মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে শুক্রবার। গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদের তীরে ইজতেমা ময়দান ইতোমধ্যে ভরে উঠেছে মুসল্লিতে। এখনও আসছেন দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা।
ইজতেমার এই আয়োজনে যোগ দিতে প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মুসল্লিরা আসছেন দলে দলে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের মুসল্লিরাও বেনাপোল দিয়ে আসছেন বাংলাদেশে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে জানা যায়, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গত তিন দিনে প্রায় ১২শ’ মুসল্লি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
তবে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে গত কয়েক বছরের তুলনায় মুসল্লির আগমন বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম। ইমিগ্রেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত কয়েক বছর ধরে দেশের অন্যতম প্রধান এই স্থল বন্দর দিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বিদেশি মুসল্লি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে এসেছেন। অথচ চলতি বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মুসল্লি এসেছেন মাত্র এক হাজার দুশ’ জন।
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে আরও বেশকিছু বিদেশি মেহমান আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার শেষ পর্ব শুরু হয়েছে শুক্রবার ভোরে। আর এই পর্বের সমাপ্তি ঘটবে আগামী রোববার। ওইদিন আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব।
ভারতীয় মুসল্লিরা বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে বাস কিংবা ট্রেনযোগে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে যাচ্ছেন। তবে তার আগে বন্দর ইমিগ্রেশনে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হচ্ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি মেহমানদের অভ্যর্থনা জানানো, থাকা-খাওয়া ও ঢাকায় পাঠানোসহ সব কাজ দ্রুত করার জন্য তাবলিগ জামাতের ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল স্থলবন্দরে অবস্থান করছে। তারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আগত মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিক আহমেদ বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন। শুক্রবার পর্যন্ত এবার কমসংখ্যক মুসল্লির আগমন ঘটেছে।
‘বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা বিদেশি মেহমানদের দ্রুততার সঙ্গে পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনে পৃথক ডেস্ক খোলা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের পুলিশ ইমিগ্রেশন সদস্যরা সেবা দিচ্ছেন। বিদেশি মেহমানদের সেবা দিতে পেরে আমরাও খুশি।’