মেয়ের পর চলে গেলেন মা

মেয়ের পর চলে গেলেন মা

মগবাজার বিস্ফোরণে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ সুজন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

মগবাজার বিস্ফোরণে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রী সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ফার্মাসিস্ট সুজন কামাল। বলছিলেন, ‘আমার মাইয়াডা শেষ, বউ মেয়ে দুজনই নাই। আমার আর কিছু নাই।’

মগবাজারের বিস্ফোরণ স্থলের পাশেই শর্মা হাউসে মেয়ে, ছোট ভাইসহ গিয়েছিলেন জান্নাত। বিস্ফোরণের পর পরই মারা যা তার ১১ মাসের কন্যা সন্তান। মেয়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর চলে গেলেন জান্নাতও।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সহকারী ইনচার্জ আব্দুল খান।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রী সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ফার্মাসিস্ট সুজন কামাল। বলছিলেন, ‘আমার মাইয়াডা শেষ, বউ মেয়ে দুজনই নাই। আমার আর কিছু নাই।’

সুজনের সহকর্মী রিয়াজ উদ্দিন জানান, সুজনের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালক শর্মা হাউজে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তিনজনই গুরুতর আহত হয়। মেয়ে কমিউনিটি হসপিটালে, জান্নাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। শ্যালক ইউডিসি হাসপাতালে ভর্তি আছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকার আড়ংয়ের শোরুম ও রাশমনো হাসপাতালের উল্টো দিকের মূল সড়ক লাগোয়া একটি ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুনের ঝলকানি দেখা গেলেও তা অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়নি।

এ ঘটনায় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর দেয় পুলিশ। আহত অর্ধশতাধিক বিভিন্ন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী গাড়িচালক মো. মিঠু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিস্ফোরণটি বিকট শব্দের ছিল। আগুনের ঝলকানিও দেখছি। অনেকে আহত হয়েছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিতে দেখেছি।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে খুব সম্ভবত গ্যাস জমে ছিল। সেই গ্যাস বিস্ফোরণের কারণেই আশপাশের ৭টা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে খবর পেয়েছি তাতে ৭ জন মারা গিয়েছেন।

‘আমার কাছে নাশকতা মনে হচ্ছে না। নাশকতা হলে স্প্লিন্টার থাকত। স্প্লিন্টারের আঘাতে আশপাশের মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ত। আপনারা বাস দেখেছেন। বাসে কিন্তু কোনো স্প্লিন্টার নেই। সুতরাং এটা বলা যায় এখানে বোমার কোনো ঘটনা ছিল না। গ্যাস থেকেই এটা হয়েছে।’

মগবাজারে বিস্ফোরণকে বোমাসদৃশ বিস্ফোরণের সঙ্গে তুলনা করছে ফায়ার সার্ভিস। তারা বলছে, এটা অনেক বড় বিস্ফোরণ ছিল; শব্দ হয়েছে বোমা ফাটার মতো।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (ফায়ার) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ‘এটা অনেক বড় একটা বিস্ফোরণ। একটা বোমাসদৃশ শব্দ হয়েছিল। আশপাশের লোকজনদের কাছ থেকে আপনারা জানবেন। আমরা জেনেছি, এটা বিশাল শব্দ হয়েছে।’

‘একটা বোমা ফাটলে যেমন বিস্ফোরণ ঘটে, সে রকম শব্দ হয়েছে। এই ভবনের নিচতলা থেকে সূত্রপাত হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
মগবাজারে বিস্ফোরণে বহু আহত
আজ দিনাজপুরের সেই বেদনাবিধুর দিন
নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণ: তিতাসের ৮ কর্মকর্তা গ্রেফতার
মসজিদে বিস্ফোরণ: মৃত বেড়ে ২৪

শেয়ার করুন

মন্তব্য