কবে খুলবে চাকরির জট?

কবে খুলবে চাকরির জট?

করোনাকালীন জট লেগেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর দেশে ১৮ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। করোনায় দেড় বছর ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বন্ধ। বেসরকারি খাতও স্থবির। এ রকম অবস্থায় দেশে কর্মসংস্থানের চিত্রটি আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে নাজুক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৭ সালের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, দেশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩৫ লাখ। এদের মধ্যে শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬ কোটি ৮ লাখ। আবার কর্মক্ষম কিন্তু কাজ নেই– এমন বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ। অর্থাৎ দেশে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

২০১৭ সালের পর বিবিএসের আর কোনো শ্রমশক্তি জরিপ হয়নি।

করোনা ও দফায় দফায় লকডাউনের দেশে একদিকে প্রায় দেড় বছর ধরে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সব ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ।

অন্যদিকে করোনা ও লকডাউনের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নেতিবাচক প্রভাবে দেশে শিল্প খাতে উৎপাদন ও সেবা সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাধাগ্রস্ত হয়েছে আমদানি-রপ্তানি। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতার কারণে বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে গেছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিয়োগ তো দূরের কথা, উলটো কর্মীদের ছাঁটাই করছে। এ ছাড়া চাকরির বাইরে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো খাতে সম্পৃক্ত থেকে আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগে ছিল, তাদের অনেকেই সক্ষমতা হারিয়ে বেকারের খাতায় নাম লিখিয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বেকারের তালিকায়। শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে, কিন্তু চাকরির সুযোগ হয়নি। এতে শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিতের পাশাপাশি দক্ষ-অদক্ষ বেকারের হারও এই সময়ে ঊর্ধ্বমুখী।

সব মিলিয়ে দেশে বেকারের মিছিল দীর্ঘ হয়েছে সবাই এমনটা ধারণা করলেও আক্ষরিক অর্থে এখন বেকারের প্রকৃত সংখ্যা কত, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থার হাতে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা তথ্য বলছে, দেশে মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ পুরোপুরি বেকার। আর ১৮ দশমিক ১ শতাংশ পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত।

শ্রমবাজারসংক্রান্ত বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ আরও বলছে, প্রতিবছর দেশে ১৮ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) দাবি করছে, এ সংখ্যা ২০ লাখের কম নয়।

এ দিকে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) জানিয়েছে, প্রতিবছর শ্রমবাজারে যে সংখ্যক লোক প্রবেশ করছে, তাদের মধ্যে সরকারি খাত কর্মসংস্থানের জোগান দিচ্ছে মাত্র ৪ শতাংশ, বাকি ৯৬ শতাংশেরই কর্মসংস্থান ঘটছে বেসরকারি খাতে, যেখানে অভ্যন্তরীণ বেসরকারি খাতের অবদান ৮০ শতাংশের বেশি। বাকি অংশ কাজের খোঁজে যাচ্ছে বিদেশে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি কামরান টি রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে কাজের উৎস্য দুটি: প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক। প্রাতিষ্ঠানিক খাতে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৮৫ লাখ লোক কাজ করছে। এর বিপরীতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে এমন লোকের সংখ্যা ৫ কোটি ২৩ লাখেরও বেশি। তবে যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে, তাদের বেশির ভাগেরই চাকরির অনিশ্চয়তা, অপেক্ষাকৃত কম বেতন-ভাতা এবং সেটিও নিয়মিত পাওয়ার অনিশ্চয়তা আছে। মূলত এসব কারণেই প্রাতিষ্ঠানিক খাতে চাকরিপ্রত্যাশীদের ঝোঁক বেশি। তাই কর্মপ্রত্যাশায় উদ্গ্রিব বেকাররা একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তির আশায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে শ্রমবাজারের দিকে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এ প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে জানান, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বই একটা ক্রাইসিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এরই প্রভাব পড়েছে সরকারি কিংবা বেসরকারি অর্থাৎ দেশের পুরো শ্রমবাজারে। পরিস্থিতিটাই আসলে প্রতিকূল। প্রতিটি নিয়োগের একটি প্রক্রিয়া আছে। এই পরিবেশে চাইলেই তো কিছু জায়গায় এখন নিয়োগটা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের রেগুলার নিয়োগে যেমন কিছুটা সমস্যা হয়েছে, একইভাবে বেসরকারি খাতেও সেই সমস্যা হয়েছে। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। একই সঙ্গে ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

সরকারি চাকরির যে অবস্থা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ জুন প্রকাশিত সরকারি চাকরিজীবীদের তথ্যসংক্রান্ত ‘স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফস, ২০২০’ এর তথ্য মতে, দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৮টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন কর্মরত অবস্থায় সরকারি বেতন-ভাতার সুবিধা ভোগ করছেন। যেখানে নারী রয়েছেন ৪ লাখ ১৪ হাজার ৪১২ জন।

অর্থাৎ অনুমোদিত পদের বিপরীতে দেশে সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৫টি। প্রথম শ্রেণির ৪৬ হাজার ৬০৩টি ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৯ হাজার ২৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির শূন্য পদ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০২টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৯৯ হাজার ৪২২টি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি চাকরির লোভনীয় পদগুলোর (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া হয় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তর কিংবা বিভাগ নিজেদের মতো করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগ দেয়। এর বাইরে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) নিয়োগ দিয়ে থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পদে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক বছর চার মাসে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে ৯৯ শতাংশেরও বেশি নিয়োগ অসম্পন্ন থেকে গেছে। করোনার কারণে এসব নিয়োগ আটকে গেছে অথবা নিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়া কিংবা মামলা জটিলতাসহ নানা কারণে সম্পন্ন করা যায়নি।

এতে করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। একটি চাকরির আশায় দিন পার করতে গিয়ে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় দেড় লাখ চাকরিপ্রত্যাশীর আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে বা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন তথ্য মতে, ৪১তম বিসিএসে আবেদন করে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পৌনে ৫ লাখ বেকার। এর বাইরে শুধু খাদ্য অধিদপ্তরের ১৬৬টি পদের বিপরীতে নিয়োগ আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১৪ লাখ। প্রায় পৌনে ৭ লাখ বেকারের আবেদন জমা পড়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী হওয়ার আশায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ১৪১টি পদে নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ২ লাখের বেশি প্রার্থী। এর বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৪ হাজার ৭৫০টি পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করে পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন ৬ লাখের বেশি প্রার্থী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ) মো. লাইসুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটি বিশেষ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে দেশ। এ কারণে সরকারি নিয়োগের বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। তবে থেমেও ছিল না। করোনার মধ্যেই স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তার, নার্সসহ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জনতা ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে দু-একটি পদের বিপরীতে কিছুসংখ্যক প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যেগুলো আটকে আছে, সেগুলোও নিয়োগের প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।’

সরকারি খাতে কর্মসংস্থানের হার কী পরিমাণ বেড়েছে, জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা জানান, গত ১০ বছরে প্রায় ১০ লাখ নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে।

নতুন সৃষ্টি করা পদগুলোয় কী পরিমাণ নিয়োগ হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসনের কাজ পদ সৃজন করা। আগে যে কোনও নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানো হতো, সম্মতি নেয়া হতো। এখন সেটি হয় না। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজেরাই নিজেদের মতো করে নিয়োগ দেয়। বিচ্ছিন্নভাবে নিয়োগ হয় বলে নতুন কত নিয়োগ হলো, সেটি মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। তবে লকডাউন প্রত্যাহার হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে চলেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে শুরু করা হচ্ছে। চাকরিপ্রত্যাশীরা অচিরেই এর সুফল পাবে।’

কী অবস্থা বেসরকারি খাতে

করোনাকালে সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি নতুন চাকরিও ব্যাপক হারে কমেছে। গত বছরের মার্চে দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করলেও চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহে আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। এমন অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার নিষেধাজ্ঞা (লকডাউন) জারি করে, যা শেষ হয় গত ২৩ জুলাই। আবারও লকডাউনে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে এখন গত কয়েক দিন ধরে আবারও স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টায় বেসরকারি খাত।

কিন্তু গত প্রায় দেড় বছরে দেশের অর্থনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বেসরকারি খাত। এতে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে চাকরির বাজার। বন্ধ রয়েছে নতুন নিয়োগ। অনেক কোম্পানি তাদের পুরাতন কর্মীদের ছাঁটাইও করেছে। ফলে বেড়েই চলেছে কর্মহীনদের সংখ্যা।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেকারত্বের সংকট আছে। এটা দিন দিন বাড়ছে। সরকার স্কুল-কলেজগুলো বন্ধ রেখে এটাকে একটু কম দেখাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন তারা এখনও পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রতিবছর ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে আসছে। সেটা হয়তো এখন ৪০-৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। নতুনভাবে চাকরিচ্যুত হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের একটা বিশাল সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে বেকারত্বের হার ৪ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে, আমরা ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে ভালো আছি। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করতে হলে আগে প্রকৃত বেকারত্বের চিত্র তুলে আনতে হবে। এরপর পরিকল্পনা ধরে এগোতে হবে।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা তথ্য মতে, প্রাতিষ্ঠানিক খাতে চাকরি করে এমন ১৩ ভাগ মানুষ করোনায় কাজ হারিয়েছেন। তবে চাকরি আছে কিন্তু বেতন নেই, এমন মানুষের সংখ্যা আরো বেশি। আর ২৫ ভাগ চাকরিজীবীর বেতন কমে গেছে। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাবে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ট্যাকলিং দ্য কোভিড-১৯ ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ক্রাইসিস ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ‘করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে স্বল্প মেয়াদে কর্মসংস্থান হারাবে ১১ লাখ তরুণ। আর দীর্ঘ মেয়াদে এ সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাতটি খাতে বেশি কাজ হারানোর আশঙ্কার উল্লেখ করে বলা হয়, এসব খাতে কাজ হারাতে পারে কর্মক্ষম যুবকদের ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ। খাতগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতে কাজ হারানো তরুণদের হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশ, নির্মাণ খাতে কাজ হারাতে পারে এমন তরুণের হার ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, বস্ত্র ও পোশাক খাতে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ও খুচরা বাণিজ্যে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ পরিবহন খাতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য সেবা খাতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের হিসেবে করোনার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার পোশাক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি কামরান টি রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা ঠিক, করোনায় দফায় দফায় লকডাউনের কারণে বেশির ভাগ শিল্প-কারখানা বন্ধ ছিল। উৎপাদনে থাকলেও শতভাগ সক্ষমতা ছিল না। এতে শিল্প পরিচালনায় সমস্যা ছিল। ফলে লোকজনও বেকার হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে করোনার কারণে দেশে বিভিন্ন খাতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বেকার হয়েছে।

‘তবে এটাও শুনতে পাই, পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের অন্তত ৭০ শতাংশই আবার কাজে ফিরে এসেছে। কিন্তু যারাই ফিরে এসেছে, তাদের বড় একটা অংশ আগের কাজে ফিরতে পারেনি। তারা পেশা পরিবর্তন করেছে। যারা উৎপাদন ও সেবা খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল কেউ কেউ কৃষিকাজে যোগ দিয়েছে। এ কারণে তাদের আয়েও পরিবর্তন এসেছে।’

সংকটের কথা স্বীকার করলেও ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ দাবি করেন, ‘শ্রমবাজারে মহাপ্রলয় ঘটে যাওয়ার মতো এমন কোনো কিছু হয়নি। প্রতিবছর ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করে বলে করোনার কারণে কারো চাকরি হয়নি, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না তা নয়। প্রতিবছর এমনিতেই ১৩-১৪ লাখ নিয়োগ হয়। এর বাইরে বিদেশ যায় ২-৩ লাখ। তবে অবশ্যই এবার কিছুটা কম হয়েছে। কিন্তু কত কম হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও নেই।’

ড. নাজনীন দাবি করেন, ‘সব জায়গা কিন্তু বন্ধ ছিল না। কৃষি খাতে নিয়োগ হয়েছে। যেসব খাত ভালো করছে, যেমন আইটি সেক্টর, টেলিকম, ই-কমার্স খাত, ফার্মাসিউটিক্যালস, সেখানেও নিয়োগ হয়েছে। আমাদের গ্রোথ হয়েছে। যখন ইকোনমিতে গ্রোথ হয়, তখন বুঝতে হবে সেখানে নিশ্চয়ই নেতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। অতিদরিদ্র মানুষ কাজে ফেরত এসেছে। তারা বসে নেই। লকডাউনেও কাজ করেছে। সমস্যা কিছুটা হয়েছে নিম্ন মধ্যবিত্তের।’

জট খুলবে না গণটিকা ছাড়া

বিশ্ব থেকে করোনা সহজে যাবে না। কিছুদিন পর পর লকডাউন দিয়েও করোনা মোকাবিলা সম্ভব হবে না। আগামী কয়েকটি বছর করোনাকে সঙ্গী করেই আগামীর পথে হাঁটতে হবে। বাংলাদেশকেও এর বাস্তবতা মেনে করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি কামরান টি রহমান মনে করেন,আগের অবস্থায় ফিরে আসতে হলে শিল্প-কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন করতে হবে। এর জন্য লকডাউন থেকে বেরিয়ে মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিক রাখতে হবে। সবাইকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনতে হবে। এগুলো করা না গেলে শ্রমবাজারের পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি আশা করা যায় না।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত না লকডাউন যাবে এবং মানুষকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, তত দিন শ্রমবাজার পরিস্থিতির তেমন উন্নতির সম্ভাবনা দেখছি না।’

ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘যে সময়টা পার করছি, সেটি মেনে নেয়ার বিষয় আছে। তবে সরকারে প্রকল্পগুলো যদি ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়, ভ্যাক্সিনেশনটা হয়ে যায়, তাহলে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব। তখন চলমান সংকটেরও উত্তরণ সম্ভব হবে। তাই আমি বলব, সরকারের আগামী দিনের কর্মকাণ্ডের মূল ফোকাস হওয়া উচিত ভ্যাক্সিনেশন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।’

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শারদীয় উৎসবে ছাড় নিয়ে দেশে নতুন ই-কমার্স ‘সামগ্রী’

শারদীয় উৎসবে ছাড় নিয়ে দেশে নতুন ই-কমার্স ‘সামগ্রী’

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও নারী উদ্যোক্তা রায়হানা আফরোজ রিকা বলেন, ‘ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। সঠিক ও মানসম্মত পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে সামগ্রী ডটকম।’

শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় নিয়ে যাত্রা করেছে অনলাইন শপ সামগ্রী ডটকম।

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা নিয়ে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। ৪৯৯ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য কিনলে ঢাকার ভেতরে মিলবে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সামগ্রী ডটকম লিমিটেডের ডিরেক্টর অপারেশন উৎপল চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ৪০টি ব্রান্ডের ২ হাজার পণ্য সামগ্রীতে পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্পেন, তুরষ্ক, ইতালি ও শ্রীলঙ্কার স্বনামধন্য এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, সান ফ্লাওয়ার ও কোকোনাট অয়েল, শিশুদের সব ধরণের খাদ্য, গৃহস্থালির পণ্য, ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডের কসমেটিকসসহ জেন্টস ও লেডিস পণ্য।’

সামগ্রী ডটকমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল্লাহ রানা বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ই-কমার্স ডায়নামিক সলিউশন হিসেবে কাজ করছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যে কোনো স্থান থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা দিচ্ছে সামগ্রী ডটকম। অগ্রিম মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ক্রেতারা কেনাকাটায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন।’

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও নারী উদ্যোক্তা রায়হানা আফরোজ রিকা বলেন, ‘ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। সঠিক ও মানসম্মত পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে সামগ্রী ডটকম।’

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

ধর্মঘটের ধকল সামাল দিতে ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একসঙ্গে ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ৩৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট জট সামলে বহির্নোঙরে জাহাজের লাইন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘বহির্নোঙরে জাহাজের জট আছে বলা যাবে না। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় যে আমরা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছিলাম, সেটাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।

‘গত দেড় মাস ধরে আমরা ৫০ শতাংশ জাহাজ কোনো অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভেড়াতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বৃহস্পতিবার ১১টি কনটেইনার জাহাজ ছিল। যার মধ্যে একটি জাহাজ চার দিন অপেক্ষায় ছিল। ৭টি জাহাজের মধ্যে তিন দিন, দুই দিন করে অপেক্ষমাণ ছিল। বাকি তিনটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ ছিল। বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। রপ্তানি পণ্য বন্দর জেটিতে না পৌঁছানোয় ও আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে নামাতে না পারায় নির্ধারিত দুটি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ছাড়তে পারেনি।

কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়। কর্মবিরতির কারণে ডিপো থেকে কনটেইনার আনা-নেয়া বন্ধ ছিল।

কনটেইনার পরিবহনকারী প্রাইম মুভার ট্রেইলর গাড়িতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নেয়া হয়। আবার আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে ডিপোতে আনা হয়। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ডিপো ও বন্দরে নিয়মিত আনা-নেয়া হয় এসব গাড়িতে। ধর্মঘটের কারণে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ ছিল। গাড়ি না থাকায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আসছে কর্তৃপক্ষ

চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আসছে কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর হাজারীবাগে শুকিয়ে যাওয়া চামড়া জড়ো করছেন এক শ্রমিক। ফাইল ছবি

‘চামড়া শিল্প খাত একটি বৃহৎ শিল্প। চামড়া রপ্তানির জন্য বিদেশে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ জন্য সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে।’

চামড়া শিল্পের উন্নয়ন এবং এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে চামড়া শিল্প কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের চতুর্থ সভায় এ প্রস্তাব করা হয়।

বৃহস্পতিবার টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপির সভাপতিত্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান, রাজউক চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফ উদ্দিন, ট্যানারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী নেতারাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়/দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া শিল্প খাত একটি বৃহৎ শিল্প। চামড়া রপ্তানির জন্য বিদেশে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ জন্য সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে।’

সভায় গত ২৮ আগস্টে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সাভারের চামড়া শিল্পনগরী বন্ধের সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগ থেকে নির্মাণাধীন চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হলেও এর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (সিইটিপি) এবং অন্যান্য উপাদানের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ অবস্থায় কয়েকটি ট্যানারির অনুকূলে পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করা হলেও এখন পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

আর পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নপ্রাপ্তি বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানিকারক হিসেবে এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ইআরসি, আমদানিকারক হিসেবে ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আইআরসি ও শুল্কমুক্তভাবে পণ্য আমদানির বন্ড সুবিধার ছাড়পত্র পেতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ট্যানারি শিল্পনগরী বন্ধ করার পক্ষে নই। আমাদের কাঁচামাল আছে, জনশক্তি আছে, অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই শিল্পনগরীর চামড়া কারখানাগুলোর সুষ্ঠু উৎপাদন কার্যক্রমের স্বার্থে পরিবেশগত ছাড়পত্রের নবায়ন ত্বরান্বিতকরণ, সিইটিপি কার্যকর করা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ করার পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে হবে।’

সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘সাভারে ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধনের ক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ৩৫-৪০ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। আমাদের যৌথভাবে সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করতে হবে।’

কোরবানির ঈদে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করার পরও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা কেন যথাযথ মূল্য পাননি, তা শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘চামড়ার মূল্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাজার ধরার জন্য দুই মন্ত্রণালয়ের টানাটানি না করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন।’

শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা কেন্দ্রীয়ভাবে চামড়া মজুত ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

ই-কমার্স ভোক্তাদের সুরক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ই-কমার্স ভোক্তাদের সুরক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন দেয়। ছবি: পিআইডি

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য সুরক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’

ই-কমার্স খাতের ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ ছাড়া দেশে দ্রুত প্রসারণশীল ই-কমার্স ব্যবস্থায় ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য সুরক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন দেয়। এ সময় ই-কমার্স নিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব আহ্বান জানান।

এ ছাড়া তিনি এ খাতে প্রতারণাসহ ভোক্তার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কঠোরভাবে দমনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে আরও অংশ নেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং কমিশনের সদস্য জি এম সালেহ উদ্দিন, ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম।

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

অস্থিরতা কাটিয়ে ই-কমার্সের প্রসার হবে : পলক

অস্থিরতা কাটিয়ে ই-কমার্সের প্রসার হবে : পলক

কারওয়ান বাজারে ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২’ নামে ‘দ্বিতীয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ স্থাপনের জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: নিউজবাংলা

ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা প্রয়োজন উল্লেখ করে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এই সেক্টরে নিয়ম আনতে হবে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি-টেলিকম মন্ত্রণালয়সহ সব রেগুলেটর মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি কোনভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য আমাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অস্থির পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে দেশের ই-কমার্স খাত আরও প্রসার লাভ করবে বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ক্রমবর্ধমান এ খাত কোনভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২’ নামে ‘দ্বিতীয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ স্থাপনের জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দকৃত জমি হস্তান্তর করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

কারওয়ান বাজারস্থ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে (জনতা টাওয়ার) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পলক বলেন, ‘ইদানিং ই-কমার্স নিয়ে আমরা একটি চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করছি। কিন্তু এ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হিসাবে আমি স্টার্টআপ এবং এ খাতের ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, ই-কমার্স কিন্তু প্রসার হবেই। সব বিজনেসই আস্তে আস্তে ডিজিটাল হতে বাধ্য।

ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেক্টরে নিয়ম আনতে হবে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি-টেলিকম মন্ত্রণালয়সহ সব রেগুলেটর মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি কোনভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য আমাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পলক বলেন, দেশের আগামী দিনে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে স্টার্টআপ। তাদের জন্য সরকার ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে। এখাতে প্রচুর বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক মাসেই বিভিন্ন স্টার্ট আপে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। ই-কমার্স বিটুবি প্ল্যাটফর্ম সপ-আপে এ পর্যন্ত ৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, চালডালে এসেছে ১০ মিলিয়ন ডলার। যাত্রীতে ১.২ মিলিয়ন ডলার এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে বিদেশি কোম্পানি স্যামসাং এ দেশে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিলেও তৎকালীন সরকার তা নিতে পরেনি। পরবর্তীতে সে বিনিয়োগ ভিয়েতনামে চলে যায়। সেখানে প্রায় এক লাখ লোক কাজ করছে। বছরে এ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হচ্ছে। তবুও গত ১২ বছরে আইটি সেক্টরে অনেকে এগিয়ে গেছে। এ খাতে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১২ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ১৮ হাজার সরকারি অফিস ইন্টারনেট ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলে কানেক্টেড। দেশের ৩৮ শ ইউনিয়ন ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলে কানেক্টেড, বাংলাদেশের সাড়ে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার তারা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছে। ই-কমার্সের লক্ষাধিক উদ্যোক্তা আছেন।

পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৫ সালে বর্তমান সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ভবনের উদ্বোধন করেন। এখানে বর্তমান টেকনোলজি পার্কেই ১৫টি স্টার্টআপ ও ১৯টি প্রতিষ্ঠানে এক হাজার মানুষ কাজ করছে। বিদ্যমান ভবনের পাশেই দশমিক ৪৭ একর জমিতে আরেকটি আধুনিক ভবন নির্মাণ হবে। এখানে ১২ তলা গ্রীন ভবনটি হবে। এ ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার’ হবে দেশের ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এটি হবে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে দেশের আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিউবেশন সেন্টার, যেখানে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ে সাউথ বাংলা ব্যাংক ও ইলেক্ট্রো মার্টের চুক্তি

কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ে সাউথ বাংলা ব্যাংক ও ইলেক্ট্রো মার্টের চুক্তি

এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফসার। ছবি: নিউজবাংলা

এসবিএসি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী ও কর্মকর্তারা কনকা ও গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয়ে ১২ মাস পর্যন্ত বিনাসুদে সমান মাসিক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এ লক্ষে বুধবার এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

এখন থেকে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী ও কর্মকর্তারা কনকা ও গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয়ে ১২ মাস পর্যন্ত বিনাসুদে সমান মাসিক কিস্তিতে (ইএমআই) মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

এ লক্ষে বুধবার এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফসার।

এ সময় ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শফিউল আজম, ইলেক্ট্রো মার্টের মহাব্যবস্থাপক (সেলস্ ও মার্কেটিং) মাহমুদ উন নবী চৌধুরী, সিনিয়র ম্যানেজার রিটেইল সেলস্ মো. জুলহক হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সার্কুলারে বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ যত বছর থাকবে, তত বছরের জন্য একসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা যাবে। তবে বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম করতে পারবে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

বি‌দেশ ভ্রমণে ডলার এনডোর্সমেন্ট সহজ করে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থে‌কে পাসপোর্টের মেয়াদ যত‌ বছর থাক‌বে, তত বছ‌রের জন্য একস‌ঙ্গে বৈ‌দে‌শিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা‌ যা‌বে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না।

বৃহস্প‌তিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হ‌য়ে‌ছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসংশ্লিষ্ট নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তির অনুকূলে তার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন আন্তর্জাতিক কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় ও নির্ধারণ করতে পারবে। ত‌বে এডি ব্যাংককে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে।

বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম কর‌তে পার‌বে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

এ ছাড়া বিদেশে চাকরি ও ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে কিংবা শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদকালীন এনডোর্সমেন্ট করা যাবে না বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে।

তবে সম্পূরক কার্ডধারী ব্যক্তি তার ভ্রমণ কোটার আওতায় এ সুবিধা পাবে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ কোটা প্রযোজ্য হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট ভ্রমণ পরবর্তী বছরের মধ্যে পড়লে ৩১ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত একটি কোটা এবং ১ জানুয়ারি থেকে অন্য বছরের কোটা ব্যবহার করতে হবে।

পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় বা নির্ধারণ সুবিধা গ্রহণ করা না হলে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘটনাত্তর এনডোর্সমেন্ট করার সুবিধা রাখা হয়েছে।

যৌক্তিক কারণে কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণ ব্যয় বাৎসরিক কোটা সীমা অতিক্রম করলে ওই অর্থ গ্রাহকের নিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি দ্বারা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জাতীয় হিসাব না থাকলে পরবর্তী বছরের ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার সমন্বয় করা যাবে।

আরও পড়ুন:
চাকরির বয়স স্থায়ীভাবে ৩২ চায় ‘টিম ৩২’
সরকারি চাকরির বয়সসীমায় ২১ মাস ছাড়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত
ছাড় নয়, চাকরির বয়সসীমা ৩২ করার দাবি
সরকারি চাকরি প্রার্থীদের বয়সে ২১ মাস ছাড়

শেয়ার করুন