করোনা মহামারি প্রতিরোধে টিকাকেই শেষ অস্ত্র বললেন প্রথম টিকা নেয়া চিকিৎসক আহমেদ লুৎফুল মোবেন। বলেছেন, এই টিকা নেয়ার সুযোগ হারানো উচিত হবে না।
রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রথম টিকা নেন ওই হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা।
এরপরই টিকা নেন হাসপাতালের চিকিৎসক আহমেদ লুৎফুল মোবেন।
তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু ভ্যাকসিন কোভিডের সঙ্গে যুদ্ধের শেষ অস্ত্র, এই সুযোগটা নিতেই হবে এবং সবাইকে আমাদের নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি যখন একটি ভ্যাকসিন প্রোগ্রামকে চালিয়ে নিয়ে যাবে। আমি যদি প্রথমে টিকা না নিতে পারি, যারা ভ্যাকসিন নিতে আসবে টিকা দেয়ার জন্য যে মানসিক প্রস্তুতি, সেটা তো আমার থাকবে না। সেজন্যই চিকিৎসক হিসেবে প্রথম টিকা নেয়া।’
করোনার টিকা দেশে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, এই টিকা নিরাপদ নয়। এটি নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
চিকিৎসক মোবেন বলেন, ‘জনগণের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আমার একটি অজানা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, এই ভাইরাসের বিষয়ে আমরা শুরুতে কিছুই জানতাম না।
‘এখন শেষ পর্যায়ের যুদ্ধ হচ্ছে ভ্যাকসিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে এটি সহজলভ্য করে তুলেছেন। অন্যান্য অনেক দেশে ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। আমরা তো পেলাম। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
প্রথম দিন করোনার টিকা পেয়েছেন মোট ২৭ জন। তাদের সবাইকে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণ করা হয় হাসপাতালে। তবে কারও মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হবে। তবে গণটিকা শুরু হচ্ছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। যদিও এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় টিকার চালান পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত তিন কোটি ৪০ লাখ টিকা কিনছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫০ লাখ টিকার চালান এসেছে দেশে। এর বাইরে দেশটি উপহার দিয়েছে আরও ২০ লাখ টিকা।
সিরাম থেকে প্রতি মাসে আসবে ৫০ লাখ টিকা। এর বাইরে করোনার টিকা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সারা বিশ্বে বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা জোট কোভ্যাক্স থেকে আসবে আরও পৌনে সাত কোটি টিকা, যা আগামী জুনের মধ্যে পাওয়ার আশা করছে সরকার।