চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ শহীদুল ইসলাম। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও তার খোঁজ মেলেনি।
আগুনের মধ্যে ছেলেকে খুঁজতে এসে দগ্ধ হয়েছেন বাবা জাকের হোসেন। আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নেয়া হলে পোড়া শরীরে সেখানেও খুঁজতে থাকেন ছেলেকে।
১৫ বছর বয়সী শহীদুল বিএম কনটেইনার ডিপোতে পিয়নের কাজ করত। তার বাড়ি বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বল গ্রামে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহীদুল কাজে যায়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পরই ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ।
ছেলের ছবি নিয়ে ডিপোর গেটের সামনে আহাজারি করছেন মা আয়েশা বেগম।
আর্তনাদ করে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কাজে যাওয়ার আগে ভাত চেয়েছিল। ভাত রান্না করতে দেরি হওয়ায় বাইরে খেতে বলেছিলাম। আমার মানিককে আপনারা খুঁজে দেন। আমি ভাত খাওয়াতে চাই আমার ছেলেরে।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় তারা। এরপর তাদের আটটি ইউনিট কাজ শুরু করে। কিছু পরে সেখানে যোগ দেয় আরও সাতটি ইউনিট। ভোরের দিকে আশপাশের জেলা থেকে পাঁচটিসহ ১০টি ইউনিট যোগ দেয়, তবে বিস্ফোরণ অব্যাহত থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আশপাশে যেতে পারেননি দীর্ঘক্ষণ। এর সঙ্গে যোগ হয় পানির স্বল্পতা।
রাত ১১টার দিকে কনটেইনার বিস্ফোরণ শুরু হয়। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সকাল পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেখা যায় ডিপোতে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ডিপোটির কনটেইনারে থাকা রপ্তানির জন্য রাখা হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের কারণেই এমন বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ঘটনাস্থল থেকে নিউজবাংলার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি নূর নওশাদ জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে অনেক বাসাবাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ভয়ে অনেকে মালামাল সরানোর চেষ্টা করেন।