বাংলাদেশ

মতামত

খেলা

বিনোদন

জীবনযাপন

তারুণ্য

কিড জোন

অন্যান্য

রেস-জেন্ডার

ফ্যাক্ট চেক

স্বাস্থ্য

আন্তর্জাতিক

শিক্ষা

অর্থ-বাণিজ্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

৩০০ যুবকের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি ‌‘উধাও’

  •    
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ২১:১৭

অভিযোগকারীরা জানান, প্রতারণার শিকার হয়েছেন সিলেটের অন্তত ৩০০ যুবক। রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়েছেন আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিক আমিন রহমান। টাকা নিয়ে কাউকে ভিসা দেননি তিনি। অনেকের পাসপোর্টে জাল ভিসা লাগিয়েছেন। টাকা হাতিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন আমিন।

রোমানিয়া যাওয়ার জন্য এক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন সিলেটের জ‌কিগঞ্জ উপজেলার রুহুল আমিন। তিনি আমিন রহমান ট্রাভেলস নামের এজেন্সিকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। ট্রাভেল এজেন্সিও চুক্তি অনুযায়ী রুহুলের পাসপোর্টে রোমানিয়ার ভিসা লাগিয়ে দেয়।

এ পর্যন্ত ঠিকঠাক ছিল। বিপত্তি বাধে রুহুল আমিন যখন পরিচিত একজনের মাধ্যমে ভারতে রোমানিয়া দূতাবাসে ভিসার কপি যাচাই করতে পাঠান। দূতাবাস থেকে জানানো হয়, রুহুলের পাসপোর্টে লাগানো ভিসাটি ভুয়া।

শনিবার সিলেটে এজেন্সির মালিক আমিন রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন রুহুল। কিন্তু তাকে আর পাচ্ছেন না।

শুধু রুহুল আমিন নন, এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন সিলেটের অন্তত ৩০০ যুবক। রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিক আমিন রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীরা জানান, টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন আমিন রহমান। টাকা নিয়ে কাউকে ভিসা দেননি তিনি। অনেকের পাসপোর্টে জাল ভিসা লাগিয়ে প্রতারণা করেছেন তিনি।

এসব অভিযোগে শনিবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন ফখরুল ইসলাম নামের এক যুবক। মামলায় আমিন রহমানসহ তার দুই ভাইকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে রোববার নগরের জিন্দবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটের আমিন ট্রাভেলস কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমিন রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

ওই ট্রাভেলস এজেন্সিকে টাকা জমা দেয়া কয়েকজন যুবক জানান, তিন মাস আগে ৯০ দিনের মধ্যে রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় আমিন রহমান ট্রাভেলস।

বিজ্ঞাপনে বলা হয়, রোমানিয়া যেতে ৬ লাখ টাকা লাগবে। প্রথমে বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং ওয়ার্ক পারমিট আসার পর দিতে হবে আরও ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৫ লাখ টাকা দিতে হবে ভিসা হওয়ার পর।

ওই যুবকরা জানান, এই বিজ্ঞাপন দেখে রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহীরা লিখিত চুক্তি করে আমিন ট্রাভেলসকে টাকা দেন। চু‌ক্তি অনুযায়ী প্রথমে ৫০ হাজার এবং ওয়ার্ক পারমিট আসার কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা নেয় ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানটি। পরে ভিসা হয়ে যাওয়ার কথা বলে পুরো টাকা নেয়া হয়েছে আরও শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে।

ট্রাভেলস এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলার বাদী দক্ষিণ সুরমার বলদি এলাকার ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমিন জানান আমার ভিসা হয়ে গেছে। এরপর আমি তাকে চুক্তির সব টাকা দেই। মোট ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি তাকে। টাকা নেয়ার পর থেকেই তিনি লাপাত্তা হয়ে গেছেন। আমার পাসপোর্টও ফেরত দিচ্ছেন না।’

আরেকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেয়া শুরুর কথা বলেছিলেন এজেন্সির মালিক আমিন রহমান। ওই দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে কারও ফোন ধরেননি তিনি। বিকেলে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে তার আর খোঁজ মিলছে না। যাদের পাসপোর্টে ভিসা লাগানো হয়েছিল সেগুলোও জাল।

জয়া হাসান নামের একজন বলেন, ‘আমরা দুজন মিলে তাকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। ২৪ তারিখে আমার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটের কথা বলে আমাদের ঢাকায়ও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার পর থেকে তার খোঁজ নেই। আমার পাসপোর্টও ফেরত পাইনি।’

জয়া বলেন, ‘আমিন রহমান একটা হোয়াটস অ্যাপ নাম্বার থেকে জানিয়েছিলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা হচ্ছে। ওই ঝামেলা মিটমাট করতে তিনি দুবাই গেছেন। তবে শনিবার থেকে হোয়াটস অ্যাপেও পাওয়া যাচ্ছে না তাকে।’

আমিন ট্রাভেলসকে টাকা দিয়েছিলেন বিয়ানীবাজারের যুবক সপ্ত দাসও। তিনি বলেন, ‘জায়গা বিক্রি করে বাবা টাকা দিয়েছিলেন আমাকে। এখন বাবাও অসুস্থ। প্রতারণার বিষয়টি বাসায়ও জানাতে পারছি না।’

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের আরো খবর