বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের তালিকায় এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে নিভার।
ঘূর্ণিঝড়ের তেমন কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
অধিদফতর জানিয়েছে, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘নিভার’ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ উপকূল থেকে এর অবস্থান অনেক দূরে বলে সমুদ্র বন্দরগুলোকে কোনো সংকেত দেখাতে বলা হয়নি। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
রোববার বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর তা ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, এরপর নিম্নচাপ এবং তারপর গভীর নিম্নচাপের রূপ নেয়। মঙ্গলবার তা আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।
মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেতুঁলিয়ায় ১১ দশামক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামে ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।