শুক্রবারের মতো শনিবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দেখা যায়নি যানজট। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, রয়েছে যানবাহনের সংকট, নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
এই দুই মহাসড়কের কোথাও শনিবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল, কাঁচপুর, জংগাইল, লাঙ্গলবন্দ ও মোগড়াপাড়া এলাকায় যানবাহন চলছে স্বাভাবিক গতিতে। মদনপুর ও মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় গাড়ির গতি কিছুটা ধীর রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে আড়াইহাজারের পুরিন্দা বাজার পর্যন্ত দ্রুতগতিতেই চলছে দূরপাল্লার যানবাহন।
লক্ষ্মীপুরগামী সুমি বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেশি ভাড়া দিয়েও সময়মতো গাড়ি না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছি। গতকাল গার্মেন্টস ছুটি দিছে। আইজ সকালে বাসা থেকে বের হইছি, কিন্তু যাইতে পারতাছি না।
‘কেমনে যামো? গাড়ি তো আসে না। ভাড়াও দিলাম অনেক বেশি। ৩০০ টাকার ভাড়া নিল ৭০০ টাকা।’
তার মতো বিপাকে পড়েছেন তাওলাদ মুন্সিও। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন মহাসড়কে।
তাওলাদ বলেন, ‘নোয়াখালী যামো। সকালে আইলাম লোক কম তাই। লোক কমই, কিন্তু সময়মতো গাড়ি আসে না। আগে টিকিট কিনলে হয়তো ভাড়া আগের দামে পাইতাম। এখন ভাড়া বেশি নিব তা তো জানিই।’
প্রিয়জনদের সঙ্গে বাড়িতে ঈদ উদযাপনের জন্য এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন ঘরমুখো মানুষ।
শিমরাইল বাস কাউন্টারে কথা হয় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দিয়ে বাসগুলো এখনও সায়েদাবাদ আসেনি। সেখানে আসবে, তারপর শিমরাইল এলে যাত্রীরা উঠবে।
‘আমাদের প্রতি ঘণ্টায় গাড়ি ছাড়ে। কিন্তু গাড়ি এসে পৌঁছাতেই দেরি করলে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কিছু করার নেই।’
দুই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ১৬২ জন সদস্য কাজ করছে বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক কে এম মেহেদী হাসান৷
তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে কোথাও যানজট নেই। আশা করছি সারা দিনেও থাকবে না৷ মদনপুর ও মেঘনা টোল প্লাজার টিকিট কাউন্টারের সামনেও গাড়ির গতি বেড়েছে।’
যানবাহন সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে গাড়িগুলো ছেড়েছে সেগুলোর মধ্যে অনেক গাড়ি ঢাকামুখী হয় না। তাই গাড়ির সংখ্যা কমে যায়। তবে যে পরিমাণ গাড়ি মহাসড়কে আছে তাতে যাত্রীরা যেতে পারবেন।
‘কোনো কাউন্টার যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তাহলে আমাদের পুলিশ বক্সে এসে অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’
শুক্রবার রাতে অনেককেই ট্রাকে করে নারায়ণগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যেতে দেখা গেছে।
ট্রাকে যাওয়া যাত্রীরা জানান, ট্রাকের সামনে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা আর পেছনে ৪০০ টাকা।