ঢাকা উত্তরে ১৮ মামলায় পৌনে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায়

ঢাকা উত্তরে ১৮ মামলায় পৌনে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায়

এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ সব মামলা ও জরিমানা করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৮টি মামলায় এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বুধবার ডিএনসিসির এক নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন পরিচালিত আদালত চারটি মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারসিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা পরিচালিত আদালত চারটি মামলায় ৩৬ হাজার টাকা, চার নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ পরিচালিত আদালত তিনটি মামলায় ২৫ হাজার টাকা এবং ছয় নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন পরিচালিত আদালত একটি মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

আট নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবেদ আলী পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় ৩ হাজার টাকা ও নয় নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় ১৫ হাজার টাকা আদায় করে।

এছাড়া ডিএনসিসির সমগ্র এলাকার জন্য নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এভাবে মোট ১৮টি মামলায় আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

অভিযান চলাকালে মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয় এবং সবাইকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তার রোধে ডিএনসিসি মেয়র এর আহ্বান ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’ মানার পাশাপাশি ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনাসহ স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মাত্রাতিরিক্ত দাম হওয়ায় ভোলা জেলার মরপুরার তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সোলার প্যানেল থেকে সরবরাহ করা ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ আর চাচ্ছে না। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানিয়েছে তারা।

এ দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন করেছে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান জানান, কোম্পানিটি এককালীন মিটার খরচ বাবদ নিচ্ছে ৫-৮ হাজার টাকা। আর প্রতি ইউনিট প্রতি চার্জ নিচ্ছে ৩০ টাকা, সঙ্গে মাসিক ভ্যাট ৭০ টাকাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এত দামের বিদ্যুৎ বিশ্বের কোথাও নেই। মনপুরাবাসীর জন্য এ ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য। কারণ এখানকার ৯৫ ভাগ মানুষ দিনমজুর, জেলে ও কৃষক।

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শতভাগ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়নে ভোলা জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের অনেক দুর্গম চরে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ভোলার মনপুরা উপজেলার আশপাশে মাত্র ১০-১২ হাজার মানুষ বসবাসকারী একটি ওয়ার্ড যুক্ত চরেও বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। কিন্তু দুভার্গবসত মনপুরার ৩ ইউনিয়নে আজও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এজন্য অবিলম্বে সরকারের কাছে মনপুরা বাসীর জন্য জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানাই।’

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্য সচিব মো. ইয়াছিন বলেন, মৎস আহরণে জিডিপিতে মনপুরার মৎসজীবীদের অবদান রয়েছে। কিন্তু এই মৎসজীবীরা আহরণ করা মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারছে না শুধুমাত্র বিদ্যুৎ না থাকার কারণে। এখানে ডিজেল চালিত একটি বিদ্যুৎ স্টেশন থাকলেও তা উপজেলা সদরের মাত্র দেড় হাজার বাসিন্দাদের রাতে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

বাসে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া তবে কেন?

বাসে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া তবে কেন?

বাসগুলোতে মানা হচ্ছে না নিষেধাজ্ঞা। ছবিটি গুলিস্তান থেকে তোলা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বাসে ওঠার জন্য ডাকতে থাকা পরিবহন শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করলেই তারা জানান, ভেতরে আসন ফাঁকা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ করে যে যাত্রীরা কোনো রুটের মাঝপথ থেকে কোথাও যান, তারা জেনেবুঝেই বাড়তি যাত্রী হয়ে উঠতে চান। কারণ, তাদের হাতে এ ছাড়া উপায় অটোরিকশা ভাড়া করা। কিন্তু সেই খরচ করতে চান না তারা। এ ক্ষেত্রে পরিবহন শ্রমিকরা বাধা দেয়ার ভান করলেও আসলে ঠেকাতে চান না। এই ভানটা তারা আসলে করেন ভেতরে থাকা যাত্রীদের প্রবোধ দিতে।

‘ওই ব্যাটা, যাত্রী তুলিস কেন?’

‘কাছে আয়, এক টাকাও বেশি ভাড়া পাবি না।’

সদরঘাট থেকে উত্তরার পথে ছেড়ে আসা ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনে গুলিস্তান গোলাপ শাহ বাজার এলাকায় দুই যাত্রী চিৎকার করে চালকের সহকারীকে হুমকি দিচ্ছিলেন।

কিন্তু তিনি গা করছিলেন না, আর একপর্যায়ে আরও অনেক যাত্রী যখন ভাড়া বাড়ানোর আগের হারে টাকা দেয়ার হুমকি দিতে থাকেন, তখন সেই সহকারী দরজা বন্ধ করেন।

ততক্ষণে বাসের বেশ কিছু আসনে দুজন করে বসেছেন। আর দাঁড়িয়েও ছিলেন অন্তত আটজন।

এটি কোনো এক দিন বা কোনো একটি সময়ের চিত্র নয়। করোনাকালে বিধিনিষেধের আওতায় বাসে যাত্রী অর্ধেক নিয়ে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যেন লোকসান না হয় সে জন্য ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

কিন্তু যখন রাস্তায় বেশি মানুষ থাকে, তখন বাসে বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে নিয়মিত, আর ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে ঠিকই নতুন হারে নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি এক নিয়মিত চিত্র। কিন্তু যাত্রীরা পেরে ওঠেন না কিছুতেই।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাসে ওঠার জন্য ডাকতে থাকা পরিবহন শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করলেই তারা জানান, ভেতরে আসন ফাঁকা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ করে যে যাত্রীরা কোনো রুটের মাঝপথ থেকে কোথাও যান, তারা জেনেবুঝেই বাড়তি যাত্রী হয়ে উঠতে চান। কারণ, তাদের হাতে এ ছাড়া উপায় অটোরিকশা ভাড়া করা। তাই কোথাও কোথাও জোর করে বাসে উঠতেও দেখা যায়।

এ ক্ষেত্রে পরিবহন শ্রমিকরা বাধা দেয়ার ভান করলেও আসলে ঠেকাতে চান না। এই ভানটা তারা আসলে করেন ভেতরে থাকা যাত্রীদের প্রবোধ দিতে।

গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে বাস ভ্রমণে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে।

যা যা ঘটে বাসে

তিন দিনের অভিজ্ঞতা সংক্ষেপ করলে যেটা হয়, তা হলো, ভোর ছয়টা থেকে যেসব গণপরিবহন চলাচল করে তা সকাল ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও ৮টার পর আর সেভাবে চলে না। তখন অফিসগামী যাত্রীর ভিড় বেড়ে গেলে যাত্রী তোলা হয় দাঁড় করিয়ে। আর দাঁড়ানো যাত্রীকে দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে কেউ কেউ পাশের আসনে বসতে দেন।

এরপর যখন ভাড়া তুলতে আসেন তখন তখন বাসে শুরু হয় ঝগড়াঝাঁটি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যাত্রীরা যখন চেপে বসেন, তখন হেলপার বলেন, ‘অফিস টাইম দুই-চাইরজন তো উঠবই’। আবার বলেন, ‘কী করুম কন, জোর কইরা তো উঠল’।

রাইদা পরিবহনের একটি বাসে পাশাপাশি আসনে বসেছিলেন স্বামী-স্ত্রী। উত্তরা থেকে যাবেন চিটাগাং রুটের একটি গন্তব্যে। তারা বলছিলেন, পাশাপাশি আসনে বসেছেন, তাই ভাড়া দেবেন আগের হারে। কিন্তু মানলেন না, ৬০ শতাংশ বেশি হারেই তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলো।

অফিস সময় শেষে বিকেল ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যখন যাত্রী চাপ বেশি থাকে, তখন দুই আসনে একজন যাত্রীর এই নীতিমালা পালন করতেই দেখা যায় না।

বাসে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া তবে কেন?
রাজধানীর বাইরেও বাসগুলোতে ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় করার পরেও যাত্রী তোলা হচ্ছে বেশি। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর মৌচাক থেকে বলাকা পরিবহনের একটি বাসে উঠে দেখা যায় পেছনের সারিতে ছয়টা সিট ফাঁকা। সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে উত্তরামুখী বাসটি মগবাজার আসার পর পাল্টে যায় চিত্র।

বাসে আসনসংখ্যার বিপরীতে বেশি যাত্রী উঠে পড়েন। চালকের সহকারী বাধা দিলেও অনেক যাত্রী রাগান্বিত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে বাসে ঢুকে পড়েন। তবে অনেকেই তাদের পাশের ফাঁকা আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দাঁড়িয়ে যেতে হয় তাদের। এই চিত্র চলে মহাখালী পর্যন্ত।

বাসে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘আপনি মেবি সিট ফাঁকা থাকতে উঠতে পেরেছেন। আমি ২৫ মিনিট ধরে ওয়্যারলেস গেটে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাসে উঠতে না পেরে হেঁটে মগবাজার আসি। বৃষ্টি ছিল। মহাখালী যাব। এভাবে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব আমাকে আপনিই বলেন। আপনি হলে কী করতেন?’

অন্য কোনো বাহনে যেতে পারতেন এমন প্রশ্নে বলেন, ‘সিএনজিতে ভাড়া দেড় শ টাকা। একই অবস্থা বাইকে। আর আমি ১৫ টাকা দিয়ে যেতে পারব। এভাবে এত জনসংখ্যার শহরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসে যাতায়াত করা যায় না।’

বাসের হেলপার সুমন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই সময়টাতে যাত্রীগো চাপ বেশি থাকে। বাস কম থাকায় আমরা নিরুপায় থাকি। অনেকেই ভাড়া নিয়া সমস্যা করেন। তবে আমি কিন্তু কাউকেই ভাই উঠতে বলি নাই।’

যাত্রী বেশি উঠলেও কারও কাছ থেকেই ভাড়া কম নিতে দেখা গেল না। দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা নিজেরাই উঠেছেন বলে আপত্তি করেননি। আর বসে থাকা যাত্রীরা হেলপারকে কিছুক্ষণ গালাগাল করে ঠিকই ৬০ শতাংশ বেশি হারে ভাড়া মিটিয়ে রাগে গজগজ করতে থাকেন।

ডেমরা থেকে বাইপাইলগামী লাব্বাইক পরিবহনেও একই চিত্র দেখা যায়। বিচ্ছিন্ন ঢাকা কার্যকর করার কারণে বাসটি এখন গাবতলী পর্যন্ত যেতে পারে। তবে নগরীর কয়েকটি স্থানে এই বাসে স্থান সংকুলন করা যায় না সময়ভেদে। আবার একই পরিবহন বাকি সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলাচল করে।

ঝগড়া যাত্রীর সঙ্গে যাত্রীর

যেসব যাত্রী মাঝপথে ওঠেন, তখন বাসে আসন ফাঁকা না থাকলে তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দাঁড়িয়ে যেতে হয়। কারণ, বেশি ভাড়া পরিশোধ করে খুব কমসংখ্যক যাত্রীই আসন ভাগাভাগি করতে রাজি থাকেন।

লাব্বাইক পরিবহনের ওই বাসে ডেমরা থেকে বাসে ওঠেন শাখাওয়াত হোসেন। যাবেন গাবতলী। সেখান থেকে কোনো রকমে সেতু পার হয়ে যাবেন সাভারে।

কারওয়ানবাজার আসার পর এক যাত্রী জোর করে বাসে উঠে পড়েন। শাখাওয়াতের সিটে বসতে চাইলে বাধে বিপত্তি। শুরু হয় ঝগড়া।

শাখাওয়াত বলেন, ‘উনি জোর করে বাসে উঠেছেন। এটা আমি জানালা দিয়ে দেখি। বাসের সিট কিন্তু সব ভর্তি। বাসের সবাই জানালার বিপরীতে বসেছেন বিধায় উনি অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করেননি। আমিই একমাত্র জানালার পাশে বসে ছিলাম। আমার এখানে বসতে চাইলেন। আমি বললাম যে, এখন তো এক সিটে একজনকেই বসতে হবে। আপনি পেছনের সিটে গিয়ে বসুন। উনি আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিলেন। এখন সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।’

টেকনিক্যাল মোড়ে ঘুরে দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেটগামী প্রজাপতি পরিবহন, পরিস্থান পরিবহন, সাভার পরিবহন, বৈশাখী পরিবহন, ডি লিংক ছাড়াও অনেকগুলো বাসে সব সিটে লোক বসানোর পর দাঁড় করিয়েও যাত্রী নেয়া হচ্ছে। তবে সকালের চিত্রে এমন দেখা গেলেও দুপুরের পর তা পালটে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। সাভার পরিবহনের চালক মানিক মিয়া বলেন, ‘সব সময় তো মানবার পারি না। যারা নিজেরা পরিচিত তারা দুই সিট মিলায়া বসে।’

তবে যাত্রীরা কেউ কারও পরিচিত নন। কোনো তদারকি হয় না বিধায় তারা একসঙ্গেই বসে যাতায়াত করছেন।

হাতিরঝিলের চক্রাকার বাসে ভিড় আরও বেশি

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা। গন্তব্য রাজধানীর হাতিরঝিলের মগবাজার অংশ থেকে মেরুল বাড্ডা। এই রুটের জন্য নির্ধারিত রয়েছে হাতিরঝিল চক্রাকার বাস সার্ভিস। বাসে উঠেই প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়।

বাসে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া তবে কেন?
হাতিরঝিলে চক্রাকার বাসে প্রতিদিনই যাত্রীর ভিড় দেখা যায়। কিন্তু ভাড়া আদায় করা হয় বর্ধিত হারে।

চালক জব্বার মিয়া বলেন, ‘অরজিনালি স্বাস্থ্যবিধি যাত্রীরা মানতে চায় না। যাত্রীগো না করলে তারা ধাক্কা দিয়ে উঠতে চায়। আমি যদি যাত্রী থাকি আমিও ধাক্কাইয়া উঠি। ওই যে দেখেন একটা লোক দৌড়াইয়া আসতাছে। গাড়ির মধ্যে জায়গা আছে কি না নাই সে কিন্তু এটা বুঝে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ি হইল ৪৫ সিটের। অফিস টাইমে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। কারণ যাত্রীদের সংখ্যা বেশি আর গাড়ির সংখ্যা কম।’

এই রুটে নিয়মিত একজন যাত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। তবে অফিস শুরু ও শেষের সময়ে অনেকক্ষণ বাসের অপেক্ষা করতে হয়। ক্লান্ত থাকার কারণে বাসে উঠতে হয় এভাবেই। কিছু করার নাই ভাই।’

দুই আসনে এক যাত্রী নীতি তুলে নেয়ার দাবি

চালক, শ্রমিকরা মানছেন না, যাত্রীরাও অনন্যোপায় হয়ে চাপছেন বাসে। এই অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি যখন প্রতিপালন করা হচ্ছে না, তখন আর ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া কেন নেবে- এমন প্রশ্ন করলেন একাধিক যাত্রী।

সাখাওয়াত নামে এক যাত্রী বলেন, ‘দাঁড়িয়ে না নিয়ে বাসে সিট ফুল থাকুক। আর আগের ভাড়া ফিরে আসুক। তাহলে যাত্রীদের টাকাও বাঁচল আর ঝগড়াঝাঁটিও হলো না।’

তবে যখন সিটিং সার্ভিসে চলত, তখনও বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা ছিল এক স্বাভাবিক প্রবণতা। আর এ নিয়েই তখন পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীর ঝগড়াঝাঁটি-গালাগাল চলত।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি আ. লীগের দুজন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি আ. লীগের দুজন

উপ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন আওয়ামী লীগের আগা খান মিন্টু (বাঁয়ে) ও আবুল হাশেম খান। ফাইল ছবি

ঢাকা-১৪ আসনে আগা খানকে নির্বাচিত ঘোষণা করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর কুমিল্লা-৫ আবুল হাশেমের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা ভোটে ঢাকা-১৪ আসনে আগা খান মিন্টু ও কুমিল্লা -৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম খানকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।

আগা খানকে নির্বাচিত ঘোষণা করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর আবুল হাশেমের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন আগেই। ফলে আগা খানকে এমপি হতে ভোট লাগেনি।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, গত ২০ জুন জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। ২৩ জুন ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেদিন জসিম উদ্দিনের আবেদন গ্রহণ করে এই আসনে একক প্রার্থী হিসেবে নৌকা রাখা হয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দের দিন নৌকার প্রার্থী আবুল হাশেম খানকে কুমিল্লা-৫ আসনের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে চিঠি দিয়ে তার জয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছি।’

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল আগামী ২৮ জুলাই।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হওয়ার পর আবুল হাশেম খান বলেন, ‘আমার বিজয় আমি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াবাসীকে উৎসর্গ করলাম। আমি দায়িত্বগ্রহণের পর মাদক নির্মূল হবে আমার প্রধান কাজ।’

২৮ তারিখের উপনির্বাচনে ভোট হবে সিলেট-৩ আসনে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে লড়বেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

প্রবাসীদের হোটেল কোয়ারেন্টিনের টাকা জালিয়াতি, আটক ২

প্রবাসীদের হোটেল কোয়ারেন্টিনের টাকা জালিয়াতি, আটক ২

প্রতীকী ছবি।

শাহজালাল বিমানবন্দর পরিচালক তৌহিদ উল আহসান বলেন, সরকারের নির্দেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রলায়ের তত্ত্বাবধানে সৌদিগামী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এই টাকা বিমানবন্দরে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দেয়া হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সৌদি প্রবাসী যাত্রীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে দালাল চক্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পূরণের মাধ্যমে প্রবাসী যাত্রীদের বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এমন অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)।

আটককৃতরা হলেন- মুশফিকুর রহমান ও ফাতেমা আক্তার।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তাদের আটক করা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দর পরিচালক তৌহিদ উল আহসান গনমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রলায়ের তত্ত্বাবধানে সৌদিগামী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এই টাকা বিমানবন্দরে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দেয়া হয়।

তৌহিদ উল আহসান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে ধরতে সক্ষম হয় যারা প্রবাসী যাত্রীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে দালাল চক্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পূরনের মাধ্যমে প্রবাসী যাত্রীদের বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এভসেক সৌদি আরবগামী এসভি-৮০৯ ফ্লাইটের ভুক্তভোগী ছয়জন যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ দালালচক্রের দুইজন সদস্যকে আটক করে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে তদন্তের জন্য দালালচক্রের দুইজন সদস্যকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

‘সানমুন টাওয়ার’ নিয়ে তদন্ত চায় সংসদীয় কমিটি

‘সানমুন টাওয়ার’ নিয়ে তদন্ত চায় সংসদীয় কমিটি

রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) জায়গায় গড়ে উঠেছে এই টাওয়ার। নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এমআর ট্রেডিং টাওয়ারে বিজেএমসির অংশ বুঝিয়ে দেয়নি বলে অভিযোগ আছে।

আলোচিত ‘সানমুন টাওয়ার’-এর ভাড়ার দেনা-পাওনা তদন্তের সুপারিশ করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) জায়গায় গড়ে উঠেছে এই টাওয়ার। নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এমআর ট্রেডিং টাওয়ারে বিজেএমসির অংশ বুঝিয়ে দেয়নি বলে অভিযোগ আছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিজেএমসি ও এমআর ট্রেডিং কোম্পানির মালিকের উপস্থিতিতে সানমুন টাওয়ারের ভাড়ার দেনা-পাওনাসংক্রান্ত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিজেএমসি ও এমআর ট্রেডিং কোম্পানির মধ্যকার আর্থিক দেনা-পাওনার বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তদন্ত সাপেক্ষে একটি প্রতিবেদন পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘বৈঠকে ওই ভবন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেটা পেলে বিস্তারিত আলোচনা করে আমরা সুপারিশ দেব।’

সানমুন টাওয়ার নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও এমআর ট্রেডিংয়ের মালিক মো. মিজানুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ৮২৭ কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভবনের জমিটি ছিল বিজেএমসির। তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জমিটি বিজেএমসি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। ভবনটি নির্মাণে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও রাজউকের অনুমোদন নেয়া হয়নি।

বঙ্গভবনের খুবই কাছে হওয়ায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়ার কথা থাকলেও তা নেয়া হয়নি। ভবনটির নির্মাণ নিয়ে নানা ধরনের দুর্নীতি হয়েছে- এমন তথ্য স্থানীয় সরকার বিভাগের এক তদন্তেও উঠে আসে।

বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় নিজ উদ্যোগে এক একর করে জমি দান করে একটি করে ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।

কমিটির সভাপতি মির্জা আজমের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহীন আক্তার, আব্দুল মমিন মণ্ডল, খাদিজাতুল আনোয়ার ও তামান্না নুসরাত বুবলী।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়ায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ গাবতলী এলাকায় তীব্র যানজট কমছে না। গাবতলী থেকে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ও ছিল এমন চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গত মঙ্গলবার থেকে চারপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। একই দিন থেকে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং রাজবাড়ীতেও কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিভিন্ন বাসের স্টাফরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণার পর ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়া হচ্ছে। এরপর বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে ইউটার্ন নেয়ায় সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঢাকার বাইরের কোনো বাস রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

সাভার থেকে গাবতলীগামী যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে বাম পাশ থেকে ইউটার্ন নিয়ে ডান পাশের রাস্তায় ঘুরাতে গিয়ে দুই পাশেই যানজট তৈরি করছে।

গাবতলীতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই যানজট আছে। সেটা ঢাকার বাইরে। বাসগুলো ইউটার্ন করায় এই জট তৈরি হয়েছে।’

বাসযাত্রীরা বলছেন, বাসে স্বাস্থ্যবিধির দিকে কোনো নজর নেই। রাস্তায় গাড়ি আটকে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলা হচ্ছে। অনেক যাত্রীই জটলা বেঁধে হেঁটে চলছেন। এক রিকশায় চারজনও চড়ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও গাদাগাদি করে বাইরের লোকজন রাজধানীতে ঢুকছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

এমন পরিস্থিতির জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী মো. সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সুমন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসের ডাবল সিটে ডাবল যাত্রী টেনে ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। লকডাউন দিয়ে কী লাভ হচ্ছে?’

রিকশাচালক রানা জানান, এই লকডাউন শুধুই ভোগান্তির। এতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন

রাজধানীতে অস্ত্র-গুলি জব্দ, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীতে অস্ত্র-গুলি জব্দ, গ্রেপ্তার ২

জমি দখল নিয়ে কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তার রফিক আলোচিত সানু হত্যা মামলায় ২২ বছর কারাভোগ শেষে ২০১৭ সালে মুক্তি পান। ২০১৯ সালে অপর এক অস্ত্র মামলায় এক বছর কারাভোগ শেষে আবারও তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রফিকুল ইসলাম রতন ও মো. আরমান।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থানার শিকারীটোলা এলাকায় আবুল হাশেম ও মো. মামুনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত ৪ জুন আবুল হাশেম ভাড়াটে সন্ত্রাসী রফিক বাহিনীর ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে দেয়াল নির্মাণ করতে যান।

এ সময়ে মামুনসহ তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এতে হাশেমের নির্দেশে রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকসহ আরমান, রাসেল ও মহসিন ভিকটিম মামুনকে গুলি করলে তিনি আহত হন। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়। মামলাটির তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মামলাটির তদন্তকালে ২৩ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাভার ও হাজারীবাগ এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, জমি দখল নিয়ে কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার রফিক আলোচিত সানু হত্যা মামলায় ২২ বছর কারাভোগ শেষে ২০১৭ সালে মুক্তি পান। ২০১৯ সালে অপর এক অস্ত্র মামলায় এক বছর কারাভোগ শেষে আবারও তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন:
প্রেমিক খুঁজছেন সিঙ্গেল কঙ্গনা
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান
চীনে রপ্তানি ১ শতাংশ বাড়ালে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রো আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

শেয়ার করুন