চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক-স্টাফ বাসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রতিটি মামলায় সাতজন করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে শনিবার রাতে মামলা দুটি করে, যেগুলোর বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক।
মামলার বিষয়টি শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে। দুই মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের নাম রোববার জানা যাবে।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শাটল ট্রেন ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন অতিক্রম করার কিছু পর রেললাইনের ওপর হেলে পড়া একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন আহত হন। সাড়ে ১০টায় ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ওই সময় তারা পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালান। পাশাপাশি বক্সের ভেতরের চেয়ারগুলো রাস্তায় এনে জ্বালিয়ে দেন।
রাত ১১টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ওই সময় উপাচার্য বাসভবনের ভেতরের ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন তারা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের গিয়ে ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধরা।
পরিবহন দপ্তর থেকে জানানো হয়, দপ্তরের পার্কিংয়ে থাকা অন্তত ৫০টি গাড়িতে ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ক্লাব ও প্রক্টরের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
পরবর্তী সময়ে শুক্রবার বিকেলে উপাচার্যের দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনায় তিনটি মামলা করা হবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, তবে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর দুটি মামলা করা হলো।