চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনি: জাহাঙ্গীর কবির নানক

চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনি: জাহাঙ্গীর কবির নানক

সোমবার বিকেলে বরগুনা শহরের সিদ্দীক স্মৃতিমঞ্চে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: নিউজবাংলা

বরগুনা পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষ্যে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আসহান মহারাজের সমর্থনে পথসভায় বক্তব্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর উদ্দেশে এ কথা বলেন নানক।

বরগুনা পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক মন্তব্য করেছেন, চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেল থেকে চেষ্টা করেছিলাম, বুঝিয়েছিলাম। বলেছিলাম এই জনসভায় এসে শাহাদাত তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে কাজ করুক। কিন্তু চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনি।’

সোমবার বরগুনা পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আসহান মহারাজের সমর্থনে পথসভায় বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নানক বলেন, ‘কামরুল আহসান মহারাজকে ২০১৫ সালে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আবারও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার মনোনয়ন কেন দিয়েছেন আপনাদের বুঝতে হবে, কারণ প্রধানমন্ত্রী মহারাজকে মেয়র হিসেবে আপনাদের এখানে দেখতে চান। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মহারাজকে নির্বাচিত করলে রেমন্ড নয়, বরগুনা হবে ডায়মন্ড বরগুনা।’

তিনি বলেন, ‘আমি সকালে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে বরগুনা যাওয়ার কথা বলি, তখন তিনি আমাকে বলেন, তোমরা যাও, ওটা আমার বরগুনা, তোমরা গিয়ে মহারাজকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ করো।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমি শাহাদাত হোসেনের বেয়াইকে ডেকে বলেছি, শাহাদাতকে বুঝিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করান, এখনও সময় আছে, শাহাদাতের বোধোদয় হোক। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করুন।’ পরে তিনি সমবেত জনতাকে নিয়ে নৌকার স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

সোমবার বিকেলে বরগুনা শহরের সিদ্দীক স্মৃতি মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীরের সভাপতিত্বে এ পথসভা হয়।

এতে এছাড়া বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম ও বরিশাল বিভাগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন।

চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনি: জাহাঙ্গীর কবির নানক

বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের সমালোচনা করে বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, একই ব্যক্তি যিনি সেবক হওয়ার ওয়াদা করেন, রক্ষক হওয়ার ওয়াদা করেন রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হন। বরগুনার মানুষ অন্তত তাকে ভোট দিতে পারেন না। দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে আজ বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব সহযোগী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই বিশাল জনসমাবেশ এটাই প্রমাণ করে ৩০ জানুয়ারি বরগুনায় নৌকা মার্কা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে। আপনারা প্রমাণ করে দেবেন, বরগুনায় কোনো অখ্যাত দুর্নীতিবাজের স্থান নেই।

চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনি: জাহাঙ্গীর কবির নানক

শাহাদাত হোসেনের সমালোচনা করে আফজাল হোসেনও বক্তব্য দেন। তিনি নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, ‘আপনারা উন্নয়নের স্বার্থে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন, উন্নয়নের দ্বায়িত্ব আমাদের।’

এর আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ বক্তব্য দেন। তিনি ৩০ জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

পথসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ছাড়াও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুভাষ হাওলাদারসহ যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার মধ্যেই সুজানগর পৌরসভার ভোট

করোনার মধ্যেই সুজানগর পৌরসভার ভোট

সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে ভোট চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট নেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে পাবনার সুজানগর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ভোট চলছে।

রোববার সকাল আটটা থেকে ভোট শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

করোনার মধ্যে ভোটগ্রহণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ভোটারদের মধ্যে। অনেকে বলছেন, তিন দফা স্থগিত হওয়ায় ভোট নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তারা। এছাড়া করোনার মধ্যে ভোট দেয়া নিয়েও ছিল দ্বিধা।

অন্যদিকে কমিশন থেকে সব নির্বাচন স্থগিত করা হলেও সুজানগর পৌরসভায় ভোট হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে ভোট চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট নেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

সুজানগর পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২০ হাজার ৪৪৮। নির্বাচনে ৯ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২ জনসহ ৪১ প্রার্থী লড়ছেন।

এ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র কামরুল হুদা কামাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম রেজা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

সীমানা ও ভোটাধিকার জটিলতায় উচ্চ আদালতে দ্বারস্থ হওয়া পক্ষ-বিপক্ষের রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন থেকে পরপর তিন বার স্থগিত করা হয় সুজানগর পৌরসভা নির্বাচন।

শেয়ার করুন

যশোরে এবং কালকিনিতে নৌকার জয়জয়কার

যশোরে এবং কালকিনিতে নৌকার জয়জয়কার

(বাঁয়ে) যশোর পৌর মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ এবং মাদারীপুরের কালকিনি পৌর মেয়র এসএম হানিফ

যশোরে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হায়দার গণি খান পলাশ। অন্যদিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে মেয়র হয়েছেন নৌকা মার্কার এসএম হানিফ।

যশোর ও মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে।

যশোরে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হায়দার গণি খান পলাশ। অন্যদিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে মেয়র হয়েছেন নৌকা মার্কার এসএম হানিফ।

বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবীর ও মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এ ফলাফল নিশ্চিত করেন।

হুমায়ুন কবীর জানান, ৩২ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন হায়দার গণি খান পলাশ। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী সরদার পেয়েছেন ১২ হাজার ৯৪৭ ভোট।


নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো বিএনপির মারুফুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ হাজার ৩০২টি ভোট।

নির্বাচন কর্মকর্তা আরও জানান, এক নম্বর ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান রিপন, দুই নম্বর ওয়ার্ডে রাশেদ আব্বাস রাজ, তিন নম্বর ওয়ার্ডে মোকসিমুল বারী অপু, চার নম্বর ওয়ার্ডে জাহিদ হোসেন মিলন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে রাজিবুল আলম, ছয় নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীর কবীর সুমন, সাত নম্বর ওয়ার্ডে শাহেদ হোসেন নয়ন, আট নম্বর ওয়ার্ডে প্রদীপ কুমার বাবলু, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আসাদুজ্জামান কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া সংরক্ষিত এক নম্বর ওয়ার্ডে আইরিন পারভীন, দুই নম্বর ওয়ার্ডে নাসিমা আক্তার জলি, তিন নম্বর ওয়ার্ডে শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি কাউন্সিলর হয়েছেন।

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ৯ হাজার ১৪১ ভোট পেয়ে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের এসএম হানিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মশিউর রহমান সবুজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৯৭ ভোট।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন বেপারী গত ২১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

যশোর পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে গ্রহণ হয়েছে ইভিএমে। পৌরসভার ৫৫টি কেন্দ্রের ৪৭৯টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। মেয়র পদে তিনজন, কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এ পৌরসভায় মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯২ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৪৫ এবং নারী ভোটার ৭৪ হাজার ৫৪৯ জন।

কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৮৬৬ এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৪৪১ জন। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৯টি ওয়ার্ডের ১৮টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে জহুরুল ইসলামকে মেয়র ঘোষণা বাতিল

বোয়ালখালীতে জহুরুল ইসলামকে মেয়র ঘোষণা বাতিল

ওই পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। পাশাপাশি তাকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলামকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র ঘোষণার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে ওই পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। পাশাপাশি তাকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন মো. আক্তার রসুল (মুরাদ)। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি বিপুল বাগমার। আর জহুরুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন মো. নাজমুল হুদা।

আইনজীবী মো. আক্তার রসুল (মুরাদ) নিউজবাংলাকে বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভা নির্বাচনে গত ৭ মার্চ তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র প্রার্থী হন মো. জহুরুল ইসলাম জহুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আবুল কালাম আবু এবং যুবলীগ নেতা মো. ইদ্রিস আলম।

এরপর ঋণখেলাপির অভিযোগে আবুল কালাম আবু এবং আয়কর রিটার্নিংয়ের প্রাপ্তিতা স্বীকার ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল না করায় মো. ইদ্রিস আলমের প্রার্থিতা গত ১৯ মার্চ রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২১ মার্চ আপিল করেন মো. ইদ্রিস আলম। তার আপিলের শুনানি নিয়ে ২৩ মার্চ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি খারিজ করে দেয়। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করে মো. ইদ্রিস আলম।

এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. জহুরুল ইসলাম জহুরকে মেয়র ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার।

আগামী ১১ এপ্রিল এ পৌরসভার ভোটগ্রহণের তারিখ ধার্য আছে।

শেয়ার করুন

কালকিনিতে ভোট: দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষ

কালকিনিতে ভোট: দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষ

এই কেন্দ্রে ভোটের সময় হয় সংঘর্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শক সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল সি, নারায়ণগঞ্জ) আবির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিজিবি মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, ভোটও চলছে।’

মাদারীপুরের কালকিনিতে পৌরসভা নির্বাচনের ভোট চলাকালে দুইটি কেন্দ্রে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণও হয়েছে।

পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিকারমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা ও দুপুর সাড়ে ১২টায় এই সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শক সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল সি, নারায়ণগঞ্জ) আবির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়।

‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিজিবি মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, ভোটও চলছে।’

তবে কী কারণে সংঘর্ষ, তা জানা যায়নি।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানার জন্য দুই প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও পক্ষে সাড়া মেলেনি।

কালকিনিতে চলছে স্থগিত হওয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোট।

মেয়র হতে এখানে লড়ছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের এস এম হানিফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, বিএনপির কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লুৎফার রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেল রানা।

এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী কামাল হোসেন ২১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘ভোট কারচুপি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড, পৌরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন বর্জন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।’

এই পৌরসভায় ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এর আট দিন আগে ৬ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজের নিখোঁজ হওয়ার জেরে কালকিনিতে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।

এরপরই ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে কালকিনির ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

যশোর পৌরসভায় চলছে ইভিএমে ভোট

যশোর পৌরসভায় চলছে ইভিএমে ভোট

১৮ মার্চ বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম মারুফ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে শুধু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হায়দার গণি খান পলাশ ও হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মাদ আলী সরদারের মধ্যে।

প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট চলছে যশোর পৌরসভায়।

পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে স্থগিত হওয়া যশোরে বুধবার সকাল আটটা থেকে ভোট শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে জানান, ৫৫টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। ১ হাজার ৪৫০ জন নির্বাচনি কর্মকর্তা আছেন। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১ হাজার ২০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু ১৮ মার্চ বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম মারুফ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে শুধু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হায়দার গণি খান পলাশ ও হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মাদ আলী সরদারের মধ্যে।

এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯২ জন ভোটার প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোরে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে পৌরসভার নতুন সীমানা নিয়ে জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে সাতজন নাগরিক রিট করেন।

৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ বাতিল করে নির্বাচনের অনুমতি দেয়।

কিন্তু তত দিনে ভোটের প্রস্তুতি না থাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জানান, ২৮ তারিখ ভোট নেয়া সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন

কালকিনিতে চলছে স্থগিত পৌর নির্বাচনের ভোট

কালকিনিতে চলছে স্থগিত পৌর নির্বাচনের ভোট

সকাল থেকেই কালকিনির কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে ভোটার উপস্থিতি। ছবি: নিউজবাংলা

গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মশিউর রহমান সবুজের নিখোঁজ হওয়ার জেরে কালকিনিতে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখের তিন দিন আগে এই নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।

মাদারীপুরের কালকিনিতে চলছে স্থগিত হওয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রে বুধবার সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়।

প্রতিটি কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রথমবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হওয়ায় আগ্রহ দেখা গেছে তাদের মধ্যে।

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৌর এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পৌরসভায় ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে আছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ৯ জন করে পুলিশ ও ১২ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন আছে।

প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৩ হাজার ৩০৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৮৬৬ ও নারী ভোটার ১৬ হাজার ৪১৬ জন।

কালকিনির মেয়র হতে লড়ছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের এস এম হানিফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, বিএনপির কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লুৎফার রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেল রানা।

কালকিনিতে চলছে স্থগিত পৌর নির্বাচনের ভোট
প্রথমবার ইভিএমে ভোট হচ্ছে এই পৌরসভায়

এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী কামাল হোসেন ২১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘ভোট কারচুপি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড, পৌরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন বর্জন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।’

এই পৌরসভায় ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এর আট দিন আগে ৬ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজের নিখোঁজ হওয়ার জেরে কালকিনিতে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।

সেদিন দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন সবুজ। তখন কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন তাকে মেসেজ দেন, যাতে লেখা ছিল, ‘মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) তাকে (মশিউরকে) দেখা করতে বলেছেন।’

এসপির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পর থেকে সবুজের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানায় পরিবার।

কালকিনিতে চলছে স্থগিত পৌর নির্বাচনের ভোট
দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সড়ক অবরোধ করা হয়

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা কালিকিনি থানা ঘেরাও করে। বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

সবুজের সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালায় নৌকার প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকরা। দুই পক্ষে শুরু হয় সংঘর্ষ, আহত হন অন্তত ৫০ জন।

ওই সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

১৩ ঘণ্টা পর কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ কৃষ্ণনগরের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন সবুজ। সে সময় তিনি জানান, এসপি মাহবুব হাসানের সঙ্গে ফেরির কেবিনে ছিলেন তিনি।

পরের দিন সবুজ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‌‌‌‘এসপি আমাকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিয়ে যান। সেখানে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে আমাকে বলা হয়।’

এরপরই ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে কালকিনির ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন বর্জন বিএনপির

কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন বর্জন বিএনপির

‘ভোট কারচুপি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, পৌরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন বর্জন ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।’

মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার আগামী ৩১ শে মার্চের নির্বাচন বর্জন ও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. কামাল হোসেন বেপারী।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কালকিনি পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শাহেদ হোসেন বেপারীর বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কামাল হোসেন বেপারী।

কামাল হোসেন বলেন, ‘ভোট কারচুপি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড, পৌরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন বর্জন ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি।’

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে আগামী ৩১ শে মার্চ ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন