20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সুলতানের বেহাল বসতঘর, নৌকায় ঘুণ

সুলতানের স্মৃতি বিজড়িত বসতঘরের পলেস্তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে খসে পড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানের বেহাল বসতঘর, নৌকায় ঘুণ

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের বসতঘরের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দ্বিতল বজরা রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে অব্যবস্থাপনা। ঘুণে ধরে নষ্ট হচ্ছে গোলুইয়ের কাঠ।

নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান সংগ্রহশালার পাশে ‘সুলতান ঘাট’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে কাজ শুরুর দুই মাস পরেই সব থমকে যায়। এরপর দুই বছরে আর জট খোলেনি।

চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের দ্বিতল বজরা (ভ্রাম্যমাণ শিশু স্বর্গ) রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে অব্যবস্থাপনা। ঘুণে ধরে নষ্ট হচ্ছে গোলুইয়ের কাঠ।

সুলতানের বসতঘরও বেহাল। ঘরের ভেতরে খাটসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার পথে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পীর স্মৃতি রক্ষায় অব্যস্থাপনা স্বীকার করছে কর্তৃপক্ষও। তবে তারা বলছে, শিগগিরই নেয়া হবে পদক্ষেপ।

এসএম সুলতানের বজরা নৌকাটি চিত্রা নদীর পাড়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌকা ভেড়ানোর ব্যবস্থাসহ পর্যটক আকর্ষণে দুই বছর আগে প্রকল্প নেয়া হয়।

এ জন্য গণপূর্ত বিভাগকে ২০ লাখ বরাদ্দ দেয় পর্যটন মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের জুনে কয়েকটি পিলার ঢালাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ‘সুলতান ঘাট’ নির্মাণ। তবে নকশা পরিবর্তন ও আর্থিক সংকটে দুই মাস পরেই নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে সুলতান সংগ্রহশালার পূব দিকে একটি বেদীর ওপর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের ইঞ্জিনচালিত দ্বিতল বজরাটি কয়েক বছর ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। নৌকার বিভিন্ন অংশের কাঠে ধরেছে ঘুণ। কাঠের খুটি নষ্ট ও ভেঙে যাওয়ায় উত্তর পাশের দোতালা কক্ষটি একতলার ছাদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

Narail-sultan-boat

চিত্রা নদীতে শিশুদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং ছবি আঁকার জন্য ১৯৯২ সালে নিজের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ নৌকাটি বানিয়েছিলেন শিল্পী সুলতান। তার মৃত্যুর পর নৌকাটি আর পানিতে ভাসেনি।

সুলতান যেখানে থাকতেন সেই একতলা পাঁকাঘর ঘুরে দেখা গেছে, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। সুলতানের ব্যবহৃত খাট, পোশাক, নৌকার নোঙরসহ স্মৃতি বিজড়িত অনেক কিছু রয়েছে এই ঘরে। ১৯৮২ সালে নির্মিত হয় ঘরটি।

এস এম সুলতানের চিঠি সংগ্রাহক রূপগঞ্জ বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম সারজান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীর বসতঘরের জরাজীর্ণ দশায় আমরা মর্মাহত। আমাদের দাবি, দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এসে যেন সুলতানের ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিপাটিভাবে সাজানো দেখতে পান- কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থা করুক।’

এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার মালি ও গ্যালারি গার্ড গোলাপ কাজী বলেন, ‘করোনার সময়ে দর্শনার্থীর প্রবেশ বন্ধ থাকলেও সারা বছরই এখানে ভিড় থাকে। তবে লোকবল সংকটসহ পর্যটনবান্ধব সুবিধা এখানে কম।’

সুলতানের স্মৃতি সংরক্ষণে উদাসীনতা নিয়ে নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

তিনি বলেন, ‘নতুন নকশায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে সুলতান ঘাট নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ২০১৯ সালের মধ্যভাগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটি আর এগোয়নি। প্রকল্পটি অনুমোদন না হলে ফের নতুন নকশা ও প্রাক্কলিত ব্যয়সহ আরেকটি প্রকল্প পাঠানো হবে।’

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বড় পরিসরে সুলতান সংগ্রহশালার ঘাট নির্মাণসহ ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে অর্থের পরিমাণও বেড়েছে। ঘাটটিকে দৃষ্টিনন্দন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন। এজন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য