মিনিকেটের নামে চকচকে চাল বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত চতুর্থ নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
সাধন চন্দ্র বলেন, ‘চকচক করলেই সোনা হয় না, এ কথা এখন আমরা ভুলে গিয়েছি। আর সেই সুযোগে ব্যবসায়ীরা বাজারে মিনিকেটের নামে বিভিন্ন জাতের চাল মিলে ছাঁটাই করে বাজারে নানা ব্র্যান্ড উল্লেখ করে বিক্রি করে যাচ্ছেন।’
নিরাপদ ও মানসম্মত চাল বলতে লাল চালের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসম্মত চাল খেতে চাইলে লাল চাল খেতে হবে। বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। এর অস্তিত্বও নেই।
‘মূলত স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা চাল ছাঁটাই করে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে এই মিনিকেট চাল বানান। ছাঁটাইয়ের ফলে লাল আবরণ চলে যায়। আমাদের লাল চাল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।’
চাইলেই মিনিকেট চালের ব্র্যান্ড বাজার থেকে বন্ধ করা বা বিক্রি করা যাবে না উল্লেখ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমানারা খানুম বলেন, ‘এটা আমরা এখন চাইলেই করতে পারব না। কারণ কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের ধান উৎপাদন করেন।
‘সেখান থেকে মিলাররা সব মিলিয়ে একটি চাল বাজারে নিয়ে আসেন। যদি ধানের ক্যাটাগরি আলাদা আলাদাভাবে বাজারে আনা যেত তবে মিনিকেট বন্ধ করা যেত।’
সচিব বলেন, ‘আমরা একটি কমিটি করেছি। তারা একটা স্টাডি আমাদের হাতে দিয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা মিনিকেট চাল আস্তে আস্তে বাজার থেকে তুলে দেব।’
ওই সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে মাহাবুব কবির মিলন ও র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে অন্য জায়গায় দায়িত্ব দেয়ার ফলে এক ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এক ব্যক্তি এক জায়গায় অপরিহার্য হলে সেখানে অন্যদের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আর এটা প্রশাসনিক বিষয়। অন্য সব সেক্টরে তাদের দরকার আছে।’
নিরাপদ খাদ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সরকার দ্বারা নিরাপদ খাদ্য সম্ভব। সরকার আইন তৈরি করতে পারবে কিন্তু সচেতনতা আমাদের মধ্যে আনতে হবে।’
খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে ১৮টি মন্ত্রণালয়সহ ৪৮৬টি সংস্থা কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
সচিব নাজমানারা বলেন, ‘আমরা সম্মিলিত ভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে একটা কমিটি করা হয়েছে। সেখানে খাদ্যমন্ত্রী সভাপতি পদে আছেন। আমরা জেলা পর্যায়ে কমিটি করে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি কাজ করার।’
স্ট্রিট ফুড নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো নীতিমালা আছে কি না জানতে চাইলে আব্দুল কাইউম সরকার বলেন, ‘স্ট্রিট ফুডকে আমাদের অস্বীকার করা যাবে না। তবে আমরা স্ট্রিট ফুডের মান যাতে ঠিক থাকে তার জন্য বিভিন্ন সময় নির্দেশনা দিয়েছি আর দিচ্ছি। এখন রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবারগুলো ঢেকে রাখা হয়। এ বিষয়ে এখনও নীতিমালা ফাইনাল করা হয়নি।’
রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁকে মানের দিক অনুযায়ী গ্রেডিং করা হয়েছে জানিয়ে কাইউম বলেন, ‘আমরা ২০১৯ সালে চারটি ক্যাটাগরিতে ৫৭টি ও ২০২০ সালে ৩০টি সহ মোট ৮৭টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং দিয়েছি। এর মধ্যে এ প্লাস ১৯, এ ৫৪, বি ৯ ও সি ৫টি। তাদেরকে নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। ২০২০ সালে ৭৮টি ও ২০২১ সালে ১৭টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে মনিটরিংয়ে রেখেছি।’
তবে এখন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য সরবারাহ না করার অভিযোগে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়নি। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৭৫টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে।