নেত্রকোণায় হরতালে সাধারণের দুর্ভোগ

হরতালে বাস বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা

নেত্রকোণায় হরতালে সাধারণের দুর্ভোগ

‘...পোলাপান লইয়া পথ দিছিলাম অহন আইয়া দেহি বাস চলে না। হেরার ক্ষমতার লাইগ্যা আমরারে বিপদে ফালায়। এইতা হরতাল আমরার লোকসান ছাড়া কিচু না।’

নেত্রকোণা শহরে হরতাল পালনে সড়কে দেখা গেছে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা।

শহরের বারহাট্টা রোডের ট্রাকস্ট্যান্ড মোড়, রাজুর বাজার মোড়, আনন্দবাজার মোড় ও পারলা এলাকার বিভিন্ন সড়কে তারা যান চলাচলে বাধা দিয়েছে। বন্ধ আছে শহরের বেশির ভাগ দোকানপাট।

এর মধ্যে রাজুর বাজার এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজনকে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। সড়কে তারা টায়ারও জ্বালিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে আগুন নেভায়।

পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ সড়কেও বাস চলাচল বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

ঢাকা যাওয়ার জন্য কলমাকান্দা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা যাওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু যেতে পারলাম না। বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

netrakona hartal
সড়কে টায়ার জ্বালায় হরতালপন্থিরা, সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে উৎসুকরা। ছবি: নিউজবাংলা

মদন থেকে আসা গৃহবধূ সেলিনা আক্তার বলেন, ‘আমি গাজীর যাইতে চাইছিলাম। আমার আত্মীয়ের বিয়ে। কইনতো দেহি কী বিপদডার মধ্যে পড়ছি। পোলাপান (সন্তান) লইয়া পথ দিছিলাম অহন আইয়া দেহি বাস চলে না। হেরার ক্ষমতার লাইগ্যা আমরারে বিপদে ফালায়। এইতা হরতাল আমরার লোকসান ছাড়া কিচু না।’

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, শহরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ আছে। সবকিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

প্রতীকী ছবি।

ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক পালিয়ে গেছে।’

চট্টগ্রামে বাস ও যাত্রীবোঝাই তিন চাকার লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর চান্দগাঁও থানার স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেননি পুলিশ। আহত দুজন হলেন রাঙ্গুনিয়া বেতাগি এলাকার প্রমেণ বড়ুয়া এবং হাটহাজারীর দক্ষিণ বুড়িছড়া এলাকার মো. বেলাল। বেলাল লেগুনার চালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের একটু আগে বহদ্দারহাট স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনে কর্ণফুলী ব্রিজমুখী একটি বাস এবং মুরাদপুরমুখী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে চালকসহ লেগুনার ছয়যাত্রীর মধ্যে তিনজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনে একটি বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন চালকসহ লেগুনার তিন আরোহী। তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয় জানা যায়নি। বাকি দুজনের মধ্যে প্রমেণ বড়ুয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আহত লেগুনা চালক চিকিৎসাধীন। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ঘটনায় বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক পালিয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’

মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’

ধান, গম, তিল, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল কেটে এনে স্তুপ করা, মাড়াইয়ের কাজ হচ্ছে পঞ্চগড়ের ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর। ছবি:নিউজবাংলা

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনিস বলেন, ‘প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনসাধারণকে সচেতন করেও তেমন কোন ফল মিলছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে জেল জরিমানা ছাড়া বিকল্প নেই।’ প্রতিনিয়তই মহাসড়কে টহল দিয়ে জনগণকে সচেতনের বিষয়টি অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে জানালেন ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম রব্বানী।

ধান, গম, তিল, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল কেটে এনে স্তুপ করা, মাড়াই শেষে খড় শুকানোর কাজ হতো কৃষকের বাড়ির উঠোনে। কিন্তু এখন এসব কাজ হচ্ছে পঞ্চগড়ের ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর।

পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কটিকে মহাসড়ক না বলে এখন কৃষকের ‘চাতাল’ বলা যায়। এশিয়ান হাইওয়ে নামে পরিচিত এই মহাসড়কেই শুধু নয় পঞ্চগড়ের গ্রামগঞ্জের পাকা রাস্তাগুলোর দুই পাশ দখল করে হাজারো কৃষক এখন ব্যস্ত ফসল মাড়াই আর শুকানোর কাজে। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানচলাচল হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা।

প্রতি বছর বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে মহাসড়কের পাশের বসতবাড়ির লোকজন যে যার মতো সড়কের অপব্যবহার করছে। ক্ষেত থেকে ধান কেটে এনে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে সড়কের ওপর। পরে সড়কের একটা জায়গা দখলে নিয়ে মাড়াই কল বসিয়ে দেদারসে চলছে মাড়াইয়ের কাজ।

আর এ অবস্থায় সড়কের অর্ধেক অংশে ধান শুকানো ছাড়াও খড় সড়কের ওপরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোদে শুকানো হয়। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরা বসতবাড়ির উঠান ছেড়ে সড়কে এসে এ কাজটি করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। এ কাজটির পাশাপাশি তারা রান্নার কাজে ব্যবহারের লাকড়ি, শুকনো মরিচ ও অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এনে ব্যবহার করছে সড়ক-মহাসড়ককে।

এসব নারী-পুরুষ সড়কে গৃহস্থালীর কাজে ব্যস্ত থাকলেও দ্রুতগতির যানবাহনের দিকে খেয়াল থাকে কম। এতে যানবাহনের চালকেরা পড়েন বিপাকে। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায় এই জেলায় এসব কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে তারা উদ্যোগ নিলেও মানছেন না কৃষক। সচেতনতার অভাবে এসব কাজে সড়ক ব্যবহার করছেন তারা।

নিজেদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দাবি করে এই মানুষ গুলো বলছে, বাড়ীতে অনুকুল জায়গা না থাকায় বিশেষ সুবিধা নিতেই তারা এই মহাসড়ক ব্যবহার করছেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলার খয়খট পাড়া এলাকার জহুরা বেগম বলেন, ‘বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তায় ক্ষেতের মরিচসহ ধান, গম শুকানোর কাজ ছোট বয়স থেকেই করে আসছি, আমরা তো রাস্তার এক সাইড ব্যবহার করি তাতে তো কোন সমস্যা নেই।’

সড়কের ওপর মরিচ, ধানসহ অন্যান্য ফসল শুকানো হয়। ছবি:নিউজবাংলা

সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে এসব কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাড়তি কিছু সুবিধার জন্যে আমরা মহাসড়কে বিভিন্ন ফসল শুকানোর কাজ করে থাকি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাড়ীতে শুকনো জায়গা না থাকায় এই কাজটি করতে হয়।’

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সদস্য মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, ‘মহাসড়কের দু’ধারে যে হারে সাধারণ মানুষ গৃহস্থালী কাজে সড়ক ব্যবহার করছে তাতে করে প্রতিদিন মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার।’

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনিস বলেন, ‘প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনসাধারণকে সচেতন করেও তেমন কোন ফল মিলছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে জেল জরিমানা ছাড়া বিকল্প নেই।’

প্রতিনিয়তই মহাসড়কে টহল দিয়ে জনগণকে সচেতনের বিষয়টি অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে জানালেন ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম রব্বানী।

আন্ত:সড়ক, মহাসড়কের সব অংশ জুড়েই বসছে মৌসুমি ফসলের মেলা। অসচেতন মানুষের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও দোষ হয় চালকদের, জেল জরিমানসহ আর্থিক মাসুল টানতে হয় আমাদের। অথচ যারা আইন মানছেনা তাদের বিরুদ্ধে নেই কোন ব্যবস্থা। প্রশাসন চাইলে ৭২ ঘন্টার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে এমনটি বললেন জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও সাবেক সড়ক সম্পাদক মনু মিঞা।

বাংলাবান্ধা বন্দর থেকে ভজনপুর পর্যন্ত মহাসড়ক এবং আন্ত:সড়কের ওপর সব ধরনের কৃষি গৃহস্থালী কাজ বন্ধের জন্যে প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে জরুরী সভা ডেকে কঠোরভাবে বিষয়টি বন্ধের ব্যবস্থার গ্রহণে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মাহবুবর রহমান ডাব্লিউ ।

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

অনলাইন জুয়ার দুজন এজেন্ট গ্রেপ্তার




অনলাইন জুয়ার দুজন এজেন্ট গ্রেপ্তার

আইপিএল ম্যাচের জয়-পরাজয় নিয়ে অনলাইনে বাজি ধরেন তারা। এজেন্টরা ১৫ শতাংশ হারে কমিশন পান। অনুমোদনহীন ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে চলে লেনদেন।

অনলাইনভিত্তিক জুয়ার সাইট ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্টকে আটক করেছে র‍্যাব।

আটক শহীদুল ইসলাম ও হোসেন গাজী ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) কেন্দ্রিক জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।

র‌্যাব ১১ এর কোম্পানি কমান্ডার জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, আড়াইহাজার উপজেলার প্রভাকরদী বাজার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদুল ইসলামকে আটক করা হয়। মধ্যরাতে রূপগঞ্জের সাওঘাট থেকে আটক করা হয় হোসেন গাজীকে। তাদের ব্যবহার করা তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ক্রিকেট আসর আইপিএল নিয়ে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন জুয়ার সাইট রয়েছে। আটক যুবকরা জুয়ার এজেন্ট হিসেবে তরুণদের প্রলুব্ধ করতেন। তারা বিভিন্ন আইডির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেন।

আটক যুবকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন ই-ট্রানজেকশনের সাইটে আইডি খুলে লেনদেন করেন। অনলাইনে বিভিন্ন জুয়ার সাইটে তরুণ ও যুবকদের আইডি খুলে দেন। এজেন্টরা ১৫ শতাংশ হারে কমিশন পান। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার এজেন্টদের মাঝে যোগাযোগ রাখা হয় বিশেষ কৌশলে।

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

আ. লীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় আটক ৭

আ. লীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় আটক ৭

ওসি আবুল খায়ের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের  আটক করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে।ওসি আবুল খায়ের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের  আটক করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজারে ইউপি সদস্য প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. জোবায়ের হোসেনকে (৪৩) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।

হাতিয়া থানার ওসি মো.আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হাতিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোলার মনপুরা থেকে স্থানীয় কোস্টগার্ড ও পুলিশ সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওমর ফারুক, তার আপন ছোট ভাই রাসেদসহ তিনজনকে আটক করে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করে হাতিয়া থানার পুলিশ।

ওসি আবুল খায়ের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের আটক করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

এক গিঁটে ৩০টি লাউ  

এক গিঁটে ৩০টি লাউ  

লাউয়ের গিঁট হাতে জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

চাটখিল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিরাজুল ইসলাম জানান, এটা এক ধরনের অস্বাভাবিক ফলন। সাধারণত এমন ফলন হয় না। কোনো কারণে যদি গাছে অতিরিক্ত ফ্লোরিজেন হরমোন উৎপাদন হয় সে ক্ষেত্রে গাছের কাণ্ড থেকে একাধিক ফুল এসে বেশি পরিমাণ লাউ আসতে পারে। এ ছাড়া জিন মিউটেশনের কারণেও হতে পারে।

নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায় একটি গাছের এক গিঁটে ৩০টি লাউ ধরেছে।

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পুরুষোত্তমপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও রেহানা বেগম দম্পতির বাড়ির বাগানের ওই গাছটি দেখতে এখন উৎসুক মানুষের ভিড় লেগেই আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমের মতো ঝুলে থাকা গিঁটে লাউ আছে ৩০টি। এর মধ্যে ২০টি লাউয়ের ওজন ২০০ গ্রামের মতো হবে। বাকি ১০টি লাউয়ের ওজন ৫০ থেকে ১০০ গ্রামের মধ্যে। নতুন করে একই স্থানে আরও কিছু ফুল আসছে।

রেহানা বেগম জানান, স্থানীয় সোমপাড়া বাজার থেকে লাউয়ের চারা কিনে তিনি নিজ হাতে লাগিয়েছেন। প্রথমদিকে গাছে তেমন লাউ না আসলেও কিছুদিন আগে পাঁচটি লাউ স্বাভাবিকভাবেই ধরেছে। সেগুলোর থেকে তিনটি লাউ খেয়েছেন আর দুইটি বীজের জন্য রেখেছেন।

১০/১২ দিন আগে তিনি দেখেন, একটি গিট (গাছের শাখার সংযোগ স্থল) ফেটে অসংখ্য লাউ ধরছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এসব লাউ দেখতে আসছেন।

স্থানীয় রফিকুল্লাহ জানান, আমার জীবনে এই প্রথম দেখেছি এমন ঘটনা।

লাউ বাগানটি দেখতে আসা সোমপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রিয়াদ হোসেন জানান আমাদের বাজারের অনেকে এই লাউগুলো দেখতে এসেছে। এটা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজারে আলোচনা হচ্ছে। তাই আমিও দেখতে এসেছি। একটি গিঁটে ৩০টি লাউ আমার কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছে।

চাটখিল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিরাজুল ইসলাম জানান, এটা এক ধরনের অস্বাভাবিক ফলন। সাধারণত এমন ফলন হয় না। কোনো কারণে যদি গাছে অতিরিক্ত ফ্লোরিজেন হরমোন উৎপাদন হয় সে ক্ষেত্রে গাছের কাণ্ড থেকে একাধিক ফুল এসে বেশি পরিমাণ লাউ আসতে পারে। এ ছাড়া জিন মিউটেশনের কারণেও হতে পারে।

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

শাহাদৎবার্ষিকীতে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে স্মরণ

শাহাদৎবার্ষিকীতে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে স্মরণ

আহসান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরে দোয়া অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রকাশ্য জনসভায় ২০০৪ সালের ৭ মে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। তিনি দুবার আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন। গাজীপুরের তুমুল জনপ্রিয় এ শ্রমিকনেতা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৭তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে স্মরণ করেছে এলাকাবাসী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্নস্থানে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মিলাদ, দোয়া মাহফিল, তবারক বিতরণ এবং স্মরণ সভা।

শুক্রবার দিনভর গাজীপুরের হায়দরাবাদ গ্রামে আহসান উল্লাহ মাস্টারের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপি, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. গিয়াসউদ্দীন মিয়া, অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মনি সরকার, টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মঞ্জুর, টঙ্গী সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া, সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহামনসহ অনেকে।

আগের রাতে মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করেন বড় ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল । তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আহসান উল্লাহ মাস্টার স্মৃতি পরিষদ একটি স্মরণিকা ও বিশেষ নিবন্ধ সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

২০০৪ সালের ৭ মে একটি জনসভায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে তিনি দুই দফায় পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন

চালের দাবিতে জেলেদের বিক্ষোভ

চালের দাবিতে জেলেদের বিক্ষোভ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কার্ডধারী জেলেরা ভিজিএফ চাল বিতরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

জেলে রয়েছে ৯৩৯ জন। কিন্তু বরাদ্দ এসেছে অর্ধেকেরও কম। তাদেরকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এতে কোনো রকম অনিয়মের সুযোগ নেই। তাদের একটু ক্ষোভ থাকতেই পারে। সরকার কার্ড অনুসারে চাল বরাদ্দ দিলে জেলেদের এমন ক্ষোভ থাকবে না।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেরা ভিজিএফ চাল বিতরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের রেনু মিয়ার বাজারে এই বিক্ষোভ করে জেলেরা। তারা সবাই মৎস্য অধিদপ্তরের কার্ডধারী জেলে। তাদের অভিযোগ, কার্ড থাকা সত্বেও তাদের চাল না দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জেলে নয়, এমন ব্যক্তিদের চাল দিয়েছেন।

ওই ইউনিয়নে মৎস্য অধিদপ্তরের কার্ডধারী জেলে ৯৩৯ জন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে জাটকা আহরণে বিরত থাকা ১৫৫ জন জেলের দুই মাসে ৮০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ আসে। এপ্রিল-মে মাসে আসে ১৭৫ জনের নামে। কিন্তু সিংহভাগ জেলের জন্যই আসেনি কোনো সহায়তা।

ওই ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী জেলে সাহাব উদ্দিন মাঝি, আলাউদ্দিন, মো. মোবারক হোসেন, বেলাল উদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল, মাঈন উদ্দিন, আবুল কাশেম, দুলাল মাঝি, নিজাম উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, মোশারফ হোসেন, ৯নং ওয়ার্ডের নিজাম উদ্দিন, জসিম মাঝি, ৪নং ওয়ার্ডের সাহাব উদ্দিন, আলা উদ্দিন, শাহজাহান, আবদুর রহিম ও নিজাম মাঝিসহ আরও অনেকে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে চালগুলো বিতরণ করেন। ইউপি সদস্যরা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের অনুসারীদের ২০-২৫ কেজি করে চাল দিয়ে প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করেছেন।

জেলেদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তাদের কার্ড ইস্যু হওয়ার পর কেউ একবার অথবা দুইবার চাল পেয়েছেন। আবার কেউ একবারও পাননি।

তবে পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু বলেন, জেলে রয়েছে ৯৩৯ জন। কিন্তু বরাদ্দ এসেছে অর্ধেকেরও কম। তাদেরকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এতে কোনো রকম অনিয়মের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘তাদের একটু ক্ষোভ থাকতেই পারে। সরকার কার্ড অনুসারে চাল বরাদ্দ দিলে জেলেদের এমন ক্ষোভ থাকবে না।’

সুবর্ণচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে জেলেদের মাঝে চালগুলো বিতরণ করা হয়েছে। এতে অনিয়মের সুযোগ নেই। চালবঞ্চিত প্রকৃত জেলেরা পরবর্তী ধাপে সুযোগ পাবেন।’

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ইবনুল হাসান ইভেন বলেন, ‘জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
আতঙ্কে যাত্রী-গাড়ি দুটোই কম
নোয়াখালীতে সড়কে হেফাজত, আ. লীগের বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা হেফাজত সমর্থকদের
মোহাম্মদপুরে পিকেটারদের আওয়ামী লীগের ধাওয়া
হাটহাজারীতে মুখোমুখি মাদ্রাসাছাত্র-আ. লীগ

শেয়ার করুন