দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের অবস্থা সংকটাপন্ন।
তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে রাজশাহী থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসান আজিজুল হককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে হাসান আজিজুল হককে ঢাকায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তার ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইমতিয়াজ হাসান।
তিনি জানিয়েছিলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কথাসাহিত্যিককে ঢাকায় নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক শুক্রবার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, আমাদের শিক্ষাগুরু ও অভিভাবক এবং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হাসান আজিজুল হক গুরুতর অসুস্থ। তাকে আগামীকাল ২১ আগস্ট সকাল ১০টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেয়া হবে। সেখানে তিনি ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসা নেবেন। স্যার দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি।’
ছেলে ইমতিয়াজ হাসানও এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার বাবার গুরুতর অসুস্থতার কথা জানান।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘আব্বা বয়সের ভারে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন অনেকটা, মনটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছে একটু। আড়ালেও কি চলে যাচ্ছেন ধীরে ধীরে? গত এক মাস যাবত তিনি ভীষণ অসুস্থ। ছোট একটি শিশুর মতোই আমাদের উনার পরিচর্যা করতে হয়।
‘পরিবারের মানুষ আর গুটিকয়েক শুভানুধ্যায়ী ছাড়া আর কেউ সে কথা জানেন না। অনেকেই হয়তো মন চাইলেও তার খবর নিতে পারেননি বা যোগাযোগ করতে পারছেন না। সে জন্যই এটুকু লেখা। আপনাদের দোয়ায়, প্রার্থনায় তাকে রাখবেন।’
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন।
১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন।
বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে নগরের চৌদ্দপায় এলাকার আবাসিক এলাকা ‘বিহাস’ নামের নিজ বাসায় থাকছেন।