পরিসংখ্যান ও ইতিহাস তো বিপক্ষে ছিলই, বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালের পুরো সময় চেঁচিয়ে গেলেন নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার পনেরো দর্শক।
বৃষ্টির কারণে মাঠও ছিল কাদাময় ও ধীরগতির। এতগুলো প্রতিকূলতাও আটকাতে পারেনি বাংলাদেশের সাফ শিরোপা জয়।
এক যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আকাঙ্ক্ষিত শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন সাবিনা খাতুন।
ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের পাসিং ফুটবল খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। কর্দমাক্ত মাঠের ফায়দা নিয়ে লং পাস ও ক্রসে খেলেছে নেপাল। লক্ষ্য ছিল শারীরিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ডিফেন্সের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা।
নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়েছে নেপাল। প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণও চালিয়েছে বাংলাদেশের ডিফেন্সে। কিন্তু জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি।
উল্টো প্রথমার্ধে নিজেদের কাজ গুছিয়ে রাখে বাংলাদেশ। ১৩ মিনিটে শামসুন্নাহার ও ৪০ মিনিটে কৃষ্ণা সরকারের গোলে ব্যবধান ২-০ রেখে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল এক গোল শোধ করলেও কৃষ্ণার দ্বিতীয় গোল আবারও দুই গোলের ব্যবধানে ফিরে পায় গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।
শেষ পর্যন্ত ওই ৩-১ গোলেই ম্যাচ জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এতে করে এক যুগের অপেক্ষা শেষ হলো সাবিনাদের। ২০১০ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন শুরু করে।
এরপর টানা পাঁচ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ভারত ছাড়া আর কোনো দল শিরোপার স্বাদ পায়নি। ২০১৬ সালে ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ।
সেবার ৩-১ গোলে হেরে শিরোপা খোয়াতে হয় তাদের।
ছয় বছর পর ভারতকে গ্রুপ পর্বে ধসিয়ে সেমি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। আর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। আর সাফ পায় নতুন চ্যাম্পিয়ন।
ছেলেদের সাফ টুর্নামেন্টের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। ১০ বছর পর নিজ মাঠে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশের ছেলেরা।
আর একসময়ের আরাধ্য সাফ গেমস ফুটবলে ছেলেদের শিরোপা জয়ের অপেক্ষাটা আরও বেশি। ১৯৮৪ সালে সাফ গেমস শুরু হওয়ার ১৫ বছর পর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম স্বর্ণ জয় করে।
এ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বোঝা যায় সাফ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ছেলে দলের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে নারীদের দল।
গোলাম রব্বানী ছোটনের দলের পরের লক্ষ্য নিশ্চিতভাবেই সাফ গেমস ফুটবলের শিরোপা। ২০২৩ সালের মার্চে পাকিস্তানে বসছে সাফের পরবর্তী আসর।