দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে বুধবার বিএনপির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ-পূর্ব এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, ‘কোথায় যেন একটা ঢিলেঢালা ভাব! এভাবে চলবে না। আপনাদের ভেতর থেকে যদি কেউ অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে চায়, তাহলে আমি বলে রাখতে চাই- আমরা আন্দোলন থেকে চূড়ান্ত ইস্তফা দেইনি। আমরা আন্দোলনী ঝড়ের আর্তনাদ আপনাদেরও শুনাব। যদি নিজেরা শুধরে না যান, যদি সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে রহস্য থাকে তাহলে আপনাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) প্রতিরোধের ঝড়ের নিনাদ শুনতে হবে। তাই সুষ্ঠু ধারায় গণতান্ত্রিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’
বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দল এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণের সমর্থনের সরকার। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে গণতন্ত্র ও জনগণ ব্যর্থ হবে। শেখ হাসিনার মতো কুলাঙ্গারের যেন প্রত্যাবর্তন না হয়, এটাই জনগণ চায়।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। গত ১৬/১৭ বছর নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চাঙ্গা রেখেছে। এ কারণে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মীকে। অনেককে হাত-পা ভেঙে পঙ্গুত্ব বরণে বাধ্য করেছে। অনেককে অন্ধ করে দিয়েছে শেখ হাসিনার পুলিশ! কিন্তু কেন যেন মনে হয়, কতিপয় উপদেষ্টা সেই বিএনপিকে একচোখে দেখার চেষ্টা করছেন।’
জনগণ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সফল হোক আমরা চাই। কিন্তু সফলতার নামে, সংস্কারের নামে নির্বাচন আয়োজন দীর্ঘায়িত করা হলে মানুষ তাদেরকে সন্দেহ করবে।’
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দীন আলম, সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীর, মেহবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।