বাংলাদেশ

মতামত

খেলা

বিনোদন

জীবনযাপন

তারুণ্য

কিড জোন

অন্যান্য

রেস-জেন্ডার

ফ্যাক্ট চেক

স্বাস্থ্য

আন্তর্জাতিক

শিক্ষা

অর্থ-বাণিজ্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা

  • রাকিবুল হাসান রোকেল, স্টাফ রিপোর্টার- কিশোরগঞ্জ    
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ২১:২২

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। ৪ মাস ১৮ দিনে এই টাকা জমা পড়েছে মসজিদের ১৩ টি দানবাক্সে।

দিনভর গুনে দেখা গেছে, সেখানে জমা পড়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সকাল ৯ টার দিকে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে মেজেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। প্রায় পাঁচ শতাধিক গণনাকারীর অংশগ্রহণে গণনা চলে সন্ধ্যা ৮ পর্যন্ত।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহবায়ক মোঃ এরশাদুল আহমেদ রাত সোয়া ৮ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সকালে মসজিদটির ১১ টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এছাড়াও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৪ মাস ১২ দিনে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দানবাক্সগুলোতে।

তখনকার সময়ে এই পরিমাণ অর্থ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৪৫ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা, এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য গণনায় অংশ নিয়েছেন।

এই গণনায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনাছ বলেন, আমরা সব সময় অধীর আগ্রহে থাকি কখন দানবাক্স খোলা হবে। পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত তিনি।

এছাড়াও দানবাক্সের টাকা গণনা দেখতে অনেকেই এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া হোসাইন। তিনি এসেছেন হোসেনপুর উপজেলার সিদলা এলাকা থেকে। জাকারিয়া বলেন, পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেন। তবে এবার সরাসরি দেখতে মসজিদে ছুটে এসেছেন তিনি।

এই মসজিদে দান বা মানত করলে মনের মনে আশা পূরণ এমন বিশ্বাস থেকে দান করেন অনেকে। এমন বিশ্বাস থেকে পাগলা মসজিদে দান করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন নিলুফা রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পাগলা মসজিদে আসার ইচ্ছে ছিল তার। এবার সুযোগ পেয়ে মসজিদে এসে দান করেছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও থাকেন মসজিদ প্রাঙ্গণে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, পাগলা মসজিদে দানের টাকা থেকে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়ে থাকে। দানের টাকায় পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এই মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে।

এ বিভাগের আরো খবর