লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনায় নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ তিন জেলেকে তিন দিনেও পাওয়া যায়নি। পরিবারের আশঙ্কা, মেঘনায় ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
নিখোঁজ লিটন বেপারী, শিপন বেপারী ও সুজন সরদারের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চর কাছিয়া এলাকায়। গত সোমবার 'সিত্রাং'-এর প্রভাবে ঝড়ে নৌকা ডুবে পড়ে যান ১০ জেলে। তাদের মধ্যে অন্যরা ফিরে এলেও এই তিনজনের সন্ধান মেলেনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, মেঘনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও সোমবার রাতে উত্তাল নদীতে বেশি মাছ পাওয়া যাবে, এমন আশায় দুটি নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলেন তারা। হঠাৎ একটি নৌকার তলা ফেটে যায়। জেলেরা ওই নৌকাটিকে আরেকটির সঙ্গে বেঁধে কূলে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে ঝড়ে ডুবে যায় দুটি নৌকাই।
তারা জানান, সাঁতরে কূলে উঠে তারা পরদিনই বাড়ি ফিরতে পারেন। তবে সঙ্গে থাকা তিনজনকে আর পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ লিটনের স্ত্রী মারুফা বেগম বলেন, ‘স্বামীর দুশ্চিন্তায় নাওয়াখাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাচ্চা দুটি তাদের বাবার পথ চেয়ে আছে। সংসারের একমাত্র আয় স্বামীর। তার কিছু হয়ে গেলে আমাদের ভিক্ষায় নামতে হবে। আমার স্বামী ঝড়ের মধ্যে নদীতে যেতে চায়নি। কিন্তু মহাজন রাসেল বেপারীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়েছিল। সেটা শোধ করতে মাছ ধরার জন্য তাকে নদীতে যেতে বাধ্য করা হয়।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, ‘নিখোঁজ লিটনের বাবা আবুল কাশেম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।’