যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী চতুর্থ দফা জিম্মি-বন্দি বিনিময় সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জেরুজালেম থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
নেতানিয়াহু রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সাথে কথা বলেছেন এবং ওয়াশিংটনে তাদের সাক্ষাতের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যস্থতাকারী ও প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। ৪২ দিনের প্রথম পর্যায়ের আলোচনা আগামী মাসে শেষ হবে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, উইটকফ প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসরের সঙ্গেও কথা বলবেন।
প্রথম পর্যায়ে হামাস শনিবার ইসরায়েলি হেফাজত থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ১৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে তিনজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে।
জিম্মি ওফের কালদেরন ও ইয়ার্ডেন বিবাসকে হামাস যোদ্ধারা মঞ্চে কুচকাওয়াজ করে দক্ষিণ গাজার শহর খান ইউনিসে রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করে। আমেরিকান-ইসরায়েলি কিথ সিগেলকে উত্তরে গাজা শহরের বন্দরে একই ধরনের অনুষ্ঠান করে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী পরে নিশ্চিত করেছে যে, তিনজনই ইসরায়েলে ফিরে এসেছেন।
ইসরায়েলি প্রচার গোষ্ঠী হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম তাদের মুক্তিকে ‘অন্ধকারে আলোর রশ্মি’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে জিম্মিদের আটক রাখার পর গাজার যোদ্ধারা ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুসারে তাদের মুক্তি দিতে শুরু করেন।
হামাস ও তার মিত্র ইসলামিক জিহাদ এখন পর্যন্ত ১৮ জন জিম্মিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছে। শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু।
গত শনিবার ১৮৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাদের একজন মিসরীয়। বাকি সবাই ফিলিস্তিনি।
হামাস সূত্র জানায়, আগামী শনিবার পঞ্চম জিম্মি-বন্দি বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।
ছয় সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি প্রায় এক হাজার ৯০০ জনকে মুক্তি দেওয়া, যাদের বেশির ভাগই ফিলিস্তিনি।