আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহৎ শহর কান্দাহার ও হেরাত নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান।
সর্বশেষ দুটি শহরের দখল সত্যি হয়ে থাকলে এক সপ্তাহে ১২টি প্রাদেশিক রাজধানী কবজা করল তারা।
গাজনিসহ বৃহস্পতিবার এক দিনে তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নেয় তালেবান। গাজনি দখলের মাধ্যমে রাজধানী কাবুলের দেড় শ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যায় তারা। একই সঙ্গে কাবুলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সংযোগ মহাসড়কও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ কান্দাহার ও হেরাতের নিয়ন্ত্রণ হারানো আফগান সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পথে শহর দুটি দখল তালেবানের জন্য বড় বিজয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তালেবানের এক মুখপাত্র লিখেন, “কান্দাহারের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছি আমরা। যোদ্ধারা শহরের মার্টার্স’ স্কয়ারে পৌঁছে গেছে।”
শহরের বাসিন্দারাও তালেবানের কান্দাহার দখলের খবর নিশ্চিত করেছেন।
নব্বইয়ের দশকে পশতুন অধ্যুষিত কান্দাহারেই তালেবানের জন্ম; সেখান থেকেই উত্থান শুরু। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমৃদ্ধ কৃষি ও শিল্প এবং দেশের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে আফগানিস্তানের অর্থ ও রাজনীতিতে কান্দাহারের বড় ভূমিকা আছে।
এদিকে সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহও তালেবান দখল করেছে। যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহারের তিন সপ্তাহ বাকি থাকতেই দেশের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে আফগান সরকার। উত্তরাঞ্চলের প্রায় পুরোটা, সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল এবং মোট প্রাদেশিক রাজধানীর এক-তৃতীয়াংশই এখন তালেবানের দখলে।
দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রায় তিন হাজার সেনাকে আফগানিস্তানে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ বিমানে বিপুলসংখ্যক নাগরিককে দেশে ফিরতে সহযোগিতা করার জন্য কাবুল বিমানবন্দরে থাকবে হাজারো সেনা।
আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে স্বল্প সময়ের জন্য ৬০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যও।
কাবুলে তালেবানের প্রত্যক্ষ অভিযান এখনও শুরু না হলেও বাড়ছে উদ্বেগ। সহিংসতা থেকে বাঁচতে এরই মধ্যে শহর ছেড়েছে কয়েক লাখ বেসামরিক বাসিন্দা।
বিভিন্ন শহরে তালেবানের হামলা ও বেসামরিক হত্যার নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে আফগান সেনা ও তালেবান যোদ্ধাদের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষের।