যাপারীসহ রোগীদের স্বজনরা।

সমাবেশে ডা. মনীষা বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট চালু না হওয়ায় রিফিল করতে অনেক সময় লাগছে। ১টি সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য রোগীদের ৬ থেকে ৭ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বরিশালে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনে অক্সিজেনের এই সংকট অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহসহ কেন্দ্রীয় প্লান্ট স্থাপন করে রোগীদের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর, ঠিকাদার কারাগারে

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর, ঠিকাদার কারাগারে

পটুয়াখালীতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মারধরের মামলায় রাহাত চৌধুরী নামের এক ঠিকাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

গলাচিপা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির জানান, রাহাত চৌধুরী এর আগেও ২০১৫ সালে গলাচিপা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকেও (বর্তমানে অবসরে) লাঞ্ছিত করেছিলেন। তার বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই সময় ঘটনা আপস-মীমাংসা হয়েছিল।

পটুয়াখালীতে ঋণ না দেয়ায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মারধরের মামলায় কারাগারে গেলেন এক ঠিকাদার।

মঙ্গলবার পটুয়াখালীর গলাচিপার বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন রাহাত চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অগ্রণী ব্যাংকের গলাচিপা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসানকে মারধর করেন ঠিকাদার রাহাত চৌধুরী। ওই দিন বিকেলে আপস-মীমাংসার কথা বলে ব্যাংকে ডেকে এনে গলাচিপা থানার পুলিশ রাহাত চৌধুরীকে আটক করে। রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজমুল হাসান।

মামলার বরাত দিয়ে নাজমুল হাসান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মেসার্স চৌধুরী ট্রেড লিংকের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাহাত চৌধুরী ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তিনি আগের করা ৬০ লাখ টাকার ঋণের পর আরও ৪০ লাখ টাকা বর্ধিত ঋণ না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন।

তিনি আরও জানান, রাহাত চৌধুরীর আগের ৬০ লাখ টাকা ঋণের পর আরও ৪০ লাখ টাকার বাড়তি যে ঋণ নিতে চান, তা তার জামানতে ঋণের আওতাবহির্ভূত। এ কথা শুনে রাহাত চৌধুরী শাখা ব্যবস্থাপক নাজমুলের জামার কলার ধরে মারধর করে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পেপার ওয়েট দিয়ে টেবিলের গ্লাস ভাঙচুর ও কাগজপত্র নষ্ট করেন। এ সময় ব্যবস্থাপকের চিৎকার শুনে ব্যাংকের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে গলাচিপা থানার পুলিশ ব্যাংক পরিদর্শন করে। এর আগেই রাহাত চৌধুরী সেখান থেকে পালিয়ে যান।

গলাচিপা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির জানান, বেলা ৩টার দিকে আপস-মীমাংসার কথা বলে রাহাত চৌধুরী ওই ব্যাংকে গেলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি জানান, রাহাত চৌধুরী এর আগেও ২০১৫ সালে গলাচিপা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকেও (বর্তমানে অবসরে) লাঞ্ছিত করেছিলেন। তার বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই সময় ঘটনা আপস-মীমাংসা হয়েছিল।

গলাচিপা থানার ওসি জানান, মারধরের ঘটনায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসান মামলা করেছেন। ওই মামলায় রাহাত চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গলাচিপা বিচারিক হাকিম আদালতে নেয়া হয়। বিচারক শান্তনু কুমার মণ্ডল জামিনের আবেদন বাতিল করে তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্যামিলিকে কীভাবে পালব
সন্ধ্যা হলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস
৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের
শহরে বাস নামানোর প্রস্তুতি, স্বস্তির সঙ্গে আছে হতাশাও

শেয়ার করুন