ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে খুলনায়।
সেখানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ।ঘটনাস্থল থেকে নিউজবাংলার প্রতিবেদক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। এই সমাবেশে যোগ দিতে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন।
একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মিছিল বের করেন মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন।
পিকচার প্যালেস মোড়ে তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সেখান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ১০০ মিটার দূরে বিএনপির সমাবেশে হামলা করেন। কাঠের চালা দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের তারা বেধড়ক পেটান। ভাঙচুর করা হয় সমাবেশের চেয়ার ও প্যান্ডেল।
আতঙ্কিত হয়ে বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের ভেতর আশ্রয় নেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দলীয় কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে তাদের পেটান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ছোড়ে। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের দিকে চলে যান।
এরপর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিন পটুয়াখালীতেও বিএনপির প্রতিবাদ সভায় হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্র ও যুবদলের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি দলের নেতাদের। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেলেও তারা অস্বীকার করেছেন।
আহতদের মধ্যে চারজনকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শহরের বনানী সড়কের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব গোলাম সরোয়ার।’
তার অভিযোগ, ‘সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্রলীগ নেতা তানভির আরিফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ছাত্র ও যুবদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
আহতরা হলেন ছাত্রদল নেতা তানভির ইসলাম, আবির হোসেন, ওবায়দুল রহমান, হাসান বয়াতি, কামাল হোসেন, যুবদল নেতা আতিকুর রহমান, তৌফিক আলী খান কবির ও ফারুক হোসেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভির আরিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বনানী মোড় থেকে ছাত্রলীগ মিছিল বের করলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় আমরা প্রতিবাদ গড়ে তুলে তাদেরকে প্রতিহত করেছি।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনরুজ্জামান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ উভয়কে ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।