এক দিনে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আগের মতো ১০ শতাংশ করা হচ্ছে- এমন খবরে পুঁজিবাজারে রোববার যে ঢালাও পতন দেখা দেয়, পরের দিন লেনদেনের শেষ বেলায় সেখান থেকে কিছুটা বের হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।
লেনদেন শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টায় দিনের এক তৃতীয়াংশ লেনদেন, সেই সঙ্গে পতনের হার কিছুটা কমেছে।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের মতোই সোমবার লেনদেন শুরু হয় পতনের মধ্য দিয়ে। আধা ঘণ্টা যেতে না যেতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক থেকে হাওয়া হয়ে যায় ৪৬ পয়েন্ট। আগের দিন ৬৭ পয়েন্ট পতনের পর এই চিত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক জেঁকে বসে।
তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বেলা ১২টা ১০ মিনিটের দিকে আগের দিনের তুলনায় সূচক ১৪ পয়েন্ট বাড়ে। তখন কিছু শেয়ারদর ফিরে পেরে শুরু করে। কিন্তু সোয়া ১২টা থেকে আবার শুরু হয় পতন। বেলা পৌনে দুইটার সময়ও সূচক ২৯ পয়েন্ট কমে লেনদেন হতে থাকে।
এ সময় বেশিরভাগ শেয়ারেরই ক্রেতা ছিল না। লেনদেন ছিল চার শ কোটি টাকার কিছু বেশি। আগের দিন ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছিল। তখন মনে হচ্ছিল, এর চেয়ে নিচে নামবে লেনদেন।
তবে শেষ পৌনে এক ঘণ্টায় কিছুটা ক্রয়চাপ দেখা যায়। সূচকের সঙ্গে বাড়তে থাকে লেনদেন।
দিন শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগেও সূচক আগের দিনের চেয়ে বেশি ছিল ৮ পয়েন্ট। তবে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে সেটি শেষ পর্যন্ত ৬ পয়েন্ট কমে।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনেদেনের চিত্র
লেনদেন এখনও তলানিতেই। তবে আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে কিছুটা। বেলা শেষে দেখা যায় ৬৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬১৬ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
আগের দিন প্রায় দুইশ কোম্পানির শেয়ারদর দিনের নিম্নসীমা ছুঁয়ে হাতবদল হয়েছিল। এদিনও শতাধিক কোম্পানির ক্ষেত্রে এই চিত্র দেখা গেছে। সব মিলিয়ে কমেছে ২৪২টি কোম্পানির দর, যা আগের দিন ছিল ৩২৪টি।
তবে আগের দিন বেড়েছিল কেবল ২৩টি কোম্পানির দর, সেটি বেড়ে হয়েছে ১০৮টি।
সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিটির শেয়ার দরে যোগ হয়েছে ৮ শতাংশের বেশি, ৫ শতাংশ ও ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে দুটি করে কোম্পানি, ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে ৫টি কোম্পানির, ৭ টি কোম্পানির দর বেড়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে।
দরপতনের এই দিনে সেবা ও আবাসন খাতের সব কটি কোম্পানির দর বেড়েছে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে চামড়া খাতও ভালো করেছে।
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে কেবল ওষুধ ও রসায়ন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং জ্বালানিতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। বস্ত্র খাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির দর বেড়েছে।
অন্যদিকে সাধারণ ও জীবন বিমা, প্রকৌশল, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে দর হারিয়েছে বেশিরভাগ কোম্পানি ও ইউনিট। দারুণ লভ্যাংশ আসতে থাকা ব্যাংক খাতে বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারালেও দরপতনের হার খুবই কম।