বুড়িগঙ্গাপাড়ের জীবিকায় টান

বুড়িগঙ্গাপাড়ের জীবিকায় টান

চলমান শাটডাউনে নদীর ঘাটে এখন যাত্রীর চেয়ে নৌকা বেশি। ছবি: নিউজবাংলা

সোয়ারীঘাটের ডিঙিনৌকার মাঝি সেকন্দার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এরম লকডাউন থাকলে মারাই যামু। সাহায্য-সহযোগিতা না পাইলে আমাদের মরণ ছাড়া রাস্তা নাই।’

রাজধানীর কোলঘেঁষা বুড়িগঙ্গা নদী ঘিরেই কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা। নৌকা, ট্রলার চালিয়ে জীবন চলে বেশির ভাগের। কেউবা ঘাটশ্রমিক। দৈনিক উপার্জনেই চলে তাদের সংসার। চলমান শাটডাউনে এ রকম প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধে এখন প্রাণচাঞ্চল্যহীন বুড়িগঙ্গা তীর। যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে নৌকায় যাতায়াত করছেন অল্পসংখ্যক মানুষ। আগে অফিস কর্মী ও শ্রমিকদের ভিড় লেগে থাকত এসব নৌঘাটে। এখন বিপরীত চিত্র, নৌঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর তুলনায় নৌকা বেশি।

করোনার প্রভাবে সড়কপথের মতোই নৌপথে মানুষের যাতায়াত এখন নিতান্তই কম। আর তাই সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নৌশ্রমিকরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন যাপন করছেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকার বা কোনো জনপ্রতিনিধি দিচ্ছেন না সহায়তা। অসহায় সময় কাটছে তাদের।

পুরান ঢাকা ওয়াইজঘাটের ট্রলারশ্রমিক আবদুল আলিম জানান, সেখানে ৩০টি ট্রলার রয়েছে, কিন্তু যাত্রী নেই। প্রতিটি ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাজ করেন অন্তত দুজন করে শ্রমিক। কর্মহীন অবস্থায় শত শত শ্রমিকের পরিবারে এখন হাহাকার। অনেক নৌশ্রমিক এখন ট্রলারের মধ্যেই ঘুমিয়ে থাকছেন। উপার্জন না থাকায় ঘরে ফেরার আগ্রহ কম তাদের।

আবদুল আলিম বলেন, ‘ঘাটের আশপাশে থেকে, মানুষের কাছ থেকে দশ-বিশ টাকা চেয়ে নিয়ে জীবন চালাচ্ছি। করোনার এ সময়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রতিদিন অন্তত ৩০টি ট্রলার বিভিন্ন সময়ে ওয়াইজঘাট থেকে ছেড়ে যায়। সেগুলোর যাতায়াত নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচরের কিছু এলাকায়।

সোয়ারীঘাট, মাদবর বাজার, জিঞ্জিরা ফেরিঘাট, টোটা, পাগলা, ফতুল্লাসহ বেশ কিছু স্থানের মানুষ অল্প ভাড়ায় নৌকায় যাতায়াত করেন। বুড়িগঙ্গা নদী ঘিরেই রোজগারনির্ভর প্রায় এক হাজার ডিঙিনৌকার মাঝি বা পাটনির। তারা এখন কষ্টের সময় পার করছেন।

সোয়ারীঘাটের ডিঙিনৌকার মাঝি সেকন্দার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এরম লকডাউন থাকলে মারাই যামু। সাহায্য-সহযোগিতা না পাইলে আমাদের মরণ ছাড়া রাস্তা নাই।’

তিনি জানান, যাত্রী না থাকায় অনেকে নৌকা ঘাটে রেখে বাড়িতে বসে আছেন। এখন অনেক কষ্টে যে আয়-রোজগার হয়, তার মধ্যে দুই পারে খাজনা দিতে হয় দুই শ টাকা। এরপর বাজার করার টাকা থাকে না।

প্রায় একই অবস্থা কুড়ারঘাট, মাদবর বাজার, মান্দাইল, বরিসুর, টোটার ঘাট, চুনওয়ালা ঘাট, আলীর ঘাট, সোয়ারীঘাট, মাছঘাট, পানঘাট, রাজারঘাট, মিটফোর্ড ঘাট, বাবুবাজার ব্রিজঘাট, ওয়াইজঘাট, ইমামগঞ্জ ঘাট, আলম মার্কেট ঘাট, জিঞ্জিরা, টিনপট্টির ঘাট, জিঞ্জিরা ফেরিঘাট ও কালীগঞ্জ ঘাটসহ আরো কয়েকটি এলাকায়। কয়েক শ মাঝি কর্মহীন হয়ে ঘাটেই ঘোরাঘুরি করেন। তারা কী করবেন বুঝতে পারছেন না।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেট্রোরেলের নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

মেট্রোরেলের নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

এসআই সজিব খান বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন মেট্রোরেলের রডসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করছিল। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগে আমরা প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার তথ্যে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালপত্র চুরির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ১ হাজার ৪০০ কেজি মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব খান।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন দেলোয়ার, দুলাল, হাসমত, রবিন ও আনোয়ার।

এসআই সজিব খান বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন মেট্রোরেলের রডসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করছিল। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগে আমরা প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার তথ্যে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’

‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা

‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বইটিতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করা হয়েছে ‘লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা’ তালিকা থেকে।

বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে আসা ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার লেখনীতে জীবন্ত হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বইটিতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করা হয়েছে ‘লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা’ তালিকা থেকে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘ছোট একটি গ্রন্থের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে তুলে ধরা কঠিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা চালু রাখতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন সবদিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু পৃথিবীতে একমাত্র নেতা যিনি তার জীবদ্দশায় একাধারে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজও হয়তো আমরা পরাধীন থাকতাম।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অল্প দিনেই বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক আর একদিকে শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। বিশ্ব সভায় তিনি বাংলাদেশের নেতা হিসেবে কথা বলেননি, বিশ্বনেতা হিসেবে কথা বলেছেন।

‘তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এই পয়সা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, শিক্ষার, স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করতে। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি উপদেশ দিতেন, বিশ্বের নীতি কী হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

ক্যাম্পাসেই টিকা নিতে পারবেন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসেই টিকা নিতে পারবেন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

টিকা ছাড়াও জবি শিক্ষার্থীদের কেউ যদি জাতীয় পরিচয়পত্রও করতে চায়, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারও ব্যবস্থা করা হবে।

ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে যেসব শিক্ষার্থীর টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা রেজিস্ট্রেশন করেও যারা টিকা পাচ্ছেন না তারা সহজেই টিকা নিতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষারত শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসেই টিকা পাবেন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী এখনও টিকার আওতায় আসেনি, কিংবা নানা জটিলতায় টিকা গ্রহণ করতে পারেনি, তাদেরকে ক্যাম্পাসেই টিকা দিতে কাজ করছে প্রশাসন। আগামী মাসে পরীক্ষা শুরুর আগেই সব শিক্ষার্থীর অন্তত প্রথম ডোজ টিকা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।’

তিনি জানান, যেসব শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসেনি তারা যেন জন্মনিবন্ধন দিয়েই যেকোনো কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

টিকা ছাড়াও জবি শিক্ষার্থীদের কেউ যদি জাতীয় পরিচয়পত্রও করতে চায়, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারও ব্যবস্থা করা হবে।

অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের কাগজসহ ক্যাম্পাসে আসলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়েই তাদের টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করব। প্রথম ডোজ এলাকা থেকে নিয়ে এলেও শিক্ষার্থীরা সেকেন্ড ডোজ ক্যাম্পাসেই নিতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সব শিক্ষার্থীর দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করা।’

গত ৭ সেপ্টেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের সঙ্গে বিশেষ সভায় আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তার আগেই শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে সরকারও ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিরের মুরিদ মায়ের

সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিরের মুরিদ মায়ের

৪৯ মামলার আসামি কাঞ্চনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে তার মা কমরের নেহারসহ পরিবারের সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

কমরের নেহার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর কাঞ্চন সবার সম্পদ আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। সম্পদ নিয়েই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাঞ্চন নানা সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে মা ও অন্য ভাই-বোনদের সম্পদ দখল করার পাঁয়তারা করে।

আলোচিত ৪৯ মামলার আসামি একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন তার মা কমরের নেহার।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

কমরের নেহার রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানের মুরিদ। সংবাদ সম্মেলনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বড় ছেলে আকতার ই কামাল, ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার, কাঞ্চনের মামাতো ভাই শাকেরুল কবির ও তার দুই বোন।

৮৪ বছর বয়সী কমরের নেহারের পক্ষে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মেয়ে ফাতেমা আক্তার।

কমরের নেহার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর কাঞ্চন সবার সম্পদ আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। সম্পদ নিয়েই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাঞ্চন নানা সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে মা ও অন্য ভাই-বোনদের সম্পদ দখল করার পাঁয়তারা করে। সম্পদের জন্য কাঞ্চন মায়ের বিরুদ্ধেই দুটি মামলা করে। এমনকি নিজের মায়ের নামের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে অন্য নারীকে মা বানিয়ে জাল দলিল তৈরি করে। এ ঘটনা সামনে আসার পর কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।

স্বামী ডা. আনোয়ার উল্লাহ ১৯৮৬ সালে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হয়েছিলেন দাবি করে কমরের নেহার বলেন, ‘তিনি (স্বামী) জীবিত থাকার সময় আমি আমার বড় ছেলে ও মেয়ে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হই।’

কমরের নেহার তার স্বামীর সম্পদের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ছিলেন। তিনি অনেক জমিজমা ক্রয় করেন। তার ঢাকার শেওড়াপাড়া, শাহজাহানপুর থানার শান্তিবাগে বাড়ি, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবাইলে ফ্যাক্টরি, তক্কার মাঠে জমি, পিলকুনিতে ৪টি প্লট রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নোয়াখালীতে পৈতৃক সূত্রে অনেক জমিজমা লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর এই সম্পত্তিগুলো কাঞ্চনসহ সবার মধ্যে বণ্টন হয়, যা প্রত্যেকের সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট।

‘আমার স্বামী আমার জন্যও আলাদা কিছু সম্পত্তি কিনেছিলেন। আমার ও স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী, কিছু জমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার নিয়ত করেছিলাম। কিন্তু আমার দানের বিষয়টি অন্য সন্তানরা মেনে নিলেও কাঞ্চন মানতে পারেনি। সে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যেন আমি আমার ভাগের সম্পত্তিটুকু পুরোটাই তাকে লিখে দিই; কোনোভাবেই যেন মাদ্রাসায় জমি দান না করি। কাঞ্চন সম্পত্তির ওপর লোভ সামলাতে পারে না পেরে অন্য এক মহিলাকে মা বানিয়ে আমার জমির জাল দলিল তৈরি করে। ওই জাল হেবা দলিলের জন্য আমরা ২০০৯ সালে একটি মামলাও করেছিলাম যার নং ১৩৯২৬।’

কমরের নাহার বলেন, ‘…এক যুগ আগে কাঞ্চন আমাকে মৃত দেখিয়ে এবং তার একমাত্র বোন ফাতেমা আক্তারকে বাদ দিয়ে সকল সম্পদের ওয়ারিশনামা তৈরি করে। কাঞ্চনের বানানো জাল দলিল বাতিল করতে এবং আমার মেয়ের ওয়ারিশসত্ব ফিরিয়ে আনতে আমি আদালতের দ্বারস্থ হই। তখন কাঞ্চন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করে। আমি তার মা হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে দুটি, বড় ভাই আকতার ই কামালের বিরুদ্ধে সাতটি, বোনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং তার মামাতো ভাই শাকেরুল কবিরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে।’

২০১৪ সালে নিজের অংশ থেকে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার নামে ৭৬ শতাংশ জমি দান করেন বলে উল্লেখ করেন কমরের নেহার।

তিনি বলেন, ‘এটা কাঞ্চন মেনে নিতে পারেনি। সে ওই জমিসহ আমার অংশের সম্পদ তার নামে লিখে দিতে আমাকে চাপ দিতে থাকে। সেই সাথে দানের জমি ফিরিয়ে দিতে রাজারবাগ দরবার শরিফ ও মুহম্মদীয়া জামিয়া শরিফ মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট লোকজনের ওপর মামলা-হামলা করতে থাকে। অনেককে সে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠায়। এমনকি মাদ্রাসায় যাওয়া বোরকা পরিহিতা নারীদেরও সে উত্ত্যক্ত করত। এরপর সে রাজারবাগ পিরের সম্পর্কে উল্টাপাল্টা বক্তব্য প্রচার করতে থাকে।

‘পির সাহেব নাকি আমাকে বাইয়াত করে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার সব সম্পত্তি লিখে নিচ্ছেন। আমি নাকি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করে পির সাহেবকে সব সম্পত্তি লিখে দিচ্ছি। এমন মিথ্যা সে মিডিয়ায় প্রচার করতে থাকে। আমি কোনো সম্পত্তি পির সাহেবকে লিখে দিইনি। যতটুকু সম্পত্তি আমি দান করেছি, সেটা একটা মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য; পির সাহেব বা দরবার শরিফের নামে নয়। আমি স্বেচ্ছায় ওই সম্পদ দান করেছি।’

পিরের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাঞ্চন কুৎসা রটাচ্ছেন উল্লেখ করে কমরের নেহার বলেন, ‘সে প্রচার করে, আমি নাকি আমাদের শান্তিবাগের বাড়ি পির সাহেবকে লিখে দিয়েছি, পির সাহেবের মেয়ের বিয়েতে স্বর্ণের মুকুট দিয়েছি, জাপান থেকে তার পাঠানো একটা গাড়ি পির সাহেবকে দিয়ে দিয়েছি। এসবই ভিত্তিহীন, মিথ্যা কথা। কাঞ্চনের সাথে আমাদের পারিবারিক বিরোধ। সেটার সাথে পিরকে জড়িয়ে মাদ্রাসার জায়গাটা দখল করতে চায় সে।’

কাঞ্চনের মায়ের দাবি, জাপান থেকে ফিরে এসে তার ছেলে ১৯৯৫ সালে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হন। এমনকি তার দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানও রাজারবাগ দরবার শরিফে হয়।

ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগ পাঠ করার পর কমরের নেহার ও তার পরিবারকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে চাইলে তারা জানান, কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেননি। তারা শুধু তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এরপরও কাঞ্চনের জাল হেবা দলিল সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল ছাড়েন।

পরিবারের সব অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল আহসান কাঞ্চন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মা-ভাই-বোন পির সাহেব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পিরের কয়েকজন সহযোগী মাদ্রাসার দানের বাইরেও আমাদের আরও জায়গা হাতিয়ে নিবার পাঁয়তারা করছিল, এটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের কাছ থেকে গোপনে স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের নারায়ণগঞ্জের ১৭১ শতাংশ জায়গার হেবা দলিল তৈরি করি। আর তাতে উল্লেখ করা হয়, আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমার মায়ের অংশের ওই জমির মালিক হব আমি, আমার বড় ভাইয়ের দুই ছেলে ও আমার ছোট ভাই বাদল।

‘আমার মা, বড় ভাই ও বোন যেহেতু পিরের মুরিদ। আর তারা ওই সম্পদ পিরকে দিয়ে দিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাই আমি এই কাজ করেছিলাম। আমার যদি সম্পদের প্রতি লোভ থাকত তাহলে তো সব আমার নিজ নামেই নিতাম। আমার ছোট ভাই আর ভাতিজাদের নাম রাখতাম না।’

কাঞ্চনের দাবি, ‘পিরের লোকেরা যে আমাদের সম্পদ নিয়ে যাচ্ছিল তার প্রমাণও মিলে ওই হেবা দলিল করার কিছুদিন পর। আমার মায়ের কাছ থেকে ওই ১৭১ শতাংশ জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে নেয় পিরের লোকজন। তখন তারা সেই অংশের কিছু জমি একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

‘তখন আমার তৈরি করা হেবা দলিল সামনে আসলে তারা বিপদে পড়ে যায়। তখন মাকে দিয়ে আমিসহ আমার ছোট ভাই ও দুই ভাতিজার নামে দুটি মামলা করানো হয়। একটি মামলায় জমি ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে মায়ের সাথে আমাদের আপস হয়। অন্যটি এখনও চলছে।’

মাকে মৃত দেখিয়ে বোনের অংশ বাদ দিয়ে ওয়ারিশনামা তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাঞ্চন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। যদি এমনটা হতো তাহলে তো আমার মা আমার বিরুদ্ধে মামলা করত। তাদের জিজ্ঞেস করেন মামলা কেন করল না।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শেষ দিকে কমরের নেহার বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক এই বিরোধে কাঞ্চন একটি পক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে পুরো পরিবার এক আছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে কমরের নেহারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে, মেয়ে, ভাগ্নে, ভাগ্নিরা। তিনি দাবি করেছিলেন, ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন ছোট ছেলে কামরুল আহসান বাদল ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে বাদল ও তার পরিবারের সদস্যদের সেখানে যুক্ত থাকার দৃশ্য চোখে পড়েনি।

নিউজবাংলা যোগাযোগ করে বাদলের পরিবারের সঙ্গে। টেলিফোনে কথা হয় বাদলের স্ত্রী তসলিমার সঙ্গে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলাম না। আমাদের কাছে তো ভিডিও কল করার মতো কোনো ফোনই নাই।’

ভিডিও কলে যুক্ত থাকার কথা কেন বলা হলো, তা জানতে চাইলে তসলিমা বলেন, ‘তা বলতে পারব না। আমরা কাঞ্চন ভাই বা আমার শাশুড়ির বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাদের এসব থেকে দূরে রাখেন।’

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ গেল দিনমজুরের

ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ গেল দিনমজুরের

নিহত দিনমজুরের স্বজনদের আহাজারি

ভোরের দিকে ছিনতাইয়ের শিকার হন এক ব্যক্তি। ঘটনার পরই তিনি এসে কয়েকজনকে জানালে সাহায্য করতে এগিয়ে যান দিনমজুর আলমগীর।

রাজধানী মিটফোর্ড বালুরঘাট বেড়িবাঁধ এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আলমগীর বেপারী নামের এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় ৪০ বছর বয়সী আলমগীরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি মারা যান।

নিহতের সহকর্মী মো. হানিফ জানান, ভোরের দিকে ছিনতাইয়ের শিকার হন এক ব্যক্তি। ঘটনার পরই তিনি এসে আলমগীর ও আনোয়ারসহ কয়েকজনকে জানান। পরে আলমগীর ও আনোয়ার এগিয়ে গেলে দুইজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী। এই ঘটনায় আহত আনোয়ারকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হানিফ আরও জানান, নিহত আলমগীর শরীয়তপুর জেলার পালং থানার বিনোদপুর গ্রামের হাসেম বেপারীর ছেলে। মিটফোর্ড বালুঘাট বেড়িবাঁধ এলাকায় থাকতেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

‘ডাকাত সরদারের’ স্ত্রী গ্রেপ্তার

‘ডাকাত সরদারের’ স্ত্রী গ্রেপ্তার

ডাকাতির মালসহ গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত নেতার স্ত্রী

গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি ডাকাত দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়ারহাট বাজারে ১৯টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করে। স্বর্ণালংকার, রূপা ও টাকাসহ সর্বমোট ১ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার মালামাল লুট করে চক্রটি।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়ারহাট বাজারে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের সরদার আনোয়ার দেওয়ানের স্ত্রী শাহানা আক্তারকে মালামালসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি ডাকাত দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নয়ারহাটের ১৯টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করে। স্বর্ণালংকার, রূপা ও টাকাসহ সর্বমোট ১ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার মালামাল লুট করে চক্রটি। এ ঘটনায় পরে আশুলিয়া থানায় মামলা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পরই ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে এক ডাকাত সদস্য আনোয়ার দেওয়ানের বাসা থেকে লুট হওয়া ডাকাতির চার ভরি স্বর্ণ ও ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জব্দসহ তার স্ত্রী শাহানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহানা স্বীকার করেন, তার স্বামী আনোয়ার দেওয়ান আন্তজেলা ডাকাত দলের নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার দলের অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ডাকাতি করে আসছেন। ডাকাতি করা মূল্যবান সামগ্রী তার কাছে জমা রাখতেন স্বামী।

মুক্তা ধর জানান, নয়ারহাট বাজারে ডাকাতির ঘটনায় অন্যান্য আন্তজেলা সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া স্বর্ণ ও স্বর্ণ বিক্রির টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত

প্রতীকী ছবি

সহকর্মী মামুন জানান, হাসু মিয়া বাড্ডার আফতাবনগরের ৪ নম্বর রোডের নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান। এতে গুরুতর আহত হন, পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলেও বাঁচানো যায়নি।

রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে একজন নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন।

ভবনে কাজ করার সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পড়ে যান হাসু মিয়া নামের ৪০ বছর বয়সী ওই শ্রমিক। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকর্মী মামুন জানান, হাসু মিয়া বাড্ডার আফতাবনগরের ৪ নম্বর রোডের নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান। এতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলেও বাঁচানো যায়নি।

নীলফামারী সদরের হযরত আলীর সন্তান হাসু মিয়া পেশায় রডমিস্ত্রি। ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবনটিতেই থাকতেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন